Showing posts with label platform. Show all posts
Showing posts with label platform. Show all posts

Thursday, December 2, 2021

স্কেলিং -- সঠিক বা ভুল, চলুন জানার চেষ্টা করি

 

, অনেকের কাছে এটি "দাঁত ওয়াশ" নামেও পরিচিত। এই চিকিৎসাটির ব্যাপারে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন নেতিবাচক ধারণার প্রচলন আছে। অপেশাদার লোকদের কাছ থেকে এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য পেয়ে অনেকেই এই চিকিৎসা নেওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং নিজের ক্ষতি করেন। এসব ধারণা কতটুকু সঠিক বা ভুল, চলুন জানার চেষ্টা করি-
 
প্রথমেই জানবো, স্কেলিং(scaling) কী?
 
দাঁতের ওপর সাধারণভাবে যে সাদা/হলদে সাদা পরত(dental plaque) জমে, সেটিই শক্ত হয়ে calculus বা পাথর তৈরি হয়। আর মাড়ির ওপর ও নিচ থেকে সেই calculus অপসারণ করার চিকিৎসার নামই হলো স্কেলিং। 
 
 ধারণা- ১
"স্কেলিং করালে দাঁত পাতলা হয়ে যায় বা ক্ষয়ে যায়।"
 
আল্ট্রাসনিক স্কেলার মেশিন কম্পন সৃষ্টির মাধ্যমে পাথর অপসারণ করে থাকে। যথাযথ কৌশল জেনে এবং মেনে স্কেলিং করলে দাঁতের ক্ষতি হওয়ার কোনও ঝুঁকি থাকে না। 
 
ধারণা- ২
"স্কেলিং করালে দাঁত আরও বেশি শিরশির করে।"
 
দাঁত ও মাড়ির মধ্যবর্তী স্থানে পাথর জমতে জমতে একসময় মাড়ি দাঁত থেকে আলগা হয়ে যায়। স্কেলিংয়ের সময় এই পাথর সরিয়ে ফেলায় দাঁতটা সাময়িকভাবে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। তাই স্কেলিং করানোর পর কিছুদিন দাঁত শিরশির করতে পারে। মাড়ি স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে এলেই এই সমস্যা কেটে যায়। সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম, অল্প পাথর জমা হতেই যদি স্কেলিং করিয়ে ফেলি, তাহলে চিকিৎসা পরবর্তী শিরশিরে ভাব দ্রুত কেটে যাবে।
 
ধারণা- ৩
"স্কেলিং করলে মাড়ি আলগা, দাঁত ফাঁকা ও নড়বড়ে হয়ে যায়।"
 
অনেকদিন ধরে মাড়িতে প্রদাহ (gingivitis) ও দাঁতের গোড়ায় পাথর (calculus) বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকলে এক সময় দাঁতের সকেটের হাড় ক্ষয় হয়ে দাঁতের শিকড় আস্তেআস্তে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। দাঁতকে সকেটের সঙ্গে আটকে রাখা পেরিওডন্টাল লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ফলে দাঁত হারায় তার অবলম্বন। কিন্তু calculus দিয়ে ঢেকে থাকার কারণে এই ক্ষয়ক্ষতিগুলো তেমন চোখে পড়ে না। স্কেলিং করে এই calculus অপসারণ করলে ভেতরের দুরবস্থা তখন প্রকটভাবে চোখে ধরা দেয়। অর্থাৎ স্কেলিংয়ের কারণে মাড়ি আলগা বা দাঁত ফাঁকা ও নড়বড়ে হয় না বরং প্রদাহের কারণেই এগুলো হয়ে থাকে, স্কেলিংয়ের ফলে সেটা প্রকাশ পায় মাত্র। 
 
ধারণা- ৪
"স্কেলিংয়ে ব্যথা পাওয়া যায়।"
 
সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে স্কেলিং করলে এতে ব্যথা পাওয়ার কোনও আশংকা নেই। হ্যাঁ, কিছুটা ঘষা লাগা এবং শিরশিরে অনুভূতি পারে, প্রদাহ বেশি হলে শিরশির ভাবও বেশি অনুভূত হয়। তাই প্রদাহ অল্প থাকতেই চিকিৎসা করানো উচিত। 
 
ধারণা- ৫
"স্কেলিং হচ্ছে দাঁত সাদা করার চিকিৎসা"
 
স্কেলিংয়ের ফলে plaque, calculus এর পাশাপাশি দাঁতের কিছু superficial stain থাকলে তা-ও দূরীভূত হয়। এতে দাঁত আগের চেয়ে পরিস্কার দেখাতে পারে, কিন্তু তাই বলে এটি "দাঁত সাদা করার চিকিৎসা" নয়। 
 
ধারণা- ৬
"জীবনে একবার স্কেলিং করালেই যথেষ্ট"/"একবার স্কেলিং করালে বারবার করাতে হয়"
 
মুখে Calculus জমলে স্কেলিং করাতে হবে - সহজ কথা। কয়বার, কতদিন পরপর স্কেলিং করানো লাগবে, তার কোনও সার্বজনীন হিসেব নেই। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে মুখগহ্বরের যথাসাধ্য যত্ন নেওয়া এবং ৬ মাস পর পর ন্যুনতম BDS ডিগ্রিধারী রেজিস্টার্ড ডেন্টাল সার্জনের কাছে চেকআপ করানো। স্কেলিংয়ের প্রয়োজন মনে করলে তিনিই সেটার পরামর্শ দেবেন।
 
কারও কারও হয়তো মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- দাঁতের গোড়ায় পাথর জমেছে, স্কেলিং করালাম না। ক্ষতি কী? 
 
ক্ষতি এই যে, gingivitis তখন তীব্রতর প্রদাহ periodontitis এ রূপ নেবে। আগে যেখানে মাড়ি দিয়ে রক্ত আসতো, দাঁত শিরশির করতো, এখন পুঁজ জমে যন্ত্রণাদায়ক ফোঁড়া (abscess) সৃষ্টি হতে পারে। মুখের দুর্গন্ধ কিছুতেই পুরোপুরি দূর হবে না। প্রদাহ বাড়তে বাড়তে একসময় দাঁত যখন নড়তে শুরু করবে, তখন খাওয়াদাওয়া স্বাচ্ছন্দ্যে করা যাবে না, যার প্রভাব পড়বে সারা শরীরে। এরপর একসময় দাঁত পড়ে যেতে শুরু করবে। শুধু তা-ই নয়, periodontitis এর সঙ্গে রক্তনালীতে চর্বি জমা, হৃদরোগ, রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে না আসা, গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই শিশু প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্ম নেওয়া- এসব জটিলতারও সংযোগ থাকতে পারে বলে মনে করা হয়। 
 
অনেকেই calculus এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উপসর্গগুলো দেখা দিলে ঔষধের দোকান থেকে ইচ্ছেমত ঔষধ নিয়ে খাওয়া শুরু করেন! একটু ভাবুন তো, মুখ ভর্তি calculus যদি ভেতরে ভেতরে এত বড় ক্ষতি করে ফেলতে থাকে, তাহলে ডেন্টাল সার্জনের কাছে গিয়ে calculus দূর না করিয়ে এভাবে শুধু ঔষধ খেয়ে যাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত?
 
 
- ডা. ইফফাত সামরিন মুনা।

Monday, April 16, 2018

Pre-marital Screening test: (একটি সচেতনতা মূলক পোস্ট)

Admin · 
 collected post
(একটি সচেতনতা মূলক পোস্ট)



বিয়ের আগেই সম্ভাব্য কাপল (Couple)-এর অর্থাৎ ছেলে (বর) এবং মেয়ে (কণে) উভয়ের কিছু নির্দিষ্ট ডাক্তারী বা মেডিক্যাল ইনভেস্টিগেশনস্ (পরীক্ষা সমূহ) করা উচিত।
বহিঃবিশ্বে এটা নিয়মিত ভাবে (রুটিনলি) প্রাকটিস হয়ে থাকে।
যাকে বাহিরের দেশে Pre-marital Screening test বলা হয়।

টেস্ট গুলো হলোঃ
I) Blood grouping with Rh-typing.
ii) Sickling test.
iii) HIV screening test.
iv) HBsAg.
v) Anti HCV.
vi) VDRL (Syphilis) (RPR)
Gonorrhea (Neisseria Gonorrhea) detection by PCR
vii) HbA1c

এই টেস্ট করার পর যদি কারো এমন কোনো সমস্যা ধরা পড়ে যেটা ভবিষ্যতে বাচ্চাকেও Affect বা আক্রান্ত করার সম্ভাবনা থাকে সে ক্ষেত্র উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সে বিষয়ে অবহিত করা হয়।
বিশেষত রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয়ের (Consanguineous marriage) মাঝে বিয়ের ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনা বেশী থাকে। যেমন: Sickle cell anaemia. Thalasaemia ইত্যাদি।

তাই এই টেস্ট গুলো করলে অনেক ক্ষেত্রেই বেশ কিছু বংশগতভাবে ট্রান্সমিটেড ডিজিজ এভয়েড করা অনেকাংশে সম্ভব.

Thursday, November 9, 2017

দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থার উপর আস্থা রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও দৃঢ় ভিত্তির উপর দাড় করাতে সহায়তা করুন।

বিএসএমএমইউতে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) মাত্র ১,৬০,০০০ টাকা খরচে কিডনী প্রতিস্থাপন করা যায়,সর্বসাকুল্যে খরচ মাত্র ২,৫০,০০০ টাকা। সফলতার হার প্রায় ১০০%।

দাদাদের দেশে খরচ পরে প্রায় ১০ গুণ,১৫,০০,০০০-২০,০০,০০০ টাকা।অন্যান্য দেশে কিডনী প্রতিস্থাপন খরচ আরো বেশি।

দাদাদের এজেন্ট কিছু পত্রিকা কিছু দিন পর আবার পত্রিকায় হেডলাইন ছাপাবে বিএসএমএমইউতে ডাক্তার কিডনী অপারেশনের নামে মানুষের কিডনী বেচে দিচ্ছে। মানুষ ও বিশ্বাস করবে, তারপর আবার বন্ধ হয়ে যাবে কিডনী প্রতিস্থাপন। মানুষ আবার কিডনীর চিকিৎসার জন্য দাদাদের দেশে পাড়ি দিবে।

দাদাদের পেইড এজেন্টরা আমাদের দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে ধীরে ধীরে, আর আমাদের দেশের আমজনতা ও তা চোখ বুজে বিশ্বাস করে।

চিলে কান নিয়েছে শুনেই চিলের পিছে দৌড় শুরু করে, কানে হাত দিয়ে দেখেনা কান আছে কানের জায়গায়ই।
দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থার উপর আস্থা রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও দৃঢ় ভিত্তির উপর দাড় করাতে সহায়তা করুন।

Courtesy: Dr. Sohel

Wednesday, January 4, 2017

আপনার গায়ে কি মানুষের রক্ত?!!

সাংবাদিক ভাই, আপনাদের শরীরে কি মানুষের রক্ত?

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সহযোগী অধ্যাপকের স্ত্রী, কন্যা স্পিডবোট দূর্ঘটনায় মারা গেছেন, সেই চিকিৎসক এবং তাঁর সহকর্মী আরেকজন চিকিৎসক এখনো হাসপাতালে আহত অবস্থায় ভর্তি আছেন। কিন্তু আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা নিউজ করলেন-“ভোলায় ডাক্তারদের সাপ্তাহিক হাট বাজার শেষ করে বরিশালে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ভোলা থেকে অবৈধ ভাবে কামানো দুই ডাক্তারের কাছে থাকা ২০ লক্ষ টাকাও নদীতে ভেসে যায় বলেও নিশ্চত করেছেন আমাদের ওই প্রতিনিধি(ভোলা নিউজ ডটকমের ভেদুরিয়া প্রতিনিধি মঞ্জুরুল আলম)”। শুধু নিউজই না, নিউজের মন্তব্যে সংবাদভাষ্যে বলা হলো, এই দূর্ঘটনা আল্লাহর গজব, ভোলার গরীব মানুষের কষ্টের টাকা এই চিকিৎসকেরা লুট করে নিয়ে যায়।

কতটুকু স্পর্ধা থেকে “ডাক্তারদের হাট বাজার” কথাটা একজন চিকিৎসকের স্ত্রী কন্যার মৃত্যু সংবাদের
সাথে লেখা যায়! কতটুকু আক্রোশ থেকে একই মৃত্যু সংবাদে চিকিৎসকের উপার্জনকে “ভোলা থেকে অবৈধ ভাবে কামানো...২০ লক্ষ টাকাও নদীতে ভেসে যায়” লেখা হয়! সাংবাদিক ভাই, আপনাদের গায়ে কি মানুষের রক্ত?

কথাগুলোর জবাব দিতে বা বিদ্বেষ ছড়াতে এই লেখা নয়, আসুন কিছু তথ্য জেনে নেই।
 ভোলা জেলার প্রতি ২০ লক্ষ ৩৭ হাজার লোকের জন্য মাত্র একজন সরকারী অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ আছেন(জেলা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কন্সাল্টেন্টের একমাত্র পদটিও প্রায় সব সময় ফাঁকা থাকে)। সেই অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞও আবার এনেস্থেশিস্টের অভাবে কাগজে কলমে অকার্যকর(এনেস্থেশিয়া ছাড়া ছোটখাট কাজ ছাড়া অর্থোপেডিক চিকিৎসা অসম্ভব)। জেলার গত ১ বছরে সর্বোচ্চ প্রথম ৫ টি স্বাস্থ্য সমস্যার এবং মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ দূর্ঘটনা/আঘাত জনিত বা অর্থপেডিক সমস্যা। জেলায় অর্থপেডিক রোগীর চাহিদা এতই বেশি যে গত বাৎসরিক হেলথ বুলেটিনে সিভিল সার্জন ভোলা জেলায় একটি ট্রমা সেন্টারের সুপারিশ করেন। ২০(+২) জন চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে ১০(+২) জন চিকিৎসক আছেন, সিভিল সার্জনের ভাষ্য ভোলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকতে চান না।
 বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর মাঝে ৫-৭ জন অর্থোপেডিক প্র্যাকটিস করেন যার মাঝে কেউই ভোলার স্থানীয় নন, সবাই বরিশাল নয়ত ঢাকা থেকে আসেন।

এই যখন পরিস্থিতি তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মানের একজন অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ যখন তাঁর ঢাকার প্র্যাক্টিস ছেড়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্ত্রী কন্যাসহ নিজ গ্রামের মানুষের(এখানে স্ত্রীর হবে) চিকিৎসা করতে আসেন তখন তাঁর এই প্র্যাক্টিস(আমি বলবো সেবা)কে “হাট বাজার, অবৈধ উপায়ে কামানো” বলা হয় তখন মনে প্রশ্ন জাগে, সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনার গায়ে কিসের রক্ত”?

কয়েকমাস আগে ঠিক একইভাবে ভোলা অঞ্চলের একমাত্র শিশু বিশেষজ্ঞ (আড়াই লাখ জনগোষ্ঠীর এক চতুর্থাংশ ৬০ হাজার অনুর্ধ ৫ বছর বয়সী শিশুর চিকিৎসক) কে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে(ইঞ্জেকশন দিয়ে) একটি শিশুর মৃত্যুর পর পেটানো হয়, পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিতে গ্রেফতার করে। অথচ শিশুদের শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় এটি অপরীহার্য।

আরো দশ বিশ বছর আগে, একই অঞ্চলে একজন নবীন চিকিৎসক প্র্যাক্টিস শুরু করেছিলেন। প্রেস্ক্রিপশনে টাইপ করা যার হাতের লেখা, তাঁকে একবার বাসায় কলে যেতে খুব চাপাচাপি করা হয়, হাতে থাকা রোগী শেষ করতে কিছুক্ষণ দেরি হওয়ায় তাঁকে অন কলে বাসায় নিয়ে গিয়ে রোগীর সামনে দরজা বন্ধ করে পেটানো হয়। তিনি সেই যে এলাকা ছাড়লেন আর কখনো ঐ এলাকায় জাননি, তিনি এই মূহুর্তে দেশ সেরা একজন ___স্পেশালিস্ট, তাঁর কাছে সিরিয়াল দিতে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়। তাঁর নিজ এলাকার মানুষ কিভাবে বঞ্চিত হলো? কেন?

সাংবাদিক ভাই, আপনার গায়ে কি মানুষের রক্ত?
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বছরে বাজেট কত সরকারের জানেন? ১৭ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ভারতে কত রোগী যায় জানেন? ৫ লাখ রোগী(২০১৫ সালের হিসেব), বছরে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়শিয়া, চীন মিলে কত হাজার বাংলাদেশী টাকা বিদেশে পাচার হয় জানেন? ২০ হাজার কোটি টাকার বেশী(একটি রিপোর্টে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার কোটি বলা হয়েছে)। পাচার কারণ একজন রোগী বৈধ ভাবে ৫০০ ডলারের বেশী নিয়ে যেতে পারে না, এর বাইরে বাকি সব টাকা অবৈধ উপায়ে(হুণ্ডি ও অন্যান্য) পাচার হয়। তাঁর মানে বাংলাদেশের মানুষ তাদের পকেটের পয়সায় ২১ হাজার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ৭০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী(সকল পর্যায়ের), ১৬ কোটি মানুষের জন্য নির্দিষ্ট বিনামূল্যের ওষুধ, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সরঞ্জাম, ওয়ার্ডবয় থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা কিছুই পুষেন তাঁর চেয়ে বেশী টাকা শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য হাতে গোণা ৪-৫টি দেশ, সে দেশে যেতে তাঁদের ৩০০-৫০০ দালাল প্রতিষ্ঠান ও আরেকটি নির্দিষ্ট প্রজাতির পেটে যায়।
হ্যাঁ এই নির্দিষ্ট প্রজাতি সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলে, বাংলাদেশের চিকিৎসক, হাসপাতালের উপর আস্থাহীন করে তোলে, চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীন করে তাঁদের সম্মানহানী করে
 হ্যাঁ চিকিৎসকেরাও দোষী, কারণ তাঁদের নিজস্ব কোন আকার নেই, যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্র ধারণ করে। ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী তাঁদের প্যাড-কলম-বিদেশভ্রমণ দিয়ে কেনে, ক্লিনিক ব্যাবসায়ীরা রোগী ধরার দালাল-কমিশন-চালু চেম্বারে এসিরুম দিয়ে কেনে, সুবিধাবাদী নেতা ভালো পোস্টিং, প্রমোশন আর স্ট্যান্টবাজ মন্ত্রী ধমক আর শাসন দিয়ে কেনে। ওষুধ কোম্পানীর মালিকেরা ১টাকার ওষুধ ১০টাকায় বিক্রি করে তাতে দোষ হয় না, ক্লিনিকের মালিক ১টাকার পরীক্ষা ১০টাকায় করায় তাঁর দোষ হয় না, স্ট্যান্টবাজ মন্ত্রী জনগণ শুধু প্রেস্ক্রিপশন মানে রোগের ব্যবস্থাপত্র ফ্রির জায়গায় সব কিছু ফ্রি হবে বলে পাবলিককে উস্কায় দিয়ে নিজেরা সিঙ্গাপুর ব্যাংককে হোল বডি চেক আপ করায় তাতে দোষ হয় না, একজন চিকিৎসক নিজ গ্রামে, নিজের সাপ্তাহিক ছুটির দিনটা বিসর্জন দিয়ে স্ত্রী কন্যা সহ সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে গেলে সাংবাদিক ভাইদের রক্তে ২০ হাজার কোটি টাকার দালালীর পারসেন্টেজ টগবগ করে ফুটতে থাকে। যেহেতু ওস্তাদে বলছে চিকিৎসা ফ্রি, যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ সরকারি হাসপাতালে যায় ফ্রিতে ওষুধ নিতে আর আসল অসুখে যায় প্রাইভেট ক্লিনিক আর এপলো ইউনাইটেড স্কয়ারে তখন আর তাঁদের সামর্থ্যে আর ক্ষমতায় কুলায় নায়।
নেতা-ক্লিনিক মালিক-ফার্মার মালিক-জনগণের ফ্রি চিকিৎসার আকাঙ্ক্ষার পাপে চিকিৎসক কসাই হয়ে যায়।
 আসুন এক সত্যিকার কসাইয়ের ভিডিও দেখি, এই কসাই গতকাল রাতে একজন রোগীকে মাত্র ৫০ সেকেন্ড দেরি করে দেখায় একজন দেবতারূপী রোগীর ছোঁয়া পেলেন, হ্যাঁ চিকিৎসক তখনো আরেকজন অতিজরুরি রোগী দেখছিলেন(রোগীর নাক দিয়ে রক্ত ঝড়ছিল যাকে আগে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে), এবং ঘটনা ঘটে রাত দশটা ২২ মিনিটে, তিনি সকাল ৯টা পর্যন্ত ঐ একই ইমার্জেন্সিতে ডিউটি করেছেন বিনা দ্বিধায়।

সাংবাদিক ভাই আপনার গায়ে কি মানুষের রক্ত?

দালাল, রাজাকার, বেজন্মা শব্দগুলো অভিধান থেকে মুছে দেয়া হোক।

( হ্যাঁ লোকাল পত্রিকার নিউজ বলে বিগশট সাংবাদিক ভাইয়েরা এড়িয়ে যাবেন, কিন্তু বিগ শটরাও এই সমাজের বাইরে না, যেমন কমিশন খাওয়া চিকিৎসকরাও আমাদের পেশার বাইরে না, ঐ পত্রিকার সম্পাদকের নাম, প্রতিবেদকের নাম, ওয়েব সাইট সব কিছুই আছে, শুধু চিকিৎসকদের নামগুলো এখানে নাই লিখলাম)।

link >  https://www.facebook.com/mohib.nirob/videos/10210399736965999/

link > https://www.facebook.com/mohib.nirob/videos/10210399737926023/

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Tuesday, December 13, 2016

হাল ছেড় না বন্ধু যেতে হবে অনেক দূর

এইলেখাটি একান্তই নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা,লেখাটি টাইপ করতে সাহায্য করেছে এক ছোটবোন কাম ফ্রেন্ড।
বিশেষ করে যে সকল জুনিয়র সিনিয়র বা ব্যাচমেটরা ডাক্তারী জীবনে কঠিন সংগ্রামের পথে হাটছে তাদের প্রতি উৎসর্গ লেখাটি।সময় থাকলে যে কেউ পড়ে দেখতে পারেন,অনুপ্রেরণা পেলেও পেতে পারেন।

একজন নবীন ডাক্তারের সংগ্রামের গল্প

এম,বি,বি,এস এর শেষবর্ষে থাকাকালীন সময়ে দেখতাম অনেকে সিনিয়রা পাশ করার পর বড় ডিগ্রী নিয়ে (এফ,সি,পি,এস / এমডি/এম,এস) মেডিকেলে রেজিস্ট্রার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার হিসাবে জয়েন করছেন । তখন তাদের দেখে আলাদা ইন্সপিরেশন পেতাম এবং স্বপ্ন দেখাতাম বড় বড় ডিগ্রী নেয়ার। যথারীতি সবার মত আমারও স্বপ্ন ছিল যে পাশ করে বের হয়ে ঢাকায় যাব, পিজির লাইব্রেরিতে পড়ব এবং এফ,সি,পি,এস বা এমডি করব। পাশ করে বাসায় চলে আসার পর যখন আব্বুকে বললাম যে আমি আগামী ৬ মাস ঢাকায় দিলিপ স্যার এর কোচিং করতে চাই এবং এই কয়টা মাস আমার খরচ চালিয়ে দাও তাহলে আমি ভাল ভাবে পড়ে তারাতারি চান্স পেতে পারব। স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম বাঁধা পরল এখানে। আব্বু বললেন এম,বি,বি,এস পর্যন্ত তোমাকে চালিয়েছি, এখন আর চালানর সামর্থ নেই। তুমি পাশ করেছ এবং নিজে উপার্জন করার ক্ষমতা হয়েছে তাই নিজে এখন নিজেরে চালাও। এই অবস্থায় ইন্টারনী থেকে জমানো বিশ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকায় চলে আসলাম। ঢাকায় এসে ডাক্তারদের বস্তি আজিজ সুপার মার্কেটে একটা রুমে একটা সিট নিলাম এবং কোচিং এ ভর্তি হলাম। এখন নিজের খরচ চালানর জন্য খ্যাপ যোগার করার জন্য ৩০ থেকে ৪০ টা সিভি দিলাম ঢাকায় এবং ঢাকার আসেপাশে বিভিন্ন হাসপাতালে, ক্লিনিকে এবং মেডিকেল কলেজে। অনেক দিন হয়ে যায় সিভি থেকে কোন ডাক আসেনা, আবার বড় কোন ভাইয়ের কাছ থেকেও ঢাকার আশেপাশে কোন খ্যাপ যোগার করতে পারছিনা যেখানে ৩/৪ দিন ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করব। এদিকে আবার জমানো টাকাও শেষের পথে। তার ওপর কোচিং, পড়ালেখা, পেট চালানোর চিন্তা সব মিলিয়ে দুর্বিশহ অবস্থা এবং চারিদিকে তখন অন্ধকার দেখতাম শুধুই। তখন শুধু কোচিংইয়ে যেতাম এবং কোচিং থেকে বের হয়েই বড় ভাইদের কাছে ছুটতাম খ্যাপের আশায় যেন সাপ্তাহিক খরচটা যোগাড় হয়। এভাবে ছুটতে ছুটতে মাঝে মাঝে পেয়ে যেতাম বড় ভাই, সিনিয়রদের কাছ থেকে খ্যাপ। খ্যাপে যেতাম নোয়াখালী, নরসিংদী, মাওনা, গাজীপুর সহ আরো অনেক জায়গায়। এতে করে পড়ালেখা থেকে অফ- ট্র্যাক হয়ে গেলাম। কোচিং করতাম ঠিকই কিন্তু রুমে এসে আর পড়ালেখা করার এনার্জি থাকতো না। খ্যাপে যাওয়া বাদও দিতে পারতাম না কারন এখন বাদ দিলে পরে আর ডাকবেনা। এভাবে চলতে চলতে আমার প্রথমবার এফ,সি,পি,এস পরীক্ষার সময় চলে আসলো। সাতহাজার টাকা দিয়ে ফর্ম পূরণ করলাম। পরীক্ষার হলে বসে বুঝতে পারলাম আমার পরীক্ষার প্রস্তুতি কোনভাবেই যথাযথ না,এমন কি কোথা থেকে প্রশ্ন হল তা ই বুঝলাম না। কোচিংয়ে শুধু ক্লাসই করে গেছি কিন্তু বাসায় পড়তে পারিনি এবং কোচিং এর পরীক্ষাতেও ভাল করতে পারিনি। তখন প্রথম বুঝতে পারলাম এই বড় বড় ডিগ্রী পাওয়া আসলে এত সোজা না, অনেক পড়তে হবে এবং এম,বি,বি,এস পাশ করার পরের লাইফটা খুবই সংগ্রামময় ।

বিভিন্ন জায়গায় সিভি দেয়ার ৬ মাস পর আমি প্রথম ডাক পাই বনানীর প্রেসক্রিপশন পয়েন্টে এবং চাকরিটা হয়ে যায়। এর মাঝে আরও ডাক পাই মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে এনাটমি এর লেকচারার হিসাবে। কিন্তু সপ্তাহে ৬ দিন শাহবাগ থেকে উত্তরা যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, তারপর বেতন ছিল মাত্র ১৭৭০০ টাকা। এর মধ্যে আরও কিছু প্রাইভেট মেডিকেলে সিভি দিলাম কিন্তু কোথাও থেকে ডাকেনা। উপায় না পেয়ে খ্যাপ মারতে থাকলাম এবং এভাবে মোটামুটি অর্ধেক বাংলাদেশ ঘোরা হয়ে গেছে। এর ফাকে ফাকে পিজির লাইব্রেরীতে পড়া শুরু করলাম। এই অবস্থায় আমি আমার বড় ভাবির কাছে গেলাম যিনি নিজেও ডাক্তার। উনাকে বললাম ভাবি আমাকে কিছু দিন চালিয়ে দেন যেন আমি একটানা পড়ালেখা করতে পারি এবং উনি রাজি হয়ে গেলেন। এতদিন যেহেতু খ্যাপের গণ্ডি বড় হয়ে গেছে এবং দেখা যায় একটানা ১০ দিন ডিউটি করলে প্রায় ২০০০০ হাজার টাকার মত পাওয়া যায় তাই এটার একটা নেশা চলে এসেছিল। যারফলে দেখা যেত পড়ালেখা করতাম অল্প অল্প এবং খ্যাপমারা ও চাকরিও করতে থাকলাম। এভাবে আমি দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসলাম। পরীক্ষা মোটামুটি ভালই হল কিন্তু রেজাল্ট যখন দিল তখন দেখালাম যে আমার ফিজিওলজি পার্টটা একটু খারাপ হয়েছিল এবং ফেল আসল। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা হিসাবে দেখলাম যে আমার অনেক বন্ধুরই চান্স হয়ে গেছে এবং পুরো দুনিয়া তখন বিতৃষ্ণা লাগত। জীবনটা আরও দুর্বিষহ করে দিত আমার গার্লফ্রেন্ড। সে সরাসরি তার হতাশা প্রকাশ করত। বলত যে সবার ডিগ্রী হয়ে যাচ্ছে, তার ফ্রেন্ডদের বয়ফ্রেন্ডদের হয়ে যাচ্ছে ডিগ্রী শুধু আমার কেন হচ্ছে না। জীবনটা তখন অন্ধকার লাগত, কোনদিকেই কোন আশা দেখতাম না। একদিকে চাকরি সংর্ঘষ, বাসা থেকে কথা শোনায় চান্স না পাওয়াতে আবার অন্য দিকে গার্লফ্রেন্ড দাম দেয়না ডিগ্রী না হওয়াতে।

এরপরের বার ঠিক করলাম যে এবার শুধু পড়ালেখাই করব এবং আর কিছুই করবনা। শাহবাগে যেহেতু থাকতাম সেহেতু পিজির লাইব্রেরীতে যাওয়া শুরু করলাম। পিজির লাইব্রেরী সকাল খুলত ৮ টায়, সকাল ৭:৩০ টায় ঝাড়ু দেয়ার জন্য খুলত। আমি দেখা যেত ঐ ধুলার মধ্যেই চোখ মুছতে মুছতে ঢুকে যেতাম যেন ভাল একটা জায়গায় সিট পাই। কথায় আছে অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়, সেরকমই লাইব্রেরী কার্ডের দাম ৮০০ টাকা থেকে এক লাফে ২৫০০ টাকা করে দিল। ৬ মাসের জন্য শুধু পড়ব লাইব্রেরীতে তার জন্য এত টাকা দেয়াও কষ্টকর লাগল। সারাদিন লাইব্রেরীতে পড়তাম শুধু দুপুরে খাওয়ার সময় বিরতি নিতাম। খ্যাপ যেহেতু কমিয়ে দিয়েছিলাম তাই টাকাও ছিল কম তাই খেতাম পিজির লাইব্রেরীর ওপরে ক্যান্টিনে যেখানে খুব কম টাকায় খাওয়া যেত। ৩০ টাকার মত মিল চার্জ ছিল তখন। পিজির লাইব্রেরীতে পড়া শতকরা ৭০ ভাগ ডাক্তারই ওখানে খেত ওখানকার বিস্বাদ খাবার শুধু মাত্র টাকা বাঁচানোর জন্য। এইরকম একদিন সন্ধ্যায় নাস্তা করে আসার পর দেখলাম কিছু দূরে বসে পড়ছে আমার এক জুনিয়র। তাকে দেখে বললাম কিরে তোর ক্ষুধা লাগে না ? নাস্তা টাস্তা করবি না ? এই প্রশ্নের এমন এক উত্তর পেলাম যা শুনে আমার অনেক খারাপ লাগল। সে বলল, “ভাই,নাস্তার টাকা পাব কই ? আমি তো খ্যাপ দেইনা এবং বাসা থেকেও টাকা দেয়না তাই আমার অনেক হিসাব করে চলতে হয়”। তখন বুঝলাম যে একজন সদ্য পাশ করা নবীন ডাক্তারকে কতটা সংগ্রাম করতে হয় পাশ করার পর। এভাবে ২ মাস পড়ালেখা চলল। সকাল ৭ টায় ঢুকতাম, দুপুরে রেস্ট নেয়ার জন্য একটু বের হতাম আবার রাত ১০ টায় বের হতাম লাইব্রেরী থেকে। এরপর আবার পরীক্ষায় বসলাম। পরীক্ষা শুরু হল এনাটমি দিয়ে, এনাটমি প্রিপারেশন যেহেতু ভাল ছিল তাই পরীক্ষাও অনেক ভাল হল, ভাবলাম এবার ৮০ এর ওপর নাম্বার থাকবে। কিন্তু ফিজিওলজি পরীক্ষা এর দিন প্রশ্ন এত কঠিন হল যে মনে হচ্ছিল হল থেকে সসম্মানে বের হতে পারলে বাঁচি। আর প্যাথলজি ভালই হল। সব মিলিয়ে মনে হল পাশ এবার হবে। এরপর বিকালে যখন আমার নামের পাশে ফেল লিখা দেখলাম তখন এতটাই খারাপ লাগল যে, মনে হল আল্লাহ বলে কেউ নাই, থাকলে আমার কষ্টের প্রতিদান দিল না কেন। তখন আল্লাহর ওপর থেকে বিশ্বাসই উঠে গিয়েছিল, মনে হত এই যে এত অমানবিক কস্ট করলাম আল্লাহ কেন ফল দিলনা। তখন মনে হত বেঁচে থেকে লাভ নেই। না হচ্ছে একটা ডিগ্রী , না হচ্ছে ভাল চাকরি, বন্ধুরা মোটামোটি সবাই চান্স পাচ্ছে, পরিবারে অনেক কথা শুনতে হয় বাবার কাছ থেকে তার ওপর গার্লফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক তখন চরম খারাপ। সব মিলিয়ে একেবারে করুণ অবস্থা । এর ভেতর একটাই মাত্র আশার বানী ছিল এই যে বি,সি,এস এর লিখিত পরীক্ষা দিয়ে বসে ছিলাম তখন। এই অবস্থায় মনে তখন একটাই প্রবল ইচ্ছা ছিল যে যেভাবেই হোক ডিগ্রী আমাকে একটা নিতেই হবে এবং এরই মাঝে আমার বিসিএস হয়ে গেল এবং আমি গ্রামে চলে আসলাম। এরপরের বারের পরীক্ষাটা আর দিলাম না। ভাবলাম যে আপাতত আগে পড়ালেখাটা করে নেই এবং একটু সামর্থবান হয়ে নেই তারপর আবার দিব।

জানুয়ারি ২০১৬ এর এফসিপিএস পরীক্ষাটা দেয়ার কোন ইচ্ছাই ছিলনা তাও কি ভেবে যেন ফর্ম পূরণ করেছিলাম খুবই গোপনে। পড়ালেখা তেমন করিনি, টুকটাক দিলিপ স্যার এর বই ঘেটেছি শুধু। পরীক্ষার আগের দিন রাতেও বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারলাম। বাসায় বললাম যে আমার ট্রেইনিং আছে ৩ দিনের ঢাকায় এবং চলে আসলাম ঢাকায়। কোন আত্মীয়ের বাসায় না উঠে উঠলাম আমার সিনিয়র এক বড় ভাই এর সাথে মহাখালীর এক হোটেলে। ওখানে টানা ৩ দিন পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষাটা এভারেজ হল এবং একটু আফসোস লাগল যে এবার যে প্রশ্ন হয়েছে তাতে আরও একটু ভাল করে পড়লে হয়ত চান্স হয়ে যেত। পরীক্ষা দিয়ে চলে গিয়েছিলাম আমার বড় আপার বাসায়। বড় আপার বাসা থেকে মহাখালী হোটেলে আসার পথে , ঐদিন বিকালে আমার এক বান্ধবী ফোন করে বলল যে, “দেখতো তোমার পাশ হয়েছে কিনা ? আমার হয়নি” আমি বললাম যে আমার কোনদিনও হয়না এবারও হবে না। এরপর আমার এক রুমমেট ফোন করে বলল যে তার চান্স হয়ে গেসে, তারও অনেক দিন চান্স হচ্ছিলনা। তখন খানিকটা ঈর্ষাবোধ হল যে ঐ বেচারারও হয়ে গেল শুধু আমারই হল না, আমার কি কোনদিনও হবে না ? জানতাম যে পাশ হবে না তাই কোনমতেই রেজাল্ট দেখতে রাজি ছিলাম না, কিন্তু তারপরেও মনকে অনেক বুঝালাম যে বেশি কি আর হবে ফেলই তো হবে, জীবনতো আর থেমে থাকবেনা বা শেষ হয়ে যাবেনা। এভাবে অনেকক্ষণ মনকে বোঝানোর পর মোবাইল এর নেট টা অন করলাম এবং আমার রোলটা ইনপুট করলাম। এরপর রোলের পাশে যখন লিখা দেখলাম পাশ তখন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এবং নিজের অজান্তেই মনে হল যে চোখে ২ ফোটা পানি চলে আসল। বিশ্বাস হলনা তারপরও। সাথে সাথে স্ক্রীনশট নিলাম এবং কমপক্ষে ১৫ বারের মত সাইটে গিয়ে চেক করলাম আসলেও আমি ঠিক দেখছি কিনা। তারপর আমার এক বান্ধবিকে রোলটা দিয়ে বললাম, ‘দেখতো আমি কিছু বুঝতে পারছি না’। সাথে সাথেই সে দেখে বলল যে আমার চান্স হয়েছে এবং খোঁচা দিয়ে বলল যে, “ তোমার তো চান্স হয়ে গেছে ,আমার তো এরপরের বার একাই পরীক্ষা দেয়া লাগবে’। এরপর আমার খানিকটা বিশ্বাস হল যে আমি চান্স পেয়েছি। তখন আমি ভাবলাম এই যে আমি, কিছুদিন আগেও চান্স পাইনি আর এখন চান্স পেলাম। কি পরিবর্তন হল আমার ? হাত একটা বেশি হয়নি , চোখ একটা বেশি হয়নি কিন্তু মানুষ হিসাবে দাম বেড়ে গেছে। এতদিন ডিগ্রী হয়নি দেখে কেউ আমাকে দাম দেয়নি না পরিবারের কেউ, না বন্ধুবান্ধব, এমনকি নিজের গার্লফ্রেন্ডও অনেক দূরে সরে গেছে কারণ তার মনে হয় আমার ক্যারিয়ার ভাল না বিসিএস হওয়া সত্ত্বেও। এরকম অনেকরকমের স্মৃতি মাথায় ভেসে আসল এবং এই ঘোরের মাঝেই মহাখালীর হোটেলে চলে আসলাম। ঐ সিনিয়র ভাই যার সাথে হোটেলে উঠেছিলাম তারও হয়নি তাই অনেকক্ষণ দুঃখ টুঃখ করার পর আস্তে করে তাকে বললাম যে আমার চান্স হয়ে গেছে। যেহেতু আমরা একই হেলথ কমপ্লেক্সের তাই উনি জানত যে আমি বেশি পড়ালেখা করিনি তাই উনি মহাআশ্চর্য যে কিভাবে চান্স পেলাম এবং অনেক কংগ্র্যাচুলেট করলো। এরপর আমি আমার বাকি ২ জন রুমমেট মেডিকেলের যাদের চান্স হয়নি তাদের জানালাম তারাও প্রথমে আশ্চর্য হল এবং পরে অনেক খুশি হল। তখন তাকে বললাম যে এবারের রেজাল্ট আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, কারণ যেবার আমি সব থেকে বেশি কষ্ট করে পড়েছিলাম সেবার হয়নি কিন্তু এবার প্রিপারেশন ভাল ছিলনা কিন্তু হয়ে গেল। এরপর আমার ঐ বন্ধু বিসিপিএস ভবনে টাঙ্গানো রেজাল্ট শীট এর ছবি তুলে যখন পাঠাল তখন আমার বিশ্বাস হল যে আমি আসলেও চান্স পেয়েছি। এরপর গার্লফ্রেন্ডকে জানালাম, সে হল দায়সারা খুশি, এরপর জানালাম বাবা মাকে। বাবা তো আলহামদুলিল্লাহ বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলার মত অবস্থা। এরপর আস্তে আস্তে অন্যান্যদেরও জানালাম। তখন নিজেকে অন্য রকম একটা মানুষ মনে হল। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম কারণ উনি আমার কষ্টটা দেখছেন।

পোস্ট গ্রাজুয়েশনে একটা কথা ঠিক যে প্রিপারেশন আপ-টু-দা মার্ক না হলে চান্স হবে না। আর প্রিপারেশন ভাল হলে চান্স যে কোনবার হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ ভালতে পারেনা। লাক কখন কাকে ফেভার করবে বলা যায়না কিন্তু প্রেপারেশন থাকতে হবে ভালমতো। এই জন্য ২/৩ বার পরীক্ষায় ফেল করলেও হতাশ হওয়ার কিছু নাই। অনেক কঠিন সময় পার করে এসেছি এবং আমার থেকেও আরও কঠিন সময় মানুষ পার করে। এই ডিগ্রীর জন্য আমার পার্সোনাল লাইফ অনেক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমার যে জুনিয়র যার পিজির লাইব্রেরীতে খাওয়ার টাকা ছিলনা তার কার্ডিওলজিতে এফসিপিস , এমডি হয়ে গেছে ঢাকাতে।

আমার মতো প্রতিটা সদ্য পাস করা ডাক্তারকে অনেক কস্ট করতে হয় একটা চাকরি জোটাতে, খাবারের টাকা জোটাতে। এইরকম অনেক বাঁধা পার হয়ে আমি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসাবে নিয়োগ পেলাম, আস্তে আস্তে হয়তো আমি মেডিকেল এর টিচার হতে পারব অথবা বড় পোস্টে যেতে পারব। তাই এখন মনে হয় যে আল্লাহর কাছে যাই চাই তার প্রতিদান আল্লাহ কোন না কোন বার দিবে।

আমার মত প্রতিটা ডাক্তারেরই এইরকম স্ট্রাগল করতে হয়, কিন্তু কথা হল একটাই যে হাল ছাড়া যাবেনা, হতাশ হওয়া যাবেনা ঠিক মত প্রিপারেশন নিতে হবে এবং লাইনে থাকতে হবে। অনেক ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক, মানসিক এবং পারিপার্শিক সমস্যা থাকার পরও হতাশ হওয়া যাবেনা । ঠিকমত চেস্টা করে গেলে সফল হওয়া সম্ভব। তাই তো বলি হাল ছেড় না বন্ধু যেতে হবে অনেক দূর।

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Sunday, November 13, 2016

কারন আমি মরে যাবো। আজ নয়তো- কালই।

১.
-বাবা ক্লাস ফাইভে কিন্তু ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেতেই হবে।না হলে জীবন বৃথা।
-আচ্ছা পেলাম।
২.
-ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছো। অবশ্যই ক্লাস ৮ এ পেতে হবে।মিস করা যাবেনা।
-পেলাম না।
-তুই নষ্ট হয়ে গেছিস। লজ্জা করেনা তোর।
তোর তো মরে যাওয়া উচিত। চামার।
৩.
-এসএসসি তে তোর ভালো রেজাল্ট না হলে লোক হাঁসবে। ৮ এ বৃত্তি পাসনি এমনি তেই তুই নষ্ট। এবার তো প্রমাণ কর গোল্ডেন প্লাস পেয়ে।
-আচ্ছা পেলাম।
৪.
-ওসব অনেকেই এসএসসি তে পায়। তারপর কই হারায়ে যায়। পেয়ে দেখা না গোল্ডেন ইন্টারে কেমন পাড়িস?? আর না পাড়লে গার্মেন্টস এ যাহ। কাজ করিস।
-আচ্ছা গোল্ডেন পেলাম।
৫.
-মেডিকেল চান্স পেয়ে দেখা। তারপর দেখবি জীবন টা কত সুখের। চান্স না পেলে কি ছিড়বি? ওসব রেজাল্ট অনেকেই করে। না হলে আইএসএসবি দে লং কোর্সে যা।
-লং কোর্সে আই এসএসবি তে অ্যাটেন্ড করলাম না।চান্স ও পেলাম না।
-আরে তুই তো নষ্ট হয়ে গেছিস। বলেছিলাম না???
তোর চুলের যোগ্যতাও নাই বেঁচে থাকার। তুই তো বস্তির বখাটেরও অধম।আত্নহত্যা কর।
৯৯.৯৯% সিউর থাক তুই কোথাও ই চান্স পাবিনা আর।
৬.
-ঢাকা ডেন্টাল,
-পাবনা মেডিকেল কলেজ।
৭.
এমবিবিএস একবারেই পাশ করতে হবে।
- জানিনা।
তারপর??
৮.
-বিসিএস
তারপর??
৯.
-এফসিপিএস/এমডি/এম এস
পোস্টগ্রাজুয়েশন না করলে তোর আবার পরিচয় কিরে??
-তুই তো নষ্ট হয়ে গেছিস। পড়াশুনা করিস না। এমবিবিএস টা
পাশ করতে পারবি তো সারাজীবনে?
-পেটের ভাত টা তোর কই থেকে আসবে জানিস তো??
তোর মত আবালের/ফাঁকিবাজের ভবিষ্যৎ কি হবে জানিস তো??
১০.
-আচ্ছা ধরেন সব হলো।
এমবিবিএস,পোস্ট গ্রাজুয়েশন??? তারপর??
তারপর কি??
মরে যাবো না?
মরে যাবো তো?? না কি??
আর কত্ত চাপ??
কবে সুখ???
কিসের সুখ???
কিসের ভেতরে সুখ???
সম্মান??? মুখ দেখানো যাবেনা আমাকে নিয়ে??
নিজের মুখ টা দেখালাম না হয়???
আচ্ছা সব চান্স পেয়ে পরদিন যদি খুন হয়ে যাই??
অমিত ভাই এর মত রাতের আঁধারে সামান্য কিছুর লোভে কেউ যদি মেরে রেখে দেয়??
এই যে রাস্তায় মরছে?? প্রতিদিন।
পাতি নেতার মাস্তানি তে থাপ্পড় খেয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছে...
জীবন কই??সম্মান??? কিসের সম্মান??
সুখ কই?? এসবে??
১১.
সেই তো ছোটবেলা থেকে বলে এসেছেন। পড়।
কলেজে গেলে তোর অই ভাইয়ার মত ভালো কলেজে পড়বি। অনেক সুখ পাবি।
-আমার বাল,বালের সুখ পাইছি।
তারপর শুনেছি,ভালো জায়গায় চান্স পেলে সুখ পাবি।
তোর অই চাচা বুয়েটে পড়ে।তোর অই মামা ডাক্তার।
-কই?? কই সেই অধরা শান্তি???
আমার মন জুড়ে এখন অশান্তি,বিষিয়ে ওঠা নরক যন্ত্রণা।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর উদর পূর্তির ভাবনা ভেবেই কাটালাম চিরকাল।
-আমার আর ভালো লাগেনা এসব।
আমি মন ধরে বেধে চেয়ার টেবিলে বসি কুত্তার মত পড়তে।
আমি পারিনা।
আমার সব ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করে।
আমার কিছুই ভালো লাগেনা।
-আমি সভ্য নই।
আমার স্থান মানুষ্যলয়ে নয়।
-আমি দুর্বল।
আমার স্থান ওপাড়ে।
#সফলতার আলো ঝলমলানির মেকি হাঁসি,
একটার পর একটা লক্ষ্যের পেছনে পশুর মত ছুটে চলা।
পকেট ভর্তি কাঁচা টাকা,
ব্যাংক ব্যালেন্স,নিজের বাড়ি, পার্সোনাল কার। আমার না বিন্দু মাত্র টানেনা কিছুই।
কারন আমি মরে যাবো। আজ নয়তো- কালই।
(Collected)

Monday, October 24, 2016

বাংলাদেশের প্রসূতি সেবা ও সিজারিয়ান ডেলিভারি

আপনি কখনো শুনেছেন হলিউড/বলিউডের কোনো নায়িকার সিজার করে বাচ্চা হয়েছে? আত্মীয় বন্ধু যারা ইউরোপ/আমেরিকায় বউ নিয়ে থাকে, তাদের বউয়ের ও সিজারে বাচ্চা হয়েছে শুনি নাই।
 তার কারন ওদের বাচ্চা হইবার আগে গাইনি ডাক্তার আত্মা শুকানো ভয় দেখিয়ে বলে না, পানি শুকিয়ে গেছে, নুচাল কর্ড (নার) প্যাঁচিয়ে গিয়েছে, পজিশন উল্টায়া গিয়েছে।
-
বিশ্বের কোথাও দাঁড় করানো অজুহাতে পেট কেটে বাচ্চা বের করে না, একমাত্র বাংলাদেশে বাচ্চা জন্ম দিতে গেলে গাইনি ডাক্তারদের হাজারো অজুহাত। আপনাকে এমন সব ভয় দেখাবে যে, অনাগত বাচ্চার সামনেই কাল্পনিক কাঠ-গড়ায় দাঁড় করিয়ে দিবে। বলবে, এ মুহুর্তে সিজার না করলে বাচ্চা বাঁচানো যাবে না, দায় দায়িত্ব আপনার। এছাড়াও ডেলিভারি পেইন নিয়ে ক্লিনিকে যাবেন তো দিবো
একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে ব্যাথা শেষ, এইবার এ অজুহাতেও পেট কাটো।
-
এখনতো আবার গাইনি ডাক্তাররা অজুহাতও দেখায় না, ডাইরেক্ট বলে দেয় আমি নরমাল ডেলিভারি করাই না।
-
কী আজব দেশ রে ভাই, এত সিজার ডেলিভারি বিশ্বের আর কোনো দেশে হয় কি?? অনেক মায়েরা ও কম যায় না, আগেই চুজ করে সিজারে বাচ্চা নিবে, একটুও কষ্ট সহ্য করবে না, এটা হল ডি-জি-টা-ল ফ্যাশন/ইস্টাইল।
-
আজব এই দেশে, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার হার, বৃক্ষ রোপন, টিকা দান, শিশু মৃত্যু হার রোধ, এসব কিছুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবুজ মার্ক পেলেও সিজার ডেলিভারি নিয়ে লাল দাগ খেয়ে বসে আছে অনেক বছর, সরকার কিন্তু স্পিকটি নট।
-
স্বঘোষিত নরমাল ডেলিভারি না করনেওয়ালা গাইনি ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ওয়াজিব হয়ে গেছে। এক বন্ধুর কাছে শুনলাম আমেরিকাতে নাকি বাইশ ঘন্টা ডেলিভারি, পেইনের পরেও ডাক্তার সিজার করে নাই, সুস্থ বাচ্চা হয়েছিলো, মা ও সুস্থ ছিল।
-
আমার পরিচিত এক গাইনি ডাক্তার (MBBS, DGO) পঁচানব্বই ভাগ নরমাল ডেলিভারি করাতো বিধায় কোনো ক্লিনিক তারে নিতে চায় না। এই ডাক্তার এ-ক্লিনিক ওই-ক্লিনিক, এ-জেলা ওই-জেলা ঘুরে ঢাকার মিরপুরের এক অখ্যাত ক্লিনিকে।
-
কিছুদিন আগে মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হসপিটালে গিয়েছিলাম একজন ডোনার নিয়ে, হঠাৎ করেই রিসিভশনের দিকে নজর গেলো, দেখলাম একজন সিজারের পেসেন্টের স্বামী কাঁদতেছে। কাছে গিয়ে বিষয়টা জানতে চাইলে সে বলল, ভাই আমার বাসায় বউয়ের নরমাল ডেলিভারিই হইতো, কিন্তু রক্তস্বল্পতা ছিলো বলে নিয়ে আসলাম এখানে, ভাবলাম এখান থেকে রক্ত দিয়ে নিয়ে যাবো। কিন্তু নিয়ে আসার পর তাদের (ডাঃ) এমন অবস্থা, মনে হচ্ছে যেনো সোনার খনি পেলো। রক্ত দেয়ার পুর্বে এই টেস্ট সেই টেস্ট, অবশেষে বলে সিজার না করালে আপনার বাচ্চাকে বাঁচানো যাবে না। কি আর করমু কন, এখন তারা সিজার করাইয়া ১,৪২,০০০টাকার একটা বিল ধরাইয়া দিছে।
-

  সিদ্ধান্ত আপনার, আপনি এখন আপনার স্ত্রী/বোন/মাকে কি সিজার ডেলিভারি করাইবেন, নাকি নরমাল???

---Collected---

Friday, January 29, 2016

আলহামদুলিল্লাহ ফর এভ্রিথিং


(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
আমাদের আশেপাশের ডাক্তার সোসাইটি বিশেষ করে ইয়াংরা খুব হতাশ।কঠিন পড়াশোনা,আর্থিক অনটন,কতিপয় রোগী-রোগীর আত্মীয় স্বজনদের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ব্যবহার সব মিলে খুব বাজে অবস্থা।

কিন্তু ভালর দিক টা কম না।আমি আমার কথা শোনাই।কয়েক বছর আগে আমার মায়ের একটা এক্সিডেন্ট হয়।ছোটো খাট মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট।একটা ছেলে মা-ভাইয়াকে কে পাশের বাড়িটাতে নিয়ে গেছিল।তেমন কিছু করে নাই।জাষ্ট নিয়ে গিয়ে একটু মাথায় পানি দিছে।

আমার মা খুব কনজারভেটিভ মানুষ।একটা লম্বা চুলের ছেলে মাথায় পানি দিচ্ছে দেখে মা ভড়কে গেছিল।ছেলেটা বলছে মা শুয়ে থাকেন।আমিও আপনার ছেলেই।

সেই থেকে আমরা ছেলেটার কেনা হয়ে গেছি।আমার কনজারভেটিভ মা ছেলেটার কথা অনেক বলেন।ছেলেটাকে যদি খুঁজে পাওয়া যেত সেই কথা বলেন।এমনকি ছেলেটাকে একটা আত্মীয়তায় বেঁধে ফেলার কথাও দুয়েকবার বলতে শুনেছি।

সত্য কথা হচ্ছে বিপদের সময় একটু সাহায্যের কথাও মানুষ ভোলে না।এটা হিউম্যান নেচার।

আমরা যারা ডাক্তারি পেশায় আছি তাদের টা বলি।ফলো আপ দিতে গিয়ে আমরা দুইটা ভাল কথা বললে,ওটির নার্ভাস টাইমটাতে সান্তনা দিলে,থার্ড ইয়ারে,ফোরথ ইয়ারে হিষ্ট্রি টা নিতে গিয়ে একটু সহানুভূতির সাথে কথা বললে রোগীরা ভুলে যাওয়ার কথা না।প্রচুর রোগী আছে যারা নিজে অনেক এষ্টাবলিশড লেভেলের হয়েও খুব শ্রদ্ধার সাথে স্যার বলে সম্বোধন করে।প্রচুর রোগী আছে যারা বাবা,মামনি ছাড়া কথা বলে না।এটা কম কিছু না।

হঠাত হঠাত একটু মন খারাপ হতেই পারে।কিন্তু আমাদের মত এত বেশি ভালবাসা পাওয়ার সুযোগ আল্লাহ কম মানুষকেই দিয়েছেন।রোগীদের ব্যবহারে নিজের সিনসিয়ারিটি কমিয়ে দেয়ার মানে নাই।অসুস্থ মানুষগুলোর ভালবাসার মূল্য ফেরত দেয়ার এই একটাই রাস্তা।এটাই ব্যবহার করা উচিৎ।

এখানে অনেক সিনিয়র,ডাক্তারি পেশায় অভিজ্ঞ লোকজন আছেন।আর আমি জুনিয়র মোষ্ট ডাক্তারদের সারির।ভুল কিছু যদি বলে থাকি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।তবে আমার কথা যদি শুনতে চান আমি বলবো,আমি হতাশ হই নি।
আলহামদুলিল্লাহ।ফর এভ্রিথিং।

collected

বিকল্প ভাবনা‬

তরুন ডাক্তারেরা গ্রামে থাকতে চান না কারন তাদের পোস্ট গ্রাজুয়েশন করতে হবে। গ্রামের মানুষ যাদের সামর্থ নেই অথচ প্রয়োজন আছে তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পান না কারন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপজেলা পর্যায়ে নেই বললেই চলে। একইভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ফ্যাসিলিটির অভাবে উপজেলার ইমার্জেন্সি কার্যত অকেজো হয়ে যায় অনেক ক্ষেত্রেই, নিকটস্থ রেফারেল সেন্টারে নেবার সামর্থ, সময় অনেকেরই হয় না। নতুন পাশ করা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হতাশায় ভোগেন কারন শহরে পশার জমাতে ৫-৬ বছর লাগেই, সব রোগীই যায় পুরোনো স্যারদের কাছে। বাড়ছে নিত্য নতুন মেডিকেল কলেজ, অথচ বাড়ছে না শিক্ষার মান, মেডিকেল কলেজে নেই সকল বিষয়ের পর্যাপ্ত শিক্ষক। শিক্ষক নেই কারন ডাক্তারেরা কেউ বেসিক সাবজেক্টে আসতে চান না, গবেষনা ও অর্থ উপার্জনের সুযোগ কম বলে। সরকার চায় এই সব সমস্যা দূর হয়ে দেশের আনাচে কানাচে চিকিৎসাসেবা পৌছে যাক।
তো এই হল মোটামুটি চিকিতসাখাতের সমস্যার লুপ। একটু বিকল্পভাবে চিন্তা করে দেখলাম ব্যাপারগুলো এভাবে সমাধান করা যায় কিনাঃ

১) ডাক্তারদের বাধ্যতামূলক ২ বছর গ্রামে থাকতে হবে এই নিয়মটা করা হোক বিশেষজ্ঞ চিকিতসকদের ক্ষেত্রে (MD/MS, FCPS, Diploma): অনেকে ক্ষেপে উঠতে পারেন, এতে লাভ কোথায় আমি দেখাচ্ছি। প্রথমত সদ্য পাশ করা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপজেলায় ২ বছর থেকে যথেষ্টই উপার্জন করতে পারবেন যা সে শহরে থেকে পারতেন না এবং ২ বছর শেষে শহরমুখী হলেও সাপ্তাহিক ছুটিতে শহরের বাইরে এই প্র্যাকটিসের যায়গাটা তার থেকেই যাবে। দ্বিতীয়ত, রোগীরা সর্বোচ্চ সেবা পাবে, যাদের সামর্থ নেই দূরের রেফারেল সেন্টারে যাওয়ার (যেটা আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে করা হত)।

২) তরুন চিকিৎসক সরকারি চাকরিতে ঢোকার সাথে সাথেই ট্রেনিং পোস্ট বা রেসিডেন্সিতে ঢোকার সুযোগ পাবেন এই শর্তে যে তারা পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করা মাত্রই ২ বছর পেরিফেরিতে পোস্টেড হবেন। এতে লাভ হলো শহরের সব হাসপাতালে প্রচুর ট্রেইনী ডাক্তার পাওয়া যাবে, পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং দ্রুত শেষ হবে, ফলে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ও দ্রুত শেষ হবে, ফলে তরুন ডাক্তারদের শহরমুখী হবার সবচেয়ে বড় কারন এর নিরশন হবে।

৩) ইন্টার্নশীপ ২ বছর হবার কথা শুনেছিলাম। এটা ভালো না মন্দ সে তর্কে যাবো না তবে এটাকে অন্যাভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। ইন্টার্নশীপ এক বছর মেডিকেল কলেজে এবং এক বছর উপজেলা পর্যায়ে করা হোক। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে যেহেতু উপজেলায় কনসালটেন্ট থাকবে তাই কনসালটেন্ট এর অধীনে ইন্টার্নশীপ গ্রহনযোগ্য করতে অসুবিধা হবার কথা নয়। সেই সাথে তরুন ডাক্তারেরা গ্রামে থাকার ব্যাপারে আগে থেকেই সেনসিটাইজ হবে এবং ক্লিনিক্যাল বিষয় ছাড়াও সিচুয়েশোন হ্যান্ডলিং শিখবে। যেহেতু উপজেলায় ইন্টার্ন থাকবে তাই উপজেলায় ডাক্তারের অভাব হবে না, রোস্টার ডিউটি কনসালটেন্টদের করতে হবে না (অন কল থাকতে পারে)। যেহেতু এই ১ বছর সে কনসালটেন্ট এর অধীনে থাকবে তাই এটাকে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং এর অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে তাহলে অন্তত ১ বছর বিনা বেতনের অনারারি বর্বরতার সময় কমবে। অথবা পোস্ট-গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং এর অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক ৬ মাস বা ১ বছর উপজেলায় কনসালটেন্ট এর অধীনে ট্রেনিং করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। মূল উদ্দেশ্য একটাই, উপজেলায় ডাক্তার এর সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি।

৪) উপরের কাজগুলোর মাধ্যমে যেহেতু উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বেশ কিছু সংখ্যক ট্রেইনী ডাক্তার নিশ্চিত করা গেল সেহেতু পেরিফেরি থেকে টারশিয়ারী হাসপাতালে রেফারাল এর সংখ্যা কমবে। ফলে টারশিয়ারী হাসপাতালে রোগীর চাপ ও কমবে। চাপ কমলে ডাক্তারের কাজের প্রেসার কমবে, রোগীকে সময় দেবার সুযোগ বাড়বে, সেবার মান বাড়বে। জটিল রোগের চিকিৎসা নিয়ে গবেষনার সুযোগ পাওয়া যাবে। হয়ত রোগীকে বারান্দায় মাটিতে শুয়ে থাকতে হবে না বা ডাক্তারকেও একটানা ২-৩দিনের নির্ঘুম রাত কাটাতে হবে না।

৫) বেসিক ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাবজেক্টে শিক্ষক বাড়াতে বিশেষায়িত গবেষনা প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল কলেজে গবেষনার সুযোগ, গবেষনা ভাতা, নন-প্র্যাকটিসিং এলাউয়েন্স, বাধ্যতামূলক পেরিফেরি বাতিল, উচ্চতর শিক্ষা ও ট্রেনিং এর জন্য স্কলারশিপসহ উন্নত রাষ্ট্রের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে প্রেরন ইত্যাদি প্রচলন করা যেতে পারে। এতে আরো বেশি ডাক্তার বেসিক সাবজেক্টে আসতে উৎসাহী হবে। ফলে শিক্ষক সংকট কমবে, মেডিকেল কলেজে শিক্ষার মান বাড়বে, ভালো ডাক্তার তৈরি হবে, তারা শহরে-গ্রামে সর্বত্র উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে পারবে, হয়ত নিজেদের স্বাস্থ্য সেবার চাহিদা মিটিয়ে আমরা প্রচুর ডাক্তার দেশের বাইরেও পাঠাতে পারবো।
এ সবই হয়ত ছোট মুখের বড় কথা। তবুও মনে হয়, মানুষ কখনো বোঝা নয়। অন্তত ৬৭% তরুনের এই দেশে কাজে লাগানোর মত মেধা ও মননের অভাব নেই। একটু সুষ্ঠ পরিকল্পনাই হয়ত আপাত সমস্যাকে সুযোগে পরিনত করে দিতে পারে।
collected

Monday, December 14, 2015

বরের অবশ্যই ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে... আর কনের হতে হবে ফর্সা, লম্বা আর শিক্ষিত...

"বরের অবশ্যই ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে... আর কনের হতে হবে ফর্সা, লম্বা আর শিক্ষিত... "
বাবা মা তাঁদের ছেলে/মেয়েদের বিয়ের জন্য এমন পাত্র-পাত্রী খোঁজেন... কিন্তু সেই পাত্র বা পাত্রীটি মানুষ হিসাবে কেমন সেটা গৌণ বিষয়... এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কেমন খুব সহজে যাচাই করারও উপায় নাই...
বর/কনে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন মাপকাঠি যুক্ত করা উচিত... "ছেলে/মেয়ে কি নিয়মিত রক্তদান করে?" grin emoticon
যদি বর/কনে নিয়মিত রক্তদান করে, তাহলে একাধারে অনেক কিছুই জানা হয়ে যাচ্ছে হবু বর বা কনের বিষয়ে...
এতে জানা যাচ্ছে, মানুষটিঃ
১) পরোপকারী (অপরিচিত মানুষদের যিনি রক্তদান করে উপকার করছেন, তিনি অবশ্যই উনার স্বামী/স্ত্রী এর প্রতিও পরোপকারী হবেন)
২) দায়িত্ব এড়িয়ে যায় না অর্থাৎ দায়িত্ববান (নিয়মিত রক্তদান আমাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত... এই দায়িত্ব যিনি নিয়মিত পালন করতে পারছেন, সুতরাং নিজের স্বামী/স্ত্রী প্রতিও দায়িত্বশীল হবেন আশা করা যায়)
৩) নির্ভরযোগ্য (কথা দিয়ে কথা রাখার মানুষ তিনি... রোগীকে রক্তদান করার কথা দিয়ে কথা পালন করছেন... এই মানুষটি অবশ্যই নির্ভরযোগ্য)
৪) আত্মত্যাগী এবং উদার (নিজের মূল্যবান সময়, যাতায়াতের কষ্ট, যাতায়াত খরচ, মোবাইলের খরচ, সূচ ফোটানোর ব্যাথা, নিজের শরীরের মহামূল্যবান রক্ত দান করা সহজ ব্যাপার না... একজন সত্যিকারের আত্মত্যাগী এবং উদার মানুষের পক্ষেই সম্ভব)
৫) সময়নিষ্ট (রোগীর প্রয়োজনীয় মুহূর্তে যথাসময়ে রক্তদানে উপস্থিত থাকা)
৬) ধৈর্যশীল ও সহিঞ্চুতার অধিকারী (হাজারো ঝামেলা উপেক্ষা করে ধৈর্যের সাথে নিয়মিত রক্তদান করা...)
৭) সহানুভূতিশীল (রোগী তথা মানুষের কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা এদের রয়েছে)
৮) সুনাগরিক (রক্তদানের মাধ্যমে সমাজ এবং দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করছে, সুতরাং তিনি একজন সুনাগরিক)
বাহ, মানুষটি নিয়মিত রক্তদান করছেন কিনা এটা জানার মাধ্যমেই তো মানুষটির সকল মানবিক গুন জানা হয়ে যাচ্ছে grin emoticon
-----
পাশাপাশি নিশ্চয়তা রয়েছেঃ
৯) মাদকাসক্ত নয় (মাদকাসক্ত ব্যাক্তি হতে রক্ত গ্রহন করা হয় না...সুতরাং নিয়মিত রক্তদাতা মাদকাসক্ত নন... মাদক বিহীন নির্ভেজাল স্বামী/স্ত্রী পাবেন grin emoticon )
১০) শারীরিক সুস্থতা (রক্তদানের পূর্বে রক্তদাতার রক্তের ৫ ধরনের পরীক্ষা করা হয়ঃ এইডস, হেপাটাইটিস-বি ও সি, সিফিলিস, ম্যালেরিয়া... নিয়মিত রক্তদাতা এসব রোগ হতে মুক্ত...)
------
ভবিষ্যতের শশুর/শাশুরী/বর/কনে,
এখন থেকে ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার না খুঁজে "একজন নিয়মিত রক্তদাতা" খুজুন... বিয়ের বর/কনে খোঁজার নতুন ক্রাইটেরিয়া হিসাবে যুক্ত করুন 'রক্তদান' smile emoticon
---------------
আইডিয়াটা কিছুটা হাস্যকর হয়তো tongue emoticon কিন্তু এই ক্রাইটেরিয়া যুক্ত করতে পারলে রক্তদানের জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়বে

Monday, November 16, 2015

'ওরে গাধা, তোরে গাধা বানাইতে কত খরচ হইছে জানিস?'

শোনা ঘটনা এবং ঘটনাটি সত্য।

বাংলাদেশের একজন তরুণ চিকিৎসক স্বাধীনতার পর উচ্চ শিক্ষার্থে ইংল্যান্ড গেলেন, অক্সফোর্ড থেকে ডি.ফিল (পিএইচডি সমতুল্য) করে দেশে ফিরলেন। যেকোনো মেডিকেল ডিগ্রি রাষ্ট্রীয় মেডিকেল কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া লেখা নিষেধ, কাজেই সেই চিকিৎসক ভদ্রলোক বিএমডিসি'র শরণাপন্ন হলেন।

বিএমডিসি'র রেজিস্ট্রার সাহেব আবেদনপত্রের দিকে তাকিয়ে নাকের লোম ছিঁড়তে ছিঁড়তে বললেন, 'হুম.. এমবিবিএস.. ঠিক আছে.. তারপর এফসিপিএস.. ঠিক আছে.. কিন্তু এইটা আবার কি? ডি.ফিল? এ কোন প্রজাতির বস্তু?'

আবেদনকারী চিকিৎসক রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, 'এটা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি'

রেজিস্ট্রার সাহেব ভাবলেশহীন গলায় বললেন,'দ্যাখো, এই ডিগ্রী তো আমাদের লিস্টে নাই। তুমি অক্সফোর্ড রে বলো আমাদের কাছে চিঠি পাঠাইতে, তোমার কপাল ভালো হইলে অনুমোদন পাইলেও পাইতে পারো।'

এই হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের আলিশান ভাবমূর্তি।
অক্সফোর্ডও এখানে পাত্তা পায় না।

পাঠক ভাবতেই পারেন, এতো বহুকাল আগের কথা, এখন 'দিন বদলাইছে' না?

মাত্র কয়েক বছর আগের কথা।
জাপান থেকে পাবলিক হেলথে পিএইচডি করা এই ভদ্রলোক সেখানেই পোস্ট-ডক্টোরাল করলেন এবং জাপানেই শিক্ষকতা শুরু করলেন। বেশ কিছুদিন কাজ করে উনার মনে হল দেশের জন্য কিছু করা দরকার, বেতন শতভাগ কমে গেলেও পরোয়া নেই, মরলে দেশের মাটিতে মরাই ভালো। সীমাহীন আবেগের সাথে দেশে ফিরে বিজয়নগরে বিএমডিসি ভবনে গেলেন ডিগ্রি অনুমোদন নিতে। সেখানে তাকে জানানো হল, জাপানি ঐ বিশ্ববিদ্যালয় লিস্টে নাই, কাজেই ডিগ্রির কোন দাম নাই। তিনি আক্ষেপ করে বললেন, আপনারা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অনুমোদন দেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার চেয়েও ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং এ অনেক উপরে। বিএমডিসি জানালো, তাদের কিচ্ছু করার নাই। তবু তারা 'বিশিষ্টজনদের' কাছে এই ডিগ্রির মূল্যায়ন সম্বন্ধে জানতে চাইবে।

ঐ বিষয়ে মাস্টার্সধারী দুই বিশেষজ্ঞ বিএমডিসি'কে জানালেন, তারা এই ডিগ্রির কোন মানে খুঁজে পাচ্ছেন না। এই বিষয় বাংলাদেশে কেন দরকার, সেটাও তাদের বোধগম্য না। নিজেদের অজ্ঞতাকে বিজ্ঞের রায় ভেবে বিএমডিসি তাকে প্রত্যাখ্যান করল।

যে প্রোগ্রামে উনি জাপানে ক্লাস নিতেন, ঢাকায় সেই প্রোগ্রামে তিনি ছাত্র হিসেবে ঢুকলেন। সকল পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে এমপিএইচ শেষ করলেন। এর মধ্যে আরেক ঘটনা ঘটল, নিজের দু:খের কথা তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মানুষটিকে জানাতে গেলেন। অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যেও সেই রাষ্ট্রনায়ক তাকে এক-দেড় মিনিট সময় দিলেন, সব শুনে সেই চিকিৎসককে একটা কথাই জিজ্ঞেস করলেন,'আপনারে দেশে আসতে কে বলছে?'

রাগে দু:খে ক্ষোভে সেই চিকিৎসক বেরিয়ে এলেন।
এর বেশ কিছুদিন পর এক রাতে তার মুখেই এই কাহিনী শুনলাম।

আজ পেলাম আরেক আনন্দের সংবাদ।
ইংল্যান্ডের এমআরসিপি নামক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রিটাকে হাসতে হাসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই ডিগ্রি নিয়ে এদেশে কেউ বিশেষজ্ঞ হতে পারবে না। কি হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে? 'সিম্পল এমবিবিএস' কিংবা বিশেষজ্ঞ হলেও তাবেদারি করতে পারবে- এমন চিকিৎসক দরকার। যে চিকিৎসক নিজের নিরাপত্তা তো দূরের কথা, অপ্রতুল ঔষধ -সরঞ্জামাদি নিয়ে রোগীর অধিকার বিষয়েও কথা বলবে না। এমন চিকিৎসক দরকার, সে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যাবার যোগ্যতা তো রাখবেই না, বরং বারবার এসে পা চাটবে আর বলবে, 'আমায় দয়া করে জুনিয়র কনসালটেন্ট বানিয়ে দিন, আমি লাগলে ছমাসে একবার এসে পা চেটে দেব, দয়া করুন প্রভু'। এমন চিকিৎসক দরকার, যে ইউএনও কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারকে স্যার স্যার বলে লালা ঝরাবে। এমন চিকিৎসক রাষ্ট্র চায়, যে চিকিৎসক অনাহারে অর্ধাহারে পুঁথিগত বিদ্যা আওড়াবে এবং রাষ্ট্র-সমাজ বিনির্মাণে অংশ না নিয়ে ক্ষমতাবানের দাসত্ব করবে। আদর্শিক মহামানবের পৌরাণিক স্থাপত্যের মত ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নয়, চিকিৎসকের থাকতে হবে বারবার লজ্জা পেয়েও খাবার দিলে চেটেপুটে খাওয়ার সক্ষমতা। আইসিইউ'তে রোগীর লাইফ সাপোর্ট খুলে নেবার শেষ সিদ্ধান্ত যিনি নেন, সেই চিকিৎসক দুই দিন ভেবেও নিজের প্রতিনিধি ঠিক করতে পারেন না- এমন অথর্ব জড়বুদ্ধির প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড নির্বোধ নির্মাণ রাষ্ট্রের লক্ষ্য। সকালে বিকালে এই গাধার পাছায় লাথি দিয়ে রাষ্ট্র স্মরণ করিয়ে দিতে কসুর করবে না, 'ওরে গাধা, তোরে গাধা বানাইতে কত খরচ হইছে জানিস?' লাথি খেয়েও এ গাধাকে হাসতে হবে, এবং সবিনয়ে বলতে হবে, 'সবই প্রভুর দয়া'।

বিশ্বমানের চিকিৎসক ও শ্রেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে জন্মানোর, বেড়ে উঠার এবং টিকে থাকার পথ আজ রুদ্ধ।
অবশ্য এই লাইনটাকে কেউ গাধার প্রলাপ হিসেবেও ধরতে পারেন।

দোষের কিছু নাই। 


collected

Sunday, August 2, 2015

বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা

আমি একজন ভাল রাঁধুনি।কিন্তু পরিমিত উপকরন না পেলে আমি রান্না করি না।ভাল বাবুর্চিরাও কিন্তু তাই করে থাকে। পর্যাপ্ত জিনিস না দিলে সে রাঁধতে চাইবে না। বাজারের তাজা মাছটি, ফ্রেস মাংসটি, ফ্রেস সবজী এবং প্রয়োজনীয় তেল মসলা না হলে খাবার মজা হবে কি করে? তাই আমি মনের মত করে সব উপকরন সংগ্রহ করে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করাই। আমি একজন ভাল চিকিৎসকও। কিন্তু সর্বোত্তম সেবাটি দেবার জন্য আমি কি সব উপকরন মনের মত পাই? উত্তরঃ সরকারী পর্যায়ে - না কখনও পাই না আর বেসরকারী পর্যায়ে কখনও পাই না কখনও বা গ্রাহকের অপারগতার জন্য দিতে পারিনা। কারন এক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসক আমি। যেখানে না সরকার পুরো দায়িত্ব নেয় না জনগণের সামর্থ আছে। বেনারসীর বদলে আটপৌরে শাড়ী পরে আবরু রক্ষা করা যায়, কাচ্চি বিরিয়ানীর বদলে পান্তা মরিচ দিয়েও ক্ষুধা নিবারন করা যায়, অট্টালিকার পালঙ্কে না শুয়েও কুঁড়েঘরের মাটির বিছানায় নিদ্রাযাপন করা যায় কিন্তু রক্তের বদলে পানি দিয়ে চিকিৎসা করা যায় না। চিকিৎসার জন্য ধনী লোকটির শরীর যা চায়, হত দরিদ্র লোকটির শরীরও তাই চায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল কিংবা বড় বড় শহরের হাসপাতালগুলোতেও কি সকল সার্ভিস দেয়া যাচ্ছে ? পর্যাপ্ত দেয়া যাচ্ছে না । ফলাফল জনরোষ এবং চিকিৎসক নির্যাতন। আর অকারনে মার খেয়ে যাচ্ছে সারা জীবন পড়ালেখা করে ভাল ছাত্র ছাত্রীর তকমা লাগানো নিরীহ ছেলেমেয়েগুলো। ক্রমশই দুর্বৃত্তদের নষ্ট হাতের ছোবল বর্ধিত হচ্ছে। একি বিপর্যয় চিকিৎসা সেবায়! আর কত আমাদের নিরীহ ছেলেমেয়েগুলো মার খাবে? মার খাবার জন্যই কি ওরা ছোটবেলা থেকে ভাল্ভাবে পড়াশুনা করে এসেছে? না খেতে পেরে ক্ষুধার যন্ত্রনায় ধুকে ধুকে যে মারা গেল তার জন্য আপনারা কাকে নির্যাতন করছেন? কনকনে শীতে বিবস্র হয়ে খোলা আকাশের নীচে পরে থেকে যে মারা গেল তার জন্য কাকে জেলে পাঠালেন? ঔষধের অভাবে কেউ মারা গেলে তার জন্য দায়ী কে? আপনারা সে চিন্তা না করে জীবন বাঁচাতে হাত পা আর মাথা নিয়ে যে এগিয়ে এল তাকেই ধরে মারছেন। আর এই মার, অসন্মান করা, হাজতে ঢুকানো যেন মহামারী হয়ে গেছে। একেরটা থেকে অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে সবসময়ই মেডিকেল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এ সেরা ছাত্র ছাত্রীরা প্রবেশ করে।বিজ্ঞানের ছাত্র ছাত্রীরা এ দুটি প্রতিষ্ঠানের দরজার কড়া না নেড়ে কিংবা এ দুটিতে চান্স পেয়েও ভার্সিটিতে গেছে এমন সংখ্যা নিতান্তই নগন্য। প্রতি স্কুলের প্রথম সারির (১-১০ কিংবা ১৫) ছেলেমেয়েরাই এখানে আসে। বিশাল এক পড়াশোনার পাহাড় অতিক্রম করে যখন এম, বি, বি, এস পাস করল তখন তাদের পদার্পণ হোল চিকিৎসাশ্বাস্রে।যে পড়াশোনার সাথে অন্য কোন পড়াশোনার তুলনা চলে না। এক অমানুষিক খাটুনির মধ্য দিয়ে যে ট্রেনিংটি তারা পার করে তার জন্য যে মাসোহারা পায় তা আমাদের অশিক্ষিত ড্রাইভার এর বেতনের চেয়েও কম। তার পিছনের সারির বন্ধুটি যখন মোটা বেতনে কোন প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করে তখন তারা কিছু মনে করে না এই ভেবে যে চিকিৎসকের জীবন একটু আলাদা, যার নির্ধারক বেতন নয়।তারা জানে এ পথ অনেক বন্ধুর ।
ইন্টার্নীর শেষে সরকারী চাকুরী হলে বেতনভুক্ত মেডিকেল অফিসার না হলে অবৈতনিক মেডিকেল অফিসার। সংখ্যায় অবৈতনিক মেডিকেল অফিসার অনেক বেশী।তাই এই অবৈতনিক মেডিকেল অফিসার এবং ইন্টার্নদিয়েই সরকারী হাসপাতালগুলো চলে। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের কোথাও সন্মানী ছাড়া ট্রেনিং হয় না। কারন ওরাও মানুষ, ওদেরও ভাতের প্রয়োজন, কাপড়ের প্রয়োজন, ওদেরও মা বাবা আছে, দায়িত্ব আছে, কারো সংসার বউ বাচ্চা আছে, ওরা সালোকসংশ্লেসন প্রক্রিয়ায় নিজের খাবার নিজে তৈরী করেনা। তাই নিদারুন অর্থকষ্ট ও টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে সকল সামাজিক আনন্দ উৎসব বর্জন করে, জীবনের অনেক সোনালী সময় ফেলে দিয়ে, আত্মীয় স্বজনদের প্রতি দায়িত্ব পালন না করে তাদের প্রত্যাশিত জায়গায় কেউ পৌঁছায় কেউ পৌঁছায়না।চাকুরীর দশ বার বছর পরেও এদের এক এক জনের বেতন মাত্র ২৫ হাজার টাকা। পোস্টগ্রাজুয়েশন ছাড়া এদের কোন প্রোমোশন নেই। এইসব ছেলেমেয়েরা যদি একদিন সরকারী হাসপাতালে কাজ না করে তাহলে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।আর তারাই যদি নিরাপদে তার কমর্স্থলে কাজ করতে না পারে, কর্তব্যরত অবস্থায় দুর্বৃত্তদের হাতে মার খায়, সাংবাদিকদের মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হয় তাহলে কেউ কি চিকিৎসক হতে আর আগ্রহী হবে? সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এর প্রতিবাদ করার জন্য সমাজের কোন লোকতো নেই-ই বরং উল্লসিত হতে দেখেছি অনেককে। ডা. সাজিয়া কর্তব্যরত অবস্থায় তার সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে ওয়ার্ড বয়ের মত একটি নিম্নশ্রেনীর মানুষের হাতে নিহত হোল কোনদিন তা গুরুত্বের সাথে খবর হতে দেখলাম না। অথচ সেই একই সময়ে ইন্ডিয়াতে একটি মেডিকেল স্টুডেন্ট রেপড হওয়াতে সারা ভারতবাসী ফুঁসে উঠল।বারডেমে ঘটনা, ডা. পিনু, গোপালগঞ্জ ঘটনা,ডা শাহিন সব কিছুতেই ডাক্তার অকারনে মার খেল সে সত্যি লিখার সাংবাদিক কেউ নেই। অথচ প্রায়মৃত রোগীটি চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যুবরন করলে বিরাট খবর হয়ে আসে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা আর অবহেলায় মৃত্যু বলে। সাংবাদিকদের এই অপপ্রচার এবং মারমুখী এ্যাটেন্ডেন্টদের ঔদ্দ্ব্যত্বের জন্য কোন মানুষকে একটুও প্রতিবাদতো দুরের কথা শুধু কথা বলতেও শোনা যায় না। শোনা যায়না বলেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি জীবন্ত ডা মীমের পোস্টমর্টেম।

কেন ডাক্তারদের প্রতি এই আক্রোস? ডাক্তাররা চাদাবাজী করে? ফাইল আটকে রেখে ঘুষ খায়? সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়ায়? শেয়ার বাজার লুট করে? ব্যাঙ্ক ক্রাফটার হয়? দেশবাসীকে ভেজালযুক্ত খাবার খাওয়ায়? কি তাদের অপরাধ? আসুন দেখি তারা কি করে।
এম,বি,বি,এস মানে ছোট ডাক্তার। আপনি কখনও সাধ্য না থাকলেও ওর কাছে যাবেন না। আপনাকে নিখুঁত সেবা দানের জন্য এবং আপনাকে প্রলুব্ধ করার জন্য বড় বড় ডিগ্রী দরকার।আপনাকে উপযুক্ত সেবাটি দেবার জন্য এই বড় ডিগ্রীগুলো নিতে জীবন হয়তো শেষ হয় না কিন্তু অনেকেরই যৌবন শেষ হয়ে যায়। প্রশিক্ষনসহ ৫ থেকে ১০ বছর এমনকি তার বেশিও লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ে পরীক্ষা এবং বিভিন্ন কোর্সের ফিস দেওয়ার সামর্থ্যও অনেকের ফুরিয়ে আসে। এই পড়ালেখা এবং পরীক্ষাগুলো যে কি বিভীষিকাময় তা বর্ণনা করার ভাষা আমার কিংবা কারো নেই।শুধু কষ্টের ছাপ রন্ধ্রে রন্ধ্রে লেগে থাকে। পরীক্ষার পদ্ধতি এতই জটীল যে একবার যদি কেউ এ গোলকধাঁধার দুষ্টচক্রে পরে যায় তার জন্য উঠে আসা খুবই মুশকিল। এত মেধাবী ছাত্র ছাত্রী তারপরেও যদি এমন হয় তাহলে সহজেই অনুমেয় যে কি কঠিন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে এদের বেরিয়ে আসতে হয়। এত কঠিন বলেই পাশ করতে না পারার হতাশায় আত্মহত্যা করল আদ দ্বীন মেডিকেলের ছাত্রী।
অন্যান্য সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার ছাত্র ছাত্রীদের যেমন পড়িয়ে থাকে মেডিকেল কলেজেও অনুরূপ পড়িয়ে থাকে। মেডিকেল কলেজে সরকারী বাজেটের বড় একটি অংশ যে বরাদ্দ সেতো হাসপাতালের রোগীদের বিনে পয়সায় চিকিৎসার জন্য। শুধু চিকিৎসা নয় এখানে থাকা খাওয়া দাওয়াও ফ্রী। এই খরচের দায়ভার ছাত্রের ঘাড়ে ফেলে শুধু জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এরা ডাক্তার হয়েছে বলে মানুষের অনুভূতিকে নাড়া দেয়া অন্যায় এবং ডাক্তারদের প্রতি অবিচার। বরঞ্চ একজন ডাক্তার তার প্রশিক্ষণের সময় (সি, এ) রাত দিন যে শ্রম দিয়ে সরকারের জনগণকে সেবা দিয়ে থাকে তার বিনিময়ে তাকে সারা জীবন ভাতা দিলেও শোধ হবার নয়। শেখার জন্য যা দরকার তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশী কাজ করে দিতে হয় ব্যস্ত হাসপাতালগুলোতে।

বাংলাদেশে চিকিৎসার সীমাবদ্বতাঃ
সীমাহীন সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এদেশের ডাক্তারদের ডাক্তারী করতে হয়। পৃথিবীর কোথাও মাটিতে রেখে চিকিৎসা দেবার নিয়ম আছে কিনা জানিনা তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এটি প্রতিদিনের চিত্র। যত রোগী বিছানায় তত রোগী ওয়ার্ডের ও বারান্দার মাটিতে। এই যে রোগীর ঢল তাদের চিকিৎসার জন্য না আছে পর্যাপ্ত ডাক্তার না আছে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সারা দেশ থেকে এমনকি ঢাকার অন্যান্য হাসপাতালগুলো থেকে মরনাপন্ন রোগীগুলোকে এখানে রেফার করা হয়। তাদের ম্যানেজ করার জন্য চিকিৎসককে সাহায্য করার মত দক্ষ এবং দায়িত্বশীল লোকবল এবং চিকিৎসা সামগ্রী যথেষ্ঠ নেই। চিকিৎসকের কাজ ব্যবস্থা পত্র দেয়া। সেগুলো ফলো করা রোগীর সুবিধা অসুবিধা পর্যবেক্ষণ করা নার্সদের কাজ। ঔষধপত্র, স্যালাইন, অপারেশন সামগ্রী এগুলো সাপ্লাই দেয়া প্রশাসনের কাজ। কিন্তু সরকারী হাসপাতালে বহু চিকিৎসক ব্যক্তিগত ভাবে ঔষধ, রক্ত যোগানতো দিয়েই থাকে ইমারজেন্সির সময় ট্রলিটি ঠেলে নিতেও কেউ কুন্ঠাবোধ করেনা। চিকিৎসা একটি টীম ওয়ার্ক। এই টীমের বড় রিংটি চিকিৎসক। কিন্তু বাকীরা (নার্স ও অন্যান্যরা, প্যাথলজিকাল কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা) যদি সেই চেইনের কার্যকারিতার ব্যাঘাত ঘটায় তার সর্বশেষ প্রভাব পরে রোগীর উপর। যার দায়বদ্ধতা এসে পরে চিকিৎসকের উপর।কারন সবাই ফলাফল চায় তার পিছনের কাহিনী কেউ শুনতে চায় না।

চিকিৎসায় দুর্নীতি
চিকিৎসায় দুর্নীতি অমার্জনীয় অপরাধ। ডাক্তার যদি দুর্নীতিগ্রস্থ হয়, কারো অবহেলায় কোন রোগী মারা যায় বা মারাত্তক ক্ষতিগ্রস্থ হয় এসবের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন প্রমান পাওয়া গেলে যথাযোগ্য শাস্তি এবং ক্ষতিপূরন অনেক কিছুই অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু সেটি বিচারের ভারতো সাংবাদিকের নয়। মৃত্যু পথযাত্রী কোন রোগীকে বাঁচাবার ক্ষমতা কি আল্লাহ কাউকে দিয়েছেন? চিকিৎসক চেষ্টার সবটুকু ঢেলে দিয়েও সবসময় মানুষকে বাঁচাতে পারে না। তাহলেতো মানুষ অমর থেকে যেত। মানুষতো মরবেই।একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচিয়ে তোলার যে কি আনন্দ তা ঐ ডাক্তার ছাড়া কেউ বুঝবেনা। সেটা যে রোগীর স্বজনদের আনন্দের চেয়ে কোন অংশে কম নয় এটি সবাইকে বুঝতে হবে। রোগীর মৃত্যুতে ডাক্তারের চোখেও পানি আসে। রোগীর জন্য যদি কারো দরদ থাকে তা স্বজনদের পরে চিকিৎসকদের, কোন তৃতীয় পক্ষের নয় এটা বুঝতে হবে। দিনের পর দিন কত মুমূর্ষু রোগীকে জীবনে ফিরিয়ে আনছে কত চিকিৎসক। নিজের পকেটের পয়সা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলছে কত রোগীর জীবন।কারন চিকিৎসকের নিজের জীবনের সফলতা তার রোগীর সুস্থতা।প্রত্যেকের মৃত্যু পূর্বনির্ধারিত আর এই মৃত্যুর জন্য স্বজনরা চিকিৎসকদের মারবে জেল হাজতে পাঠাবে এ কেমন পাশবিকতা ! সারা জীবন ভাল ছাত্রের তকমা গায়ে লাগিয়ে যে ছেলেটি বা মেয়েটি এতদূর এল, কর্মজীবনের শুরুতেই সে কিনা মার খেল রাস্তার সন্ত্রাসীদের হাতে। এটাই কি সেই সন্মানজনক পেশা? সব লুন্ঠিত হতে হতে মানুষের সন্মানও আজ লুন্ঠন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদের বা প্রতিকারের কেউ নেই। আত্মসন্মান বাঁচাতে মানুষ পরিবেশ এড়িয়ে চলে । তা’হলে কি চিকিৎসকরা সরে দাঁড়াবে এ পেশা থেকে? এই অসুস্থ পরিবেশ থেকে? নবীন চিকিৎসকরা এরই মধ্যে চিন্তা করছে সরে দাড়াবার, হয় পেশা বদলাবে নয় বিদেশে পাড়ি দেবে। কি হবে তাহলে এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার!!!!!


>collected<

Tuesday, June 9, 2015

মানুষ আপনাকে ব্লাকমেইল করবে, তাই সাবধান।

১। আমি তখন বারডেম এর HMO, কত্তবড় পোষ্ট, Honorary .....Medical Officer, একটা অফিসার,কম কথা না!!
আমার খালুর ফোন করে বললো, হীরক, আমার এক প্রিয় ভাস্তে যাচ্ছে, ওকে একটু অপারেশন করায় দিও বাবা...
২টা পর্যন্ত honorary করলাম, গেলাম রুগীর কাছে, সারাদিন সময় দিলাম, রাতে অপারেশন হলো, রাতে ১২টাই মেসে গেলাম। পরদিন গেলাম, রুগীর ছুটির সময় স্যারকে বলে টাকা কমালাম। এরপরও আমার উপর রুগী ও আমার খালুর অনেক রাগ কেন তাদেরকে তাদের মনের মতো একটা মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে দিতে পারিনি।
২। মামার ফোন.. হীরক আমাদের গ্রামের একটা ছেলে ঢাকা যাচেছ্, তোর ও মামা হয়। তোর নাম্বার টা দিয়েছি, আমার মান সম্মানের ব্যাপার, একটু দেখিস।
DMCH, NEUROSURGERY DEPT. most busiest ward in the world. যেতেই দেখি আমার সময়ের IMO. তাকে বলে অনেক কষ্ট করে depressed fracture with subdural haematoma following RTA অপারেশন করিয়ে দিলাম।. এখন মামা বাড়ী গেলে সে কথা বলে না কারন কপালে বড় একটা দাগ হয়ে আছে কেন, কাকে দিয়ে অপারেশন করিয়েছে??

৩। এইতো সেদিন ৩ দিন আমার মহা মূল্যবান সময় ব্যয় করে ও একটা রুগিকে কোন সাহায্য করতে পারি নি, সেকি.. মন খারাপ আমার উপর!!
ক। আমার বড় ভাইয়ের বন্ধু। প্রায়ই নিজের গাড়ি চালিয়ে তার বাচ্চাকে দেখাতে আসে। সে দেখে আামি বসে বসে বই পড়ছি, কোন রুগী নাই। তার গল্প হলো, ফ্লাট কিনেছি, দেশে এটা কিনেছি,ওটা করেছি। তোমার ফ্লাট কোথায়, গাড়ি কবে কিনবা??
আমার দম বন্ধ হয়ে আসে,কি বলবো.. কোনদিন আমাকে ভিজিট নামক ভদ্রতা দেখায় নাই..
খ। ডাক্তার হওয়ার পর আমার বন্ধু বেড়ে গেছে। প্রাইমারি, হাইস্কুল,কলেজের অনেক বন্ধুরা, দুরের আত্মীয়, বড় ছোট ভাইয়ের বন্ধুরা ফোন করে, উপদেশ নেয়। যদি ফোন না ধরতে পারি....ব্যাস হলো।
সে মাসে ১ দিন করে কিন্ত আমাকে তো দিনে ১০ জনের ফোন ধরতে হয়!
ঘটনাগুলি বিশ্বাস হচ্চেনা?? বিগত ১০ বছরে শত শত এরকম ঘটনা আছে আমার। অনেকের আছে ঠিকই।
আমি এখন ভাবছি, নিজের খেয়ে আপনজন ছাড়া কারো আজাইরা উপকার করতে যাবো না, অযাযিত ফোন ধরবো না, পাই পাই করে ভিজিট নিবো। কসাই বললে বলুক,, টাইম নাই।
আরে ভাই আপনি কি কোথাও কিছু ফ্রি পান? বাসে চড়লে টাকা দিতে হয়,বাজার করলে টাকা লাগে, সব টাকা। আপনি বন্ধুরদোকান থেকে জামা কিনলে টাকা দিতে হয়না?? বাজারে মাছ কিনলে ফ্রি পান? তাহলে আপনি ফ্রি করবেন কেন?
সবাই নিজের কাম অকাম কইয়া গাড়ি চালাইবো, ফ্লাট কিনবো আর আপনি মানবসেবা কইরা লোকাল ৭ নম্বরে চড়বেন আর সবার ঠেলাগুতা খাবেন। মনে রাখবেন টাকা না থাকলে সমাজে কোথাও বেইল পাইবেন না, আত্মীয়, আপনজন এমনকি ঘরের বউ এর কাছেও দাম পাইবেন না।
এটা মানবপেশা, মহত পেশা বলে মানুষ আপনাকে ব্লাকমেইল করবে, তাই সাবধান।
জুনিয়র ডাক্তার বাবুদের বলি...
আমি লিখে দিতে পারি, নিজের খেয়ে, পড়াশুনা বাদ দিয়ে এসব করবেন তো আপনি পস্তাইবেন।

লেখক >

Saturday, April 4, 2015

ডাক্তারের ভিজিট ফ্রি ‘অইবো’ না ক্যা ?



হুজুরের পানি-পড়া ফিরি ‘অইলে’ ডাক্তারের ভিজিট ফ্রি ‘অইবো’ না ক্যা ?

ভাঁটোদাঁড়ার ইসমাইল কবরেজকে বিশ ট্যাকা দিয়া কাম অইলে ‘ডাক্তার’কে এতো ট্যাকা দেয়া লাগবো ক্যা ?

শিবুর ফার্মেসীত্তে বিনা ভিজিটে কয়েক ফাইল ‘অসুদ’ কিনা গেলে ডাক্তারের ভিজিট এতো টাকা অইবো ক্যা?

ক্যা ? ক্যা ? ডাক্তারের ভিজিট এত্ত ক্যা ?

ঘূর্নন-গতিতে আক্রান্ত তিন-পাখার ফ্যানটার দিকে চেয়ে চেয়ে এই ‘ক্যা-ক্যা’র উত্তর খুঁজছিলাম বাংলা সিনেমার বিজ্ঞাপন কন্ঠ গাজী মাজহারুলের মতো।সহজ কথার সহজ উত্তর সহজেই পেলাম না।

সত্যিই তো ?

এই দেশে যার পকেটে যত টাকা আছে তার মালিক তো বুর্জোয়া লুটেরারা।

রাজনীতিবিদ,আমলা,ব্যবসায়ীরা দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা খেয়ে হজম করে ফেললেও আমরা রোগী দেখে ভিজিট নেব কেন?নিলেও এত কেন ?

মহান আল্লাহ আমাদের ‘চারার’ একটা পেট দিছে সেটাতে কি আবার খাওয়া ভরতে হয় নাকি?‘চারা’ খাইলেই তো হয় !
সাম্প্রতিক সময়ে সমাজের সবচাইতে ‘সেক্সি’ ‘ইভ’ হচ্ছে ‘ডাক্তার’ সম্প্রদায়।যে যার মতো এই ইভকে নিয়ে ‘ইভ-টিজিং’এ মত্ত।


ডাক্তারের ভিজিট নিয়ে যাদের পিত্তিটা জ্বলে তারা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনার মুঠোফোনের একটা কলও কি ব্যয় করেন নি কোন পরিচিত ডাক্তারের ফোনে কল করে।

অবশ্যই করেছেন।

যার টাকা কেটে রেখেছে ফোন কোম্পানী, আপনার বন্ধু-ডাক্তারটিও না, আপনার আত্নীয় ডাক্তারটিও না।আপনি কিন্তু আপনার চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শটি পেয়ে গেছেন।

একটা থ্যাংকস ছাড়া কি কিছু দিয়েছেন আপনার অল্প-স্বল্প কিংবা অতি পরিচিত ডাক্তার সাহেব কে ?
 
তারপর ও আপনার পিত্তি এতো জ্বলে কেনো?

দোকানীর কাছ থেকে পানি তো দূ্রের কথা একটা ম্যাচের কাঠি ও তো ফ্রি কিনতে পারেন না !

 লেখাটি এখান থেকে নেয়া।