Friday, April 10, 2026

সরকারী হাসপাতালে মেশিন নষ্ট হয়, কিন্তু প্রাইভেটে ঠিক থাকে কিভাবে?

 

লেখক ঃ মাহমুদ রায়হান ( ফেসবুক লিংক )
 
######################
আজ সকালেও ইউনিট থেকে চাঁদা তুলে ১৮ হাজার টাকা দিলাম হাসপাতালের একটা মেশিন ঠিক করতে। না হলে অপারেশন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ৫০ জনের উপরে জটিল ও ক্যান্সারের ভর্তি রোগী অপারেশনের সিরিয়ালে।
অথচ সরকারী হাসপাতালের মেশিন সরকারী ব্যস্থাপনায় ই মেইনটেনেন্স, রিপেয়ার করে ফাংশনিং রাখার কথা....
*************
সরকারি হাসপাতালে দিনের পর দিন মেশিন নষ্ট। অথচ কাছাকাছি প্রাইভেট হাসপাতালে বা ডায়াগনস্টিক এ মেশিন নষ্ট হয়ে কোন সার্ভিস অফ আছে এই অভিযোগ নেই বললেই চলে । এই অভিযোগ অনেক পুরনো কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন এমনটি হয় কেন?
সরকারি হাসপাতালে মেশিন ঠিক করা বিশাল এক দুরূহ ব্যাপার। ধরেন আপনি পপুলার ডায়াগনস্টিক এর ম্যানেজার, আপনার এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট হয়ে গেল। আপনি তখন যে কোম্পানির মেশিন তাকে তাড়াতাড়ি ফোন দিবেন। তারা টেকনিশিয়ান বা ইঞ্জিনিয়ার পাঠাবে, মেরামত করে দিবে, টাকা দিবেন, মামলা ফিনিশ। রিপেয়ারিং করতে সময় লাগলে ভালো কোম্পানিরা আবার ব্যাকআপ মেশিন দিয়ে যায়। কারন আপনার মেশিন চালু মানে ব্যবসা চালু...
এই জিনিসটাই সরকারি হলে এক জটিল প্রসেস। প্রথমে রেডিওলজির প্রধান হাসপাতাল পরিচালক কে চিঠি লিখবেন আমার মেশিনটা নষ্ট। এরপরে পরিচালক চিঠি দিবেন মহাখালীতে থাকা নিমিউ (সরকারী প্রতিষ্ঠানে যন্ত্র মেরামতের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান) কে। সারা দেশ থেকে এমন অসংখ্য চিঠি আসে। যেদিন সময় হবে সেদিন তারা পরিদর্শন করতে যাবে। আপনি ঢাকায় হলে তাও কাছাকাছি, ঢাকার বাইরে মানে মরেছেন। এখন দেখে যদি তাদের মনে হয় নিমিউ ঠিক করতে পারবে তাহলে তারা একটা এস্টিমেশন দিবে...
সমস্যা হলো বর্তমানে অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতি ঠিক করার মত কারিগরি দক্ষতা বা স্পেয়ার যন্ত্রপাতি সাপোর্ট নিমিউ এর নেই। তখন তারা একটা অনাপত্তি পত্র দিবে, যে আমরা পারবো না-আপনারা আপনাদের মত করে নেন ।
এইবারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই যন্ত্র মেরামতের জন্য কোটেশন চাইবে। দুই চার বিশ হাজার হলে রক্ষা, এর বেশি হলে সেটা বাজেট পাস করে আনতে হবে (কয়দিন লাগবে বুঝে নেন)। এইখানেও সমস্যা হল বর্তমানে বেশিরভাগ আধুনিক যন্ত্রই দামি আর এদের মেরামত ও মিনিমাম লাখ টাকার মামলা। বাজেট থাকলে এবার কোটেশন আবার আর বেশি টাকার মামলা হলে টেন্ডার...
এরপরে কতোদিন লাগবে কেউ আর জানেনা....
**************
এখন আধুনিক বেশিরভাগ হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার যন্ত্র। এগুলোর মেইনটেনেন্স ও নিয়মিত সার্ভিসিং করার জন্য বেসরকারি বড় হাসপাতালগুলোতে আলাদা বিভাগেই থাকে- বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং। বুয়েটেও এই বিষয়ে ডিগ্রি চালু হয়েছে।
কিন্তু আমাদের সরকারী হাসপাতালে আছে জুনিয়র মেকানিক পোস্ট। যাদের সর্বোচ্চ দৌড় সকেট আর প্লাগ ঠিক করা পর্যন্তই... এইজন্যই সরকারী যন্ত্র মেইনটেইন করার করা মুশকিল আর মেইন্টেনেন্স এর অভাবেই দুইদিন পরে পরে উষ্টা খেয়ে পড়ে৷ আর মানুষ ভাবে সরকারী লোকজন ইচ্ছা করে মেশিন নষ্ট করে ফেলে রাখছে....
আমার ডিপার্টমেন্ট এ এমন মেশিন জরুরি মেশিন ও আছে দেড় কোটি টাকা দাম, তিন লাখ টাকার রিপেয়ার এর জন্য চালু করতে পারছি না (এমন সফিস্টিকেটেড মেশিন যে স্পেসিফিক ভেন্ডর কো অপারেট না করলে উপায় নাই, এদিকে ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ। কোটি টাকা ব্যবসা করা ভেন্ডরের আবার তিন লাখ টাকার জিনিসে কোন আগ্রহ ও নাই। মহা মুসিবত...)
****************
এর একটা সহজ সমাধান হলো হাসপাতালগুলোকে আরো বেশি আর্থিক স্বায়ত্তশাসন দেয়া। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা পাশাপাশি অর্থিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ। পরিচালকের আর্থিক ক্ষমতা বেশি থাকবে আবার মেশিন বসে থাকলে তিনি দায়ী ও থাকবেন।
বাংগালীর পুরুষের সমস্যা হইলো এরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী বউকে ভয় পায়। নিয়ন্ত্রনকারী কর্তৃপক্ষ চায় তাদের অনুমতি ছাড়া কুটোটিও নড়বে না, আর জনগন চায় হ্যাসেল ফ্রি সার্ভিস...
এ এক জটিল সমস্যা...

No comments:

Post a Comment