Labels

Showing posts with label তোমরা যারা ডাক্তার হতে ইচ্ছা চাও শুধু তাদের জন্য. Show all posts
Showing posts with label তোমরা যারা ডাক্তার হতে ইচ্ছা চাও শুধু তাদের জন্য. Show all posts

Thursday, March 28, 2024

এতটা জব ক্রাইসিস আমার কল্পনাতেও ছিলো না.

 1

 

উচ্চপদস্থ কর্পোরেট জব করেন এমন এক ব্যক্তি প্রায়শই আমার চেম্বারে আসেন। পরিচয়ের প্রথম দিকে তিনি অনেকটা গর্ব করে আমাকে জানাতেন যে তার বড় মেয়ের জামাইও ডাক্তার, তবে তার জামাই এখন লেখাপড়া ছাড়া আর কিছু করছে না, মাঝেমধ্যে আমাকে তার জামাইয়ের জন্য একটি চাকরী খুঁজে দেবার অনুরোধও করতেন... এর মাঝে তিনি দু'তিন বার আমার চেম্বারে এসে দেখিয়ে গেলেন, কিন্তু তার সেই চিকিৎসক জামাইয়ের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা আর শুনি না। 

শেষে একদিন আমি নিজেই চিকিৎসা লিখতে লিখতে জিজ্ঞেস করলাম, 'আপনার জামাইয়ের কি খবর?'... উনি অনেকটা ইতস্তত ভাবে বললেন, 'ভালো কোন চাকরী- বাকরী নাই, মেয়েকে খাওয়াবে কি! মেয়ের সাথে এডজাস্টও হচ্ছে না। দেখি কি করা যায়...' 

যা বুঝলাম সেটা হলো ডাক্তারদের অঢেল টাকার যে স্বপ্ন উনি দেখে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন, বাস্তবে সেটার কোন মিল তিনি পান নাই। এর ফলাফল আমার কাছে খুব সুখকর কিছু হবে বলে মনে হচ্ছে না...

 

 ২...

 

 এক টেলিমেডিসিন কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর একদা আমাকে ফোন দিলেন। তিনি আমার পূর্বপরিচিত, কোভিডের শুরুর দিকে একটা মেডিকেল টিম আমি তাকে তৈরি করে দিয়েছিলাম, যারা সম্পূর্ণ বিনে পয়সায় এদেশের মানুষকে ২ মাস নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা দিয়ে গিয়েছিলো...

 However, উনি আমাকে যে কারণে ফোন দিয়েছিলেন, সেই কারণটা বলি। উনি উনার টেলিমেডিসিন কোম্পানিতে ১০ জন ডাক্তার রিক্রুট করতে চান, উনি চাচ্ছেন এই ১০ জন ডাক্তারকে আমি যেন সিলেক্ট করে দেই... 

পেমেন্টের কথা জিজ্ঞেস করলাম। উনি জানালেন যে, যেহেতু অনলাইন সার্ভিস এবং দিনে ৮ ঘন্টার জব, কাজেই উনারা ১০ হাজার টাকা করে দিবেন... আমি হতচকিত হলাম! বললাম, 'দশ হাজারে তো ডাক্তার পাওয়া যাবে না!' 

উনি বললেন পাওয়া যাবে, ওনারা নিজেরাই যোগাঢ় করে নিতে পারতেন, কোয়ালিটি মেনটেইন করার জন্য জাস্ট আমার হেল্পটা নেয়া হচ্ছে... অবশ্য তিনি আমার হতচকিত অবস্থা দেখে ভরসা দিলেন যে উনি ইন ফিউচারে তাদের স্যালারী ইনক্রিজ করবেন... 

 আমি অনেকটা দ্বিধান্বিত এবং কিছুটা লজ্জিত অবস্থায় চিকিৎসকদের একটা গ্রুপে স্যালারী স্ট্রাকচার উল্লেখ করে ১০ জন চিকিৎসক চাইলাম। আমি ধরে নিয়েছিলাম আমি আমার কম্যুনিটিতে বেইজ্জতি হবো... 

আশ্চর্যের ব্যপার হলো পোস্টে ডাক্তার চাইবার ১০ মিনিটের মাথায় সেই পোস্ট আমাকে রিমুভ করতে হলো, কেননা অলরেডী ১০ মিনিটে ৪০-৫০ জন ডাক্তার আমাকে চাকরীটা করতে চেয়ে ইনবক্সে নক করেছেন... 

সেই প্রথম দিন আমি বুঝতে পারলাম যে এদেশে ডাক্তারদের বিপদ ঘটে গেছে।

 এতটা জব ক্রাইসিস আমার কল্পনাতেও ছিলো না... 

 

৩. 

 

এবার পোস্ট গ্রাজুয়েট কমপ্লিট করা ডাক্তারদের ব্যপারে আসি। আমার এক সিনিয়র ভাই মেডিসিনে পোস্ট গ্রাজুয়েট কমপ্লিট করে ঢাকার এক বিখ্যাত কর্পোরেট হাসপাতালে স্পেশালিষ্ট হিসেবে ঢুকলেন। প্রথম কয়দিন ভালোই চললো, উনি বেশ বাতাসে উড়লেন, টপাটপ গাড়ীও কিনে ফেললেন ... 

 একদিন রাতে সেই ভাই ফোন দিলেন, কোথাও পোস্ট গ্রাজুয়েট ডাক্তার নিলে তাকে যেন জানানো হয়। কর্পোরেট হাসপাতালটি নাকি যেকোন মুহূর্তে ডাক্তার ছাঁটাই করবে, কেননা তার থেকে কম স্যালারীতে এখন একই বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাচ্ছে। এই হলো সিচুয়েশন! ওহ, আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছি, উনি গাড়ীটা সেল করে দিতে চাচ্ছেন... 

প্রাইভেট হাসপাতালে বেসিক এবং প্যারাক্লিনিক্যাল সাবজেক্টের বিশেষজ্ঞদের স্যালারী স্ট্রাকচারের কথা আর নাই বা বলি, বললে সবাই লজ্জা পাবেন। 

জেনারেল লাইনে যারা লেখাপড়া করেছেন তারা একই পরিমাণ কষ্ট করে উনাদের তুলনায় ঢের ভালো আছেন... 

 মূল কথায় চলে আসি... অত্যন্ত সচতুর এবং সুনিপুণ ওয়েতে এদেশে চিকিৎসকদের জব সেক্টরটাকে ধ্বংস করা হয়েছে।

 কিভাবে সেই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে সেটা আমরা অনেকেই জানি। জুনিয়র চিকিৎসকদের তো এখন ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা, সামনে চিকিৎসকদের জব সেক্টরের অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে, The Tsunami is coming ...

 

 

 "A clear rejection is better than fake promise..."

-ডা.জামান অ্যালেক্স

Tuesday, February 20, 2024

বুড়া বয়েসে টাকা কামায় কি বাপ-মায়ের কবরের উপরে তাজমহল বানাবি?? ( যারা ডাক্তার হতে স্বপ্ন দেখে দিন পার করছেন , তাদের জন্য)

 দরিদ্র মেধাবীদের মেডিকেলে চান্স পাওয়ার সুসংবাদ দেখতে পাচ্ছি। তাদের জন্য শুভকামনা।


ক্লোজ সার্কেলের কেউ হলে বলতাম গরীবের সন্তানের সাত বছরে গ্রাজুয়েশন করে পঁচিশ হাজার টাকার চাকরি করা পোষায়না। এগুলো সচ্ছল পরিবারের ব্যাপার স্যাপার। তারা ছেলে-মেয়ের পরে নাতি-নাতনিও পুষতে পারে। চল্লিশ বছরে গিয়ে ইনকাম শুরু করলেও ক্ষতি নাই। 


তোর পরিবার পাশ দেয়ার সাথে সাথেই আশা করে বসে থাকবে তুই নতুন ঘর তুলবি, টিউবওয়েল বসাবি, পায়খানা পাকা করবি। গ্রাজুয়েশন করার পরে পোস্টগ্রাজুয়েশন করতে আরো সাত-আট বছর লাগবে। 

এই চোদ্দ বছরের সংগ্রামের কথা তুইও জানিস না, তোর বাপ-মাও জানেনা। বুড়া প্রফেসরের পসার দেখে ছেড়া কাথায় শুয়ে মনে মনে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখিস। পাশ দেয়ার পরে ক্লিনিকে কাজ করে যে টাকা হয় তাতে বাচ্চার দুধের টাকা হয়না বলে অনেক ডাক্তার ভাই উবার চালায়। তুই গরীবের বাচ্চা, তোর এই ROI বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট কোন হিসাবেই মেলেনা।

 অনেক বড়লোক ডাক্তার আপ্পি প্রাইভেটে জব করে পুরা স্যালারিই সিএনজি-ওয়ালাকে দিয়ে দেয় জাস্ট এটা বলার জন্য যে অমুক জায়গায় আছি। এগুলা স্ট্যাটাস সিম্বল। তুই গরীবের বাচ্চা, তোর মাসকাবারি খরচ জোটেনা, মেডিকেলের বই কিনতে এলাকায় চান্দা তোলা লাগে, তোর এগুলা সাজে?!


মেডিকেলে চান্স পেয়েছিস মানে লেখাপড়ায় ভালো এবং পরিশ্রম করতে পারিস। তোর যাওয়া উচিত ত্রিশের আগে টাকা কামানো যায় এমন কোন রাস্তায়। বুড়া বয়েসে টাকা কামায় কি বাপ-মায়ের কবরের উপরে তাজমহল বানাবি??


এগুলো  সেন্টিমেন্ট বাদ দে। 

বাপ-মায়ের ওষুধ না কিনে, ঘরের বউকে নতুন কাপড় না দিয়ে আর বাচ্চার দুধ, ডায়াপারের কৌটা জোগাড় করতে না পারলে কেউ মানবসেবা করতে পারেনা। তুইও পারবিনা। দিন শেষে হতাশ হবি। মানুষের প্রতি বিরক্ত হবি। এই প্রসেস দিয়ে বের হতে হতে মানবসেবার মানসিকতা থাকবেনা। কসাই হয়ে যাবি।


ক্লোজ সার্কেলের জুনিয়র ভাই হলে এইসব বলতাম। কিন্তু, পাবলিক প্লাটফর্মে এরকম জঘন্য, কদর্য, অমানবিক ক্লাসিস্ট কথাবার্তা বলা যাবেনা। তাই কিছু বললাম না।


©Kaiser Anam

Sunday, November 26, 2023

যারা মেডিকেলে পড়ার চিন্তা করছো,তাদের জন্য কিছু বাস্তব উপদেশ

 ইন্টারমেডিয়েট এ পড়া ছোট ভাইদের জন্য এই লেখাটা লিখছি। 

যারা মেডিকেলে আসার চিন্তা করছো, 

তাদের জন্য স্পেসিফিক ভাবে যদি তোমাদের একদম মনের ইচ্ছা, সেই লেভেলের প্যাশন যে মেডিকেল সাইন্স নিয়ে পড়বে, ভয়ানক লেভেলের আগ্রহ, বায়োলজি খুবই এনজয় করো- তবে মেডিকেলে আসতে পারো। 

আর যদি এমন হয় যে- এই ধারণা নিয়ে আছো যে- মেডিকেলে একবার ঢুকলেই লাইফ সেটেল, প্যারা নাই, ফুল চিল, লাইফ/ফিউচার জিংগালালা, পাশ করলেই খালি টাকা আর টাকা, তাহলে বলবো- ছোট ভাই, আইসো না। 

 একটা কমন প্রশ্ন, সেকেন্ড টাইম দিবো নাকি দিবো না?

আমি মনে করি লস প্রজেক্ট। খুব সিরিয়াস আগ্রহ থাকলে + ফ্যামিলি সাপোর্ট থাকলে ট্রাই করা যেতে পারে, আদারওয়াইজ আমি ডিস্কারেজ করবো।

 সরকারি মেডিকেলে পড়বে নাকি প্রাইভেট?

 আমার পারসোনাল অপিনিওন হলো- দেশের প্রথম সারির ১০-১২ টা মেডিকেলের মধ্যে হলে আসো, আদারওয়াইজ দরকার নাই। প্রাইভেটের ব্যাপারে বলবো যে ফ্যামিলি খুবই সলভেন্ট/রিচ হইলে, পাশ করার পর ফ্যামিলি কে সাপোর্ট দেওয়া লাগবে না, এমন যদি হয় + নিজের ভয়ানক আগ্রহ থাকে- তবে প্রাইভেটে আসতে পারো, তাও টপ ৪/৫ টা প্রাইভেট এ হলে আসো, আদারওয়াজ আসার দরকার নাই। 

কিছু জিনিস মাথায় রাখা জরুরী 

 ১. মেডিকেলের বইপত্রের দাম বেশি। অন্যান্য ভার্সিটির চেয়ে খরচ বেশিই হবে এখানে। 

২. ১ম বছরেই বোন্স কেনা লাগবে। এটা আসলে বেচতে পারবে না, বোন্স বেচা আসলে হারাম। আমরা বাধ্য হয়ে কিনি, তবে শরয়ী ভাবে বেচা নিষেধ। সর্বোচ্চ দান করে দিতে পারো। ইভেন আমার ছোট ভাইও দানই করে দিসে, যদিও তাকে অনেক টাকা দিয়েই ফুল সেট কিনতে হইসে।

 ৩. মেডিকেলে পড়া অবস্থায় টিউশন করে কাপায় দেওয়া + পড়ালেখা ঠিক রাখা খুবই ডিফিকাল্ট। পড়ালেখা ঠিক রেখে একটা থেকে দুইটার বেশি টিউশন করানো যায় না। বেশি করলে নিজের পড়ার বারোটা বাজে।

 ৪. মেডিকেলের পড়া ৫ বছর আন্ডারগ্র্যাড ,এরপর এক বছর ইন্টার্নশিপ, এরপর আসলে পোস্ট গ্র্যাডে এন্ট্রি আরকি নেওয়ার জন্য আরেক নতুন সংগ্রাম, সেটায় এন্ট্রি নেওয়া, পাশ করে বের হওয়া৷ বিশাল ধাক্কা। ধরে নাও এভারেজ ১২-১৫ বছরের স্ট্রাগল।

 ৫. মেডিকেল হলো দিল্লীকা লাড্ডু। যারা চান্স পায় তারাও কাঁদে, যারা পায় না, ওরাও কাঁদে৷ বাস্তবতা জেনে বুঝে এরপর আসো। সবচেয়ে ভালো হয় যে- যদি জেনুইন আগ্রহ থাকে, তবেই আসো। আদারওয়াইজ দরকার নাই।

সংগৃহীত লেখা( ফেসবুক হতে)

Wednesday, April 5, 2023

আপনার সন্তানের নামের পাশে ডাক্তার লেখার মোহ থেকে বের হয়ে একবার শান্তভাবে চিন্তা করুন।

সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি প্রায় শেষ। এদেশে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, পরীক্ষার রেজাল্ট এবং সরকারি মেডিকেলে চান্সপ্রাপ্তদের নিয়ে যে উচ্ছ্বাস, সেটা অভাবনীয়। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের আমজনতা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারণী লেভেলে এই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে এতো ক্রেজ অথচ ডাক্তারদের নিয়ে উন্নাসিকতা আছে কিনা জানি না।

আজকের এই লেখাটি অবশ্য অন্য প্রসঙ্গে। 

অনেকেই হয়তো খেয়াল করেছেন, এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষার্থী। সরকারি মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন ৪ হাজার ৩০৫ জন। বাকি প্রায় সাড়ে ৭৫ হাজার শিক্ষার্থী সারা দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তির যোগ্য। 

আজকের লেখাটা মূলত সাড়ে ৭৫ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য। যারা সরকারি মেডিকেলে টিকেনি, কিন্তু পাস করেছেন এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিক পক্ষের সম্ভাব্য ছাত্র হওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তাদের অভিভাবকদের জন্য। আপনার সন্তানকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানোর আগে আরও একবার চিন্তা করুন।

গতবছর বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য সরকার ২০ লক্ষ টাকা ঠিক করে দিয়েছিলো। এই বছর এই অংকটা আরও বাড়বে। যারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়েন, তারা জানেন আইসবার্গের ভাসমান অংশের মতোই এই টাকা হচ্ছে দৃশ্যমান অংশ। এই টাকা দিয়ে কেউই বেসরকারি মেডিকেল থেকে পাস করে বের হতে পারবেন না। এর বাইরেও নানা ধরনের ফি যুক্ত হয়ে এই খরচ ত্রিশ লাখ পেরোবে।

এখন প্রিয় অভিভাবক, এই ত্রিশ লাখ টাকা দিয়ে আপনার সন্তানের নামের পাশে ডাক্তার লেখার মোহ থেকে বের হয়ে একবার শান্তভাবে চিন্তা করুন। কেন, আপনি সন্তানকে চিকিৎসক বানাতে চান। যাবতীয় আদর্শিক বাকোয়াজ আর ছোটবেলার রচনার কথা ভুলে আপনি যদি সৎ হন, আপনি স্বীকার করবেন, স্রেফ স্বচ্ছলতার জন্য, সম্মানের জন্য।

এদেশে কালকে যদি কেউ আবিষ্কার করে পালি কিংবা সংস্কৃত পড়ালে প্রচুর টাকা আর সম্মান মিলবে, দলে দলে সন্তানদের সবাই পড়াবে। 

সম্মানের কথাতো আপেক্ষিক বিষয়। তারপরও অনলাইনে চিকিৎসকদের নিয়ে যে, মুখরোচক আলোচনা হয় আর আপনার কাছের ডাক্তার আত্মীয়কে শুনিয়ে শুনিয়ে অধিকাংশ চিকিৎসকের নামের আগে যেভাবে কসাই বসিয়ে দেন, তাতে সম্মান কতটুকু আছে, অনুমান করে নিন। বাকী বিষয়টাতে আসি। আপনার আদরের সন্তানকে এতো টাকা খরচ করিয়ে পড়ানোর পরে তার বেতন কতো হবে জানেন?

ছয় বছর আগে, যেসব অভিভাবক ত্রিশ লাখ টাকা খরচ করে সন্তানকে ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়েছিলেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাদের এখন বেতন ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে।

 তিন বছর আগে আমি যখন বের হই, তখনও এই বেতন ছিল, এখনও এই বেতন।

 পৃথিবীতে অনেক পরিবর্তন ঘটবে,  সম্ভব, সবই সম্ভব। 

শুধু একটা ব্যাপার আমি জানি অসম্ভব।

 সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কর্তব্যরত ডাক্তার নামক যে, অসম্মানের মধ্য দিয়ে তরুণ চিকিৎসকরা যাচ্ছে, তার কোনো পরিবর্তন হবে না। আগামী তিন বছর পরেও তাদের বেতনের তেমন কোনো হেরফের হবে না।

সরকারি মেডিকেলে আমরা যারা পড়ে এসেছি, তাদের জন্য এটা মেনে নেওয়াটা সহজ। কারণ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলে যে, টাকা দিয়ে পড়াশোনা করেছে, আমিও মোটামুটি একই খরচে পড়াশোনা করেছি। কষ্টটুকুর কথা আপাতত ভুলে গেলাম। কষ্ট ভুলে যাওয়া অনেক সহজ। কিন্তু মধ্যবিত্ত (আসলে বেসরকারি মেডিকেলে পড়ুয়া অধিকাংশ ছাত্রই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই আসে) পরিবারের ত্রিশ লাখ টাকা খরচ করে পড়া চিকিৎসক তরুণের সামনে যে, অনিশ্চয়তা পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে, সেটা উপেক্ষা করা সহজ নয়।

বেসরকারি মেডিকেলে পড়তে থাকা এবং পড়া শেষ করে ডাক্তার হয়ে বের হয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশনের দীর্ঘ বন্ধুর পথে খাবি খেতে থাকা অনেক তরুণের সাথে আমার পরিচয়। এদের মধ্যে অনেকেই প্রচন্ড মেধাবী। অনেকেই কষ্ট করে তাদের এই প্যাশান এবং ভালবাসার পেশাটায় সফলতার জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন।

 কিন্তু অধিকাংশই পারছেন না।

 প্রচুর ধার দেনা করে ফ্রি ভিসায় মধ্যপ্রাচ্য গিয়ে গ্রামের তরুণটি দেখে তার চাকরি নেই।
যে দালালের হাত ধরে সে বিদেশে এসেছে, সে পকেটে কয়েক দিনার ঢুকিয়ে দিয়ে সটকে পড়েছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পরিবারের সঞ্চিত এবং কষ্টার্জিত ত্রিশ লাখ টাকা খরচ করে যে তরুণ চিকিৎসক বের হয়, তার চোখে মধ্যপ্রাচ্যে দালালের হাতে প্রতারণার শিকার হওয়া তরুণটির চাইতেও আমি বেশি অনিশ্চয়তা এবং হতাশা খেলা করতে দেখেছি। দালালটি অন্তত পকেটে কিছু টাকা দিয়ে যায়। বেসরকারি মেডিকেলের মালিকপক্ষকে আমি এর চেয়েও অমানবিক হতে দেখেছি।

ডা. জাফরুল্লাহ সাহেবের গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ থেকে যে তরুণটি ২৫ লাখ টাকা খরচ করে চিকিৎসক হয়েছে, তাকে ইন্টার্নির সময় সম্মানি দেওয়া হয় সাত হাজার টাকা। ইন্টার্নি শেষে লেকচারারদের বেতন বিশ হাজারের উপরে উঠে না।

এই রাষ্ট্রের আরও কত চিকিৎসক দরকার? কেন এই দুরবস্থা চিকিৎসকদের, কিভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো এতো বেসরকারি (কিছু সরকারি মেডিকেলও) মেডিকেল গড়ে উঠেছে- এই প্রশ্নগুলো অনেক বিতর্ক তৈরি করবে, মন্ত্রীমশাই অনেক অনেক চোখ রাঙাবেন, লিজেন্ডারি অধ্যাপকরা সরকারি মেডিকেলে থাকা অবস্থায় বেসরকারি মেডিকেল থেকে পড়ে সরকারি মেডিকেলে অবৈতনিক ট্রেনিং করতে তরুণটির দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকাবেন, চূড়ান্ত অপমান করবেন এবং অবসর গ্রহণ করার পর একটা বেসরকারি মেডিকেলে অধ্যক্ষ হয়ে বসবেন।

এসব বড় বড় বিষয় নিয়ে আসলে আমার আপনার কিছুই করার নাই। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে গণবিরোধীরূপে গড়ে তোলা এবং মেডিকেল ব্যবস্থাকে চূড়ান্তভাবে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার জন্য নীতিনির্ধারকদের আপাতত অভিশাপ দেই।

কিন্তু আপনি আপনার সম্ভাবনাময় সন্তানটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে কেন এই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাচ্ছেন? নচিকেতা নীলাঞ্জনার দুঃখে দাম দিয়ে যন্ত্রণা কিনে। 

আপনি ত্রিশ থেকে চল্লিশ লাখ টাকা খরচ করে সন্তানের জন্য এ কোন যন্ত্রণা কিনতে চান?

 

ডা. শরীফ উদ্দিন

এমবিবিএস (সিএমসি), সিসিডি (বারডেম) ডি-অর্থো (নিটোর),
হাড়-জোড়া, বাত ও ব্যথা বিশেষজ্ঞ অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন

 

Thursday, February 4, 2021

সুতরাং এখনই ঠিক করো কি করবা?

প্রিয়,অনুজ।
 
তোমরা যারা এইচএসসির পর ডাক্তার হইছো।তারা ডাক্তার হওয়ার পর এবার ফরেন,এডমিন,পুলিশ ক্যাডার হও।এমবিবিএস একটা গ্রাজুয়েট ডিগ্রী,এমবিবিএস পাশ করছো বলে ডাক্তারীই করতে হবে কোন কথা নাই। একবার চেষ্টা করে দেখো।
 
যে কষ্ট করে তুমি এফসিপিএস/এমডি/এমএস করবা তার ২০% কষ্ট করে যে কোন ক্যাডারে চান্স পাবা।শুধু ডিটারমিনেশনটা লাগবে।৩৮ এর রেসাল্ট দেখে ভাবো তো সামনের কোটামুক্ত বিসিএসে কি হতে যাচ্ছে?
 
আমরা এমবিবিএস এ যে পরিমাণ পড়াশুনা করি,আর কোন সাবজেক্টের মানুষ করে?প্রতিদিন ৩ঘন্টা ৬ মাস বাংলা,অংক,ইংরেজি,সাধারণ জ্ঞান পড় তারপর দেখ কি হয়?
মনে রাখবা "যারা আগে সেরা তারা পরেও সেরা"।তোমরা যেখানেই যাবা সেখানেই ভালো করবা।
এটাই পৃথিবীর নিয়ম।
 
★তাহলে ডাক্তার কেন হইছো?
 
-সহজ উত্তর -না বুঝে।
আরেকটু চিন্তা করলে উত্তর হবে,
মানুষ সবসময় তার অবস্থান থেকে বেটার অপশন খুঁজে।এইচএসসির পর বেটার অপশন ডাক্তারী বা ইঞ্জিনিয়ারিং তাই সবাই সেগুলো বেছে নেয়।বিসিএস।দিতে গেলে বেটার অপশন ফরেন,এডমিন,পুলিশ,কাস্টমস.... সুতরাং এখানেও বেটার অপশন খোঁজা উচিত।
 
★ফরেন,এডমিন,পুলিশ কেন হবা?
-কারণ ডাক্তারীর এদেশে বেইল নাই।টেম্পু এক্সিডেন্টে তিনজন আহত হলে ১ জন ডাক্তার থাকে।বিশ্বাস না হলে রিক্সায় উঠে বলবা তুমি ডাক্তার।দেখবা রিক্সাওয়ালা বলবে তারা মামাতো সালাও ডাক্তার।সুতরাং সবার ডাক্তারী করা লাগবে না রে ভাই।
আর যারা ডাই হার্টেট ডাক্তারী করবা,তারা ভাগো।টিভির পর্দায় ফেরদৌস ভাই,তাসবীর স্যাররে দেখো না?
বাংলাদেশে থাকলে নিজের টাকায় প্লেন ভাড়া করা তো দূরে, শালির বিয়েতে ১ টা শাড়িও দিতে পারবা না।
 
★তাহলে ডাক্তার হইছো দেশের সেবা করার জন্য তো এখন দেশসেবার কি হবে?
-টাকা থাকলে ডাক্তার দিয়া বাড়ি/দেশ ভরায় ফেলতে পারবা।দাদার নামে দাতব্য হাসপাতাল দিবা,আল্লাহ ওয়াস্তে ঔষধ দিবা।পুরো মাসে ৫০ হাজার খরচ করলে হবে।আমেরিকায় রেসিডেন্সী শেষ করলে তোমার বেতন শুরু হবে ৫-৬ লাখ দিয়ে।চাইলে জীবনের প্রথমদিন থেকে তুমি দাদার নামে চ্যারিটি,মসজিদ মক্তব বা মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব নিতে পারবা।ফেরেস্তারা আসমানে তোমার জন্য দোয়া করবে।মাটিতে জনগণ তোমার নামে চায়ের কাপে ঝড় তুলবো।
আর দেশে থাকলে, গ্রামের ঈদের নামাজে শেষে গিয়া পিছনের কোনায় দাঁড়াবা,নামাজ শেষ করে দৌড় দিবা।কারণ মসজিদ কমিটি তোমাকে টাকার জন্য ধরবে তুমি এলাকার ডাক্তার,কিন্তু টাকা তো তোমার নাই।দিলেও বড়জোর ২০০০-৫০০০ দিতে পারবা।দেখবা এলাকার দূর্নীতিবাজ,ঘুষখোর রা তোমার ৪ ডাবল দিছে।তুমি হয়তো দানের সওয়াব পাবা,কিন্তু কমিটির কাছে বেইল পাবা না।
 
★ ফরেন,এডমিন,পুলিশে যেতে হলে কি করতে ভাইয়া?
-যারা ডিটারমাইন্ড তাদেরকে বলবো প্রথমে মেডিকেলের বইগুলো কোন লাইব্রেরিতে দান করে দাও।খবরদার কোন চেম্বার করবানা।
"ঘাটের ডিঙ্গি না পোঁড়ালে নদীতে ঝাঁপ দেয়ার সাহস কোনদিন হবে না।"
সুতরাং প্রথম কাজ ডিঙ্গি পোঁড়ানো,মেডিকেল বইপত্র দান করে দাও,বেঁচে দাও।
 
★ আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী জিজ্ঞেস করেছেন আমি এত হতাশ কেন?
-আমি তাদের বলেছি,চিকিৎসক হিসেবে আমি সবসময় গর্বিত।কিন্তু স্বাস্থ্য ক্যাডার নিয়ে শুধু আমি না এদেশের ৯৯.৯৯% ডাক্তার হতাশ।
 
★৫-৬ বছর ভুলে ডাক্তারী শিখছে বলে সারাজীবন ভুল করার কি মানে?
 
আমি স্ট্যাটাস লিখেছি তরুণ চিকিৎসকরা যেন চিন্তা ভাবনা করে নিজের ক্যারিয়ারটা সাজায়।বাংলাদেশের ইতিহাসে কেউ কি শুনেছে কোন যুগ্ম সচিব বা পুলিশ কমিশনার সাহেব তো অনেক দূরের কথা উনাদের বাড়ির দারোয়ারকে কেউ গালি কিংবা মারার সাহস দেখিয়েছে? কিন্তু প্রতিদিন ডাক্তার পেটাচ্ছে।কেউ কি তোমার জন্য কিছু করেছে?সারাজীবন মানুষের চিকিৎসা করলা আর মানুষ তোমার মাথা পাটাই মেরে ফেললো,এই মাথায় যদি মেডিকেল টা না ডুকাও মাথা টা অন্তত বাঁচবে।মাথা ভর্তি জ্ঞানের চেয়ে একটা চেয়ার/ইউনিফর্মের দাম এদেশে অনেক অনেক বেশি।
 
★ কয়েকজন বলেছে, যে ডাক্তার ফরেন,এডমিন,পুলিশে যাবে সেও একরকম হবে ডাক্তারদের জন্য কিছু করবে না।
 
-আমি মনে করি যে যেখানে যাবে তার কাজ করুক।তারা ডাক্তারদের জন্য কিছু করার দরকার নাই।তারা তো এই বঞ্চনা থেকে বাঁচলো।একজন সিনিয়র হিসেবে আমি চাই,আমার জুনিয়ররা নিজে অন্তত বেটার থাকুক।
 
★দেখো যারা বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা,ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে তারা কিন্তু সেসব দেশে সুনামের সাথে ডাক্তারী করছে।
তার মানে আমাদের ছেলেরা পটেনশিয়াল।আচ্ছা ভাবোতে ডা.তাসবীর স্যার যদি আমেরিকায় না গিয়ে বাংলাদেশে থাকতেন,উনাকে কোন মিডিয়া ডাকতো?কেউ চিনতো?
উনাদের লাইফস্টাইল দেখো একেকজন গাড়ি,বাড়ি,নিরাপত্তা বাদ দিলাম..বিশাল বিশাল ম্যানশন,ফার্ম,লেইক পর্যন্ত কিনছেন।আবার তারা দু'হাতে দেশের জন্য দিচ্ছেন।১ লাখ ডলার এক্স-সিএমসিয়ানরা চট্টগ্রাম মেডিকেলকে দিয়েছে।
 
বাংলাদেশ থাকলে আমি সিওর উনারা হয় নবম গ্রেডের মেডিকেল অফিসার,ভাগ্য খুব বেশি ভালো হলে এসিসট্যান্ট বা এসোসিয়েট প্রফেসর হতেন।
সুতরাং এখনই ঠিক করো কি করবা?
 

Sunday, August 9, 2020

এগুলো বহুদিন ধরে চলে আসা ট্রেন্ডের অংশ!

 

এমবিবিএস পাশ ডাক্তার সাধারণত ২০-২৪ হাজার টাকা প্রতি মাসে বেতন পান বাংলাদেশে।

এই বেতন আমাকে কখনোই আকৃষ্ট করে নি! কোন পথও আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না!

প্রথম জব ইন্টারভিউ দেই একটা মাল্টিন্যাশনাল বায়োমেডিকেল কোম্পানিতে। তৎকালীন হোটেল শেরাটনে ইন্টারভিউ হয়েছিল।

যে কোন ইন্টারভিউ তে আমার এ্যাপ্রোচ খুব সহজ- সর্বাবস্থায় সত্য কথা বলা। কনভিন্স করার জন্য মিথ্যা আমি বলি না।

বায়োমেডিকেল কোম্পানিতে বলেছিলাম টাকাটা এমআরসিপি দেয়ার জন্য দরকার। এই বয়সেও বাবার টাকা খেতে খেতে লজ্জা লাগে। সিলেক্টেড হয়েছিলাম, যাইনি আর। কারণ লেখাপড়া বিসর্জন দিয়ে কোন চাকরিতে যাওয়া টা বরাবরই আত্মঘাতী মনে হয়েছে আমার। ওদের শর্তটা ওরকম ছিলো কিছুটা।

এরপর গেলাম একটা ভিন্ন ধারার স্বাস্থ্য সংস্থায়। ইন্টারভিউ বোর্ডে জিজ্ঞেস করলো সামনে তো এফসিপিএস পার্ট- ওয়ান তোমার, মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইন্টার্নশিপ শেষ করেছো! তো পরীক্ষায় ক্ষতি হবে না?

বলেছিলাম, পরীক্ষার জন্য ৬ বছর পড়েছি, পার্ট-১ শুধু এই ক‘দিনের চেষ্টায় কেউ পাশ করতে পারে না! আগের কষ্টগুলোই পাশ করার জন্য যথেষ্ট।

চাকরিটা পেয়েছিলাম। কিন্তু ক‘দিন পরেই যখন ছাড়তে গিয়েছিলাম তখন এমডি বলেছিলেন- "আমরা জানতাম তুমি থাকবে না। তবুও কেন যেন ইচ্ছে হলো আমার জামাইর। ও তোমাকে জোর করে নিয়েছিলো!"

আমি তখনো বুঝিনি উনাদের কেন মনে হয়েছিল আমি থাকবো না! কারণ চাকরির বাজারে আমার দাম সম্পর্কে ধারণা তখনো হয় নি!

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বেশিরভাগ ডাক্তারেরই এই ধারণা থাকে না! আর সেই সুযোগে ঢাকা শহরের একজন ভিক্ষুকের আয়ের সম পর্যায়ের স্যালারি হাসপাতালগুলো দিয়ে থাকে এবং তাতেই খুশিমনে সব ডাক্তার রাজি এবং গর্বিত হতে থাকে! অথচ রোগীকে কিন্তু আকাশচুম্বী পয়সা খরচ করতে হচ্ছে- যেটা তার ধারণা ডাক্তারের পকেটেই সিংহভাগ যায়!

সরকারী হাসাপাতালেও প্রচুর অনাচার দেখতে হত।

যেমন একটা খুব ফ্রিকোয়েন্ট ঘটনা ঢাকা মেডিকেলের ইমারজেন্সীতে ঘটতো। রোগীকে অপারেশন করে বা দরকারী চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়ার পরেই দাদুরা (ওয়ার্ড বয়+ আয়া) এককোণে নিয়ে যা বলতো তার ধরণটা মোটামুটি এমন-

"ডাক্তারের ফিস দেন।
- কত?
- দেন যা দিবেন ১০০০, ২০০০ যা দেন!


- ডাক্তাররে তো সরকার পয়সা দেয়! টিকেট কেটে আসছি! তাইলে আবার দিবো কেন?
- আরে বুঝেন না! এগুলা নতুন হইলে কি হইবো? কসাইর মতো লোভ! মইরা গেলাম যন্ত্রণায়!"
রোগী এবার মোটামুটি কনভিন্সড। একজন লোভের শিকার নির্যাতিত গরীব মানুষকে তো পয়সা দেয়াই যায়!

সরকারী হাসপাতালে যত জনের কাছে এমন টাকা দিয়ে থাকেন, সব ১০০% ফ্রি এবং ওই লোকগুলো নিজেরা এভাবেই জীবন ধারণ করে!

মাঝখান দিয়ে ডাক্তারের নামে কালিমা লেপন করে দিয়ে যায়! 

 

আমাদের দোষ এখানে দুটো-

১. এসব পাবলিককে ব্যাখ্যা করে বুঝাই না,

২. দায়িত্বশীলদের হাতে প্রমাণ সহ এদের কীর্তি দেখিয়ে সিস্টেমটা বদলাতে সচেষ্ট হই না।

পুরো মেডিকেল সেক্টরেই ডাক্তারের নাম ভাঙিয়ে কতজন যে পয়সা নেয় তার ইয়ত্তা নেই!

সহজ-সরল বাঙালি আমরা তাতেই বিশ্বাস করি! কারণ নাম ভাঙিয়ে খাওয়া লোকগুলো আপনার আন্চলিক ভাষায় কথা বলে, আপনার মত করেই চটুল কথা বলে, আপনার মতো সাধারণ বেশ-ভূষা নিয়েই চলে- কিন্তু তারাই ঠকিয়ে! নতুন হওয়া ওই ডাক্তারের মন এখনো সম্পূর্ণ পবিত্র, মাথায় রাজ্যের চিন্তা আর হৃদয়ে তারুণ্যের উত্তেজনা। আপনাকে ঠকিয়ে খাওয়ার মত ইচ্ছে বা সুযোগ কোনটাই তার নেই! যা দেখা যায় তার পিছনেও একটু তাকানো উচিৎ।

সেদিন দেখলাম মাসিক ১৬০০০ টাকা বেতনে একটা হাসপাতালে ডাক্তার নিয়েছে, যাকে আবার প্রথম ২ মাসের বেতন দেয়া হবে না! তাতেও সেই ডাক্তার খুব সন্তুষ্ট! এমবিবিএসের পিছনে তার অনেক খরচ হয়েছে তাই!

কাল থেকে দেখছি এক হাসপাতালের এমডি অত্যন্ত বাজে আচরণ করেছে এক ডাক্তারের সাথে! এগুলো বহুদিন ধরে চলে আসা ট্রেন্ডের অংশ! সাথে হুমকি, লান্চনা ও নিরাপত্তাহীনতা তো আছেই! গত কয়েক বছরে নারী চিকিৎসকরাও রেহাই পায়নি এদের হাত থেকে! দেশের মানুষ একটু নরম-সরম দেখলে বাজিয়ে দেখবেই! শক্ত মানুষের সাথে যে এরা পারে না!

সাথে আছে ‘পাশের বাসার আন্টি‘ এর মতো একই লেভেলের বুদ্ধি আর চিন্তাভাবনা সর্বস্ব সাংবাদিকগুলো! প্রশিক্ষণ বিহীন চাকরির ভয়ংকর কিছু উদাহরণ!

হাসপাতালে চাকরি শুরুর ৩ মাস পরেই নানা কারণে বুঝে গিয়েছিলাম দেশে থাকলে ক্লিনিক্যালে থাকা আমার চলবে না! অবনতি হতে হতে জুনিয়র ডাক্তারদের কসাইখানা হয়ে গেছে ওগুলো! সিদ্ধান্ত নিতে তাই দেরি করিনি।

তবে স্বজাতির ভোগান্তি দেখলে খারাপ লাগে, ভীষণ খারাপ লাগে!

Dr Zuhayer Ahmed
MBBS (DMC), 2007-08
MPH (Health Economics),
MSc (Public Health Intelligence),
Chevening Alumnus,
Foreign and Commonwealth Office,
UK.


Friday, February 7, 2020

না তোমার পরিবারে কেউ আছে যে- তোমাকে বুঝবে, আর না তুমি পারবে কাউকে তোমার সিচুয়েশন বোঝাতে.


·

এমন একটা প্রফেশনে ভুল ক্রমে চলে এসেছি, যেখান থেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সবার সাথেই সম্পর্কের চূড়ান্ততম তিক্ততায় জড়িয়ে যাচ্ছি দিনকে দিন!
.
যেখানে এখন আর মানুষ হিসেবে আমায় মূল্যায়নের সময় নেই কারো; বরং চলছে এই প্রফেশনকে ঘিরে ভবিষ্যতের বাকি রয়ে যাওয়া বিবিধ সব ডিগ্রীর বাটখারায় "প্রতিষ্ঠিত হবার" নিয়মিত মাপজোখের চলমান বুলডেজার প্রক্রিয়া।
.
যে বন্ধুকে হাসপাতালের আউটডোর থেকে গ্যাসের বড়ি, ব্যাথার বড়ি তুলে দেয়া লাগতো মেডিকেল স্টুডেন্ট পরিচয় দিয়ে; জোগাড় করে দেয়া লাগতো ডাক্তার হয়ে যাওয়া সিনিয়র রুমমেট ভাইয়াদের থেকে কলম আর প্যাড... সেই বন্ধুই এখন সুযোগ বুঝে ইনবক্সে স্মরণ করিয়ে দেয়, "কোম্পানির লোকজনের কাছ থেকে একটি কলম নেয়াও হারাম!"
.
যেই আমি- কখনো আমায় কেউ ভুল বুঝলে তার সেই ভুল ধারণা ভাঙ্গানোর আগে পর্যন্ত স্থির থাকতে পারতাম না... সেই আমিই জেনেশুনে সবাইকে সুযোগ করে দিচ্ছি আমাকে একটু একটু করে ভুল বুঝবার, দূরে ঠেলে দেবার।
.
মোটামুটি চেনাজানা- এমন মানুষ গুলো ভুল বুঝলেও নাহয় ইগ্নোর করা যায়। কিন্তু আপন মানুষ গুলোই যখন একে একে সব বেঁকে থাকবে, ভুল বুঝবে- সেখানে ভুল ভাঙ্গানোর মত অফুরন্ত সময়, স্ট্যামিনা আসল কথা "ইচ্ছাশক্তি" - কিছুই আর অবশিষ্ট থাকেনা।
.
নিজের পরিবারে বা নিজের পরিজনদের ভেতর সেইম প্রফেশনের কেউ না থাকলে, অন্তত এই যুগে এসে এই প্রফেশনে আমার মতো গোবেচারা কারোই আসা উচিৎ না। না তোমার পরিবারে কেউ আছে যে- তোমাকে বুঝবে, আর না তুমি পারবে কাউকে তোমার সিচুয়েশন বোঝাতে...🙂
.
আর দশজনের জীবনকে দীর্ঘায়িত করতে এসে, কখন যে নিজের জীবনকেই তুমি সংক্ষিপ্ত করে ফেলবা- নিজেও বুঝবা ন

Written by
Golam Mahade Hasan

Thursday, October 17, 2019

আপনি আপনার সম্ভাবনাময় সন্তানটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে কেনো এই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাচ্ছেন?

যারা যারা সরকারি মেডিকেলে টিকেছেন, তাদেরকে অভিনন্দন, যারা যারা ভর্তি পরীক্ষায় ৪০এর কম মার্ক পেয়েছেন, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে কিছু লেখার নাই। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হকরা পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্টের পরের দিন যে কলামখানা লিখে থাকেন, সেটা পড়ে নিবেন।

এই লেখাটা মূলত প্রায় পঞ্চাশ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা সরকারি মেডিকেলে টিকেন নাই কিন্তু "পাশ করেছেন" এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিক পক্ষের সম্ভাব্য মুরগী হওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তাদের অভিভাবকদের জন্য।

আপনার সন্তানকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানোর আগে আরো একবার চিন্তা করুন।

গতবছর (২০১৮-১৯) বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য সরকার ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঠিক করে দিয়েছিলো। এই বছর এই অংকটা আরো বাড়বে। যারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়েন, তারা জানেন আইসবার্গের ভাসমান অংশের মতোই এই টাকা হচ্ছে দৃশ্যমান অংশ। এই টাকা দিয়ে কেউই বেসরকারি মেডিকেল থেকে পাশ করে বের হতে পারবেন না। এর বাইরেও নানা ধরণের ফী যুক্ত হয়ে এই খরচ ত্রিশ লাখ পেরোবে।
এখন প্রিয় অভিভাবক, এই ত্রিশ লাখ টাকা দিয়ে আপনার সন্তানের নামের পাশে ডাক্তার লেখার মোহ থেকে বের হয়ে একবার শান্তভাবে চিন্তা করুন।কেনো আপনি তাকে ডাক্তার বানাতে চান। যাবতীয় আদর্শিক বাকোয়াজ আর ছোটবেলার রচনার কথা ভুলে আপনি যদি সৎ হন, আপনি স্বীকার করবেন, স্রেফ স্বচ্ছলতার জন্য, সম্মানের জন্য। এদেশে কালকে যদি কেউ আবিষ্কার করে পালি কিংবা সংস্কৃত পড়ালে প্রচুর টাকা আর সম্মান মিলবে, দলে দলেতো বাচ্চাদের তাই পড়াবেন। সম্মানের কথাতো আপেক্ষিক বিষয়। তারপরও অনলাইনে ডাক্তারদের নিয়ে যে মুখরোচক আলোচনা হয় আর আপনার কাছের ডাক্তার আত্মীয়কে শুনিয়ে শুনিয়ে অধিকাংশ ডাক্তারের নামের আগে যেভাবে কসাই বসিয়ে দেন, তাতে সম্মান কতটুকু আছে, অনুমান করে নিন। বাকী বিষয়টাতে আসি।

আপনার আদরের সন্তানকে এতো টাকা খরচ করিয়ে পড়ানোর পরে তার বেতন কতো হবে জানেন?
ছয় বছর আগে যেসব অভিভাবক ঠিক ত্রিশ লাখ টাকা দিয়ে তাদের সন্তানকে ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়েছিলেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাদের এখন বেতন ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে। তিন বছর আগে আমি যখন বের হই, তখনো এই বেতন ছিলো, এখনো এই বেতন। পৃথিবীতে অনেক পরিবর্তন ঘটবে, রোনালদো তার আরো কয়েকটা গার্লফ্রেন্ড পরিবর্তন করবে, হয়তো কোনো এক বৃহস্পতিবার সাউথ আফ্রিকা সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে পৌছে যাবে, হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল থেকে খালেদ মাহমুদ সুজন বিদায় নিয়ে চলে যাবে। সম্ভব, সবই সম্ভব। শুধু একটা ব্যাপার আমি জানি অসম্ভব। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডিউটি ডাক্তার নামক যে অসম্মানের মধ্য দিয়ে তরুণ চিকিৎসকরা যাচ্ছে, তার কোনো পরিবর্তন হবেনা। আগামী তিন বছর পরেও এদের বেতনের তেমন কোনো হেরফের হবেনা।

সরকারি মেডিকেলে আমরা যারা পড়ে এসেছি, তাদের জন্য এটা মেনে নেওয়াটা সহজ। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলে যে টাকা দিয়ে পড়াশোনা করেছে, আমিও মোটামুটি একই খরচে পড়াশোনা করেছি। কষ্টটুকুর কথা আপাতত ভুলে গেলাম। কষ্ট ভুলে যাওয়া অনেক সহজ। কিন্তু মধ্যবিত্ত ( আসলে বেসরকারি মেডিকেলে পড়ুয়া অধিকাংশ ছাত্রই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই আসে) পরিবারের ত্রিশ লাখ টাকা খরচ করে পড়া চিকিৎসক তরুণের সামনে যে অনিশ্চয়তা পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে, সেটা উপেক্ষা করা সহজ নয়।
বেসরকারি মেডিকেলে পড়তে থাকা এবং পড়া শেষ করে ডাক্তার হয়ে বের হয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশনের দীর্ঘ বন্ধুর পথে খাবি খেতে থাকা অনেক তরুণের সাথে আমার পরিচয়। এদের মধ্যে অনেকেই প্রচন্ড মেধাবী। অনেকেই কষ্ট করে তাদের এই প্যাশান এবং ভালবাসার পেশাটায় সফলতার জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন। কিন্তু অধিকাংশই পারছেন না। প্রচুর ধার দেনা করে ফ্রি ভিসায় মধ্যপ্রাচ্য গিয়ে গ্রামের তরুণটি দেখে তার চাকরি নেই। যে দালালের হাত ধরে সে বিদেশে এসেছে, সে পকেটে কয়েক দিনার ঢুকিয়ে দিয়ে সটকে পড়েছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পরিবারের সঞ্চিত এবং কষ্টার্জিত ত্রিশ লাখ টাকা খরচ করে যে তরুণ চিকিৎসকটি বের হয়, তার চোখে আমি মধ্যপ্রাচ্যে দালালের হাতে প্রতারণার শিকার হওয়া তরুণটির চাইতেও আমি বেশি অনিশ্চয়তা এবং হতাশা খেলা করতে দেখেছি। দালালটি অন্তত পকেটে কিছু টাকা গুজে দিয়ে যায়। বেসরকারি মেডিকেলের মালিকপক্ষকে আমি এর চেয়েও অমানবিক হতে দেখেছি।

ডা. জাফরুল্লাহ সাহেবের গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ থেকে যে তরুণটি ২৫ লাখ টাকা খরচ করে ডাক্তার হয়েছে, তাকে ইন্টার্নির সময় দেয়া হয় সাত হাজার টাকা। ইন্টার্নি শেষে লেকচারারদের বেতন বিশ হাজারের উপরে উঠেনা।
এই রাষ্ট্রের আরো কতো চিকিৎসক দরকার, কেনো এই দুরবস্থা চিকিৎসকদের, কিভাবে ব্যাংএর ছাতার মতো এতো বেসরকারি ( এবং কিছু সরকারিও) মেডিকেল গড়ে উঠে- এই প্রশ্নগুলো অনেক বিতর্ক তৈরি করবে, মন্ত্রীমশায় অনেক অনেক চোখ রাংগাবেন, লিজেন্ডারি অধ্যাপকরা সরকারি মেডিকেলে থাকা অবস্থায় বেসরকারি মেডিকেল থেকে পড়ে সরকারি মেডিকেলে অবৈতনিক ট্রেনিং করতে তরুণটির দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকাবেন, চুড়ান্ত অপমান করবেন এবং অবসর গ্রহণ করার পর একটা বেসরকারি মেডিকেলে প্রিন্সিপ্যাল হয়ে বসবেন।
এসব বড় বড় বিষয় নিয়ে আসলে আমার আপনার কিছুই করার নাই। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চুড়ান্তভাবে গণবিরোধীরুপে গড়ে তোলা এবং মেডিকেল সেক্টরকে চুড়ান্তভাবে ধ্বংসের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেয়ার জন্য নীতিনির্ধারকদের আপাতত অভিশাপ দিই।

কিন্তু আপনি আপনার সম্ভাবনাময় সন্তানটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে কেনো এই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাচ্ছেন?

নচিকেতা নীলাঞ্জনার দু:খে দাম দিয়ে যন্ত্রণা কিনে। আপনি ত্রিশ থেকে চল্লিশ লাখ টাকা খরচ করে সন্তানের জন্য এ কোন যন্ত্রনা কিনতে চান

> কালেক্টেড পোস্ট <

দৃষ্টিভঙ্গি হোক, সিম্পিল এমবিবিএস সিম্পিল জীবন ধারণের জন্য যথেষ্ট।

বাংলাদেশে একজন ডাক্তারের প্রতিষ্ঠিত হতে ৪০ বছর বয়স হয়ে যায় বা সিম্পল এমবিবিএস এর দাম নাই। এই কথা গুলো  কমিউনিটির মধ্যে একটি প্রচলিত ব্যাপার বা ধারণা। বাংলাদেশের অধিকাংশ বাবা মা চায় তাদের সন্তান ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হোক।

 কারণ হিসেবে ধরে নেয়া হয় যে, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হলে কর্ম করে বা রোজগার করে চলতে পারবে তার সন্তান। কেউই তার সন্তানকে মানবতার সেবার জন্য ডাক্তার করার মানসিকতা পোষণ করে না। মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন সন্তান যখন ডাক্তারী পড়াশোনা করে তখন তার পরিবার এই আশা পোষণ করে যে, তার সন্তান ডাক্তার হয়ে গেলে পরিবারের দায়িত্ব নেবে বা সহযোগিতা করবে।

কিন্তু পাশ করার পর মাসিক পনের হাজার টাকা ইন্টার্ন ডিউটি করে পরবর্তীতে পোস্ট গ্রাজুয়েশন নামক মরিচিকা আর ক্যারিয়ার বিল্ড করার জন্যে শুরু হয়ে যায় ছোটাছুটি। মাঝে মাঝে বিসিএস নামক ভিন্ন মরিচিকার পিছনে ছোটা। এভাবে করেই একজন ডাক্তার তার জীবনের ১০ থেকে ১২ বছর (খুব ভাগ্যবান হলে) খরচ করে ফেলে। এই সময়টাতে একজন ডাক্তার এবং তার পরিবার কি পরিমাণ কষ্টের মাঝে থাকে তা ভুক্তভোগি এবং আল্লাহ ছাড়া কেউ বোঝে না। এখানে আমার প্রশ্ন আসছে, এত কিছু করে কি লাভ?

একজন ছাত্রের সবকিছু ঠিকভাবে চললে ইন্টার্ন শেষ করতে করতে বয়স ২৫ বা ২৬ হয়ে যায়। এরপর একজন ডাক্তারের জীবনে সবচেয়ে বিভীষিকাময় সময়ের শুরু হয়। এত এত মত আর এত পথ!

 অবধারিতভাবেই সব পথই অত্যন্ত সংকীর্ণ। গুটি কয়েকজনই সে রাস্তা দিয়ে যেতে পারে। তখন বিসিএস নাকি পোস্ট গ্রাজুয়েশন? পরিবারের সাপোর্ট নাকি বিয়ে? চেম্বার নাকি পিজিটি বা অনারারি? খ্যাপ নাকি চাকরি? কি করা উচিত বা তার জন্য কোনটা বেস্ট অপশন তা বুঝে ওঠা সম্ভব নয়।

এই ঘুর্ণিঝড়ে পরে একজন ডাক্তারের আর কিছু না হোক কনফিডেন্স শহীদ হয়ে যায়। লাইব্রেরীতে মাথা গুজে পড়তে পড়তে কুয়ার ব্যাঙ এর মত পৃথিবীর অপার সম্ভাবনাগুলোকে দেখাই হয়না। অথচ এমনটা কি হবার কথা ছিল? 

 এমবিবিএস তো একটা প্রফেশনাল ডিগ্রি। এখানে লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজের আয় রোজগার করাটাই তো প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল। একে যদি বিসিএস বা এফসিপিএস অথবা এমএস/এমডি পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা অর্জনের ডিগ্রী হিসেবে ধরা হয় তবে তা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। ক্যারিয়ার বিল্ড বা নামের পাশে কয়েকটি অক্ষর বসানোর জন্য যে কষ্ট আর ত্যাগ একজন ডাক্তার বর্তমান সময়ে করে যাচ্ছে তার যৌক্তিকতা আমার কাছে ধোয়াশাপূর্ণ। 
যদি টাকা আয় করা এই ত্যাগের উদ্দেশ্য হয় তবে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যদি পাশ করার পরপরই জিপি প্র্যাকটিস (উপজেলা লেভেলে বা ইউনিয়ন) শুরু করা যেত তবে একজন ডাক্তারের প্রথম কিছুদিন (ধরে নিলাম ২ বছর) কষ্ট হলেও একসময় কিন্তু একটা সুনাম বা পরিচিতি তৈরি হয়ে যাবে। ২৮ বছর বয়সের মধ্যেই একজন ডাক্তার মাসিক ৫০ হাজার টাকা (সর্বনিম্ন ধরে নিয়ে) আয় করতে পারবে সহজেই। যা অন্য কনভেনশনাল বিষয়ে পড়ুয়া পেশার মানুষের কাছে সম্ভব নয়। এটাই কি আমাদের বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল না? যেখানে অন্য পেশাজীবিদের চাকরি ছাড়া আয়ের পথ নেই সেখানে আমার সন্তান বিনা চাকরিতে স্বাবলম্বি হবে। প্রত্যাশা বাস্তবতার মাঝে কত ফারাক!

অথবা সম্মান এবং পজিশন এই ত্যাগের কারণ হয় তবে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষের মাঝে আপনি একজন ডাক্তার হয়েছেন এটাই কি বিশাল সম্মানের নয়? মেডিকেলে ভর্তি থেকে এখন পর্যন্ত যেকোন মানুষের কাছে যে সম্মান পেয়েছি এর থেকে আর কি চাই? যারা ডাক্তার হয়েও সম্মান বা পজিশন নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন তাদের ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স রয়েছে বলে আমার ধারণা। আর কোন ডিগ্রি বা পজিশন আপনার সম্মানের গ্যারান্টি হতে পারেনা বা অসম্মানের প্রতিরক্ষা হতে পারেনা।

এর বাইরে আসে, নিজের ক্যারিয়ার বিল্ড করা, দক্ষতা অর্জন করা, উন্নত চিকিৎসা দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করা। যদি এ উদ্দেশ্য হয়েই থাকে, তবে এর জন্য যে পরিশ্রম বা ত্যাগ সেটা আপনাকে করতেই হবে। তাতে আপনার ৪০ বছর বয়স হোক বা ৫০ বছর সেই বোঝা আপনি নিজেই নিজের কাধে নিয়েছেন। এখানে সিস্টেমের দোষ ধরবেন কেন? ক্যাপাসিটি বিল্ড তো প্রফেসর হবার পরেও করতে হয়। এফসিপিএস ট্রেনিং ৫ বছর হয়েছে কিন্তু এমবিবিএস এর পর এফসিপিএস তো বাধ্যতামূলক কিছু নয়।

আমরা ডাক্তাররা পেশেন্টের রিস্ক বেনিফিট রেশিও ঠিক করে তার চিকিৎসা দেই বা সিদ্ধান্ত নেই। অথচ নিজেদের জীবনের রিস্ক বেনেফিট রেশিওর হিসেবটা মেলাতে আমরা খুবই আনাড়ি। একজন ডাক্তার তার জীবনের প্রথম ৪০-৪৫ বছর যে ত্যাগ করে চলে ক্যারিয়ার বিল্ড করার জন্য তার থেকে অল্পে তুষ্ট থেকে প্রথম থেকেই যদি পেশাগত জীবনে পদার্পন করত তবে লাভ ক্ষতির হিসেবটা আকাশ পাতাল পার্থক্য হত? যদি হয়েও থাকে তবুও মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়ে তরুণ বয়স থেকেই পরিবারকে সাপোর্ট দেয়া অথবা সঠিক সময়ে জীবনের বাকি ধাপগুলো (বিয়ে, সন্তান সন্ততি) সম্পন্ন করা বা পারিবারিক প্রশান্তির কথা হিসেব করলে শেষ বয়সে এসে ঢাকা শহরে দুইটা ফ্ল্যাট আর ব্যাংকে কোটি টাকা বা বিশাল প্রতিপত্তি আর সম্মানের মাঝে খুব বেশি পার্থক্য চোখে পড়ে না।

তাই ক্যারিয়ার বিল্ড/পোস্ট গ্রাজুয়েশন নামক “ম্যাস হিস্টেরিয়া”র মাঝে নিমজ্জিত আমাদের ডাক্তার সোসাইটির মাঝে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো খুবই প্রয়োজন। একদিন এক বাসের পিছনে সহজ ভাষায় লেখা কথাটি বারবার মনে পড়ে “দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে”। 

তাই দৃষ্টিভঙ্গি হোক, সিম্পিল এমবিবিএস সিম্পিল জীবন ধারণের জন্য যথেষ্ট।

(এফসিপিএস এর ট্রেনিং ৫ বছর করা হয়েছে এর নিন্দা জানাই। এর ফলে বাংলাদেশের সাস্থ্যসেবা বা এর মান এর কি ক্ষতি হবে সেটা অন্য বিতর্ক। সেটি এর সাথে সম্পর্কিত নয়)

 লেখক নাহিদ জামান
মুল লেখার লিঙ্ক এখানে

Tuesday, June 4, 2019

আসুন লজ্জা পাই .

এক প্রখ্যাত সাংবাদিক ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন “ এই দেশের নিরানব্বই শতাংশ মানুষ আপনাদের উপর আস্থা রাখেনা। গিয়ে দেখুন তারা আপনাদের সম্পর্কে কি বলে? প্রতিবছর এদেশের হাজার হাজার মানুষ পাশের দেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। আপনাদের তবুও লজ্জা হয়না।”

- প্রিয় সাংবাদিক মহাশয়, আমাদের লজ্জিত করে আপনাদের তথ্য-উপাত্তহীন নিরেট বচন ।
এদেশের নিরানব্বই শতাংশ রোগী আমাদের উপর আস্থা না রাখলে তো আমাদের ডাক্তারদের মাছি মারতে হতো। আমাদের সরকারি হাসপাতালের মেঝেগুলো খা খা করতো।
বিকেলে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে যে ডাক্তারেরা, তাদের না খেয়ে থাকতে হতো।

তবু স্বীকার করি এ দেশের অনেক মানুষ পাশের দেশে চিকিৎসা করতে যায়। এবং এও সত্য পাশের দেশ থেকে ফিরে এসে আবার আমাদের কাছেই চিকিৎসা নেয়। এবং স্বেচ্ছায় খুশী হয়েই নেয়। ফিরে এসে তারা এও বলে “গেছিলাম, মনে করছিলাম ..... “। অর্থাৎ তাদের মোহভংগও হয়।
এখন এর জন্য আমাদের লজ্জা পাওয়া উচিত কিনা সেই সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে।

হে প্রিয় ইলেকট্রনিক সাংবাদিক, এই দেশের অধিকাংশ মানুষই দেশী চ্যানেল দেখেনা। ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখে। আপনারা কি লজ্জা পেয়ে আপনাদের চ্যানেল গুলি বন্ধ করে দিয়েছেন? নাকি আমরা কখনো বলেছি আপনাদের লজ্জা পাওয়া উচিত? আমরা তো বরং আমাদের বৌ ঝি দেরই গাল মন্দ করেছি। আপনারাও সভা ডেকে বলেছেন ভারতীয় চ্যানেল দেখানো বন্ধ হোক।

আমরা তো কোনদিন বলিনি আইন করে এদেশের রোগীদের ভারত যাওয়া বন্ধ করা হোক।




 এই দেশের অধিকাংশ তরুনী ইন্ডিয়ান ড্রেস কেনে হাজার হাজার টাকা দিয়ে। দেশের সবচেয়ে বড় শপিং মলগুলি বোঝাই হয়ে থাকে ইন্ডিয়ান শাড়ি,পাঞ্জাবি, থ্রি পিসে। কই আপনারাতো এদেশের বস্ত্র ব্যবসায়ী, ফ্যাশন ডিজাইনারদের লজ্জা পেতে বলেন না? আপনারা বরং দোষ দেন এই দেশের মানুষের রুচি বোধের। দোষ দেন দেশাত্ববোধের।

এই দেশের মানুষ শুধু হেলথ টুরিজমই করেনা। তারা হানিমুনও করে বিদেশে। যে জীবনে কুয়াকাটাই দেখেনি, নীল গিরি দেখেনি সে বেড়াতে যায় পাতায়া বীচে। কি বলবেন একে? আমাদের প্রকৃতি ব্যর্থ? প্রকৃতিকে লজ্জা পেতে বলবেন? আমাদের দেশে নিরাপত্তা নেই এই কি অজুহাত?

ভাই সাহেব, এই দেশের এক শ্রেনীর মানুষ আছে যারা এই দেশে থেকেও এই দেশে নেই। তারা এই দেশের খাবার পছন্দ করেনা, এই দেশের এডুকেশন পছন্দ করেনা, কারিকুলাম পছন্দ করেনা (ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে)। তারা এই দেশ নিয়ে কোন স্বপ্নও দেখেনা। আমি এদের অনেককেই দেখেছি তাদের নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো তারা বিদেশে ‘সেটেল্ড’ হতে চায়।
আমরা কোন যোগ্যতায় এদের চিকিৎসা দিয়ে আকৃষ্ট করবো?
আস্থা বা বিশ্বাসের কথা বলছেন?
এদেশের কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা।
এদেশের মানুষের নোবেল লরিয়েটে বিশ্বাস নেই, এভারেস্ট বিজয়ে আস্থা নেই।
আমরা ডাক্তাররা কিভাবে সবাইকে হঠাৎ করে আস্থাশীল করবো?

বুকে হাত দিয়ে বলেন, আপনাদের কেউ বিশ্বাস করে? সোশ্যাল মিডিয়াতে চোখ রাখলে দেখবেন। এক মতিঝিলে ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে কতজন মানুষ মারা গেল সেই তথ্যটাই কেউ ঠিক করে বিশ্বাস করাতে পারছেন না কাউকে। না সরকার না মিডিয়া। এদেশের মানুষ বরং বিশ্বাস করে চাদে ‘হঠাৎ দেখা সাঈদি’ কে।

হোমিওপ্যাথির মত অপবিজ্ঞান বছরের পর বছর চলে কোন কমপ্লেইন ছাড়া। আপনারাও মহা সমারোহে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। সর্পরাজ, জ্যোতিষ রত্নের সবচেয়ে বড় প্রচারযন্ত্রও আপনারাই। আপনারাই বলুন কার লজ্জা পাওয়া উচিত?

আপনাদের বলবার কেউ নেই। সেটাই সমস্যা। কারণ এই সমাজের ক্ষমতার দন্ডটি আপনাদের হাতে। প্রচার যন্ত্রটি আপনাদের হাতে, স্বয়ং নেপোলিয়ন যেটাকে ভয় পেত। আপনাদের গায়ে পোশাক নেই। আর আমাদেরও দুর্ভাগ্য ‘রাজার পোশাক ‘ গল্পের সেই বালকটির দেখা আমরা পাইনি যে আপনাদের বলবে “রাজা মশাই আপনি তো ন্যাংটা”।
এই দেশটা সবার আগে। দয়া করে এই কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন।

আর কয়েকটি তথ্য কষ্ট করে জোগাড় করুন।
১. বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কত আর জাপানের শিশু মৃত্যুর হার কত?
২. বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুর হার কত? আপনাদের প্রিয় পাশের দেশের মাতৃমৃত্যুর হার কত?
৩. বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু দুই দশক আগে কত ছিল আর এখন কত?
৪. বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রনের বর্তমান অবস্থা কি? পাশের দেশের কি অবস্থা?
৫. মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবদান কি আর অন্যান্য খাতের অবদান কি?
প্রশ্ন বেশী হয়ে যাচ্ছে?

আজ এ পর্যন্তই থাক।

তবে সব প্রশ্নের আগে আপনাদের জানতে হবে একটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা নিরুপন করার মাপকাঠি বা প্যারামিটার গুলি কি?
এটা না জানলে উপরের প্রশ্নগুলিতেই আর যাওয়া হবেনা। আপনাদের নির্ভর করতে হবে হসপিটাল ভাংচুর করা রোগীর স্বজনের বক্তব্যের উপর।
আফসোস শুধু এই একটি ক্ষেত্রেই আপনারা আক্রমনকারী সন্ত্রাসীদেরই বিশ্বাস করেন। তারাই আপনাদের রেফারেন্স। তারাই আপনাদের শিরোনাম।
২৭.০৪.২০১৪-collected post from gulzar hossain ujjal

Saturday, December 8, 2018

ছেলে যে কোথাও চান্স পেল না!

আনিসুল হক
‘আমার ছেলে যে কোথাও চান্স পেল না? এখন আমি কী করব?’

এক মা তীব্র হতাশায় জর্জরিত হয়ে আমাকে ফোন করেছেন। আমি অবশ্য ফেসবুকে তাঁর কর্মকাণ্ড দেখতে পাচ্ছিলাম। তিনি তাঁর উচ্চমাধ্যমিক পাস ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রামে যেদিন যান, সেদিন কী কারণে গাড়িঘোড়া চলছিল না, তাঁরা বহু কষ্টে ট্রেনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে সক্ষম হন। তাঁরা সিলেটে গেছেন, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে, জাহাঙ্গীরনগরে গেছেন—এসব দেখছি। শেষে পেলাম তাঁর সেই ফোন কল, ‘আমার ছেলেটা যে কোথাও চান্স পেল না!’

তারপর বললেন, ‘জানেন, ওর খুব শখ ছিল, আইবিএ পড়বে, আমি আর ও সারা রাত একসঙ্গে অঙ্ক কষেছি...হলো না। আসলে আমি ওকে জোর করে ইঞ্জিনিয়ারিং কোচিং করিয়েছিলাম, ওর তো ইচ্ছা ছিল না, তবু...।’
আমি বললাম, ‘কোথাও চান্স পায়নি, বেসরকারি ভালো ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও না?’
‘চান্স পেয়েছিল। ও বেসরকারিতে পড়বে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চাওয়া এক শিক্ষার্থীর মায়ের এ কথাগুলো থেকে কতগুলো সূত্র আপনা–আপনি চলে আসে।
ছেলে পড়তে চায় ব্যবসা, মা পড়াতে চান ইঞ্জিনিয়ারিং। মা-বাবা কী চান, এটা একদমই বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, শিক্ষার্থী নিজে কী পড়তে চায়। কী করতে তার ভালো লাগে। যার যা করতে ভালো লাগে, যে যা পড়তে চায়, যে যা হতে চায়, তাকে তা-ই পড়তে দিন, তা-ই হওয়ার জন্য লড়াই করতে দিন।

এ কথা সবাই বলেছেন। সব সময় বলেন।

 এই তো সেদিন কিশোর আলোর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সাকিব আল হাসান। তিনিও একই কথা বললেন কিশোরদের, ‘তোমাদের যা করতে ভালো লাগে, সেটা মন দিয়ে করো।’

বিশ্ব দাবায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া ভারতীয় বিশ্বনাথন আনন্দ ভারতের পত্রিকা টেলিগ্রাফ–এ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন সফল হওয়ার সূত্র, ‘আপনি যা করেন, তা আপনার পছন্দ করতে হবে। আপনি সেটা করতেই থাকবেন। হাল ছাড়বেন না। অনেক কষ্ট হবে, অনেক ব্যর্থতা আসবে। কিন্তু আপনি যেহেতু জিনিসটা পছন্দ করেন, কষ্ট–ব্যর্থতা আপনার কাছে কঠিন কিছু মনে হবে না।’


জীবনটা সন্তানের। বাবা-মায়ের নয়। আমরা যারা বাবা-মা, তারা তাদের অপূর্ণ ইচ্ছাটা সন্তানের ওপর চাপিয়ে দিই। প্রত্যাশার ভারে সন্তানের জীবনটাকে শ্বাসরোধী করে তুলি। এটায় হিতে বিপরীত হওয়ার শঙ্কা থাকে বেশি।

দুই নম্বর কথা হলো শিক্ষার্থীরও একটা স্বপ্ন থাকতে পারে। লক্ষ্য থাকতে পারে। এই স্বপ্ন পূরণ না–ও হতে পারে। বিশেষ করে কী পড়ব, কোথায় পড়ব, কোথায় ভর্তি হব, এসব নিয়ে সবার স্বপ্ন পূরণ হবে না। এটা একটা গাণিতিক বাস্তবতা। প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার ছেলেমেয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করেছে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন আছে প্রায় ৫০ হাজার। সহজ হিসাব হলো, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবে না আট লাখের বেশি ছেলেমেয়ে। তেমনিভাবে এ বছর প্রায় চার লাখ তরুণ–তরুণী বিসিএস পরীক্ষায় বসছে, কিন্তু পদের সংখ্যা মাত্র এক হাজার। তার মানে ৪০০ জনে একজন বিসিএসে উত্তীর্ণ হবে। ৩ লাখ ৯৯ হাজারেরই প্রত্যাশা ভঙ্গ হবে। তাই বলে এই বিপুলসংখ্যক যুবকের জীবন শেষ হয়ে যাবে?

এ পি জে আবদুল কালাম হতে চেয়েছিলেন বিমানবাহিনীর পাইলট। দেরাদুনে গেছেন ভর্তি পরীক্ষা দিতে। আটজন নেবে, তিনি হলেন নবম। মন খারাপ করে নদীর ধারে বসে আছেন তিনি। এই সময় এক সাধু এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি অন্ধকারে নদীর ধারে একা বসে আছো কেন?’
‘আমার জীবন ব্যর্থ হয়ে গেছে। এই জীবনের কোনো মানে নেই। আমি বিমানবাহিনীর ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেছি।’
সাধু বললেন, ‘তুমি ওঠো। এর মানে এই যে নিয়তি তোমার জন্য বিমানবাহিনীর পাইলট হওয়া ঠিক করে রাখেনি। তুমি অন্য কিছু হবে, তাই ঠিক করে রেখেছে। তুমি তোমার নিয়তিনির্ধারিত গন্তব্য অনুসরণ করো।
 তুমি সফল হবে।’
এ পি জে আবদুল কালাম ভারতের বিখ্যাত বিজ্ঞানীই কেবল হননি, ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন।

তিন নম্বরে আমার বলার কথাটা হলো, সন্তানের লড়াই সন্তানকেই করতে দিন। চামচে করে তুলে তাকে খাওয়াবেন না। আমার আব্বা মনীষী-উক্তি আওড়াতেন, শিশুকে প্রকৃতির কোলে ছেড়ে দাও, প্রকৃতিই শিশুকে শিক্ষা দেবে।
এবার জীবন সম্পর্কে আমার প্রিয় দুটো উক্তি আমি আবারও বলে নিতে চাই। আইনস্টাইন বলেছেন, ‘জীবন হলো বাইসাইকেলের মতো, সব সময়
চালাতে হয়, তা না হলে পড়ে যেতে হয়। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, প্যাডেল ঘোরাতে হবে, থামা যাবে না।’ আর দ্বিতীয় কথাটা বলেছেন আমেরিকান কবি রবার্ট ফ্রস্ট, ‘জীবন সম্পর্কে আমার সমস্ত অভিজ্ঞতা আমি মাত্র তিনটা শব্দে বলে যেতে পারি—জীবন চলেই যায়।’

প্রতিটা জীবন সুন্দর। প্রতিটা জীবন অর্থপূর্ণ। প্রতিটা মানুষ এই পৃথিবীতে একটা আলাদা তাৎপর্য নিয়ে এসেছে, সাফল্যে–ব্যর্থতায় আশায়–আনন্দে দুঃখে–তাপে তা চরিতার্থতা লাভ করে। আমাকে ডাক্তার হতেই হবে, আমাকে ইঞ্জিনিয়ার হতেই হবে, এই জেদের কোনো মানে হয় না। পারফেকশনিস্ট বা শুদ্ধতাবাদী হওয়ারও কোনো মানে হয় না। এই প্রকৃতিতে কোথাও কোনো সরলরেখা নেই। একটা জিনিসও দেখাতে পারবেন না, যেটা প্রকৃতি বানিয়েছে, কিন্তু যা সরলরেখার মতো সোজা। হতেই পারে না। প্রকৃতি পারফেকশন বা নির্ভুলতা বা ছাঁচে ফেলা জিনিস তৈরি করে না।
আমাদের দেশে প্রতিবছর ২০ লাখ শিশু জন্ম গ্রহণ করে। গত বছর ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদেশে গেছেন কাজ নিয়ে। উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছে সাড়ে আট লাখ। জানি, বিদেশে গিয়ে আমাদের অভিবাসীরা অনেক কষ্ট করেন, তারপরও তাঁরাই সব মানুষের সেরা মানুষ, তাঁরাই তো এ দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরাচ্ছেন। আর এক হাজার বিসিএস ক্যাডার আর নানা ধরনের সরকারি-বেসরকারি চাকরি করে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। কিন্তু তার বাইরে আছে আরেক দল সোনার মানুষ। কৃষিতে, শিল্পে, ব্যবসায়িক উদ্যোগে, তথ্যপ্রযুক্তিতে দেশে সৃষ্টিশীলতা আর উৎপাদনশীলতার বন্যা বইয়ে দিচ্ছে কোটি কোটি নাম না জানা মানুষ।
এই দেশের মাটি বড়ই উর্বর। এই দেশে ইটের দেয়ালে বীজ পড়লে গাছ হয়, সেই গাছ বড় বড় পাতা মেলে ধরে। এই দেশে ব্যবসায়, বাণিজ্যে, শিল্প-উদ্যোগে, কৃষিতে, আইটিতে, চিকিৎসায়, শিক্ষায় কত–কী যে করার আছে, কত–কী যে মানুষ করছে।
এক ভারতীয় গুরুর বক্তব্য ইউটিউবে পাই; তিনি হাসতে হাসতে বলেছেন, ১. ক্লাসে যারা সবচেয়ে ভালো ফল করে, তারা হয় ডাক্তার–ইঞ্জিনিয়ার। ২. তাদের পরে যারা ভালো করে, তারা হয় সরকারি কর্মকর্তা। কাজেই এক নম্বর গ্রুপ থাকে দুই নম্বরের অধীনে। ৩. এরপর যারা ভালো করে তারা করে ব্যবসা। ১ নম্বর, ২ নম্বর গ্রুপ থাকে ৩ নম্বরের অধীনে। ৪. এরপরের ছাত্ররা আসে রাজনীতিতে। হয় নেতা। ১,২ আর ৩ নম্বর গ্রুপ থাকে ৪ নম্বরের অধীনে। ৫. যারা ফেল করে তারা হয় ডন, গডফাদার। ১,২, ৩,৪ নম্বর গ্রুপ থাকে ৫ নম্বরের অধীনে। ৬. আর এদের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়ার দলে আছে আমার মতো গুরু আর সাঁইজিরা। আমরা সবাইকে উপদেশ দিই। ১, ২, ৩, ৪, ৫—সবাই থাকে আমাদের অধীনে।
Collected Post

Tuesday, November 27, 2018

GP center Project (Offline Project) for novice doctors

দেশে বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষের কাছাকাছি ডাক্তার। এদের সিংহভাগই তরুন চিকিৎসক।\
 এই তরুন চিকিৎসকদের সামনে একসাথে চেপে বসে তিনটি দায়িত্ব-
 ১) চিকিৎসক হওয়ার পর স্বাভাবিক নিয়মেই উপার্জন করে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া 
২) উচ্চশিক্ষায় রত হওয়া
 ৩) চাকরি/বিসিএসের চেষ্টা করা। 

 এই ত্রিশঙ্কু অবস্থায় আমাদের অধিকাংশ তরুন চিকিৎসক হতাশ হয়ে পড়েন।
 হতাশা থেকে জন্ম নেয় ব্যক্তিগত জীবনে নানা জটিলতা এমনকি তা আত্মহত্যা পর্যন্ত গড়ায়
। ১) সাথে যোগ হয় ক্লিনিক/বেসরকারী হাসপাতালে নামমাত্র বেতনে অপরিসীম পরিশ্রম। 
 ২) সীমিত উচ্চশিক্ষার সুযোগ, পাশে দীর্ঘ সূত্রিতা 
৩) চাকরির অনিশ্চয়তা, অসন্তোস আর উচ্চশিক্ষায় বাধা পড়া


 কিন্তু কোন কি পথ নেই? 
 এত মেধাবী চিকিৎসক, অথচ এভাবে হতাশার জীবন বেঁছে নেবে?
 পথ আছে পথেই- আমরা খুঁজে পাই না।

 কিভাবে? 

 বিভিন্ন গবেষণা বলছে দেশের ৭৫-৮০ ভাগ মানুষ তাদের অসুস্থ্যতার সময় চিকিৎসা নেয় কোয়াকদের কাছ থেকে। এই পরিসংখ্যান শুধু প্রত্যন্ত গ্রামের না এমনকি খোদ ঢাকা শহরেরও। 
 আর এর কারন প্রাকটিসিং ডাক্তারের অভাব। 
এই অভাবকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে কোয়াক আর দালাল চক্রের ব্যবসা, সাথে আছে ভূয়া ডাক্তার! তাহলে এই দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে কি খুব কষ্ট হবে?

 আমাদের প্রথম কাজ হবে নিজেদের প্রাকটিসের উপযোগী করা এবং দেশের সর্বত্র প্রাকটিসিং ডক্টর দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া। 

এতে দুটো লাভ। 
এক মানুষ হাতের কাছে যোগ্য সেবা পেয়ে ভুঁইফোঁড় ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক চক্রের দ্বারা প্রতারিত হয়ে চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা হারাবে না, চিকিৎসক গন ফিরে পাবে পুরনো সম্মান।
 অন্যদিকে 
একজন তরুন চিকিৎসক যেভাবে লাভবান হবেন তা হল- ১) ক্লিনিক নির্ভর হয়ে থাকতে হবে না, ভাল প্রাকটিস জমে গেলে নিজের সুবিধা মত দিনের দিনের একটা সময় প্রাকটিসের পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া যাবে। ২) চাকরি হলেও চাকরির পাশাপাশি প্র্যাকটিস স্বচ্ছলতা এনে দেবে আর ৩) যদি অনারারী করে ডিগ্রী করা লাগে তবুও বাকি সময় প্র্যাকটিস করে চলা যাবে। 

 সম্মান পদ বা পদমর্যাদা কিংবা ডিগ্রী থেকে আসে না। সম্মান আসে উপযুক্ত কর্ম থেকে।

 শুভকামনা সবার জন্য

To Learn Details CLICK HERE.

Sunday, November 25, 2018

পত্রিকার পাতায় বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি। বেসরকারী মেডিকেল কলেজগুলো আপনাকে আহবান জানাচ্ছে।

বেসরকারী মেডিকেল কলেজ এর মাঝে বেশ কিছু আছে যে গুলো খুবই ভাল। এবং কোন কোন ক্ষেত্রে নতুন সরকারী মেডিকেল কলেজগুলো থেকেও উন্নত। কিন্তু অনেক বেসরকারী মেডিকেল কলেজই আছে যাদের মান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে। এইসব মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে একজন ভাল চিকিতসক হওয়া কঠিন।
.
.
আমার ব্যাক্তিগত মতামত থেকে কয়েকটি সতকর্তা মেনে চলা উচিত বলে মনে করি। যাতে করে পরবর্তীতে কোন সমস্যার মুখোমুখি ছাত্র ছাত্রীরা বা অভিভাবকরা না হন।
.
.
প্রথমত দেখে নিন, মেডিকেল কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনুমোদিত কিনা। যেমন ঢাকার মেডিকেল কলেজগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। রাজশাহীর মেডিকেল কলেজগুলো,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।
.
.
.
এরপরই দেখুন, তাদের একটি চালু হাসপাতাল আছে কিনা। আপনার চকচকে হাসপাতাল দরকার নাই।
 যেই হাসপাতালে রোগী হয় ভাল সেটা আপনার দরকার। আর ভাল কথা, হাসপাতালে গরীব রোগীদের জন্য ফ্রি বেড, ফ্রি অপারেশন এর ব্যাবস্থা আছে কিনা- এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন।
কারন ডাক্তারিবিদ্যা একটি প্র‍্যাক্টিক্যাল বিষয়। আবার মনে রাইখেন পাচ দশটা ফ্রি বেড দিয়ে কিছু হবে না। কম করে হলেও পঞ্চাশটি ফ্রি বেড লাগবে। এছাড়া স্বল্প ভাড়ার যথেষ্ট বেড থাকতে হবে। উদাহরনস্বরূপ বলি, ঢাকার একটি বেসরকারী মেডিকেলে ফ্রি বেড মাত্র ত্রিশটা। স্বল্পমূল্যের বেড নাই। তাহলে এই মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা ডাক্তাররা কি শিখবে?
.
.
পর্যাপ্ত শিক্ষক আছেন কিনা দেখুন। বিশেষত রেজিষ্ট্রার, সিএ যারা সরাসরি ছাত্রদের শেখান তাদের যোগ্যতা কি দেখুন। সেটা বিএমডিসির নিয়ম কানুন মানে কিনা জানুন।
.
.
ভর্তির সময়ই সব খরচ সম্পর্কে জেনে নিন। কোন লুকানো খরচ আছে কিনা প্রশ্ন করুন। প্রতি বছর বেতন বাড়ায় কিনা, প্রফেশনাল পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি নেয় কিনা।
.
.
.
জানুন, উক্ত মেডিকেল কলেজ থেকে কয়টি ব্যাচ পাস করেছে। এটা মেডিকেল কলেজ সম্পর্কে ভাল ধারনা দেবে। অনেক ভাল মেডিকেল কলেজ থেকে পনেরটির উপরে ব্যাচ পাস করে বের হয়েছে।
.
.
যেসব মেডিকেল কলেজ কয়েকদিন পরপর শিক্ষক চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়, তাদের বিষয়ে সাবধান।
.
.
.
মনোরম ক্যাম্পাসের ছবি দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। হাসপাতালের রোগী সংখ্যা দেখেন।
.
.
নতুন প্রতিষ্ঠিত মেডিকেল কলেজ থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ। অবকাঠামো খুব ভাল হলে ভিন্ন কথা।
.
.
আর ভুলেও ভর্তি বিজ্ঞপ্তির নিয়মের বাইরে যাবেন না। পরে পস্তাবেন নিশ্চিত।
আর ও কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করুন। উত্তর দেবার চেষ্টা করবো।
শেয়ার করুন। কেউ না কেউ উপকৃত হবে।

লেখক  তানভির আহমেদ

Thursday, August 30, 2018

একটি পাপ ও তার প্রায়শ্চিত্ত (বড় লেখা, যারা ডাক্তার হতে স্বপ্ন দেখেন মাস্ট জানা দরকার )


১.....
পড়ন্ত বিকেল।স্থানঃ অজপাড়াগায়ের এক সরকারী হাসপাতালের ইমার্জেন্সী রুম। আমার চোখের সামনে এক পেট ফোলা রোগী শুয়ে আছে, সাথে জন্ডিসও আছে। ক্লিনিক্যালী রোগীটা Chronic Liver Disease( CLD) এর একটা পেশেন্ট....
চোখ বন্ধ করে CLD এর আন্ডারলায়িং কারণ মনে করার চেষ্টা করলাম।একসময় আঙ্গুল গুণে গুণে ১১ টা কারণ একনাগারে বলতে পারতাম, সেইমুহূর্তে ৮ টার বেশী মনে করতে পারলাম না। অবশ্য তিন বছরেরও অধিক সময় একটানা যখন আমাকে গ্রামে ফেলে রাখা হয় তখন CLD এর ৮ টা আন্ডারলায়িং কারণ যে মনে আছে--সেটাই তো অনেক.....

২....
আমি তখন DMC তে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং করি। গলা ব্যথা নিয়ে এক ইয়াং পেশেন্ট হাসপাতালে আসলে Palatal petechie আর Spleenomegaly পেয়ে ডায়াগনোসিস করেছিলাম-- Infectious mononucleosis. PBF এ আগ্রহ নিয়ে Atypical lymphocyte খুঁজতাম....
স্মৃতিগুলো ছিলো মধুময়, But those days are almost gone now. গলা ব্যথার রোগী এখনও ডিল করি, তবে এখন আর টর্চ দিয়ে মুখ হাঁ করিয়ে Palatal petechie দেখা হয় না, সে সুযোগও এখন পাই না, দেখার উৎসাহও এখন আর কেউ দেয় না.....
একটা একাডেমিক চিকিৎসককে নন-একাডেমিক কোয়াক বানানোতে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ইউনিয়ন সাবসেন্টারগুলোর জুড়ি নেই। এইসব জায়গাগুলোতে অকাজে উৎসাহ দেবার লোক আছে, আসল কাজের উৎসাহ দেয়ার কেউ নেই....
গ্রামের এই হাসপাতালের আউটডোরের বাইরে জনা ত্রিশেক লোক লাইনে দাঁড়িয়ে তারস্বরে চেঁচাতে থাকে, বোকা এই লোকদের বোঝানো হয়েছে এখানে ফ্রি ওষুধ পাওয়া যায়, রোগ ধরা গুরুত্বপূর্ণ না, ফ্রি ওষুধটাই বড় কথা।ফ্রি ওষুধ পেয়ে এরা আবার হিসেবে বসে যে ফ্রি ওষুধের মূল্য রিকশা ভাড়ার থেকে বেশী হলো কিনা, তবেই না হাসপাতালে আসা স্বার্থক হবে। জ্বর আর গলা ব্যথায় তাই এখন P/C( প্যারাসিটামল) আর H/C( হিস্ট্রাসিন) ই আমার নিত্যসঙ্গী, দুর্বলতা বললে B/C( ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স) তো আছেই....

৩...
আমার কথা বাদ থাকুক, এক ব্রিলিয়ান্ট বড় ভাইয়ের গল্প বলি। জয়েন্ট পেইনের রোগী পেলে যে ভাই Seronegetive নাকি Seropositive সেটা নিয়ে মেতে উঠতো, Spondyloarthropathy ডায়াগনোসিস করার জন্য যে ভাই গ্রামের এই সেটিংএ Oblique view of SI joint এর এক্সরে করে সেই এক্সরের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো--সেই ভাইকে ৬ বছর গ্রামে পড়ে থাকতে থাকতে এখন এসব বাদ দিয়ে জয়েন্ট পেইনের রোগী এলে অ্যানালাইসিস বাদ দিয়ে ধুন্দুমার স্টেরয়েড প্রেসক্রাইব করতে দেখি...
যে ভাইকে আগে Aspiration pneumonia তে Cephalosporin এর সাথে Metronidazole নাকি Clindamycin এর কম্বিনেশন ভালো হবে সেটা নিয়ে কথা কাটাকাটি করতে দেখেছি, সে ভাই এখন গ্রামে বসে দেদারসে যেকোন জ্বরের রোগীকে Ceftriaxone মেরে দেন, কথাবার্তাতেও এখন অনেক পরিবর্তন, ডাক্তার ডাক্তার ভাব বাদ দিয়ে কেমন যেন এখন একটা গ্রাম্য নেতার ভাবসাবও চলে এসেছে।ভাই এখন কতটুকু করাপটেড, সেটা আর নাই বা বলি, উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন পড়ে থাকবেন আর করাপটেড হবেন না-সেটা আনইউজুয়াল.....

৪....
এবার একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েকটা কথা বলি। উপজেলা লেভেল ও ইউনিয়ন সাবসেন্টারগুলো চিকিৎসকদের জন্য সম্পূর্ণভাবে অরক্ষিত একটি জায়গা। অশিক্ষিত ও অপশিক্ষিত লোকদের যদি আপনি সমঝে চলতে না পারেন তবে আপনার কপালে খারাপী আছে, মোরালিটি এখানে তিলে তিলে নষ্ট হবে।এহেন জায়গায় একটানা ২ বছর কষ্টকর, একটানা ৪ বছর অনেকটা অসম্ভব....
লজিস্টিক সাপোর্টের কথা আর নাই বা বলি। নলেজ আছে কিন্তু প্রয়োগ করতে পারছেন না -এর চেয়ে হতাশাজনক আর কিছু কি হতে পারে? আমার এক কার্ডিওলজিস্ট বন্ধু তো ৩৩ তম বিসিএস আর কন্টিনিউই করলো না তার পোস্টিং প্লেস এ লজিস্টিক সাপোর্ট না পেয়ে...

৫....
আমার বক্তব্য কি আপনাদের কাছে পরিস্কার হয়েছে? আপনারা কি বুঝতে পারছেন যে প্রতিটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো নবীন, কর্মোদ্যম চিকিৎসকদের জন্য একেকটা #Death_Trap?আপনারা কি জানেন যে -কোন চিকিৎসক তার জীবনের দীর্ঘ সময় উপজেলা লেভেলে থাকলে তার চিকিৎসক জীবনের মানসিক মৃত্যু ঘটে?
কথাগুলো কেন বললাম? যারা জানেন না তাদের জন্য বলিঃ বিসিএসে (স্বাস্থ্যে) নতুন নিয়ম তৈরি করা হয়েছে যে প্রতিটি চিকিৎসককে তার স্বর্ণালী জীবনের প্রথম ৪ টি বছর গ্রামে থেকে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আগের বাধ্যবাধকতা ছিলো ২ বছরের....

৬....
এবার একটা ছোট ক্যালকুলেশনে আসেন। ইন্টার্নীসহ MBBS কমপ্লিট করতে করতে যদি বয়স হয় ২৪, তারপরে বিসিএসের নিয়োগ ঝামেলা আরো ন্যূনতম ২ বছর, প্লাস গ্রামে চিকিৎসা সেবা ৪ বছর।অলরেডী কিন্তু ৩০ বছর গত হয়েছে। ট্রেনিং পোস্ট কিন্তু হাতের মোয়া না, আরো ১ বছর ধরলাম। তারপর ট্রেনিং প্লাস কোর্স পিরিয়ডের ঝক্কিতে আরো ৪ থেকে ৫ বছর। এবার বলুন পোস্টগ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করতে করতে বয়স কত হবে?
এদেশে চিকিৎসক হওয়াটা কি পাপ? আমাদেরকে কি এখন তার জন্য একটার পর একটা প্রায়শ্চিত্ত করে যেতে হবে?
প্রতিবার একেকটা সমস্যা হয় আর চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ সমস্যা সমাধানে তৎপর হন। ডেপুটেশন সংক্রান্ত একটা সমস্যা হলো, তখনও একই ঘটনা দেখা গেলো, এবারো নিশ্চয়ই সেটাই হবে। সমস্যা তৈরি হবার পূর্বেই আপনারা অ্যাকশনে যান না কেন? আপনাদের সাথে পরামর্শ ছাড়া এসব ডিসিশন কিভাবে পাশ হয়?
একটা তুর্কি প্রবাদ বলি।" জঙ্গল ছোট হয়ে আসছিলো, তারপরও গাছেরা কুঠারকে ভোট দিচ্ছিলো। কারণ, কুঠারের হাতল কাঠের তৈরি আর গাছেরা ভেবেছিলো কুঠার বুঝি তাদেরই একজন..."
প্রিয় নেতৃবৃন্দ, জঙ্গল বেশী ছোট হবার পূর্বেই ব্যবস্থা নিন....
প্রমোশনের পথ রুদ্ধ হচ্ছে, দেশের কারেন্সীগুলো কিন্তু দেশের বাইরে চলে যাবে। এর ফলাফল আমার বা আপনার কারো জন্যই কিন্তু সুখকর কিছু হবে না.....

৭....
আমি কি এদেশের প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করছি? ব্যাপারটা কিন্তু তা না। আমি প্রান্তিক পর্যায়ে ৪ বছর চিকিৎসা সেবার পক্ষপাতী, তবে সেটা হতে হবে মেধাকে ধ্বংস না করে। ৪ বছর গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসা সেবা দেয়াটা হতে হবে প্ল্যানড্ এন্ড সিস্টেমেটিক....
৪ বছর একটানা গ্রামে চিকিৎসা না দিয়ে ২ বছর আগের মত গ্রামে চিকিৎসা দিয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। প্রশিক্ষণ শেষে আবার ২ বছর গ্রামে সেবা দিতে হবে। এতে করে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করার বাধাও থাকলো না আবার পরবর্তী ২ বছরে গ্রামের মানুষগুলো অনেকটা কনসালট্যান্ট পর্যায়ের সেবা পাবে, বিষয় কিন্তু একই, অথচ এই সিদ্ধান্তটা নিঃসন্দেহে অনেক পরিপক্ক....
আচ্ছা, যারা এরকম উদ্ভট ডিসিশনগুলো নেন, তারা কি একবারও কারো সাথে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন? যদি করে থাকেন তবে এধরণের ডিসিশনগুলো কিভাবে আসে? আসলে ডিসিশনগুলো উদ্ভট নাকি আমার চিন্তাধারাই উদ্ভট? থমাস গ্রে অবশ্য বলেছিলেন--" Where ignorance is bliss, it's folly to be wise..." বোকার রাজ্যে ভালো কিছু চিন্তা করা তো উদ্ভট বিষয়ই হবে....

৮....
ফিজিক্সের Second Law of Thermodynamics কে বিশ্লেষণ করলে আমরা এনট্রপির ধারণা পাই। এনট্রপি মূলত বিশৃঙ্খলতার পরিমাপক। মহাবিশ্বে এনট্রপি বাড়ছে, এর অর্থ- মহাবিশ্ব চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দিনের পর দিন যেভাবে সুচারুভাবে এদেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উচ্চশিক্ষার পথকে রুদ্ধ করা হচ্ছে তাতে বোঝা যাচ্ছে এনট্রপি বৃদ্ধি শুধুমাত্র ফিজিক্সের টপিক না, একই কনসেপ্ট এদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানেও খাটে....
মেডিকেল সিস্টেমে এনট্রপির এই বৃদ্ধি বা বিশৃঙ্খলতা কিন্তু একটি অশনিসংকেত। অসংখ্য চিকিৎসক উচ্চশিক্ষার পথ থেকে সরে যাবে। এটি কি একটি দেশের জন্য মঙ্গলময় কিছু? চিকিৎসা বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার পথকে কণ্টকাকীর্ণ করে একটার পর একটা যে আদেশগুলো তৈরি হচ্ছে তা একসময় আমাদের দেশের জনগণের জন্যই ব্যাকফায়ার হিসেবে কাজ করবে। সত্যিকার অর্থে যারা দেশমাতৃকাকে তার নিজের অন্তরে ধারণ করেন, তারা কিভাবে এমন আদেশ জারী করেন?

যেকোন দেশ যখন তাদের মেধাবী প্রজন্মকে সময়ের সাথে সাথে আরো শাণিত করে সেখানে আমরা এদেশে এই চিকিৎসক শ্রেণীটিকে একটার পর একটা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে দিনের পর দিন গলা টিপে হত্যা করছি।
আচ্ছা, আমরা এমন কেন? আমরা কেন সবসময় অন্যের উন্নতিতে বাঁধার সৃষ্টি করি? অন্যের উন্নতিতে বাঁধা দেয়া যে নিজের দেশের উন্নতিতে বাঁধা দেয়া-এটা কেন আমরা বুঝতে চাই না? আমরা কেন আমাদের পরিবর্তন করতে পারি না?....

লিখেছেন ashaduz zaman kanak

Friday, April 27, 2018

চলমান দোদুল্য বাস্তবতা/সংঘাত এড়াতে “প্লীজ”-সমগ্র:

(সকল ধরনের চিকিৎসকদের প্রতি)

যদি বাঁচতে চান মর্যাদার সাথে:

১.রোগী দেখা,রিপোর্ট বিশ্লেষন,ওষুধ লেখা,উপদেশসহ চেম্বারে পরপর ৩-৫দিন বারবার কোন ভিজিট রাখবেননা প্লীজ।দরকার হলে সম্ভাব্য সকল হিসেব একত্র করে মন&পারিপার্শ্বিকোপযোগী বেশি ভিজিট নির্ধারণ করুন।(ভাল প্রতিস্ঠানে বিক্রয়পরবর্তি সেবা বলতে একটি টার্ম আছে,নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিস্ঠান ভাবুন প্লীজ

২.প্রথম ২-৩মিনিট রোগী আগড়বাগড় যাই বলুক বলতে দিন,থামাবেননা প্লীজ।কোনটা কেন কি দিচ্ছেন একটুসখানি হলেও বুঝিয়ে দিন।
টাকা বেশি নিন কিন্তু ব্যাবহার মধুরতম করুন প্লীজ।

৩.ডাক্তার নিজে,বাবামা,স্পাউস,সন্তানের থেকে হাফ/ফুল ফ্রি(ভিজিট দিতে নিলে ঝারি লাগালে বেস্ট) ভিজিট রাখুন প্লীজ।

৪.ডাক্তারদের ইনহাউস কোন ভুল হলে সিনিয়ারগন ননডাক্তার কারো সামনে ভুলেও কিছু বইলেননা প্লীজ,বরং তাকে সাপোর্ট করুন;রুম বন্ধ করে দরকার হলে থাপ্পর মাইরেন।দেখবেন একই ভুলতো দ্বিতীয়বার করবেইনা বরং আপনি দখল করবেন পিতার স্থান।
জুনিয়ারোর সকল রোগীই আপনার কাছেই রেফার্ড হবেন,একটু করেই দেখেননা প্লীজ

৫.এমবিবিএস কারো ব্যাবস্থাপত্র আপনাকে উপস্থাপন করা হলে ছিছি না করে অভিনয় করে হলেও একটু প্রশংসা করুন প্লীজ।রোগী ফিরে গিয়ে তাকে যখন শ্রুত প্রশংসাবানী শোনাবেন,জুনিয়ারও মহানিশ্চিন্তে খালি আপনাকেই রোগী পাঠাতে থাকবেন।ব্যাবস্থাপত্রে ভুল থাকলে জুনিয়ারের নাম্বার নিয়ে কৌশলে বুঝিয়ে দিন।কি কাজ হয় দেখুন।রোগী রোগী পাঠায় ১/২জন,ডাক্তার রোগী পাঠায় শয়ে শয়ে।তাছাড়া আপনার এই শিক্ষা ভবিষ্যতে সংক্রমিত হয়ে উত্তম চিকিৎসকের বংশবৃদ্বিই করবে।অব্যার্থ সূত্র,এপ্লাই করেই দেখুন প্লীজ।

\
ংশেষকথা-
ডাক্তারি ওকালতিকে ব্যাবসা সংজ্ঞায়িত করেছিলেন রবিঠাকুর।ব্যাবসা দুরকম হয়,ক্ষনস্থায়ী,দীর্ঘস্থায়ী।
পেশাকে মর্যাদাসম্পন্ন করুন।আজকের নবীন চিকিৎসকের কিন্তু কসাই অভীধা প্রাপ্য নয়,অর্জনও নয়।
উটপাখীর মত আর কতকাল মুখা লুকাবেন !

রোগী শারীরিক মানসিক কস্টে আছেন,অনেক প্রতীক্ষা করে দূর থেকে সিরিয়াল নিয়ে বসে আছেন,যাতায়াতের কস্ট,ফিরে যাবার কস্ট,তারপর আবার সম্মানের সাথে আপনাকে টাকাও দিচ্ছেন,এতকিছুর পর আপনার কি মনে হয় অন্তত রোগীর সাথে যেকোন যুক্তিতেই খারাপ আচরনের অধিকার আপনার আছে?

যদি মনে করেন নিজের টেম্পার ধরে রাখতে পারছেননা,উপরের পরামর্শগুলো মানতে,অন্তত ১০-১৫টা মিনিট রোগীকে দিতেই পারছেননা তাহলে সেদিন চেম্বার বন্ধ রাখুন।
সবাই যদি নিজের কর্তব্য নিয়ে ভাবতো তাহলে অধিকার/হক শব্দটি বিলুপ্ত হয়ে যেত।

বি:দ্র: ডাক্তারদের জন্য লেখা পোস্ট,গালি থাকবেনা তা কি হয় বলেন?
Waiting Fr 1st Gaalis
#SrModerator

Monday, January 15, 2018

সুপ্রিয় অভিভাবক, আগে ভিডিওটি দেখুন। তারপর দু'মিনিট ভাবুন।

 

আপনার সন্তানকে চিকিৎসক বানানো কি খুবই জরুরী ?

একবারও কি ভেবেছেন সন্তানকে চিকিৎসক বানাতে গিয়ে মানহীন প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি করিয়ে সন্তানের জন্য কি সর্বনাশ ডেকে আনছেন ?
 
মানহীন মেডিকেল কলেজগুলো মানহীন চিকিৎসক বানিয়ে শুধু আপনার সন্তানের ভবিষ্যতই নষ্ট করছে না তারা দেশের ভবিষ্যতও নষ্ট করছে।

এইসব মানহীন মেডিকেল কলেজগুলোর মালিক ও পরিচালনা পর্ষদ আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে কখনও ভাবে না তারা শুধু তাদের ব্যাবসা নিয়েই চিন্তিত।

তারা আপনাকে বিভিন্ন প্যাঁচে ফেলে আপনার কাছ থেকে ফিবছর শুধু নিয়েই যাবে দেবে না কিছু।
আপনাকে নিঃস্ব করে ছাড়বে।

তাদের এই অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গেলে তারা আপনার কলিজার টুকরা সন্তানকে দিনেদুপুরে গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দিতেও পিছুপা হবে না।

আর একবার ভেবে দেখুন।

যদি সরকারি মেডিকেলে অথবা মানসম্মত কোন প্রাইভেট মেডিকেলে(হাতেগোনা কয়েকটা) আপনার সন্তান চান্স পায় তবেই শুধু এ পথে আগাতে পারেন।
 নতুবা বিকল্প চিন্তা করুন।

দেশে পড়ার মতো ও যোগ্য মানুষ হওয়ার মতো আরো অনেক ভালো ভালো বিষয় আছে।
সেদিকে ঝুকুন।
সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।
জাতিও রক্ষা পাবে।

আপনারা আপনাদের সন্তানদের এইসব মানহীন ভূইফোড় মেডিকেলে ভর্তি না করালে ছাত্রের অভাবে ব্যাবসা গুটিয়ে তারা রাস্তায় বাদাম বেঁচবে।

আমরা সবাই মিলে তখন তাদের কাছে বাদাম খেতে যাবো।
সেই বাদাম খাওয়ার দাওয়াত দিয়ে শেষ করছি।

বিনীত নিবেদক-
একজন চিকিৎসক।
 >> কালেক্টেড পোস্ট <<<

Thursday, November 9, 2017

ডাক্তার মা-দের আরো বড় লাল সালাম যারা সন্তানের দিকে চেয়ে পুরো কেরিয়ারকে জলান্জলি দিয়েছেন বা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

একজন মেয়ের,বিশেষত একজন ডাক্তার মায়ের কেরিয়ার দাঁড় করানো যে কতটুকু “বেসম্ভব” কাজ,
নিজে বিয়ে না করলে আর নিজের বউ ডাক্তার না হলে আর নিজের একটা বাচ্চা জন্ম ও বড় হওয়া না হতে দেখলে হয়ত কখনই বুঝতামনা।

সেসব নারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেলুট,যারা মা হবার পরেও অনেক কিছু বিসর্জন দিয়ে এই অসাধ্য সাধন করেছেন(যদিও বাচ্চাদের অবশ্যই অনেকটাই অপূরনীয় বন্চিত হতে হয়)।
তাইত,
সেসব ডাক্তার মা-দের আরো বড় লাল সালাম যারা সন্তানের দিকে চেয়ে পুরো কেরিয়ারকে জলান্জলি দিয়েছেন বা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

খালিখালি মায়ের পায়ের নিচে আল্লাহ্ বেহেস্ত দেননাই!

বি:দ্র:
ইহা মেয়েদের তেলানোর মাধ্যমে হিরো হইবার জন্য কোন পোস্ট নহে,ইহা মায়েদের মূল্যায়নসূচক পোস্ট,নারীর অপরাপর ভূমিকা নিয়ে নয়।

আমি ঠিক করসি,আমার পোলা আমার সাথে যেমনতেমন,যদি তার মায়ের সাথে কোন বেয়াদবি করে,থাবড়ায়া সব দাঁত ফালায়া ডেন্টিস্টের কাসে নিয়া যামু

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

ডাক্তার এবং সন্তানেরা

স্বামী স্ত্রী ২জনই clinical সাইড এ career করছেন।
 সকাল বেলা অফিস আবার বিকাল বেলা টুকটাক চেম্বার। বাসায় আসতে আসতে রাত ৯-১০টা।
 মোটামুটি ভালো post graduation career.

 কিন্তু আপনার সন্তানের কি অবস্থা?

 বৃদ্ধ দাদা দাদী, নানা নানী অথবা কাজের মানুষের কাছে তার শৈশব কৈশোর কাটছে। এদের কি একটি সুস্থ মনমানষিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা সম্ভব?
 আমরা যারা পড়াশোনা করে একটি পর্যায়ে এসেছি, এর পেছনে বাবা মা বিশেষত মায়ের অবদান সবথেকে বেশি। আদর ভালবাসা তো বটেই, তা ছাড়া আমাদের শৈশব কৈশোরের প্রতিটি ধাপে মা ই নিজ হাতে আমাদের গড়ে তুলেছেন।
বর্তমান যুগে সব ডাক্তার clinical career নিয়ে  serious. একটু ভেবে দেখুন, আপনার সন্তান একটি দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় অর্ধেক সময় আপনাকে ছাড়া পার করছে, তার মনের ভেতর কি হচ্ছে? এভাবে একজন সন্তানকে সঠিক ভাবে মানুষ করা কিন্তু খুব কঠিন।
আমার মনে হয় বাবা মা অন্তত একজনকে Basic subject এ career করা উচিত, যাতে বিকেলে বা সন্ধ্যায় বাচ্চাদের সাথে থাকা যায়। আমার কথাটা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ মনে হবেনা এমনকি হয়তো প্ল্যাটফর্ম ও এই পোস্ট approve করবেনা।
কিন্তু মনে রাখবেন শুধু বাসায় ২ বেলা ফোন করে খোঁজ নেয়া মানেই দায়িত্ব পালন নয়। খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি এই সন্তানরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কিভাবে বাবা মার বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা করে।

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Thursday, March 30, 2017

Let's give a sincere thought over it...


.
আমরা এমন এক দেশে বাস করছি, যেখানে প্রয়োজন পড়লে মধ্যরাতেও সহজেই একজন কোয়ালিফাইড ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া যাবে, কেবল মাত্র ২০০-৫০০ টাকা খরচ করলেই! অথচ অত রাতে দুর্ঘটনাবশত কোন কারণে যদি ইলেক্ট্রিশিয়ান কিংবা প্লাম্বার প্রয়োজন হয়, এই টাকায় ওই সময়ে তাদের টিকি'টিরও দেখা মিলবে না!!
.
এমন এক দেশে বাস করি , যেখানে কোন মুমূর্ষু রোগী হঠাৎ মারা গেলে লোকে হাসপাতাল তোলপাড় করে ফেলে অথচ ক্ষুধা, দারিদ্র্য কিংবা অপুষ্টি তে হাজার হাজার লোক মরলেও, কারো কোন ভাবান্তর নাই!
.
মামলার শুনানির তারিখ পেতে বছরের পর বছর আদালত পাড়ায় ঘুরাঘুরি করেও লোকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে দেখা যায় না, অথচ রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসলেই তাদের ভয়ানক ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়!!
.
ডাক্তাররা যদি ন্যায্য ফি ও দাবী করে, তাতেই "কসাই " আর "চামার " বলে গালি শুনতে হয়, অথচ দুর্নীতিবাজ আমলা আর রাজনীতিবিদেরা পাবলিকের লাখ লাখ টাকা লোপাট করে দিলেও তারা ঠিকই সেলেব্রিটির মত আদর- আপ্যায়ন পায়!!
.
এমন এক আজব দেশে আছি, যেখানে "বাচ্চা" জন্মানোর খুশিতেই লোকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে পার্টি দেয়, অথচ এই বাচ্চাকে নিরাপদে পৃথিবীতে আনতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করল, সেই ডাক্তার আর হাসপাতালকে চার- পাঁচ হাজার টাকা দিতেও কার্পণ্য বোধ করে!
.
এমন দেশে আছি, যেখানে কোন কোন হোটেলে ১৫০০ টাকায় পুরো দিনের জন্যে একটা কামরা মেলে না, অথচ হাসপাতালে ঠিকই এই খরচে ওয়ার্ডের বেড পাওয়া যাবে, সাথে ওষুধ- পত্র, পরীক্ষা - নীরিক্ষাসহ! আর নার্সিং কেয়ার প্লাস ডাক্তার তো আছেই ( তাও নাকি এমন ডাক্তার, কোন কিছু এদিক ওদিক হলেই যাকে ইচ্ছামত তুলোধুনো করা যাবে!! )
.
এমন এক অদ্ভুত দেশে আছি, যেখানে রোগি মরে গেলে ভাংচুর করা কিংবা ডাক্তার - স্টাফ পেটানোর জন্য লোকের অভাব হয়না, অথচ রক্তদানের প্রয়োজন হলে এদের মাঝে একটা মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যায় না!!!
.

Prof. Zahurul Islam স্যারের টাইমলাইন থেকে, কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত ও সংশোধিত করে... .