Showing posts with label প্লাটফর্ম. Show all posts
Showing posts with label প্লাটফর্ম. Show all posts

Wednesday, February 23, 2022

পিঠে ব্যথাঃ কারণ ও করণীয়

 

পিঠে ব্যথা নিয়ে কতটা চিন্তিত হওয়া উচিত?

সবচেয়ে খারাপটা অনুমান করবেন না। প্রায় প্রত্যেকেরই কোন না কোন সময় পিঠে ব্যথা হয়। নিম্ন পিঠে ব্যথা ভীতিকর হতে পারে। তবে ব্যথা তীব্র হলেও, এটি সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজেই চলে যায়। জরুরী যত্ন বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন এমন ক্ষেত্রে বিরল।


পিঠে ব্যথা হলে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যকীয়?

  • সকালে ঘুম থেকে উঠার পর যদি আপনার পিঠে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যায়,
  • আপনার পায়ে যদি অসাড়তা বা দুর্বলতা থাকে,
  • মূত্রাশয় বা অন্ত্র নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হলে,
  • ওজন হ্রাস পেলে,
  • জ্বর বা অন্য কোন অসুস্থতা বোধ করলে,
  • নিয়মিত স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ (যেমন- করটান/ ডেলটাসন) সেবন করে থাকলে,
  • ডায়াবেটিস বা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দূর্বল করে এমন রোগ থাকলে,
  • ক্যান্সার বা অস্টিওপোরেসিসের ইতিহাস থাকলে।

কখন আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে?

  • আপনার পিঠের ব্যথা এতটাই তীব্র আপনি দৈনন্দিন সাধারণ কাজগুলি করতে পারছেন না,
  • আপনার পিঠে ব্যথার ৪ সপ্তাহের মধ্যে উন্নতি হতে শুরু না করলে।

পিঠের অংশগুলো কি কি?

● কশেরুকা – হাড়ের স্তুপ যা মুদ্রার স্তুপের মতো একে অপরের উপরে বসে থাকে। এই হাড়গুলির প্রতিটির কেন্দ্রে একটি ছিদ্র রয়েছে। স্ট্যাক করা হলে, হাড়গুলি একটি ফাঁপা টিউব তৈরি করে যা মেরুদণ্ডকে রক্ষা করে।

●ডিস্ক – কুশন যোগ করতে এবং নড়াচড়ার অনুমতি দিতে প্রতিটি কশেরুকার মধ্যে রাবারি ডিস্ক বসে থাকে।

●স্পাইনাল কর্ড এবং স্নায়ু – মেরুদণ্ড হল স্নায়ুর হাইওয়ে, যা মস্তিষ্ককে শরীরের বাকি অংশের সাথে সংযুক্ত করে। কশেরুকার মাঝের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে মেরুদণ্ড যায়। মেরুদণ্ড থেকে স্নায়ু-শাখা পাশাপাশি কশেরুকার মধ্যে দিয়ে সরু পথে বের হয়। তারা বাহু, পা এবং অঙ্গগুলির সাথে সংযোগ স্থাপন করে। (এই কারণেই পিঠের সমস্যার কারণে পায়ে ব্যথা বা মূত্রাশয় বা অন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।)

●পেশী, টেন্ডন এবং লিগামেন্টস – পেশী, টেন্ডন এবং লিগামেন্টগুলিকে একসাথে পিঠের “নরম টিস্যু” বলা হয়। এই নরম টিস্যুগুলি পিঠকে বলবান করে এবং এটি একসাথে ধরে রাখতে সহায়তা করে।

পিঠে ব্যথার কারণ কী?

অনেক ভিন্ন কারণে নিম্ন পিঠে ব্যথা হতে পারে। বেশিরভাগ সময় সঠিক কারণ জানা যায় না। যদি আপনার পিঠের পেশী টান খায়, তাহলে পিঠে ব্যথা হতে পারে। এটি প্রায়শই ঘটে থাকে যখন একজন ব্যক্তি ভারী কিছু তোলে বা পিঠ বাঁকিয়ে কাজ করে। এই ব্যথা সাধারণত শারীরিক কার্যকলাপের পরে হঠাৎ শুরু হয়।

এছাড়াও পিঠে ব্যথা হতে পারে, যদি:

  • ১। ডিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফুলে যায়, বা ছিঁড়ে যায়,
  •  ২। মেরুদণ্ডের জয়েন্ট এ আর্থ্রাইটিস হয়,
  • ৩। মেরুদণ্ডে হাড় বেড়ে যদি কাছাকাছি স্নায়ুগুলিকে চাপ দেয়,
  • ৪। কশেরুকা জায়গার বাইরে বেরিয়ে আসলে,
  • ৫। মেরুদণ্ডের পথ সরু হয়ে গেলে,
  • ৬। টিউমার বা ইনফেকশন হলে (কিন্তু এটি খুব বিরল)।

পিঠে ব্যথায় কখন একটি ইমেজিং পরীক্ষা (যেমন এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই) করতে হবে?

বেশিরভাগ লোকের ইমেজিং পরীক্ষা, যেমন এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই প্রয়োজন হয় না। পিঠে ব্যথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ পরেই চলে যায়। অস্বাভাবিক কিছুর লক্ষণ না থাকলে ডাক্তাররা সাধারণত ইমেজিং পরীক্ষার পরামর্শ দেন না। আপনার ডাক্তার একটি ইমেজিং পরীক্ষার আদেশ না দিলে, চিন্তা করবেন না। তাঁরা শুধুমাত্র আপনাকে দেখে এবং আপনার সাথে কথা বলে, আপনার ব্যথা সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে পারেন।

শুধুমাত্র আমার সাথে কথা বলে ডাক্তার কি রোগ নির্ণয় করতে পারে?

আপনার লক্ষণগুলি ডাক্তারকে আপনার ব্যথার কারণ সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করে। উদাহরণ স্বরূপ:

  • যদি নির্দিষ্ট কিছু করার পরে আপনার ব্যথা শুরু হয়, যেমন একটি ভারী বস্তু তোলা বা আপনার পিঠ মোচড়ানো, তাহলে আপনার পেশীতে টান পড়ে থাকতে পারে।
  • যদি আপনার ব্যথা এক উরুর পিছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তবে এটি একটি চিহ্ন হতে পারে আপনার পায়ে যে স্নায়ুগুলি যায় তার মধ্যে একটিকে, বেড়ে যাওয়া বা ছেঁড়া ডিস্ক দ্বারা চিমটি করা হচ্ছে।
  • যদি আপনার ব্যথা উভয় পায়ের নিচের দিকে চলে যায়, তাহলে এটি চিহ্ন হতে পারে আপনার একটি সরু মেরুদণ্ডের খাল রয়েছে। এটি প্রায়শই আপনার মেরুদণ্ডে হাড়ের বৃদ্ধির কারণে হয়।

 

কিভাবে পিঠের ব্যথার চিকিৎসা করা হয়?

কম পিঠে ব্যথার একটি পর্বে আক্রান্ত বেশিরভাগ লোকেরই কোন গুরুতর সমস্যা থাকে না, এবং সাধারণ চিকিৎসায় এটি সেরে যেতে পারে। যেমন:

  • সক্রিয় থাকা – আপনি যা করতে পারেন তা হল যতটা সম্ভব সক্রিয় থাকা। যাদের পিঠের ব্যথা আছে তারা যদি সক্রিয় থাকে, দ্রুত সেরে ওঠে। যদি আপনার ব্যথা তীব্র হয়, তাহলে আপনার এক বা দুই দিন বিশ্রামের প্রয়োজন হতে পারে। তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাঁটা এবং চলাফেরা করা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পিঠে ব্যথার সময় ভারী কিছু উত্তোলন এবং খেলাধুলা এড়িয়ে চলা উচিত। আপনার স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
  • তাপ – কিছু রোগী হিটিং প্যাড বা উত্তপ্ত মোড়ক ব্যবহারে আরাম পেতে পারে। ত্বক পোড়া প্রতিরোধ করতে উচ্চ তাপ সেটিংস এর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
  • ঔষধ – প্রথমে, আপনি ব্যথার ওষুধ ব্যবহার করে দেখতে পারেন যা আপনি প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পেতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা প্রথমে ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ বা “NSAID” ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। এগুলি পিঠের ব্যথার জন্য প্যারাসিটেমল এর চেয়ে ভাল কাজ করতে পারে। যদি প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধগুলি সাহায্য না করে, আপনার ডাক্তারকে জানান। কিছু ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা পেশী শিথিল করার জন্য একটি ওষুধ লিখে দেন (যাকে “পেশী শিথিলকারী” বলা হয়)। কিন্তু মনে রাখবেন যে পেশী শিথিলকারী সাধারণত ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যবহার করা হয় না। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে, এই ওষুধগুলি প্রস্রাব করতে সমস্যা বা বিভ্রান্তির মতো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

যদিও পিঠের ব্যথা সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চলে যায়, কিছু মানুষের দীর্ঘকাল এই ব্যথা থাকে। এই ক্ষেত্রে, অতিরিক্ত চিকিৎসার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে:

  • নিজের যত্ন – এর মধ্যে আপনার ব্যথা সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরী। আপনার যখন প্রয়োজন তখন আপনার বিশ্রাম নেওয়া উচিত, যতটা সম্ভব সক্রিয় থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তাপ প্রয়োগ করা এবং মৃদু প্রসারিত করার মতো জিনিসগুলিও আপনাকে আরও ভাল বোধ করতে সহায়তা করতে পারে।
  • ব্যায়াম- আপনি যে ব্যায়াম চেষ্টা করতে পারেন তার মধ্যে হাঁটা, সাতার কাটা বা ব্যায়াম বাইক ব্যবহার করা অন্তর্ভুক্ত। কিছু লোক দেখতে পায় যোগব্যায়াম তাদের পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আপনি যে কার্যকলাপগুলি উপভোগ করেন তা সন্ধান করা আপনাকে সক্রিয় থাকতে সাহায্য করতে পারে।

  • চাপ কমানো – “মননশীলতা-ভিত্তিক স্ট্রেস হ্রাস” বলে কিছু চেষ্টা করতে সহায়তা করে। এটি শিথিলকরণ এবং ধ্যান অনুশীলন করার জন্য একটি গ্রুপ প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া যেতে পারে।

আপনার পিঠের ব্যথা যদি আপনাকে উদ্বিগ্ন বা বিষণ্ণ বোধ করায়, আপনার ডাক্তার বা নার্সের সাথে কথা বলুন। এই সমস্যাগুলির সাথে সাহায্য করতে পারে এমন অন্যান্য চিকিৎসা রয়েছে। পিঠের ব্যথার চিকিৎসার জন্য অল্প সংখ্যক লোকেরই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।

পুনরায় পিঠে ব্যথা হওয়া থেকে বাঁচতে আমরা কী করতে পারি?

আপনি যা করতে পারেন তা হল সক্রিয় থাকা। আপনার পিঠকে শক্তিশালী এবং প্রসারিত করার জন্য ব্যায়াম করা। আপনি আরোও যা করতে পারেন:

  • আপনার পিঠের পরিবর্তে আপনার পা ব্যবহার করে তুলতে শিখুন।
  • বেশিক্ষণ একই অবস্থানে বসা বা দাঁড়ানো এড়িয়ে চলুন।

পিঠে ব্যথা হওয়া হতাশাজনক এবং ভীতিকর হতে পারে। কিন্তু নিয়মগুলি জানলে এবং মেনে চললে আপনার পুনরায় ব্যথার ঝুঁকি কমাতে পারে।

 

ডা. শাদাব সানী
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ
৪৩ প্রজন্ম

 

[রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।]

Monday, January 4, 2021

কোভিড থেকে বেঁচে ডিসচার্জ নিলেই কি ভোগান্তি শেষ? লং কোভিড কী জিনিস?


১. বাংলাদেশে অনেকেই কোভিডকে পাত্তা দিচ্ছে না এই ভেবে যে মৃত্যুর হার তো দেশে কম। যার আপন পরিবারের উপর এসে লাগছে না তারা ছাড়া সবাই খুব নিশ্চিন্তে আছে। কিন্তু অনেকের সাথে কথা বলে, নিজের ও নিজের রোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে আসলেই অনেক ভোগান্তি আছে লং টার্ম।
 
২. যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগ্যান স্টেইটে একটা স্টাডি করেছে দেখার জন্যে যে কোভিড হওয়ার ৬০ দিন পর রোগীরা কেমন আছে দেখার জন্যে। তাদের প্রশ্ন একটাই - দুই মাস পর রোগীর হইলটা কি? 
 
৩. প্রথমত তাদের মৃত্যুর হার অনেক বেশি - ১৬৪৮ রোগীর মধ্যে ৩৯৮ জন হাসপাতালেই মারা যায়। তাছাড়া ১২৫০ জন যাদের ডিসচার্জ করা হয় তাদের মধ্যেও ৮৪ জন ডিসচার্জের পর মারা যায়। তাদের মৃত্যুর হার ২৯.২% মোট!! যারা বেঁচে যায় তাদের মধ্যে আরো ১৮৯ জন কে (১৫.১%) পুনোরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে দুই মাসের মধ্যেই। 
 
৪. ডিসচার্জ করা রোগীদের মধ্যে ৪৮৮ জনকে ফোনে ইন্টার্ভিউ করা হয়। ৩৩% এর এখনো কাশি, শ্বাসকষ্ট রয়ে গিয়েছে। ২৩% রোগী এখনো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গেলে প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে ভোগে। ১৯% রোগীর উপসর্গে কোন উন্নতি হয় নাই, বরং অনেকের অবনতিও হয়েছে। 
 
৫. আরো ভয়ংকর হলো যে ৪৯% বলেছে যে তাদের মানসিকভাবে দুর্বল লাগছে, কষ্ট হচ্ছে। প্রায় ১০% রোগীর জীবনের সব সেভিংস শেষ। ৭% বলছে যে তারা হিসেব করে খাবার কেনা, র্যাশান করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে কারণ টাকার টানাটানি।
 
৬. যারা আগে চাকরি করত তাদের ৪০% এখনো কাজে ফিরে যেতে পারেনাই। যারা পেরেছে তাদের ২৬% সময় কমিয়ে কাজ করছে কারণ ফুল ডিউটি করার মত অবস্থা নাই।
 
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হয়তোবা একটু কম হবে সংখ্যাগুলা যেহেতু আমাদের পপুলেশান অনেক ইয়াং। কিন্তু যাদের হয়েছে বা পরিবারের কারো সিভিয়ার কোভিড হয়েছে তাদের প্রশ্ন করে দেখুন। 
 
আর্থিকভাবে, মানসিকভাবে কী যন্ত্রণা গিয়েছে তাদের। পরিবারের একজনের আইসিইউতে ভর্তি হলেই ঋনে চলে যেতে হয়েছে অনেকের। যখন যা ইচ্ছা তাই করছেন, ভেবে দেখবেন যে একবার আসুস্থ হলে, বা পরিবারের কেউ হলে কী দুঃখ যে করা লাগবে।
 

 

Tuesday, June 4, 2019

আসুন লজ্জা পাই .

এক প্রখ্যাত সাংবাদিক ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন “ এই দেশের নিরানব্বই শতাংশ মানুষ আপনাদের উপর আস্থা রাখেনা। গিয়ে দেখুন তারা আপনাদের সম্পর্কে কি বলে? প্রতিবছর এদেশের হাজার হাজার মানুষ পাশের দেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। আপনাদের তবুও লজ্জা হয়না।”

- প্রিয় সাংবাদিক মহাশয়, আমাদের লজ্জিত করে আপনাদের তথ্য-উপাত্তহীন নিরেট বচন ।
এদেশের নিরানব্বই শতাংশ রোগী আমাদের উপর আস্থা না রাখলে তো আমাদের ডাক্তারদের মাছি মারতে হতো। আমাদের সরকারি হাসপাতালের মেঝেগুলো খা খা করতো।
বিকেলে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে যে ডাক্তারেরা, তাদের না খেয়ে থাকতে হতো।

তবু স্বীকার করি এ দেশের অনেক মানুষ পাশের দেশে চিকিৎসা করতে যায়। এবং এও সত্য পাশের দেশ থেকে ফিরে এসে আবার আমাদের কাছেই চিকিৎসা নেয়। এবং স্বেচ্ছায় খুশী হয়েই নেয়। ফিরে এসে তারা এও বলে “গেছিলাম, মনে করছিলাম ..... “। অর্থাৎ তাদের মোহভংগও হয়।
এখন এর জন্য আমাদের লজ্জা পাওয়া উচিত কিনা সেই সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে।

হে প্রিয় ইলেকট্রনিক সাংবাদিক, এই দেশের অধিকাংশ মানুষই দেশী চ্যানেল দেখেনা। ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখে। আপনারা কি লজ্জা পেয়ে আপনাদের চ্যানেল গুলি বন্ধ করে দিয়েছেন? নাকি আমরা কখনো বলেছি আপনাদের লজ্জা পাওয়া উচিত? আমরা তো বরং আমাদের বৌ ঝি দেরই গাল মন্দ করেছি। আপনারাও সভা ডেকে বলেছেন ভারতীয় চ্যানেল দেখানো বন্ধ হোক।

আমরা তো কোনদিন বলিনি আইন করে এদেশের রোগীদের ভারত যাওয়া বন্ধ করা হোক।




 এই দেশের অধিকাংশ তরুনী ইন্ডিয়ান ড্রেস কেনে হাজার হাজার টাকা দিয়ে। দেশের সবচেয়ে বড় শপিং মলগুলি বোঝাই হয়ে থাকে ইন্ডিয়ান শাড়ি,পাঞ্জাবি, থ্রি পিসে। কই আপনারাতো এদেশের বস্ত্র ব্যবসায়ী, ফ্যাশন ডিজাইনারদের লজ্জা পেতে বলেন না? আপনারা বরং দোষ দেন এই দেশের মানুষের রুচি বোধের। দোষ দেন দেশাত্ববোধের।

এই দেশের মানুষ শুধু হেলথ টুরিজমই করেনা। তারা হানিমুনও করে বিদেশে। যে জীবনে কুয়াকাটাই দেখেনি, নীল গিরি দেখেনি সে বেড়াতে যায় পাতায়া বীচে। কি বলবেন একে? আমাদের প্রকৃতি ব্যর্থ? প্রকৃতিকে লজ্জা পেতে বলবেন? আমাদের দেশে নিরাপত্তা নেই এই কি অজুহাত?

ভাই সাহেব, এই দেশের এক শ্রেনীর মানুষ আছে যারা এই দেশে থেকেও এই দেশে নেই। তারা এই দেশের খাবার পছন্দ করেনা, এই দেশের এডুকেশন পছন্দ করেনা, কারিকুলাম পছন্দ করেনা (ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে)। তারা এই দেশ নিয়ে কোন স্বপ্নও দেখেনা। আমি এদের অনেককেই দেখেছি তাদের নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো তারা বিদেশে ‘সেটেল্ড’ হতে চায়।
আমরা কোন যোগ্যতায় এদের চিকিৎসা দিয়ে আকৃষ্ট করবো?
আস্থা বা বিশ্বাসের কথা বলছেন?
এদেশের কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা।
এদেশের মানুষের নোবেল লরিয়েটে বিশ্বাস নেই, এভারেস্ট বিজয়ে আস্থা নেই।
আমরা ডাক্তাররা কিভাবে সবাইকে হঠাৎ করে আস্থাশীল করবো?

বুকে হাত দিয়ে বলেন, আপনাদের কেউ বিশ্বাস করে? সোশ্যাল মিডিয়াতে চোখ রাখলে দেখবেন। এক মতিঝিলে ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে কতজন মানুষ মারা গেল সেই তথ্যটাই কেউ ঠিক করে বিশ্বাস করাতে পারছেন না কাউকে। না সরকার না মিডিয়া। এদেশের মানুষ বরং বিশ্বাস করে চাদে ‘হঠাৎ দেখা সাঈদি’ কে।

হোমিওপ্যাথির মত অপবিজ্ঞান বছরের পর বছর চলে কোন কমপ্লেইন ছাড়া। আপনারাও মহা সমারোহে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। সর্পরাজ, জ্যোতিষ রত্নের সবচেয়ে বড় প্রচারযন্ত্রও আপনারাই। আপনারাই বলুন কার লজ্জা পাওয়া উচিত?

আপনাদের বলবার কেউ নেই। সেটাই সমস্যা। কারণ এই সমাজের ক্ষমতার দন্ডটি আপনাদের হাতে। প্রচার যন্ত্রটি আপনাদের হাতে, স্বয়ং নেপোলিয়ন যেটাকে ভয় পেত। আপনাদের গায়ে পোশাক নেই। আর আমাদেরও দুর্ভাগ্য ‘রাজার পোশাক ‘ গল্পের সেই বালকটির দেখা আমরা পাইনি যে আপনাদের বলবে “রাজা মশাই আপনি তো ন্যাংটা”।
এই দেশটা সবার আগে। দয়া করে এই কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন।

আর কয়েকটি তথ্য কষ্ট করে জোগাড় করুন।
১. বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কত আর জাপানের শিশু মৃত্যুর হার কত?
২. বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুর হার কত? আপনাদের প্রিয় পাশের দেশের মাতৃমৃত্যুর হার কত?
৩. বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু দুই দশক আগে কত ছিল আর এখন কত?
৪. বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রনের বর্তমান অবস্থা কি? পাশের দেশের কি অবস্থা?
৫. মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবদান কি আর অন্যান্য খাতের অবদান কি?
প্রশ্ন বেশী হয়ে যাচ্ছে?

আজ এ পর্যন্তই থাক।

তবে সব প্রশ্নের আগে আপনাদের জানতে হবে একটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা নিরুপন করার মাপকাঠি বা প্যারামিটার গুলি কি?
এটা না জানলে উপরের প্রশ্নগুলিতেই আর যাওয়া হবেনা। আপনাদের নির্ভর করতে হবে হসপিটাল ভাংচুর করা রোগীর স্বজনের বক্তব্যের উপর।
আফসোস শুধু এই একটি ক্ষেত্রেই আপনারা আক্রমনকারী সন্ত্রাসীদেরই বিশ্বাস করেন। তারাই আপনাদের রেফারেন্স। তারাই আপনাদের শিরোনাম।
২৭.০৪.২০১৪-collected post from gulzar hossain ujjal

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা - আস্থার অভাব?


------- ---+++------
আমাদের দেশের ডাক্তাদের উপর রোগিদের আস্থা নেই বা কম। সরকারি অথবা বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রেও এটি আরো বেশিরকমভাবে খাটে। এর পেছনে নানান কারণ আছে, এবং একটি বড় সময় ধরে এই সব কারণ জমতে জমতে এখন পাহাড় হয়ে গেছে।
ডিগ্রি দেখেই এখন কোন ডাক্তারের প্রতি আস্থা রাখা যাচ্ছে না, উনি ভাল কিনা সেটা আলাদা করে জেনে নিতে হয়। আবার অনেক সময় রোগিরা কয়েকজন ডাক্তারকে একসাথে দেখান, পরে মতামত মিলিয়ে যাচাই করেন কোনটা ভাল চিকিতসা।
এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কি?

 গঠন মুলক আলোচনা কাম্য।

বিস্তারিত আলোচনা এখানে ++++

Tuesday, April 30, 2019

ছবি ২ টি দেখুন



যে দেশে মুততে আর ডাক্তার দেখাইতে সমান টাকা (৫ টাকা) লাগে, সে দেশে থাকতে নেই। পিছু টান না থাকলে দেশ ছেড়ে চলে যা।
বাণীতে ঃ কোন একজন শিক্ষক।
ছবি ও স্ট্যাটাস ঃ সংগৃহীত


Sunday, April 28, 2019

খুব ভালোই বলেছেন মাশরাফি সাহেব

ক্যাপ্টেন, বলেন এখন আপনারে আমরা কি করবো??

" চাকরী করলে নিয়ম মেনে করবেন , বলেন আপনাকে এখন কি করবো ?"

খুব ভালোই বলেছেন মাশরাফি সাহেব...১৫ বছর ধরে বল করেন , আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোন টুর্নামেন্টের কোন কাপ ঘরে আনতে পারেন নি , বিশ্বকাপ তো অনেক পরের ব্যাপার ...২-৩ বছর পর হঠাৎ করে কোন ম্যাচ জিতলে আমরা সবাই লাফিয়ে উঠি ...বেশ বেশ বেশ সাবাস বাংলাদেশ

বলেন তো ,
--কোন দিন মাঠে একজন কম নিয়ে খেলেছেন ?? প্রতিটা হাসপাতালে অর্ধেকের কম জনবল নিয়ে আমরা প্রতিদিন খেলছি ...কোন নিয়মে ??

--একজন ডাক্তার মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করে ,আবার মেডিকেল অফিসার হিসেবে অবসরে যান ...কোন নিয়মে??

-- উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে কোন ইমারজেনসি মেডিকেল অফিসার পোস্ট নাই , তবু কেন আমরা ২৪ ঘণ্টা ইমারজেনসি চালু রাখি ...কোন নিয়মে??

--একজন অফিসার যোগদান করলে ৭ দিন পর্যন্ত প্রিপারেটরি লিভ পান , সে লিভ নিতে এমপি সাহেব কে বলে যেতে হবে ...কোন নিয়মে??

--মাশরাফি সাহেব , জীবনে দেশে বিদেশে মাগনা কোন ম্যাচ খেলেছেন ?? গিয়ে দেখেন কত ডাক্তার বছরের পর বছর মাগনা খাটছে ... কোন নিয়মে??

-- এত বড় জেলা সদর হাসপাতাল একজন কনসালটেন্টের পোস্ট কেন ? এত কষ্ট আর সেক্রিফাইসের পর আমরা যখন ডিগ্রী করি , তখন বছরের পর বছর (আমার মাত্র ৩ বছর ) পার হয় প্রমোশন হয় না ...কোন নিয়মে??

--একটি রোগী কে বাঁচাতে ডাক্তার যখন নিজের শরীর থেকে রক্ত দেয় , নির্ঘুম রাত পার করে ...আপনার মতো হর্তাকর্তারা কোন দিন বলেছেন , ডাক্তার সাহেব , থ্যাংক উ ?? বলেন নি... আমরা তা আশাও করিনা ...তাই বলে , সাংবাদিক ডেকে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য ডাক্তার কে অপমান করবেন ...কোন নিয়মে??

-- এমপি সাহেব , জীবনে তো বহু ম্যাচ হেরেছেন... লাখ লাখ টাকা পাওয়ার পরও ম্যাচ হারেন... কোনদিন পাবলিক আপনাদের গাঁয়ে হাত তুলেছে?? আপনাদের ক্রীড়া ভবন ভাংচুর করেছে ?? তবে , রোগী মারা গেলে আমাদের গাঁয়ে হাত তোলা হয় ...হাসপাতাল ভাঙচুর করা হয় ...কোন নিয়মে??

বলেন মাশরাফি সাহেব , আপনাকে আমরা এখন কি করবো ??
DR.Riad Sharif 
ANAESTHESIOLOGIST
 SYLHET MAG OSMANI MEDICAL COLLEGE HOSPITAL


পুনশ্চ ;

নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের ২৭ টি পদের ২০ টি পদই শূন্য!মাত্র ৭টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৭ জন চিকিৎসক কে! এই ৭ জনের মধ্যে ১ জন সেই অভিযুক্ত সার্জারি কনসালটেন্ট। তার দ্রুত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এরপর ওই ২০টি পদ শূন্য রাখার শাস্তির ব্যবস্থা হোক।
এটা তো স্রেফ প্রতারণা সেই এলাকার জনগনের সাথে!
একটা সদর হাসপাতাল অথচ সেখানে মেডিসিনের ডাক্তার নাই,হার্টের ডাক্তার নাই,চক্ষু ডাক্তার নাই,নাক কান গলার ডাক্তার নাই,রেডিওলোজীর ডাক্তার নাই! এত নাই নাই এর মাঝে আবার সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো অজ্ঞানের ডাক্তার নাই!!
তো মশাই অজ্ঞানের ডাক্তারই যদি না থাকে ওই সার্জন হাসপাতালে ৩০ বছর টানা ২৪ ঘন্টা করে থাকলেই বা লাভটা কি?
সে কি ঘুম পাড়ানী মাসি মিসি গান গেয়ে রোগী ঘুম পাড়িয়ে অপারেশন করবে??
মশাই খুব তো বললেন যদি কোন রোগীর সার্জারির প্রয়োজন হয় তো রোগী কি বসে থাকবে?
শুধু বসে না ওখানে সার্জারির জন্য বসে থাকতে থাকতে শুয়ে যাবে তারপর একেবারে উপরেই চলে যাবে!
আপনার হাসপাতালে তো সার্জারিই হয় না! আর হয় ও নি কোনদিন।আপনি কি জানেন?হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়ে তো বসে আছেন!
ওই সার্জন ও বুঝেছে ওখানে তার কোন অপারেশনই করতে হবে না তাই ফাঁকিবাজি করেই দিন কাটাচ্ছে।
এখন আপনি বলেন নড়াইলবাসী আপনারে কি করবে?আপনি তো তাদের জনপ্রতিনিধি! হাসপাতালের এই সমস্যা নিয়ে কোনদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করেছেন?তার কাছে ডাক্তার চেয়েছেন?নাকি সারা মাস দেশে বিদেশে ব্যাট-বল খেলে এসে নড়াইলে যে দুই একটা দিন থেকেছেন তাতে জনগনের সামনে স্ট্যান্টবাজি করে পার করেছেন?
না আপনিই বলেন এই ধোকা এই প্রতারণার জন্য নড়াইলবাসী আপনাকে কি করবে?বলেন আপনি কি করবে তারা আপনাকে?ফাইজলামি করেন?
ওই সার্জনের বিচার হোক,পরে আপনার টা হোক।
ব্যাট-বল অনেক খেলছেন এখন থোন।জনপ্রতিনিধি হইছেন।এই কাজে মনোনিবেশ করেন।
সেই ১৯৮৬ থেকে এইদেশে ক্রিকেট চলতেছে।আজ ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলো বহুদেশীয় তো বাকি থাক একটা ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট পর্যন্ত জিততে পারলেন না।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেচে থাকলে আপনাদের এই ৩৩ বছর নিয়ে 'কেউ কথা রাখেনি-২' লিখে ফেলতে পারতেন!
আর কত?কোন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশই তাদের ক্রিকেট কে এতটা পৃষ্ঠপোষকতা করেনি যতটা আপনারা পেয়েছেন এই দেশে!
কাড়ি কাড়ি টাকা উড়ানো হইছে! কথা রেখেছেন?ওহ কথা দেওয়ার সাহসটাই তো পাননি কখনো!
ব্যাট বল খেলে মাসে মাসে যে লাখ লাখ টাকা নেন ওই টাকা দিয়ে নড়াইল সদর হাসপাতালে বাকি পোষ্টগুলোতে ডাক্তার নিয়োগ করে তাদের বেতন দেওয়া যাবে।তাহলে আর স্ট্যান্টবাজি করতে ঝটিকা সফরে হাসপাতালে যেয়ে হই-হাঙ্গামা করে সাঙ্গপাঙ্গদের দিয়ে তা ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা লাগবে না।

শজিমেক

Monday, April 16, 2018

Pre-marital Screening test: (একটি সচেতনতা মূলক পোস্ট)

Admin · 
 collected post
(একটি সচেতনতা মূলক পোস্ট)



বিয়ের আগেই সম্ভাব্য কাপল (Couple)-এর অর্থাৎ ছেলে (বর) এবং মেয়ে (কণে) উভয়ের কিছু নির্দিষ্ট ডাক্তারী বা মেডিক্যাল ইনভেস্টিগেশনস্ (পরীক্ষা সমূহ) করা উচিত।
বহিঃবিশ্বে এটা নিয়মিত ভাবে (রুটিনলি) প্রাকটিস হয়ে থাকে।
যাকে বাহিরের দেশে Pre-marital Screening test বলা হয়।

টেস্ট গুলো হলোঃ
I) Blood grouping with Rh-typing.
ii) Sickling test.
iii) HIV screening test.
iv) HBsAg.
v) Anti HCV.
vi) VDRL (Syphilis) (RPR)
Gonorrhea (Neisseria Gonorrhea) detection by PCR
vii) HbA1c

এই টেস্ট করার পর যদি কারো এমন কোনো সমস্যা ধরা পড়ে যেটা ভবিষ্যতে বাচ্চাকেও Affect বা আক্রান্ত করার সম্ভাবনা থাকে সে ক্ষেত্র উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সে বিষয়ে অবহিত করা হয়।
বিশেষত রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়ের (Consanguineous marriage) মাঝে বিয়ের ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনা বেশী থাকে। যেমন: Sickle cell anaemia. Thalasaemia ইত্যাদি।

তাই এই টেস্ট গুলো করলে অনেক ক্ষেত্রেই বেশ কিছু বংশগতভাবে ট্রান্সমিটেড ডিজিজ এভয়েড করা অনেকাংশে সম্ভব.

Monday, January 15, 2018

সুপ্রিয় অভিভাবক, আগে ভিডিওটি দেখুন। তারপর দু'মিনিট ভাবুন।

 

আপনার সন্তানকে চিকিৎসক বানানো কি খুবই জরুরী ?

একবারও কি ভেবেছেন সন্তানকে চিকিৎসক বানাতে গিয়ে মানহীন প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি করিয়ে সন্তানের জন্য কি সর্বনাশ ডেকে আনছেন ?
 
মানহীন মেডিকেল কলেজগুলো মানহীন চিকিৎসক বানিয়ে শুধু আপনার সন্তানের ভবিষ্যতই নষ্ট করছে না তারা দেশের ভবিষ্যতও নষ্ট করছে।

এইসব মানহীন মেডিকেল কলেজগুলোর মালিক ও পরিচালনা পর্ষদ আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনও ভাবে না তারা শুধু তাদের ব্যাবসা নিয়েই চিন্তিত।

তারা আপনাকে বিভিন্ন প্যাঁচে ফেলে আপনার কাছ থেকে ফিবছর শুধু নিয়েই যাবে দেবে না কিছু।
আপনাকে নিঃস্ব করে ছাড়বে।

তাদের এই অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আপনার কলিজার টুকরা সন্তানকে দিনেদুপুরে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দিতেও পিছুপা হবে না।

আর একবার ভেবে দেখুন।

যদি সরকারি মেডিকেলে অথবা মানসম্মত কোন প্রাইভেট মেডিকেলে(হাতেগোনা কয়েকটা) আপনার সন্তান চান্স পায় তবেই শুধু এ পথে আগাতে পারেন।
 নতুবা বিকল্প চিন্তা করুন।

দেশে পড়ার মতো ও যোগ্য মানুষ হওয়ার মতো আরো অনেক ভালো ভালো বিষয় আছে।
সেদিকে ঝুকুন।
সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।
জাতিও রক্ষা পাবে।

আপনারা আপনাদের সন্তানদের এইসব মানহীন ভূইফোড় মেডিকেলে ভর্তি না করালে ছাত্রের অভাবে ব্যাবসা গুটিয়ে তারা রাস্তায় বাদাম বেঁচবে।

আমরা সবাই মিলে তখন তাদের কাছে বাদাম খেতে যাবো।
সেই বাদাম খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে শেষ করছি।

বিনীত নিবেদক-
একজন চিকিৎসক।
 >> কালেক্টেড পোস্ট <<<

Wednesday, January 3, 2018

চলেন বিদেশ যাই!

বলছিনা..
আমরা বেশি ভাল...এও বলছিনা ওরা খারাপ..শুধু মনে করিয়ে দিতে চাই..চিকিৎসা দিতে গেলে কিছু জটিলতা হতেই পারে...সেটা এপারে হোক বা ওপারে হোক!

আজ চেম্বারে আসা প্রথম ৩ জনের মধ্যে ২ জনই ইন্ডিয়া ফেরত!

প্রথমজন-

উনি রক্তনালীর টিউমার নিয়ে ইন্ডিয়া গিয়েছিলেন...তারা ইঞ্জেকশন দিয়েছিলেন...ইঞ্জেকশন দেয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে আংগুল গুলো এভাবে পঁচে যায়!!
(ফেসবুকে আপলোডযোগ্য করার জন্য ছবির অরিজিনাল কোয়ালিটি একটু চেঞ্জ করা হল...তবুও কারো অস্বস্তি লাগলে দু:খ প্রকাশ করছি)

আরেকজন--

২০১০ সালে ইন্ডিয়াতে ভ্যারিকোস ভেইনের লেজার করান...আবারো ভ্যারিকোস ভেইন হয়েছে...ডুপ্লেক্স করে লেজারের নাম মাত্র খুঁজে পেলাম না!

ফলাফল -

আবারো অপারেশন করতে হচ্ছে তাকে!
যাওয়ার আগে..দুই রোগীর প্রায় একই প্রশ্ন, 'স্যার, আমার কি ওখানে ভুল চিকিৎসা হয়েছে?'
না..উত্তরে ওদের বদনাম করিনি! ও আমার স্বভাবে নেই! ইথিকসেও নেই!
বললাম, 'না তো...এমন সমস্যা হতেই পারে! আমদেরও হয়!'
রোগীর মুখে তখন অসহায়ত্ব,
'হ স্যার, আমার ভাগ্যটাই খারাপ'
---------- ----------
প্রিয় সাংবাদিক ভাই,
এ সপ্তাহেই প্রথম রোগীর আঙুলসহ পায়ের কিছু অংশ কেটে...তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করব আমরা!
হবে নাকি একটা রিপোর্ট?
ধুর...বাদ দেন...
চলেন বিদেশ যাই!
L

Thursday, November 9, 2017

দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থার উপর আস্থা রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও দৃঢ় ভিত্তির উপর দাড় করাতে সহায়তা করুন।

বিএসএমএমইউতে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) মাত্র ১,৬০,০০০ টাকা খরচে কিডনী প্রতিস্থাপন করা যায়,সর্বসাকুল্যে খরচ মাত্র ২,৫০,০০০ টাকা। সফলতার হার প্রায় ১০০%।

দাদাদের দেশে খরচ পরে প্রায় ১০ গুণ,১৫,০০,০০০-২০,০০,০০০ টাকা।অন্যান্য দেশে কিডনী প্রতিস্থাপন খরচ আরো বেশি।

দাদাদের এজেন্ট কিছু পত্রিকা কিছু দিন পর আবার পত্রিকায় হেডলাইন ছাপাবে বিএসএমএমইউতে ডাক্তার কিডনী অপারেশনের নামে মানুষের কিডনী বেচে দিচ্ছে। মানুষ ও বিশ্বাস করবে, তারপর আবার বন্ধ হয়ে যাবে কিডনী প্রতিস্থাপন। মানুষ আবার কিডনীর চিকিৎসার জন্য দাদাদের দেশে পাড়ি দিবে।

দাদাদের পেইড এজেন্টরা আমাদের দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে ধীরে ধীরে, আর আমাদের দেশের আমজনতা ও তা চোখ বুজে বিশ্বাস করে।

চিলে কান নিয়েছে শুনেই চিলের পিছে দৌড় শুরু করে, কানে হাত দিয়ে দেখেনা কান আছে কানের জায়গায়ই।
দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থার উপর আস্থা রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও দৃঢ় ভিত্তির উপর দাড় করাতে সহায়তা করুন।

Courtesy: Dr. Sohel

Saturday, July 22, 2017

এদিনের পরিবর্তন চাই!




-কী সমস্যা?
-‘শইল’ চেতে না।
-শইল চেতে না মানে?শরীরে বল পান না?
‘মানে’ ‘মানে’ বলে ইতঃস্তত করছেন পড়ন্ত বয়েসী এই চাচা।লজ্জা-টজ্জা কিছু একটা পাচ্ছেন।
বয়সের সাথে লজ্জার ভাঁজ গুলো ও চোখে মুখে স্পষ্ট!
-‘এই জ্যান, কতা অইলো গিয়া…
বুঝলাম,আমার চেম্বারের অল্পবয়সী মেয়েটি চাচার জবান আলগা করার ক্ষেত্রে একটা ব্যারিকেড।যেটা চাচা ডিঙ্গাতে পারছেন না কিংবা চাইছেন না।
‘মিনারা, তুমি বাইরে দাঁড়াও, দরকার হলে ডাকবো’!
ওড়নার একটা কোনা মুখে গুঁজে মিচকা একটা হাসির ঢেউ মেখে ও চলে গেল!
রুমে আর কেউ নেই।আমি আর চাচা।ওয়ান টু ওয়ান!
-এবার বলেন, কী সমস্যা?
কথা বলার স্পেস পেয়ে নিজের আগল খুলে দিলেন চাচা।
-ভাইস্তা,শইল্যে কুনু ‘ছেস’(সেক্স) নাই।
-কী করেন আপ্নে চাচা?
-‘লঞ্চের সুকানি।জাহাজের ডেরা-ই-ভারও কইতে পারো!
ভাইস্তা,তুমি কী ‘ছেস’ বিশেষজ্ঞ?
আমার এক ভাইস্তা আছে ‘ডাহা মেডিকেলের’ ডাকতর।এক্কেরে তুমার লাহান’!
-‘চাচা আমি ‘ছেস’ কেনো কোনো কিছুরই বিশেষজ্ঞ না।‘নরমাল’ এম বি বি এস’।
-‘ভাইস্তা তুমার ভিজিট আমি তুমারে দ্যায়াম,কিন্তু তুমি আমারে একটা পভেছারের ঠিকানা দিবার পারো যে এই মামলার একটা মীমাংসা দিবার পারবো’।



আমাদের দেশের শিক্ষিত মূর্খ সবাই বিশেষজ্ঞ-বাতিক।এই বাতিকগ্রস্ততার জন্য দায়ী আমরাই।দুই দিনের মাথা ব্যথা নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে।পেশাবে জ্বালা-পোড়া হলে ইউরোলোজিস্ট দেখাতে হবে।পেটে ব্যথা হলে হেপাটোলোজিস্ট,গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলোজিস্ট দিয়ে বোর্ড বসাতে হবে।
অথচ পৃথিবীর সব দেশেই আগে রোগী জেনারেল প্র্যাক্টিশনারের কাছে যায়।জেনারেল প্র্যাক্টিশনার চাইলে স্পেশালিস্টের কাছে রেফার করেন।ইমারজেন্সী সিচুয়েশন ব্যতিত রেফারাল ছাড়া স্পেশালিস্ট রোগী দেখেন না।এতে করে সবার উপর রোগীর চাপটা সমান থাকে।অথচ আমাদের দেশে এম বি বি এস ডাক্তার চেম্বারে মাছি মারেন আর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হাপুস-গাপুস করে মাথা-ব্যথা,সর্দি জ্বর,কাশি,পাতলা পায়খানার রোগী দেখে শেষরাতে বাড়ী ফেরেন।



দেশের সকল ‘খেপ-খাটা’ 'চিকিৎসা-শ্রমিকদের' মহান মে দিবসের শুভেচ্ছা।
যে এম বি বি এস ডিগ্রীটা আমাদের সৌভাগ্যের প্রসূ্তি হত সেটা হয়নি।
সেটা হয়নি দেশে শক্তিশালী রেফারাল সিস্টেম না থাকার জন্য।
বিশেষজ্ঞ থাকেন তিনহাজার স্কয়ার-ফিটের প্রাসাদপোম ফ্ল্যাটে।
আর গ্রাজুয়েট ডাক্তার থাকেন আজিজ মার্কেটে।
‘বারো বাই বারো ফুটের’ এক রুমে চারজন গাদা গাদি করে নিদ্রা যাপন করেন।
দীর্ঘশ্বাসের সে ঘুমে থাকে এক আকাশ কস্ট।
এদিনের পরিবর্তন চাই!

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Wednesday, April 19, 2017

ডিস্কাউন্ট!!!


রবি ব্যবহারকারী গ্রাহক পাচ্ছেন ৮.৫%
বাংলা লিঙ্ক ব্যবহারকারী প্রিয়জন গ্রাহক পাচ্ছেন ১০%
গ্রামীণের স্টার কাস্টমার পাচ্ছেন ১৫-২০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাউন্টারে বসে ভাবছি চিকিৎসক পরিচয়টা দেব কি না। সংকোচ রেখে বলেই ফেললাম, উনি দু'জন চিকিৎসকের আম্মা। ১০-১২টা টেস্টে কয়টা টাকাই বা বাঁচবে।

"আমরা ইন্টার্নরা যে কোন ল্যাব ৩০-৪০%তো সব রোগীকেই লিখে দেই, আমার আম্মার ক্ষেত্রে কেন পাবো না"? একবার বেটার হাফের মুখের দিকে তাকাই আরেকবার কাউন্টারে বসা এপ্রন পরা রিসিপসনিস্টের দিকে। ডাক্তার পরিচয় দেয়ায় কিছুটা অবিশ্বাসের সাথেই দু তিনবার ফোনের রিসিভার কানে ঠেকিয়ে একবার ম্যানেজার আরেকবার কার সাথে যেন কথা বললো।

অস্বস্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বাংলাদেশের সকল চিকিৎসক এক থাকলে হাজার কোটি টাকার ওষুধের বাজারে এক এসকেএফেরই ১৯-২০ কোটি টাকা এক মাসে ক্ষতি হয়, সেখানে আমি এক দেড় হাজার টাকার জন্য কোথাকার কোন ডায়াগ্নোস্টিক সেন্টারের অন্তত তিন জন কর্মচারীর সিদ্ধান্ত(দয়া!)র জন্য অপেক্ষা করছি। আচ্ছা এটা কি প্রাপ্য না প্রাপ্য নয়? শেষ পর্যন্ত ডিস্কাউন্ট ২০ % এর মত দেয়া হয়েছিল।

পুলিশের হাসপাতাল থাকে(পুলিশ হাসপাতালের দায়িত্বে থেকে ১২০০ পুলিশ সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের জন্য এক মাসে ১০ লাখ টাকার ওষুধের বিলে স্বাক্ষর করেছি), সরকারি কর্মচারীর হাসপাতাল থাকে, থাকে না কেবল ডাক্তারদের জন্য কিছু। আমার সকল কাজের অদৃশ্য সমর্থক এবং তীব্র সমালোচক বেটার হাফকে বোঝাই, একদিন কেবল বিএমএর মেম্বারশিপ নাম্বার, তোমার ইন্টার্নশিপ বা যে কোন মেডিকেল শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড দিয়ে বাংলাদেশের সকল হাসপাতালে, ডায়াগ্নোস্টিক সেন্টারে ৫০% ডিস্কাউন্ট পাওয়া যাবে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে অফিসিয়ালি যেমন ৩ জন রোগীর পর একজন চিকিৎসক/কর্মচারী দেখাতে পারে তেমনি আমার অসুস্থ মাকে দ্বীন মোহাম্মদ স্যার কিংবা প্রাণ গোপাল দত্ত স্যারকে বিনা সিরিয়ালে দেখাতে পারব।

হিপোক্র্যাটিক শপথে My colleagues will be my brothers and sisters কথাটা মিথ্যা নয়, একদিন তা প্রমাণ করবোই।

সকল হাসপাতাল সেবা, ডায়াগনস্টিক টেস্টে চিকিৎসক ও চিকিৎসক পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট ডিস্কাউন্ট চাই।
চিকিৎসার অধিকার, চিকিৎসকের অধিকার-১,

১৪/৪/১৭।
চমেক ৪৮, ২০০৫-৬
স্বত্ব-প্ল্যাটফর্ম

Thursday, March 30, 2017

Let's give a sincere thought over it...


.
আমরা এমন এক দেশে বাস করছি, যেখানে প্রয়োজন পড়লে মধ্যরাতেও সহজেই একজন কোয়ালিফাইড ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া যাবে, কেবল মাত্র ২০০-৫০০ টাকা খরচ করলেই! অথচ অত রাতে দুর্ঘটনাবশত কোন কারণে যদি ইলেক্ট্রিশিয়ান কিংবা প্লাম্বার প্রয়োজন হয়, এই টাকায় ওই সময়ে তাদের টিকি'টিরও দেখা মিলবে না!!
.
এমন এক দেশে বাস করি , যেখানে কোন মুমূর্ষু রোগী হঠাৎ মারা গেলে লোকে হাসপাতাল তোলপাড় করে ফেলে অথচ ক্ষুধা, দারিদ্র্য কিংবা অপুষ্টি তে হাজার হাজার লোক মরলেও, কারো কোন ভাবান্তর নাই!
.
মামলার শুনানির তারিখ পেতে বছরের পর বছর আদালত পাড়ায় ঘুরাঘুরি করেও লোকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে দেখা যায় না, অথচ রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসলেই তাদের ভয়ানক ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়!!
.
ডাক্তাররা যদি ন্যায্য ফি ও দাবী করে, তাতেই "কসাই " আর "চামার " বলে গালি শুনতে হয়, অথচ দুর্নীতিবাজ আমলা আর রাজনীতিবিদেরা পাবলিকের লাখ লাখ টাকা লোপাট করে দিলেও তারা ঠিকই সেলেব্রিটির মত আদর- আপ্যায়ন পায়!!
.
এমন এক আজব দেশে আছি, যেখানে "বাচ্চা" জন্মানোর খুশিতেই লোকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে পার্টি দেয়, অথচ এই বাচ্চাকে নিরাপদে পৃথিবীতে আনতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করল, সেই ডাক্তার আর হাসপাতালকে চার- পাঁচ হাজার টাকা দিতেও কার্পণ্য বোধ করে!
.
এমন দেশে আছি, যেখানে কোন কোন হোটেলে ১৫০০ টাকায় পুরো দিনের জন্যে একটা কামরা মেলে না, অথচ হাসপাতালে ঠিকই এই খরচে ওয়ার্ডের বেড পাওয়া যাবে, সাথে ওষুধ- পত্র, পরীক্ষা - নীরিক্ষাসহ! আর নার্সিং কেয়ার প্লাস ডাক্তার তো আছেই ( তাও নাকি এমন ডাক্তার, কোন কিছু এদিক ওদিক হলেই যাকে ইচ্ছামত তুলোধুনো করা যাবে!! )
.
এমন এক অদ্ভুত দেশে আছি, যেখানে রোগি মরে গেলে ভাংচুর করা কিংবা ডাক্তার - স্টাফ পেটানোর জন্য লোকের অভাব হয়না, অথচ রক্তদানের প্রয়োজন হলে এদের মাঝে একটা মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যায় না!!!
.

Prof. Zahurul Islam স্যারের টাইমলাইন থেকে, কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত ও সংশোধিত করে... .

Monday, March 6, 2017

দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আরোগ্যলাভ করা একটা মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, সে কি ভাবে ডাক্তারদের নিয়ে? প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

ইদানিং কালের ডাক্তার বিরোধী ট্রেন্ড টা নিয়ে কয়েকদিন ধরে চিন্তা করেছি। ডাক্তার বিদ্বেষ এখন আর কোন মিথ না। সমাজের বিরাট বড় একটা অংশ ডাক্তারদের ঘৃণা করে। কেন করে? কারনগুলো কি? মানুষের ডাক্তারদের নিয়ে প্রধান অভিযোগ গুলো কি? কেন তাদের কসাই, ডাকাত, জানোয়ার বলে সম্বোধন করা হয়?

কারন গুলো দেখতে আমি কয়েকটা অনলাইন নিউজ পোর্টালের ফেইসবুক পেইজের কমেন্ট সেকশনে ঢু মারলাম। আসলে কোনটা তাদের মেইন অভিযোগ - বেশি টেস্ট দেয়া হয় এটা? নাকি স্পেসিফিক জায়গায় টেস্ট করতে বলা হয় এটা? নাকি তারা সব কমিশন খান ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এটা? নাকি তারা সরকারের টাকায় পড়ে প্রাইভেট প্র‍্যাকটিস করেন এটা? অথবা তারা সময় দেন কম এটা?
কমেন্টগুলো পড়ে আমি যেটা আবিষ্কার করলাম যে, তাদের মেইন অভিযোগ- "উনি ২ মিনিট দেখে ৮০০ টাকা নেন কেন?"
তার মানে তাদের ভিজিট নিয়ে কমপ্লেইন। আর এত কম সময়ে এত টাকা কেন ইনকাম করে,তা নিয়ে প্রবলেম। সময় কম দেয়া হয় এটাও কমপ্লেইন।
এইসব কমপ্লেইন নিয়ে আরেকদিন লিখবো। এবার আসি এসব কমপ্লেইন এর সাইকোলজিক্যাল এসপেক্ট নিয়ে। কেন ডাক্তারের কাছে গিয়ে খরচ করাটাই সকল সমস্যার উৎস?

ডাক্তারের কাছে গিয়ে টাকা খরচ করা এক রকম জরিমানা স্বরূপ সবার কাছেই। অসুস্থ কেউ প্ল্যান করে হয় না। অসুস্থ হয়ে কেউ খুশিও হয় না। সুস্থতার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা একটা অতিরিক্ত খরচ,যেটা এই খাতে খরচ করার কথা ছিল না। হয়তো সে এই টাকা রেখেছিলো একটা মোবাইল ফোন কিনবে বলে। মায়ের জন্য একটা শাড়ি। কিংবা নতুন কোন জুতা। কিংবা সংসারের খরচ!

মানুষ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ফ্রিজ কিনে অসুখী হয় না, কিংবা টেলিভিশন বা কাপড়চোপড়, মোবাইল ফোন। এমনকি লক্ষাধিক টাকা দিয়ে জমি বা গাড়ি কিনেও তারা অর্জন খুঁজে পায়, কারন খরচ হলেও একটা জিনিসের মালিক হচ্ছে সে। দামি রেস্তোরায় দিয়ে খেতে ভালো লাগে। পয়সা খরচ হলেও রসনা তো তৃপ্ত হয়। লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ ঘুরে আসতেও খারাপ লাগে না, কারন টাকা গেলেও মন তো প্রফুল্ল হয়।

কিন্তু হুট করে অসুস্থ হয়ে গেলেই সমস্যা। যে খরচটা হবে, সেটা তো হবার কথা ছিলো না। অল্পের উপর দিয়ে গেলে তাও ভালো, কিন্তু বড় রোগ হলে, অপারেশন লাগলে? অনেক খরচ। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করলেও সবার জন্যেই খরচটা তো প্ল্যানের বাইরে। পরিষ্কার জরিমানা। তাই হাসিমুখে ডাক্তার দেখানোর কারন আছে কি? কিংবা এই খরচটা ভালো লাগার? তাই ডাক্তারদেরকে ভালো লাগাটা এসে ঠেকে টাকার অংকে। যত বেশি খরচ, তত বেশি রাগ, ঘৃণা, বিদ্বেষ। তাই ভিজিট ৫০০ ই হোক আর ১৫০০ ই হোক, রাগ উঠবেই- কম আর বেশি।

কিন্তু বিষয়টা তো এমনও হতে পারত যে এই রোগে সে দুম করে মরেও যেতে পারত। কিংবা তার মা, তার বাবা, বোন বা স্ত্রী, সন্তান? কিংবা খুব কষ্ট পেতে পারত। এই কষ্ট থেকে মুক্ত করার জন্য, জীবনটা বাঁচানোর জন্য কি কৃতজ্ঞ হতে পারতো না? হয়তো পারতো, যদি খরচ না হতো। বিপদ থেকে বেঁচে যাওয়ার চেয়ে কত খরচ হলো সেটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

তাহলে উন্নত বিশ্বে এত সম্মান কেন ডাক্তারদের? কারন উন্নত বিশ্বে পাবলিকের কাছে টাকার অংকের চেয়ে সুস্থ থাকাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরী। জীবনের দাম,সুস্থতার দাম টাকার দামের চেয়ে অনেক বেশি তাদের কাছে, তাই তারা অসুস্থ না হলেও নিয়মিত চেক আপ করায়। আর হেলথ ইন্স্যুরেন্স আরেকটা বড় ফ্যাক্টর। এদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে লজ্জা করে না। আর যার তাড়াতাড়ি দরকার আর সামর্থ্যে কুলোয়, সে প্রাইভেট প্র‍্যাকটিশনারের কাছে যায়।

তারপরও, নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া, দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আরোগ্যলাভ করা একটা মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, সে কি ভাবে ডাক্তারদের নিয়ে? প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।


>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Thursday, February 2, 2017

ইন্ডিয়ান হেলথ ট্যুরিজমঃ একটি নীল নকশা


১.....
■■দয়ার্দ্র(!) ডাক্তারটিঃ
পেপারের পাতা উল্টাতে গিয়ে বিজ্ঞাপনটা নজরে পড়লো।এক প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে ইন্ডিয়া থেকে আগত এক প্রখ্যাত চিকিৎসক আমাদেরকে নাকি ফ্রি চিকিৎসা দিবেন।চিকিৎসক মহাশয় নাকি বেশী রোগী দেখবেন না। ফোন নাম্বার দেয়া আছে, দ্রুত কল করে সিরিয়াল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে....
বিষয়টা কি তা বোঝার জন্য একটু সময় নিলাম।ঘটনাটা কি! ইন্ডিয়া কি এখন স্বাস্থ্যখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ? যদি তা না হয় তবে নিজ দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়ান ডাক্তার এদেশে কষ্ট করে এসে এদেশের মানুষকে ফ্রি সেবা দিতে চাচ্ছেন কেনো? কোনো কু-মতলব নেই তো?.....
কনস্পিরেসী থিওরী কোনো কাজের কথা না। নিজের উপর নিজেরই রাগ হলো।চিকিৎসক সাহেব হয়তো গ্লোবালাইজেশনে বিশ্বাসী, তাই এদেশে ফ্রি চিকিৎসা দিতে এসেছেন।আর আমি কিনা তার কু-মতলব নিয়ে চিন্তা করছি! কাজটা ঠিক হলো না, মনকে আরো উদার করতে হবে।পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে আমি চিন্তায় ইস্তফা টানলাম......
২.....
■■কোলকাতার ফোন নম্বরটিঃ
এক ভদ্রলোক প্রায়ই চিকিৎসার জন্য আমার চেম্বারে আসেন।শুধু যে তিনি আসেন তা না, উনার ফ্যামিলির সবাই মোটামুটি আমার কাছেই চিকিৎসা নেন।ভদ্রলোক বেশ অবস্থাসম্পন্ন। তাদের প্রেক্ষাপট থেকে আমি অনেকটা তাদের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান....
মাসখানেক আগে ভদ্রলোক তার Skin এর একটা সমস্যার(Urticaria) জন্য আমার কাছে এলেন।আমি চিকিৎসা দিলাম, উনি বিদায় হলেন....
ঘন্টাখানেক পর আবারো চেম্বারে এলেন।বললেন Skin এর এই প্রবলেমটা আগেও একবার হয়েছিলো। সেই সময়টায় পেপারে বিজ্ঞাপন দেখে এক প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে সাময়িক সময়ের জন্য আগত এক ইন্ডিয়ান ডক্টরকে দেখিয়েছিলেন।
ভদ্রলোক ইন্ডিয়ান ডক্টরের প্রেসক্রিপশন বের করলেন, লেমিনেটিং করা।ইন্ডিয়ান ডক্টর তার প্রেসক্রিপশনের উল্টোপিঠে কোলকাতার একটি ফোন নাম্বার দিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই সমস্যা দেখা দিলে নম্বরটিতে ফোন করে কোলকাতায় গিয়ে তার সাথে দেখা করার পরামর্শ দিয়েছেন....
সমস্যাটা যেহেতু আবার দেখা দিয়েছে, কাজেই ভদ্রলোক আমার কাছে জানতে চাচ্ছেন উনি এখন ইন্ডিয়ায় ঐ ডাক্তারের কাছে যাবেন কিনা?
Urticaria এর মত সাধারণ Skin problem এর চিকিৎসা এদেশেই সম্ভব।সাধারণ এই প্রবলেমের জন্য দেশের কারেন্সি খরচ করে ইন্ডিয়া যাবার কোনো প্রয়োজন দেখি না......
আমি ভদ্রলোককে কনফিউজড্ হতে নিষেধ করলাম, বললাম-'প্রয়োজন হলে আপনি BSMMU (প্রাক্তন পিজি হাসপাতাল) এর Skin specialist কে দেখাবেন....'
কিছুদিন পর উনি জানালেন, ঢাকা টু কোলকাতার টিকিট কাটা হয়েছে, ডিসিশনটা কেমন হয়েছে সেটা জানার জন্য আবার আমার চেম্বারে এলেন....
আমি পজিটিভ বা নেগেটিভ আর কিছু বলিনি, চুপ করে ছিলাম।তাকে কিভাবে বলি, "My silence doesn't mean I agree with you. It means your level of stupidity renders me speechless..... "
৩......
■■ধূর্ত পেইড এজেন্টঃ
এবার একটা রিসেন্ট ঘটনায় আসি.....
UK based একটা বাংলা টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাতকার দিচ্ছিলাম।ইস্যু-Antibiotic Resistance, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা চলছে। মোবাইল ভাইব্রেশন মোডে প্যান্টের পকেটে।সাংবাদিক সাহেবের সাথে কথা বলছি, রেকর্ডিং হচ্ছে।এমন সময় পকেটে মোবাইলে একটার পর একটা ভাইব্রেশন স্টার্ট হলো.....
সাক্ষাতকার শেষ হবার পর দেখলাম মেসেঞ্জারে মেসেজ ভর্তি।সাধারণত চেক করি না। এবার চেক করলাম।একটা ছেলে মেসেজ পাঠিয়েছে, মেডিকেলে Fifth year এ পড়ে।আমাকে কিছু তথ্য জানাতে চাচ্ছে, তার মনে হচ্ছে এগুলো আমার জানা দরকার।রেসপন্স করলাম.....
যে তথ্য আমি পেলাম তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।ছেলেটা একটা জবে'র অফার পেয়েছে।ধানমন্ডির এক অফিসে বসতে হবে।কাজ হলো- আগত পেশেন্ট ও পেশেন্টের লোকদের মোটিভেট করা যাতে তারা ইন্ডিয়ায় গিয়ে চিকিৎসা নেয়।স্যালারি মাসে ২৫০০০ টাকা, পেশেন্টকে ইন্ডিয়া পাঠাতে পারলে পার পেশেন্ট হিসেবেও একটা টাকা পাওয়া যাবে।Fifth year এ যে পড়ে এটা তার জন্য বেশ লোভনীয় একটি অফার বটে.....
৪.....
■■ফাইন্যালি পেইড মিডিয়াঃ
গত কয়েকদিনে Russia based একটি পেপার এবং UK based আরেকটি পেপারে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করা হয়েছে।সেগুলো বাদ দিলাম। ঐদিন দেখি CNN এও একই ব্যাপার। আবুল বাজনদারকে( Tree man syndrome এ আক্রান্ত ছিলো) নিয়ে তৈরি করা একটা রিপোর্ট তারা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ.....
আচ্ছা, এদেশের অধিকাংশ মিডিয়া-যারা পান থেকে চুন খসলে ডাক্তারদের একরকম ধুয়ে দেয়, তাদেরকে কি সহসা কখনো এদেশের ডাক্তারদের প্রশংসা করতে দেখেছেন? নাকি এদেশের ডাক্তাররা কোনো ভালো কাজ করেনা? ঘটনাটা কি?
কবিতার দুইটা লাইন বলিঃ
"সুজনে সুযশ গায় কুযশ ঢাকিয়া
কুজনে কুরব করে সুরব নাশিয়া...."
৫.....
■■এবার অনুসিদ্ধান্তঃ
উপরে চারটা সেগমেন্টে চারটা ভিন্ন ধরনের তথ্য দিলাম। এবার এক কাজ করুন।ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন তো--ঘটনাগুলোর মাঝে কোনো যোগসুত্র আছে কিনা? কোনো অনুসিদ্ধান্ত কি টানা যায়?
যায়।আমি অনুসিদ্ধান্তটা টেনে দিচ্ছি....
" একটি সংঘবদ্ধ চক্র পেইড এজেন্ট ও পেইড মিডিয়ার মাধ্যমে এদেশের ডাক্তারদের দুর্নাম করে জনগণকে এদের প্রতি আস্থাহীন করে সুচিকিৎসার লোভ দেখিয়ে অহেতুক দেশীয় মুদ্রাকে বিদেশে পাচার করছে".....
৬.....
জাস্ট দুইটা তথ্য দেই.....
Spain এর সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ ও USA এর স্কপাস এর পরিচালিত জরিপে সেরা হাসপাতালগুলোর মাঝে জায়গা করে নিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU)। All India Medical Institute বাদে ইন্ডিয়ার আর কোনো হাসপাতাল BSMMU এর উপরে নেই। পিপড়ার মত দলে দলে যারা ইন্ডিয়া যায়-তাদের জন্য তাই সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছু করার দেখছিনা।চ্যানেল আই কে ধন্যবাদ তথ্যটা আমাদেরকে জানানোর জন্য.....
দ্বিতীয় তথ্যটা WHO এর।তারা বলতে চায় বাংলাদেশ(৮৮ তম) নাকি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ভারতের(১১২ তম) চেয়ে এগিয়ে......
৭.....
আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আহামরি টাইপের-সে কথা কিন্তু আমি বলিনা।অনেক উন্নতির প্রয়োজন আছে- সেটা আমরা স্বীকার করি।কিন্তু পঙ্গপালের মত চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়ায় যাওয়া কোনো কাজের কথা না।প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে যে দেশীয় মুদ্রা অযথা এভাবে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে তার রাশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে টেনে ধরা উচিত।আমি তিনটি প্রস্তাব দেইঃ
ক) নিজ দেশে ভাত না পাওয়া যে ইন্ডিয়ান চিকিৎসকরা এদেশে প্র্যাকটিস করতে আসবেন--তাদেরকে অবশ্যই এদেশে লাইসেন্সিং পরীক্ষায় উৎরাতে হবে। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে-- ইন্ডিয়ায় তাদের লাইসেন্সিং পরীক্ষা না দিয়ে সেখানে আপনি প্র্যাকটিস করতে পারবেন? তারা যদি তাদের কোয়ালিটি এনসিউর করতে পারে, তবে আমরা কেনো নয়?
খ) ধুরন্ধর পেইড এজেন্ট ও পেইড মিডিয়াকে নিষিদ্ধ করা।এরা কন্টিনিউয়াসলি এদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত। প্রয়োজনে জনগণের সাথে প্রতারণার এই ব্যাপারটা ইনভেস্টিগেট করা....
গ) The less people know, the more they think they know-এটাই Dunning Kruger Effect. চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়া কোনো বেহেশত্ খানা না।কিন্তু সাধারণ জনগণ কিন্তু ইন্ডিয়াকে চিকিৎসার জন্য বেহেশত্-ই মনে করে এবং অন্যজনকে সেটাই বোঝায়। ড্যাটা বেইজড্ কমপেয়ারেটিভ অথেনটিক তথ্যগুলো জনগণকে ইনফর্ম করতে হবে, তাদেরকে সচেতন করতে না পারলে মুদ্রা পাচার রোধ করা সম্ভব নয়....
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবগুলো একটু ভেবে দেখবেন কি? দেশের মানুষগুলো প্রতারকের খপ্পরে পড়ে অসুস্থতা নিয়ে বর্ডার ক্রস করে।ইন্ডিয়ার হাসপাতালগুলো 'দাদা দাদা' ডেকে এদের পকেট কেটে রাখে।এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কান্ডারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া উচিত।" কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন....."
৮.....
দু'দিন আগে খবরে দেখলাম ভারতের একজন মন্ত্রী জনসভায় বলেছেন, গরু নাকি পরিবেশে অক্সিজেন সরবরাহ করে! এরকম আহাম্মকি কথা আমাদের দেশের কোনো মন্ত্রী বলবেননা সেই বিশ্বাস আমার আছে।যে দেশের নীতিনির্ধারকদের কনসেপ্ট এইরকম সে দেশ চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের থেকে উন্নত?
যে দেশে গো-মূত্র দিয়ে ৩০ ধরণের রোগের চিকিৎসা পপুলারিটি পায় - আমাদের মিডিয়া সেই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পূজা করে,সেই দেশের ডাক্তারদের হাইলাইট করে, নিজ দেশের চিকিৎসককে এরা ভিলেন বানায়।এই আফসোস কোথায় রাখি?
মধুসূদনের কবিতাটি মনে করিয়ে দেইঃ
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে—
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
৯....
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রলয়ঙ্করী এক লোকের নাম জেনারেল ফিল্ড মার্শাল রোমেল।উপাধি-Desert Fox।হিটলারের এই তুরুপের তাস জেনারেল রোমেলের একটি কথা আমার খুব পছন্দ...
কথাটি বলিঃ "সবাই চোখ -কান খোলা রাখে।আমি নাকও খোলা রাখি।গন্ধ শুঁকি।বিপদের গন্ধ শোঁকা যায়....."
এদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসের যে নীল-নকশা আঁকা হয়েছে-- সে বিপদের গন্ধ কিন্তু আমি পাচ্ছি। আপনি পাচ্ছেন তো?.....
- ডাঃ জামান অ্যালেক্স

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Sunday, December 25, 2016

ডিশোল্ডারিং ইফেক্ট ও রিক্তের বেদন


১......

■■প্রায় ৬ বছর আগের কথা। অভিজাত পাড়ার এক ঝলমলে প্রাইভেট হাসপাতালে মর্নিং ডিউটি করছি....
আমি ছিলাম CCU এর দায়িত্বে। হঠাৎ খবর এলো হাসপাতালের VIP কেবিনে দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান ভর্তি হয়েছেন।আমি রিলাক্সড্ ফিল করলাম, কেবিনের দায়িত্ব আমার না....
রিলাক্সড্ অবস্থা বেশীক্ষণ স্থায়ী হলো না, মিনিটখানেকের ভেতরে কেবিনের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদ্বয় এসে জানালেন তারা আজকে CCU দেখবেন।দু'জনই আমার সিনিয়র। কাজেই ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা হিসেবে আমাকেই আগুনের মাঝে ঝাঁপ দিতে হলো.....

■■পান্থপথের এক বিশেষায়িত হাসপাতালের কোন এক ছুটির দিন।কোনো এক ব্যক্তির মেজর অপারেশন হবে।মেইন সার্জন ওয়াশ নিয়ে বসে আছেন।যার অপারেশন হবে-তিনি এই দেশের আইন কাঠামোর সাথে সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি। অন্য সময় অ্যাসিট্যান্ট সার্জনের অভাব হয় না, এবার অভাব দেখা গেলো। ......
হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি ও প্রাইভেট হাসপাতাল বাদ দেই।সরকারী হাসপাতালে আসি....

■■সকাল সকাল হাসপাতালে ঢুকে গত রাতে ইমার্জেন্সী ডিউটি করা ডাক্তারের সাথে কথা বলে মনটা খারাপ হলো।কথায় কথায় জানতে পারলাম,গতরাতে হার্ট ফেইলিউরের এক রোগীকে প্রয়োজনীয় একটি ইনজেকশন্( Frusemide) না দিয়েই উচ্চতর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।ডাক্তারের সাথে কথোপকথনের কিছু নমুনাঃ
আমিঃ আর কিছু না হোক, ইনজেকশন ফ্রুসেমাইড'টা দিতে পারতা, রোগীটা শ্বাসকষ্টে রাস্তায়ই মারা যেতে পারে.....
নাইট ডাক্তারঃ আরে রাখেন, রোগীর অবস্থা যায় যায়, ইনজেকশন দিমু ভালোর জন্য, পরে রোগী মারা গেলে মাইর তো খামুই, পরদিন পেপারেও 'ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু'তে আমার নাম থাকবো....
আমিঃ নিজের বাপ হইলে কি করতা?
নাইট ডাক্তারঃ ধূর মিয়া, আপনে ইনজেকশন দিয়েন।আমি দিমু না, নিজে বাঁচলে বাপের নাম.....


২.....

উপরের ঘটনাগুলোয় একটা জিনিস স্পষ্ট।অধিকাংশ চিকিৎসক পেশেন্ট ম্যানেজ করার আগে এখন নিজের Safety ও Security-এর কথা আগে চিন্তা করছেন, পরে পেশেন্ট ম্যানেজম্যান্ট। ঘটনা কিন্তু এরকম হবার কথা ছিলো না, আজ থেকে ১৫ বছর আগেও অবস্থা কিন্তু এমন ছিলো না.....

■■Bronchial Asthma( এক ধরণের শ্বাসকষ্ট) তে চিকিৎসক Hydrocortisone ইনজেকশন দেবার পর রোগী মারা গেলো।চিকিৎসাটি সঠিক ছিলো।পরদিন পেপারে খবর বের হলো, ' ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু'। চিকিৎসককে থানায় নিয়ে যাওয়া হলো....

■■এক নায়ক মারা গেলো।চিকিৎসকরা জরুরীভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন, নায়কসাহেব তা অগ্রাহ্য করে বিদেশে যাবার মনস্থির করেছিলো, বিধাতা অবশ্য তাকে সে সময় আর দেন নি...
ফলাফলঃ বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হবার পরও কিছু চিকিৎসককে এখনো ঘন্টার পর ঘন্টা আদালত প্রাঙ্গনে হাজিরার জন্য বসে থাকতে হয়...

■■এক শিশু মারা গেলো।শিশু বিশেষজ্ঞ সঠিক চিকিৎসাই দিয়েছিলেন। জনতার প্রহারের সাথে তাঁকে হজম করতে হয়েছিলো অপসাংবাদিকতার রিপোর্টিংকেও......

এহেন অবস্থায় চিকিৎসকরা আগে নিজের পিঠ বাঁচাবেন, সেটি কি অস্বাভাবিক?.....


৩....
আপনারা বুঝবেন কিনা জানিনা-তবে একটা কথা বলি।কোন চিকিৎসকই চান না যে তার রোগী মারা যাক, এটা তার জন্য ডিসক্রেডিট....
এই অনন্ত নক্ষত্রবীথি যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর তুলনায় মানুষের ক্ষমতা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র। সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে চিকিৎসকেরা মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর সময় পাশে থাকেন, যেটা সরাসরি ডিল করেন মহাক্ষমতাবান সৃষ্টিকর্তা।
সেই ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়েই এই চিকিৎসকেরা সময় সময় আপনাদের জন্য এক বুক সাহস নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।এটা কি তুচ্ছ করার মত কোনো বিষয়?
এখন যদি প্রশ্ন করিঃ এদেশে চিকিৎসকরা কি Freely রোগীদের উপর রোগীর স্বার্থে তাদের অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারছেন? যদি না পারেন, তবে কি বুঝতে পারছেন--তাদের কুণ্ঠাবোধের উৎস কোথায়?


৪....
কিছুদিন আগে পেপার পড়ছিলাম। 'চিকিৎসকের নৈতিক স্খলন'--শিরোনাম দেখে ভিতরে পড়া শুরু করলাম। পরকিয়া সংক্রান্ত রসালো ব্যাপার-স্যাপার।সাংবাদিক সাহেব যাকে চিকিৎসক বলে অভিহিত করেছেন, তিনি আদতে কোন চিকিৎসকই নন, একজন কোয়াক!
মৃত্যুশয্যা থেকে চিকিৎসকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা আর মহান আল্লাহ'র ইচ্ছায় খাদিজা ফিরে এলো, পেপারে একটার পর একটা হেডলাইন।সাংবাদিক সাহেবেরা একেকদিন একেকজনের প্রশংসা করেন।চিকিৎসকদের প্রসংশা করতে কোনো সাংবাদিক সাহেবকে এগিয়ে আসতে দেখিনি, এটলিস্ট আমার চোখে পড়েনি......
যে চিকিৎসক নয় তাকে চিকিৎসক বানিয়ে পরকীয়ার রসালাপ তৈরি করে চিকিৎসক সমাজের সুনাম নষ্ট করতে সাংবাদিক সাহেবদের দ্বিধা নেই( ব্যতিক্রম আছে), তাদের দ্বিধা হয় ভালো কাজের প্রশংসা করতে। হলুদ সাংবাদিকতা আর কাকে বলে!
সাংবাদিক সাহেবদের বলি--"ভুল চিকিৎসা"র কচকচানি বাদ দিন, চিকিৎসা ভুল না সঠিক ছিলো--সেটা এ বিষয়ের এক্সপার্টদের উপরে ছেড়ে দিন।তার চেয়ে বরং এক কাজ করুণ, লিখুন, "চিকিৎসকের অক্লান্ত চেষ্টার পরও রোগী মারা গেলো"....বিলিভ মি অর নট, আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এদেশের চিকিৎসকরা তাদের ক্ষুদ্র লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়েই রোগী বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বেন.....


৫....
সাংবাদিকদের কথা বললাম, এবার এদেশের জনগণের কথা বলি....
প্রখ্যাত এক ব্যক্তিত্ব দেশের বাইরে মারা গেলেন।দেশে এসে তার নিকটাত্মীয়রা ভুল চিকিৎসার অভিযোগে কানাঘুষা শুরু করলেন, আমেরিকার ঐ হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও শুনলাম। বলে রাখি, ঐ হাসপাতাল ও তার চিকিৎসকদের টিকিটিও তারা স্পর্শ করতে পারেন নি।সেটা বাংলাদেশ না....
বিদেশে কোটি টাকা খরচ করে মারা গেলেও সমস্যা হয় না, এদেশে পান থেকে চুন খসলে ডাক্তারদের লাঞ্ছনা করা হয়। এদেশের জনগণ ভুলে যায়-এদেশের প্রত্যেক চিকিৎসক কত সীমাবদ্ধতার মাঝে থেকে শত-শত রোগী দেখতে বাধ্য থাকেন।চিকিৎসকদের রূঢ আচরণ তারা করতে দেখেন, তার পেছনের কারণ তারা খুঁজতে যান না। এদেশের জনগণ ভুলে যায়, তারা ও তাদের দেশের চিকিৎসকেরা এই দেশেরই আলো-হাওয়া-মাটিতে বড় হওয়া। এদেশের জনগণ কেন এমন মনে করে যে, এদেশের চিকিৎসক থেকে বিদেশী চিকিৎসকদের দরদ বেশী হবে? মায়ের চেয়ে মাসীর মমতা কি কখনো বেশী হয়?

বিদেশে রোগী মারা গেলে মাথা নিচু করে এদেশে ঢোকেন, দেশে মারা গেলেই ডাক্তারের দোষ! হিপোক্রেসীর একটা লিমিট রাখুন। যে আচরণ বিদেশে গিয়ে করেন, তা এদেশে চিকিৎসকদের সাথে করে দেখুন, সে ভালোবাসার শতগুণ আমরা ফেরত দিব, We promise......


৬....
'জন্মিলে মরিতে হইবে'...কাজেই চিকিৎসক হিসেবে Sometimes we have to stop. কিন্তু সার্বিকভাবে চিকিৎসকরা এখন এতোটাই Insecured ফিল করেন যে, তারা এখন মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকেও ডি-শোল্ডারিং করে চলছেন।এ অবস্থা সামগ্রিকভাবে শুভ নয়, কাম্য নয়....

শরৎচন্দ্রের দেবদাসে'র শেষ কয়েকটি লাইন আমার খুব পছন্দের।লাইনগুলো বলিঃ " মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময় যেন একটি স্নেহকরস্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে-যেন একটি করুণার্দ্র স্নেহময়মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়।মরিবার সময় যেন কাহারও এক ফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে"......
চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় আমরা নিরন্তর ছুটে চলি।একটা সময় মৃত্যুর কাছে আমাদের থামতে হয়।এই সময়টা রোগীর সাথে সাথে চিকিৎসকেও এই দেশের প্রেক্ষাপটে এক কঠিন সময় পার করতে হয়।আমরা চাই, ' একটি করুণার্দ্র স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে রোগীর জীবনের অন্ত হোক'।আমরা চাই একটি Dignified end of life এর। এদেশ কি আমাদের সে অবস্থা নিশ্চিত করার সুযোগ দিবে?

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Tuesday, December 13, 2016

হাল ছেড় না বন্ধু যেতে হবে অনেক দূর

এইলেখাটি একান্তই নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা,লেখাটি টাইপ করতে সাহায্য করেছে এক ছোটবোন কাম ফ্রেন্ড।
বিশেষ করে যে সকল জুনিয়র সিনিয়র বা ব্যাচমেটরা ডাক্তারী জীবনে কঠিন সংগ্রামের পথে হাটছে তাদের প্রতি উৎসর্গ লেখাটি।সময় থাকলে যে কেউ পড়ে দেখতে পারেন,অনুপ্রেরণা পেলেও পেতে পারেন।

একজন নবীন ডাক্তারের সংগ্রামের গল্প

এম,বি,বি,এস এর শেষবর্ষে থাকাকালীন সময়ে দেখতাম অনেকে সিনিয়রা পাশ করার পর বড় ডিগ্রী নিয়ে (এফ,সি,পি,এস / এমডি/এম,এস) মেডিকেলে রেজিস্ট্রার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার হিসাবে জয়েন করছেন । তখন তাদের দেখে আলাদা ইন্সপিরেশন পেতাম এবং স্বপ্ন দেখাতাম বড় বড় ডিগ্রী নেয়ার। যথারীতি সবার মত আমারও স্বপ্ন ছিল যে পাশ করে বের হয়ে ঢাকায় যাব, পিজির লাইব্রেরিতে পড়ব এবং এফ,সি,পি,এস বা এমডি করব। পাশ করে বাসায় চলে আসার পর যখন আব্বুকে বললাম যে আমি আগামী ৬ মাস ঢাকায় দিলিপ স্যার এর কোচিং করতে চাই এবং এই কয়টা মাস আমার খরচ চালিয়ে দাও তাহলে আমি ভাল ভাবে পড়ে তারাতারি চান্স পেতে পারব। স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম বাঁধা পরল এখানে। আব্বু বললেন এম,বি,বি,এস পর্যন্ত তোমাকে চালিয়েছি, এখন আর চালানর সামর্থ নেই। তুমি পাশ করেছ এবং নিজে উপার্জন করার ক্ষমতা হয়েছে তাই নিজে এখন নিজেরে চালাও। এই অবস্থায় ইন্টারনী থেকে জমানো বিশ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকায় চলে আসলাম। ঢাকায় এসে ডাক্তারদের বস্তি আজিজ সুপার মার্কেটে একটা রুমে একটা সিট নিলাম এবং কোচিং এ ভর্তি হলাম। এখন নিজের খরচ চালানর জন্য খ্যাপ যোগার করার জন্য ৩০ থেকে ৪০ টা সিভি দিলাম ঢাকায় এবং ঢাকার আসেপাশে বিভিন্ন হাসপাতালে, ক্লিনিকে এবং মেডিকেল কলেজে। অনেক দিন হয়ে যায় সিভি থেকে কোন ডাক আসেনা, আবার বড় কোন ভাইয়ের কাছ থেকেও ঢাকার আশেপাশে কোন খ্যাপ যোগার করতে পারছিনা যেখানে ৩/৪ দিন ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করব। এদিকে আবার জমানো টাকাও শেষের পথে। তার ওপর কোচিং, পড়ালেখা, পেট চালানোর চিন্তা সব মিলিয়ে দুর্বিশহ অবস্থা এবং চারিদিকে তখন অন্ধকার দেখতাম শুধুই। তখন শুধু কোচিংইয়ে যেতাম এবং কোচিং থেকে বের হয়েই বড় ভাইদের কাছে ছুটতাম খ্যাপের আশায় যেন সাপ্তাহিক খরচটা যোগাড় হয়। এভাবে ছুটতে ছুটতে মাঝে মাঝে পেয়ে যেতাম বড় ভাই, সিনিয়রদের কাছ থেকে খ্যাপ। খ্যাপে যেতাম নোয়াখালী, নরসিংদী, মাওনা, গাজীপুর সহ আরো অনেক জায়গায়। এতে করে পড়ালেখা থেকে অফ- ট্র্যাক হয়ে গেলাম। কোচিং করতাম ঠিকই কিন্তু রুমে এসে আর পড়ালেখা করার এনার্জি থাকতো না। খ্যাপে যাওয়া বাদও দিতে পারতাম না কারন এখন বাদ দিলে পরে আর ডাকবেনা। এভাবে চলতে চলতে আমার প্রথমবার এফ,সি,পি,এস পরীক্ষার সময় চলে আসলো। সাতহাজার টাকা দিয়ে ফর্ম পূরণ করলাম। পরীক্ষার হলে বসে বুঝতে পারলাম আমার পরীক্ষার প্রস্তুতি কোনভাবেই যথাযথ না,এমন কি কোথা থেকে প্রশ্ন হল তা ই বুঝলাম না। কোচিংয়ে শুধু ক্লাসই করে গেছি কিন্তু বাসায় পড়তে পারিনি এবং কোচিং এর পরীক্ষাতেও ভাল করতে পারিনি। তখন প্রথম বুঝতে পারলাম এই বড় বড় ডিগ্রী পাওয়া আসলে এত সোজা না, অনেক পড়তে হবে এবং এম,বি,বি,এস পাশ করার পরের লাইফটা খুবই সংগ্রামময় ।

বিভিন্ন জায়গায় সিভি দেয়ার ৬ মাস পর আমি প্রথম ডাক পাই বনানীর প্রেসক্রিপশন পয়েন্টে এবং চাকরিটা হয়ে যায়। এর মাঝে আরও ডাক পাই মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে এনাটমি এর লেকচারার হিসাবে। কিন্তু সপ্তাহে ৬ দিন শাহবাগ থেকে উত্তরা যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, তারপর বেতন ছিল মাত্র ১৭৭০০ টাকা। এর মধ্যে আরও কিছু প্রাইভেট মেডিকেলে সিভি দিলাম কিন্তু কোথাও থেকে ডাকেনা। উপায় না পেয়ে খ্যাপ মারতে থাকলাম এবং এভাবে মোটামুটি অর্ধেক বাংলাদেশ ঘোরা হয়ে গেছে। এর ফাকে ফাকে পিজির লাইব্রেরীতে পড়া শুরু করলাম। এই অবস্থায় আমি আমার বড় ভাবির কাছে গেলাম যিনি নিজেও ডাক্তার। উনাকে বললাম ভাবি আমাকে কিছু দিন চালিয়ে দেন যেন আমি একটানা পড়ালেখা করতে পারি এবং উনি রাজি হয়ে গেলেন। এতদিন যেহেতু খ্যাপের গণ্ডি বড় হয়ে গেছে এবং দেখা যায় একটানা ১০ দিন ডিউটি করলে প্রায় ২০০০০ হাজার টাকার মত পাওয়া যায় তাই এটার একটা নেশা চলে এসেছিল। যারফলে দেখা যেত পড়ালেখা করতাম অল্প অল্প এবং খ্যাপমারা ও চাকরিও করতে থাকলাম। এভাবে আমি দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসলাম। পরীক্ষা মোটামুটি ভালই হল কিন্তু রেজাল্ট যখন দিল তখন দেখালাম যে আমার ফিজিওলজি পার্টটা একটু খারাপ হয়েছিল এবং ফেল আসল। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা হিসাবে দেখলাম যে আমার অনেক বন্ধুরই চান্স হয়ে গেছে এবং পুরো দুনিয়া তখন বিতৃষ্ণা লাগত। জীবনটা আরও দুর্বিষহ করে দিত আমার গার্লফ্রেন্ড। সে সরাসরি তার হতাশা প্রকাশ করত। বলত যে সবার ডিগ্রী হয়ে যাচ্ছে, তার ফ্রেন্ডদের বয়ফ্রেন্ডদের হয়ে যাচ্ছে ডিগ্রী শুধু আমার কেন হচ্ছে না। জীবনটা তখন অন্ধকার লাগত, কোনদিকেই কোন আশা দেখতাম না। একদিকে চাকরি সংর্ঘষ, বাসা থেকে কথা শোনায় চান্স না পাওয়াতে আবার অন্য দিকে গার্লফ্রেন্ড দাম দেয়না ডিগ্রী না হওয়াতে।

এরপরের বার ঠিক করলাম যে এবার শুধু পড়ালেখাই করব এবং আর কিছুই করবনা। শাহবাগে যেহেতু থাকতাম সেহেতু পিজির লাইব্রেরীতে যাওয়া শুরু করলাম। পিজির লাইব্রেরী সকাল খুলত ৮ টায়, সকাল ৭:৩০ টায় ঝাড়ু দেয়ার জন্য খুলত। আমি দেখা যেত ঐ ধুলার মধ্যেই চোখ মুছতে মুছতে ঢুকে যেতাম যেন ভাল একটা জায়গায় সিট পাই। কথায় আছে অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়, সেরকমই লাইব্রেরী কার্ডের দাম ৮০০ টাকা থেকে এক লাফে ২৫০০ টাকা করে দিল। ৬ মাসের জন্য শুধু পড়ব লাইব্রেরীতে তার জন্য এত টাকা দেয়াও কষ্টকর লাগল। সারাদিন লাইব্রেরীতে পড়তাম শুধু দুপুরে খাওয়ার সময় বিরতি নিতাম। খ্যাপ যেহেতু কমিয়ে দিয়েছিলাম তাই টাকাও ছিল কম তাই খেতাম পিজির লাইব্রেরীর ওপরে ক্যান্টিনে যেখানে খুব কম টাকায় খাওয়া যেত। ৩০ টাকার মত মিল চার্জ ছিল তখন। পিজির লাইব্রেরীতে পড়া শতকরা ৭০ ভাগ ডাক্তারই ওখানে খেত ওখানকার বিস্বাদ খাবার শুধু মাত্র টাকা বাঁচানোর জন্য। এইরকম একদিন সন্ধ্যায় নাস্তা করে আসার পর দেখলাম কিছু দূরে বসে পড়ছে আমার এক জুনিয়র। তাকে দেখে বললাম কিরে তোর ক্ষুধা লাগে না ? নাস্তা টাস্তা করবি না ? এই প্রশ্নের এমন এক উত্তর পেলাম যা শুনে আমার অনেক খারাপ লাগল। সে বলল, “ভাই,নাস্তার টাকা পাব কই ? আমি তো খ্যাপ দেইনা এবং বাসা থেকেও টাকা দেয়না তাই আমার অনেক হিসাব করে চলতে হয়”। তখন বুঝলাম যে একজন সদ্য পাশ করা নবীন ডাক্তারকে কতটা সংগ্রাম করতে হয় পাশ করার পর। এভাবে ২ মাস পড়ালেখা চলল। সকাল ৭ টায় ঢুকতাম, দুপুরে রেস্ট নেয়ার জন্য একটু বের হতাম আবার রাত ১০ টায় বের হতাম লাইব্রেরী থেকে। এরপর আবার পরীক্ষায় বসলাম। পরীক্ষা শুরু হল এনাটমি দিয়ে, এনাটমি প্রিপারেশন যেহেতু ভাল ছিল তাই পরীক্ষাও অনেক ভাল হল, ভাবলাম এবার ৮০ এর ওপর নাম্বার থাকবে। কিন্তু ফিজিওলজি পরীক্ষা এর দিন প্রশ্ন এত কঠিন হল যে মনে হচ্ছিল হল থেকে সসম্মানে বের হতে পারলে বাঁচি। আর প্যাথলজি ভালই হল। সব মিলিয়ে মনে হল পাশ এবার হবে। এরপর বিকালে যখন আমার নামের পাশে ফেল লিখা দেখলাম তখন এতটাই খারাপ লাগল যে, মনে হল আল্লাহ বলে কেউ নাই, থাকলে আমার কষ্টের প্রতিদান দিল না কেন। তখন আল্লাহর ওপর থেকে বিশ্বাসই উঠে গিয়েছিল, মনে হত এই যে এত অমানবিক কস্ট করলাম আল্লাহ কেন ফল দিলনা। তখন মনে হত বেঁচে থেকে লাভ নেই। না হচ্ছে একটা ডিগ্রী , না হচ্ছে ভাল চাকরি, বন্ধুরা মোটামোটি সবাই চান্স পাচ্ছে, পরিবারে অনেক কথা শুনতে হয় বাবার কাছ থেকে তার ওপর গার্লফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক তখন চরম খারাপ। সব মিলিয়ে একেবারে করুণ অবস্থা । এর ভেতর একটাই মাত্র আশার বানী ছিল এই যে বি,সি,এস এর লিখিত পরীক্ষা দিয়ে বসে ছিলাম তখন। এই অবস্থায় মনে তখন একটাই প্রবল ইচ্ছা ছিল যে যেভাবেই হোক ডিগ্রী আমাকে একটা নিতেই হবে এবং এরই মাঝে আমার বিসিএস হয়ে গেল এবং আমি গ্রামে চলে আসলাম। এরপরের বারের পরীক্ষাটা আর দিলাম না। ভাবলাম যে আপাতত আগে পড়ালেখাটা করে নেই এবং একটু সামর্থবান হয়ে নেই তারপর আবার দিব।

জানুয়ারি ২০১৬ এর এফসিপিএস পরীক্ষাটা দেয়ার কোন ইচ্ছাই ছিলনা তাও কি ভেবে যেন ফর্ম পূরণ করেছিলাম খুবই গোপনে। পড়ালেখা তেমন করিনি, টুকটাক দিলিপ স্যার এর বই ঘেটেছি শুধু। পরীক্ষার আগের দিন রাতেও বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারলাম। বাসায় বললাম যে আমার ট্রেইনিং আছে ৩ দিনের ঢাকায় এবং চলে আসলাম ঢাকায়। কোন আত্মীয়ের বাসায় না উঠে উঠলাম আমার সিনিয়র এক বড় ভাই এর সাথে মহাখালীর এক হোটেলে। ওখানে টানা ৩ দিন পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষাটা এভারেজ হল এবং একটু আফসোস লাগল যে এবার যে প্রশ্ন হয়েছে তাতে আরও একটু ভাল করে পড়লে হয়ত চান্স হয়ে যেত। পরীক্ষা দিয়ে চলে গিয়েছিলাম আমার বড় আপার বাসায়। বড় আপার বাসা থেকে মহাখালী হোটেলে আসার পথে , ঐদিন বিকালে আমার এক বান্ধবী ফোন করে বলল যে, “দেখতো তোমার পাশ হয়েছে কিনা ? আমার হয়নি” আমি বললাম যে আমার কোনদিনও হয়না এবারও হবে না। এরপর আমার এক রুমমেট ফোন করে বলল যে তার চান্স হয়ে গেসে, তারও অনেক দিন চান্স হচ্ছিলনা। তখন খানিকটা ঈর্ষাবোধ হল যে ঐ বেচারারও হয়ে গেল শুধু আমারই হল না, আমার কি কোনদিনও হবে না ? জানতাম যে পাশ হবে না তাই কোনমতেই রেজাল্ট দেখতে রাজি ছিলাম না, কিন্তু তারপরেও মনকে অনেক বুঝালাম যে বেশি কি আর হবে ফেলই তো হবে, জীবনতো আর থেমে থাকবেনা বা শেষ হয়ে যাবেনা। এভাবে অনেকক্ষণ মনকে বোঝানোর পর মোবাইল এর নেট টা অন করলাম এবং আমার রোলটা ইনপুট করলাম। এরপর রোলের পাশে যখন লিখা দেখলাম পাশ তখন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এবং নিজের অজান্তেই মনে হল যে চোখে ২ ফোটা পানি চলে আসল। বিশ্বাস হলনা তারপরও। সাথে সাথে স্ক্রীনশট নিলাম এবং কমপক্ষে ১৫ বারের মত সাইটে গিয়ে চেক করলাম আসলেও আমি ঠিক দেখছি কিনা। তারপর আমার এক বান্ধবিকে রোলটা দিয়ে বললাম, ‘দেখতো আমি কিছু বুঝতে পারছি না’। সাথে সাথেই সে দেখে বলল যে আমার চান্স হয়েছে এবং খোঁচা দিয়ে বলল যে, “ তোমার তো চান্স হয়ে গেছে ,আমার তো এরপরের বার একাই পরীক্ষা দেয়া লাগবে’। এরপর আমার খানিকটা বিশ্বাস হল যে আমি চান্স পেয়েছি। তখন আমি ভাবলাম এই যে আমি, কিছুদিন আগেও চান্স পাইনি আর এখন চান্স পেলাম। কি পরিবর্তন হল আমার ? হাত একটা বেশি হয়নি , চোখ একটা বেশি হয়নি কিন্তু মানুষ হিসাবে দাম বেড়ে গেছে। এতদিন ডিগ্রী হয়নি দেখে কেউ আমাকে দাম দেয়নি না পরিবারের কেউ, না বন্ধুবান্ধব, এমনকি নিজের গার্লফ্রেন্ডও অনেক দূরে সরে গেছে কারণ তার মনে হয় আমার ক্যারিয়ার ভাল না বিসিএস হওয়া সত্ত্বেও। এরকম অনেকরকমের স্মৃতি মাথায় ভেসে আসল এবং এই ঘোরের মাঝেই মহাখালীর হোটেলে চলে আসলাম। ঐ সিনিয়র ভাই যার সাথে হোটেলে উঠেছিলাম তারও হয়নি তাই অনেকক্ষণ দুঃখ টুঃখ করার পর আস্তে করে তাকে বললাম যে আমার চান্স হয়ে গেছে। যেহেতু আমরা একই হেলথ কমপ্লেক্সের তাই উনি জানত যে আমি বেশি পড়ালেখা করিনি তাই উনি মহাআশ্চর্য যে কিভাবে চান্স পেলাম এবং অনেক কংগ্র্যাচুলেট করলো। এরপর আমি আমার বাকি ২ জন রুমমেট মেডিকেলের যাদের চান্স হয়নি তাদের জানালাম তারাও প্রথমে আশ্চর্য হল এবং পরে অনেক খুশি হল। তখন তাকে বললাম যে এবারের রেজাল্ট আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, কারণ যেবার আমি সব থেকে বেশি কষ্ট করে পড়েছিলাম সেবার হয়নি কিন্তু এবার প্রিপারেশন ভাল ছিলনা কিন্তু হয়ে গেল। এরপর আমার ঐ বন্ধু বিসিপিএস ভবনে টাঙ্গানো রেজাল্ট শীট এর ছবি তুলে যখন পাঠাল তখন আমার বিশ্বাস হল যে আমি আসলেও চান্স পেয়েছি। এরপর গার্লফ্রেন্ডকে জানালাম, সে হল দায়সারা খুশি, এরপর জানালাম বাবা মাকে। বাবা তো আলহামদুলিল্লাহ বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলার মত অবস্থা। এরপর আস্তে আস্তে অন্যান্যদেরও জানালাম। তখন নিজেকে অন্য রকম একটা মানুষ মনে হল। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম কারণ উনি আমার কষ্টটা দেখছেন।

পোস্ট গ্রাজুয়েশনে একটা কথা ঠিক যে প্রিপারেশন আপ-টু-দা মার্ক না হলে চান্স হবে না। আর প্রিপারেশন ভাল হলে চান্স যে কোনবার হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ ভালতে পারেনা। লাক কখন কাকে ফেভার করবে বলা যায়না কিন্তু প্রেপারেশন থাকতে হবে ভালমতো। এই জন্য ২/৩ বার পরীক্ষায় ফেল করলেও হতাশ হওয়ার কিছু নাই। অনেক কঠিন সময় পার করে এসেছি এবং আমার থেকেও আরও কঠিন সময় মানুষ পার করে। এই ডিগ্রীর জন্য আমার পার্সোনাল লাইফ অনেক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমার যে জুনিয়র যার পিজির লাইব্রেরীতে খাওয়ার টাকা ছিলনা তার কার্ডিওলজিতে এফসিপিস , এমডি হয়ে গেছে ঢাকাতে।

আমার মতো প্রতিটা সদ্য পাস করা ডাক্তারকে অনেক কস্ট করতে হয় একটা চাকরি জোটাতে, খাবারের টাকা জোটাতে। এইরকম অনেক বাঁধা পার হয়ে আমি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসাবে নিয়োগ পেলাম, আস্তে আস্তে হয়তো আমি মেডিকেল এর টিচার হতে পারব অথবা বড় পোস্টে যেতে পারব। তাই এখন মনে হয় যে আল্লাহর কাছে যাই চাই তার প্রতিদান আল্লাহ কোন না কোন বার দিবে।

আমার মত প্রতিটা ডাক্তারেরই এইরকম স্ট্রাগল করতে হয়, কিন্তু কথা হল একটাই যে হাল ছাড়া যাবেনা, হতাশ হওয়া যাবেনা ঠিক মত প্রিপারেশন নিতে হবে এবং লাইনে থাকতে হবে। অনেক ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক, মানসিক এবং পারিপার্শিক সমস্যা থাকার পরও হতাশ হওয়া যাবেনা । ঠিকমত চেস্টা করে গেলে সফল হওয়া সম্ভব। তাই তো বলি হাল ছেড় না বন্ধু যেতে হবে অনেক দূর।

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Saturday, December 3, 2016

অবৈতনিক চিকিৎসক – একটি বর্বর শোষণ প্রক্রিয়ার নাম।

হেডলাইন দেখে অনেকেই অনেক বুঝেছেন আবার অনেকেই কিছু বোঝেন নাই।
 বিশেষত যারা নাকি চিকিৎসক তারা ধরতে পেরেছেন। আর অন্যরা হয়তো ভাবছেন “অবৈতনিক চিকিৎসক”? এইটা আবার কি? আগে তো শুনি নাই!!! আসুন একটু শুনি, একটু দেখি আর একটু জানি।

 অবৈতনিক চিকিৎসক কাকে বলে? নামের মাঝেই কাজের পরিচয় পাওয়া যায়।
 অর্থাৎ এরা হচ্ছে সেই সব চিকিৎসক যারা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন কিন্তু তার বিনিময়ে একটি পয়সাও পান না। বরং নিজের টাকা দিয়ে যাতায়াত আর হাসপাতালে খাওয়ার খরচ চালাতে হয়।
 মজা লন নাকি ভাই, রূপকথার গল্প শোনান? জ্বি হ্যাঁ, রূপকথার গল্প শোনাই। দেশের নাম বাংলাদেশ।
 তবে ঘটনা সত্য। এখন সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন মেডিকেলে প্রায় পাঁচ হাজার এমন বিনা বেতনের চিকিৎসক আছেন। সংখ্যাটা আরও বেশি হতে পারে। তবে কম নয়।

 ডাক্তাররা করে ক্যান? মাথায় কি ছিট আছে নি? জ্বি না। মাথায় ছিট নাই। করার অন্যতম একটা কারন হচ্ছে-- এফসিপিএস পরীক্ষা এবং এমডি,এম এস,এম ফিল (মেডিকেলের বিভিন্ন পোশটগ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রির নাম এ গুলো) এই সব পরীক্ষার ফাইনালে অংশগ্রহন করার জন্য যোগ্যতা হিসেবে প্রশিক্ষনের জন্য তাদের বিনা বেতনে কাজ করতে হয়।


 ঠিকই তো আছে, ডিগ্রির জন্য বিনা বেতনে কাজ করে— না ভাই, ঠিক নাই। কারন পৃথিবীর আর কোন দেশে বিনা বেতনে প্রশিক্ষনের সিস্টেম নাই। (তথ্যটা যাচাই করতে পারেন) কিন্তু তাদের দেশেও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি আছে এবং তার মান ও ভাল।

  ডাক্তাররা তো কাজ শিখে অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারী করছেন— জ্বি করছেন। এবং পৃথিবীর সব দেশের চিকিৎসকরাই কাজ করেই অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারী করেন। কিন্তু বিনা বেতনে কোথাও নয়।

ডাক্তারদের অভিজ্ঞতা বাড়ানোই এ সিস্টেমের লক্ষ্য— জ্বি না, ডাক্তার অভিজ্ঞতার উপর “মূত্র বিসর্জন” করার সময় কার ও নাই। সরকারি হাসপাতাল চালাতে হবে। কিন্তু চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে না। অতএব পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের কালা নিয়মে ফেলে চিকিৎসকদের বাধ্য করা।

 আচ্ছা এরা কি সিম্পলি “ প্রশিক্ষনার্থী” চিকিৎসক? অনেকেই ধারনা করতে পারেন, এই সব ডাক্তাররা কিছু পারে না। এদের শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভুল, সবই ভুল। এরা যদি কিছুই না পারতো তাহলে শুধু এদের উপর নির্ভর করে প্রফেসররা রাতে বাসায় গিয়ে ঘুমাতে পারতেন না। হাজার হাজার রোগী মারা যেত। এরাই রোগীকে জরুরি চিকিৎসা দেন। প্রাথমিক ঝুকিমুক্ত করেন। প্রয়োজনে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এরা জরূরী অপারেশন ও করেন। কাজেই সরকার মূলত শেখানোর নামে চিকিৎসকের দক্ষতাকে ব্যাবহার করছে বিনা পারিশ্রমিকে।

 আচ্ছা অন্য প্রফেশনের দিকে একটু তাকাই— বাংলাদেশে অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ আছে। সেখানেও বিভিন্ন বিষয় এর উপর ছাত্র ছাত্রীরা গ্র্যাজুয়েট হয়ে বের হয়। 
তাদের জন্য কি এমন কোন সিস্টেম আছে? যেখানে তাদের বিনা বেতনে কাজ করতে হয়? না, উত্তর টা হচ্ছে না। তাহলে চিকিৎসকরা কি অমানবিক বৈষম্যের শিকার নন?

 এভাবে কি ভাল চিকিৎসক তৈরি হওয়া সম্ভব? ভাল চিকিৎসক তৈরি হবার অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত হল ভালভাবে পড়াশোনা করা। একটা দিনকে আমরা তিন ভাগে বা রোস্টারে ভাগ করি- সকাল,বিকাল ও রাত। তাহলে সপ্তাহে রোস্টার মোট একুশ টা। এখন বিনা বেতনের ডিউটিতে মোটামুটি ছয়টা রোস্টার করতে হয়। বাকি থাকল ১৫ টা। যেহেতু এই বিনা বেতনের চিকিৎসক “সুপারম্যান” নন। তাকেও খেতে হয়, পরতে হয় এবং সংসার চালাতে হয়। অতএব অর্থ উপার্জনের জন্য তাকে বাইরে ডিউটি করতে হয়। বর্তমানে ঢাকা শহরে প্রতি রোষ্টার কম বেশি ছয়শ টাকা। সপ্তাহে ছয়টা রোস্টার করলে তিনি মাসে পনের হাজার টাকার কাছাকাছি উপার্জন করতে পারবেন। তাহলে তার আর রোস্টার বাকি থাকে ৯ টা।

 এখন প্রশ্ন নাম্বার এক – এই চিকিৎসক সপ্তাহে সাত টা রাত ঘুমার জন্য সময় পাবেন কি? প্রশ্ন নাম্বার দুই- তাহলে এই চিকিৎসক পড়াশোনা করবেন কখন? প্রশ্ন নাম্বার তিন- এই চিকিৎসক তার পরিবারকে সময় দেবেন কখন? আর পনের হাজার টাকায় ঢাকা শহরে পরিবার সহ তার বাজেট ও আশা করি তৈরি করে দেবেন। যেখানে আপনাকে প্রতি ছয়মাসে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন পরীক্ষা দেবার জন্য প্রায় ১২ হাজার টাকা যোগ করতে হবে। মেডিকেলের দামি বই কেনার টাকা হিসাব করতে হবে। বিনা বেতনের ডিউটিতে যাবার এবং খাবার খরচ হিসাব করতে হবে।

 সবশেষে বলি- অবাক করার বিষয় এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। পত্রিকার পাতায় এ বোবা কান্নার খবর আসে না। পাস না করানোর হুমকিতে চিকিৎসকরাও বলতে দ্বিধাবোধ করেন। আমাদের মত এই সব অসহায় বোবাদের মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা একরাশ কষ্টের গল্প টিভির টক শো কিংবা পত্রিকার পাতা অথবা আলোচনা অনুষ্ঠানে উঠে আসে না। কারন এতে হয়তো কাটতি তেমন হয় না। এর চেয়ে খবর হিসেবে “চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু” অনেক বেশী আকর্ষনীয় আমাদের কষ্ট বোঝার কেউ কি আছেন বাংলাদেশে?

 এই নির্মম দাস প্রথার অবসান চাই। শেয়ার করতে বলা আমার অভ্যাস নয়। চিকিৎসক ও যারা সমব্যাথী হবেন তাদের শেয়ার করার অনুরোধ জানাচ্ছি। চিকিৎসকদের জীবনের এই অংশটা মানুষ জানে না। জানানো দরকার।

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Friday, December 2, 2016

জীবনই শুরু থার্ড জেনারেশন দিয়ে.

পেরিফেরিতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যে সব বাচ্চা আমরা পাই তারা নামী বেনামি কোম্পানির থার্ড জেনারেশন খেয়ে আসে! সেফিক্সিম (থার্ড জেনারেশন সেফালোস্পোরিন) তিন দিন খেয়ে আপনার কাছে আসল। আপনি কি করবেন?


কন্টিনিউ করবেন নাকি সুইচ করবেন, 
নাকি কোম্পানি চেইঞ্জ করবেন, 
নাকি ইঞ্জেক্টেবলে যাবেন, 
নাকি ফার্স্ট জেনারেশনে ফিরে যাবেন?

আমাদের বেশিরভাগ ভাল ছাত্রের জীবনের লক্ষ্য ডাক্তার হওয়া আর বেশিরভাগ ডাক্তারদের জীবনের লক্ষ্য বিজি প্র‍্যাকটিশনার হওয়া। দিনে ৫০-৬০ টা পেশেন্ট না দেখলে স্ট্যাটাস থাকেনা। পেশেন্টতো শুধু দেখলেই হবে না রোগও সারাতে হবে। রোগ সারাতে গিয়েই বিভিন্ন অষুধের অপপ্রয়োগ করা হয়। সব থেকে ডেঞ্জার জোনে আছে পেডিয়াট্রিক পেশেন্ট।

কিছু প্রশ্ন

তিন মাসের নিচে সালবিউটামল দিয়ে কোন লাভ হয়?
হুইজ না থাকলে কি প্রেডনিসোলন দেওয়ার দরকার আছে? অথবা ছয়মাসের আগেই কি এটা দেওয়া যায়?
সিপ্রোফ্লক্সাসিন কি বাচ্চাদের কোন ক্ষতি করে। রিস্কের চেয়ে বেনিফিট বেশি না হলে কি এটার ব্যবহার যুক্তিসংগত?

বেশি প্রশ্ন করে লাভ নেই। যে কোন পেডিয়াট্রিক্স আউটডোরে এক ঘন্টার প্রেস্ক্রিপশন ফলো করলেই দেখা যাবে বেশিরভাগ ড্রাগই পেশেন্টের বয়সে নির্দেশিত নয়। প্রাইভেট চেম্বারে এটা আরো বেশি হয়।

তাহলে ডাক্তাররা কেন লিখছেন। ঐযে বলেছিলাম "অমুক ডাক্তারের চিকিৎসায় রোগ ভাল হয়। উনি চেম্বারে দিনে ৫০ টার কম রোগী দেখেন না" এই সুনাম অর্জনের জন্য।

আমার পরিচিত পেডিয়াট্রিক্সের একজন প্রফেসর ছিলেন যার চেম্বারে খুব একটা রোগী আসতো না। কারণ তিনি রেশনাল প্র‍্যাক্টিস করতেন, কাউন্সেলিং বেশি করতেন, অষুধ কম লিখতেন অথবা লিখতেনই না। বাচ্চার সুস্থ হতে সময় লাগতো। তাই বাবা মারা আস্থা পেতেন না।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয় হয়। ওরা জীবনই শুরু করছে থার্ড জেনারেশন দিয়ে। এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্ট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সিম্পল জ্বর ঠান্ডা কাশিই মহামারি হয়ে দেখা যাবে একসময়!

Sunday, November 13, 2016

কারন আমি মরে যাবো। আজ নয়তো- কালই।

১.
-বাবা ক্লাস ফাইভে কিন্তু ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেতেই হবে।না হলে জীবন বৃথা।
-আচ্ছা পেলাম।
২.
-ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছো। অবশ্যই ক্লাস ৮ এ পেতে হবে।মিস করা যাবেনা।
-পেলাম না।
-তুই নষ্ট হয়ে গেছিস। লজ্জা করেনা তোর।
তোর তো মরে যাওয়া উচিত। চামার।
৩.
-এসএসসি তে তোর ভালো রেজাল্ট না হলে লোক হাঁসবে। ৮ এ বৃত্তি পাসনি এমনি তেই তুই নষ্ট। এবার তো প্রমাণ কর গোল্ডেন প্লাস পেয়ে।
-আচ্ছা পেলাম।
৪.
-ওসব অনেকেই এসএসসি তে পায়। তারপর কই হারায়ে যায়। পেয়ে দেখা না গোল্ডেন ইন্টারে কেমন পাড়িস?? আর না পাড়লে গার্মেন্টস এ যাহ। কাজ করিস।
-আচ্ছা গোল্ডেন পেলাম।
৫.
-মেডিকেল চান্স পেয়ে দেখা। তারপর দেখবি জীবন টা কত সুখের। চান্স না পেলে কি ছিড়বি? ওসব রেজাল্ট অনেকেই করে। না হলে আইএসএসবি দে লং কোর্সে যা।
-লং কোর্সে আই এসএসবি তে অ্যাটেন্ড করলাম না।চান্স ও পেলাম না।
-আরে তুই তো নষ্ট হয়ে গেছিস। বলেছিলাম না???
তোর চুলের যোগ্যতাও নাই বেঁচে থাকার। তুই তো বস্তির বখাটেরও অধম।আত্নহত্যা কর।
৯৯.৯৯% সিউর থাক তুই কোথাও ই চান্স পাবিনা আর।
৬.
-ঢাকা ডেন্টাল,
-পাবনা মেডিকেল কলেজ।
৭.
এমবিবিএস একবারেই পাশ করতে হবে।
- জানিনা।
তারপর??
৮.
-বিসিএস
তারপর??
৯.
-এফসিপিএস/এমডি/এম এস
পোস্টগ্রাজুয়েশন না করলে তোর আবার পরিচয় কিরে??
-তুই তো নষ্ট হয়ে গেছিস। পড়াশুনা করিস না। এমবিবিএস টা
পাশ করতে পারবি তো সারাজীবনে?
-পেটের ভাত টা তোর কই থেকে আসবে জানিস তো??
তোর মত আবালের/ফাঁকিবাজের ভবিষ্যৎ কি হবে জানিস তো??
১০.
-আচ্ছা ধরেন সব হলো।
এমবিবিএস,পোস্ট গ্রাজুয়েশন??? তারপর??
তারপর কি??
মরে যাবো না?
মরে যাবো তো?? না কি??
আর কত্ত চাপ??
কবে সুখ???
কিসের সুখ???
কিসের ভেতরে সুখ???
সম্মান??? মুখ দেখানো যাবেনা আমাকে নিয়ে??
নিজের মুখ টা দেখালাম না হয়???
আচ্ছা সব চান্স পেয়ে পরদিন যদি খুন হয়ে যাই??
অমিত ভাই এর মত রাতের আঁধারে সামান্য কিছুর লোভে কেউ যদি মেরে রেখে দেয়??
এই যে রাস্তায় মরছে?? প্রতিদিন।
পাতি নেতার মাস্তানি তে থাপ্পড় খেয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে...
জীবন কই??সম্মান??? কিসের সম্মান??
সুখ কই?? এসবে??
১১.
সেই তো ছোটবেলা থেকে বলে এসেছেন। পড়।
কলেজে গেলে তোর অই ভাইয়ার মত ভালো কলেজে পড়বি। অনেক সুখ পাবি।
-আমার বাল,বালের সুখ পাইছি।
তারপর শুনেছি,ভালো জায়গায় চান্স পেলে সুখ পাবি।
তোর অই চাচা বুয়েটে পড়ে।তোর অই মামা ডাক্তার।
-কই?? কই সেই অধরা শান্তি???
আমার মন জুড়ে এখন অশান্তি,বিষিয়ে ওঠা নরক যন্ত্রণা।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর উদর পূর্তির ভাবনা ভেবেই কাটালাম চিরকাল।
-আমার আর ভালো লাগেনা এসব।
আমি মন ধরে বেধে চেয়ার টেবিলে বসি কুত্তার মত পড়তে।
আমি পারিনা।
আমার সব ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করে।
আমার কিছুই ভালো লাগেনা।
-আমি সভ্য নই।
আমার স্থান মানুষ্যলয়ে নয়।
-আমি দুর্বল।
আমার স্থান ওপাড়ে।
#সফলতার আলো ঝলমলানির মেকি হাঁসি,
একটার পর একটা লক্ষ্যের পেছনে পশুর মত ছুটে চলা।
পকেট ভর্তি কাঁচা টাকা,
ব্যাংক ব্যালেন্স,নিজের বাড়ি, পার্সোনাল কার। আমার না বিন্দু মাত্র টানেনা কিছুই।
কারন আমি মরে যাবো। আজ নয়তো- কালই।
(Collected)