Wednesday, May 26, 2021

বাড়তি টাকা ব্যাংকে স্তূপের মত জমতে থাকে অথবা সম্পদের পর সম্পদ জমতে থাকে যেগুলো হয়তো জীবনে কখনোই ভোগ করা হয় না!

খুঁজলেও কোন ডালের কনা পাওয়া যায় না, 
হাতে বানানো সালাদ 
সব মিলিয়ে জম্পেশ ঠাসিয়ে খেতাম! 
 শুরুর দিকে 10-12 টাকা লাগতো,পরে 14 টাকা বা 16 টাকার মত লাগতো...
 
 
এরপর চাকরি হলো, প্রাকটিস করতে শুরু করলাম! 
 
হোস্টেলে যা টাকা ছিল তার চেয়ে বহু গুণ বেশি টাকা ইনকাম করি... অনেক টাকা বেড়েছে কিন্তু খাওয়া কি বেরেছে?? 
 তখন যে রকম জামা কাপড় পড়তাম ওরকমই পরি... 
সত্যি কথা হচ্ছে এই শহরে কেউ 20,000 ইনকাম করে কেউ 50,000 ইনকাম করে কেউ 100,000 করে কেউ আরো বেশি করে
 এই বাড়তি টাকা দিয়ে যে বেশি খায়,বেশি পরে,বেশি ভোগ করে, বিষয়টি তা নয়, 
বাড়তি টাকা ব্যাংকে স্তূপের মত জমতে থাকে অথবা সম্পদের পর সম্পদ জমতে থাকে যেগুলো হয়তো জীবনে কখনোই ভোগ করা হয় না! 
অথচ কেউ সবকিছু ছারখার আর তছনছ করে এই টাকা ইনকাম করতে মরিয়া। 
 
কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় জীবনে কেন পড়াশোনা করেন? টাকার জন্য নাকি সম্মানের জন্য? অধিকাংশই বলবে সম্মানের জন্য... 
 
তবে সম্মান নষ্ট করে টাকা উপার্জন কেন?....


 

Monday, March 8, 2021

কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর

 

1. কভিশিল্ড - এটা কি ভারতীয় ভ্যাকসিন? 
 
না! এটা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এর বিখ্যাত ভ্যাকসিন রিসার্চ কেন্দ্র - জেনার ইনস্টিটিউটে ডেভেলপ করা অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন যার কমার্শিয়াল ম্যানুফ্যাকচারিং কন্ট্রাক্ট বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানি এস্ট্রাজেনেকার| ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট এস্ট্রাজেনেকার নামের প্রোডাক্ট AZD1222 ও এস্ট্রাজেনেকার লাইসেন্স নিয়ে সিরাম ইন্সটিটিউট কভিশিল্ড নামে একই প্রোডাক্ট বাজারজাত করছে| শুধু বাংলাদেশ নয় - ধারণা করা হচ্ছে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন টার সারাবিশ্বের সাপ্লাই এর ৬০ % এর বেশি সাপ্লাই ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকেই যাচ্ছে! 
 
2. আমার ডায়বেটিস কন্ট্রোল এ নেই - আমার কি ভ্যাকসিন নেয়া ঠিক হবে?
 
আপনার ডায়বেটিস কন্ট্রোল এ থাকে আর না থাকে - ভ্যাকসিন নিন! ভ্যাকসিন এর সাথে ডায়বেটিস এর কোন সম্পর্ক নেই! কিন্তু ডায়বেটিস এর সাথে কোভিড এর সম্পর্ক আছে, ডায়বেটিস থাকলে সিরিয়াস কোভিড বা কভিডে মৃত্যুর হার বেশি! তাই ডায়াবেটিক রুগীদের ভ্যাকসিন নেয়া নেয়া অতিবেশি জরুরি!
 
3. আমার এজমা, হাঁচি, নাকে এলার্জি, সর্দি কাশির ক্রনিক সমস্যা! আমার কি ভ্যাকসিন নেয়া ঠিক হবে ? 
 
অবশ্যই! এই ধরণের এলার্জি ভ্যাকসিনে কোনো সমস্যা করবে না! অনেকের লাইফ থ্রেটেনিং এলার্জিক এনাফাইলেক্টিক শক হয় চিংড়ি মাছ ইত্যাদি তে| এই গ্রূপের মানুষ জন সাথে একটা এপিনেফরিন ইনজেকশন রাখতে পারে অথবা টিকা কেন্দ্রে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন! 
 
4. যাদের ইম্মিউন সিস্টেম উইক - যারা স্টেরয়েড, ইম্মিউনোসাপ্রেসিভ ঔষধ এর উপর নির্ভরশীল অথবা যার বোন ম্যারো বা অন্যান্য ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট রিসিপিয়েন্ট - তারা কি এই ভ্যাকসিন নিতে পারবেন? 
 
- হ্যা পারবেন! এই ধরণের রুগীদের কভিড এ মৃত্যুর হার অনেক বেশি! এরা ভ্যাকসিন এর জন্য হাই প্রায়োরিটি গ্রূপ! 
 
5. ক্যান্সারের রুগী বা যারা কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন থেরাপি পাচ্ছেন তারা কি এই ভ্যাকসিন পেতে পারেন? 
 
অবশ্যই! কভিড এ ক্যান্সার এর রুগীদের মৃত্যুর হার অনেক বেশি| ক্যান্সার রুগীদের সবার আগে গিয়ে ভ্যাকসিন নেয়া দরকার| 
 
6. ভ্যাকসিন নেয়ার পর অনেক মানুষের মৃত্যুর খবর শোনা যাচ্ছে| আমি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন! 
-
এব্যাপারে শঙ্কার কিছু নেই| আজ পর্যন্ত সারা বিশ্বে ১৪ কোটি মানুষ কোভিড ভ্যাকসিন পেয়েছেন! এখন পর্যন্ত কোভিড ভ্যাকসিন এর কারণে একটি মৃত্যু হয় নি! কেউ মারা যেতে পারেন ভ্যাকসিন নেয়ার কিছুদিন পর - কিন্তু ভ্যাকসিন এর কারণে না| 
 
7. অনেকে বলছে ভ্যাকসিন নিলে পুরুষত্ব চলে যায় অথবা অনেকে বলছে এই ভ্যাকসিনের এফেক্টে বাচ্চা কাচ্চা না হতে পারে! 
 
এগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও বাজে কথা! এর মধ্যে সত্যের লেশমাত্রও নাই! 
 
8. আমার এক মাস আগে কোভিড হয়েছিল - আমি কি ভ্যাকসিন নেবো? 
 
অবশ্যই! কোভিড হোক আর না হোক, যত আগেই কোভিড হোক, এক মাস হোক আর এক বছর হোকে, আপনি ভালো হয়ে গিয়েছেন - ভ্যাকসিন নিন! এমন কি প্রথম ডোজের পর কোভিড হয়েছে - তারপর ও সেকন্ড ডোজ নিন | তবে কোভিড নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় টিকা কেন্দ্রে গেলে অন্যান্য দের ইনফেক্ট করার সম্ভাবনা| তাই সুস্থ হবার পর ইনফেকসাস পিরিওড শেষ হবার পর সেকন্ড ডোজ নিন| 
 
9. কোভিড ভ্যাকসিন থেকে কি কোভিড হতে পারে? - না! 
 
10. কোভিড ভ্যাকসিন নিলে কি এর এফেক্টে পরে কোভিড টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে? - না! 
 
11. প্রেগন্যান্ট বা নার্সিং মা রা কি ভ্যাকসিন নিতে পারবেন ?
 
 - হ্যা পারবে! ( অনেক সরকারি সাইট বলছে ডাক্তারের পরামর্শ নিন! আমার পরামর্শ : আমি হ্যা বলছি! যুক্তরাষ্ট্রে এ প্রেগন্যান্ট হেলথ কেয়ার ওয়ার্কার রা সবাই এই ভ্যাকসিন নিয়েছেন| হাজার হাজার!
একটা সরকার ও সংগঠনের অনেক লিগ্যাল সীমাবদ্ধতা থাকে - তাই কিছু ক্ষেত্রে বলতে হয় আপনার ডাক্তার এর সাথে যোগাযোগ করুন| সরকার গুলো সরাসরি হ্যা বলছে না - কারণ ফেইজ থ্রি ট্রায়াল এ প্রেগন্যান্ট দের ইনক্লুড করা হয় নি| কিন্তু সব প্রিক্লিনিকাল স্টাডি তে দেখা গেছে এই ভ্যাকসিন প্রেগন্যান্সি তে পুরোপুরি সেইফ! আমরা অনেক ঔষধ ইউজ করি শুধুমাত্র প্রিক্লিনিকাল স্টাডির উপর ভিত্তি করে|)
 
12. আমার বাচ্চাদের কি হবে? ওদের কি ভ্যাকসিন নিতে হবে? এই মুহূর্তে শুধু মাত্র ১৬-১৮ বছরের উপরের বয়স যাদের তাদের জন্য ভ্যাকসিন এপ্রভ হয়েছে| আশা করা যাচ্ছে আগামী শীতে বাচ্চারাও এই টিকার আওতাভুক্ত হবে!
 
১৩. অনেকে বলছে এই ভ্যাকসিন নাকি আমাদের ডিএনএ আর জিন পরিবর্তন করে দিতে পারে? - সম্পূর্ণ অমূলক! পুরোপুরি ভিত্তিহীন বাজে কথা! 
 
১৪. কভিশিল্ড ভ্যাকসিন ৬৫ উর্ধ বয়সীদের জন্য কতটুকু কার্যকর? - 
 
এই ভ্যাকসিন টার অনুমোদন দেয়ার সময় WHO টেকনিক্যাল কমিটি বিভিন্ন বয়সওয়ারী এর কার্যকারিতার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছে এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ৬৫ উর্ধ বয়সীদের ক্ষেত্রেও এই ভ্যাকসিন কার্যকর| 

Thursday, February 4, 2021

সুতরাং এখনই ঠিক করো কি করবা?

প্রিয়,অনুজ।
 
তোমরা যারা এইচএসসির পর ডাক্তার হইছো।তারা ডাক্তার হওয়ার পর এবার ফরেন,এডমিন,পুলিশ ক্যাডার হও।এমবিবিএস একটা গ্রাজুয়েট ডিগ্রী,এমবিবিএস পাশ করছো বলে ডাক্তারীই করতে হবে কোন কথা নাই। একবার চেষ্টা করে দেখো।
 
যে কষ্ট করে তুমি এফসিপিএস/এমডি/এমএস করবা তার ২০% কষ্ট করে যে কোন ক্যাডারে চান্স পাবা।শুধু ডিটারমিনেশনটা লাগবে।৩৮ এর রেসাল্ট দেখে ভাবো তো সামনের কোটামুক্ত বিসিএসে কি হতে যাচ্ছে?
 
আমরা এমবিবিএস এ যে পরিমাণ পড়াশুনা করি,আর কোন সাবজেক্টের মানুষ করে?প্রতিদিন ৩ঘন্টা ৬ মাস বাংলা,অংক,ইংরেজি,সাধারণ জ্ঞান পড় তারপর দেখ কি হয়?
মনে রাখবা "যারা আগে সেরা তারা পরেও সেরা"।তোমরা যেখানেই যাবা সেখানেই ভালো করবা।
এটাই পৃথিবীর নিয়ম।
 
★তাহলে ডাক্তার কেন হইছো?
 
-সহজ উত্তর -না বুঝে।
আরেকটু চিন্তা করলে উত্তর হবে,
মানুষ সবসময় তার অবস্থান থেকে বেটার অপশন খুঁজে।এইচএসসির পর বেটার অপশন ডাক্তারী বা ইঞ্জিনিয়ারিং তাই সবাই সেগুলো বেছে নেয়।বিসিএস।দিতে গেলে বেটার অপশন ফরেন,এডমিন,পুলিশ,কাস্টমস.... সুতরাং এখানেও বেটার অপশন খোঁজা উচিত।
 
★ফরেন,এডমিন,পুলিশ কেন হবা?
-কারণ ডাক্তারীর এদেশে বেইল নাই।টেম্পু এক্সিডেন্টে তিনজন আহত হলে ১ জন ডাক্তার থাকে।বিশ্বাস না হলে রিক্সায় উঠে বলবা তুমি ডাক্তার।দেখবা রিক্সাওয়ালা বলবে তারা মামাতো সালাও ডাক্তার।সুতরাং সবার ডাক্তারী করা লাগবে না রে ভাই।
আর যারা ডাই হার্টেট ডাক্তারী করবা,তারা ভাগো।টিভির পর্দায় ফেরদৌস ভাই,তাসবীর স্যাররে দেখো না?
বাংলাদেশে থাকলে নিজের টাকায় প্লেন ভাড়া করা তো দূরে, শালির বিয়েতে ১ টা শাড়িও দিতে পারবা না।
 
★তাহলে ডাক্তার হইছো দেশের সেবা করার জন্য তো এখন দেশসেবার কি হবে?
-টাকা থাকলে ডাক্তার দিয়া বাড়ি/দেশ ভরায় ফেলতে পারবা।দাদার নামে দাতব্য হাসপাতাল দিবা,আল্লাহ ওয়াস্তে ঔষধ দিবা।পুরো মাসে ৫০ হাজার খরচ করলে হবে।আমেরিকায় রেসিডেন্সী শেষ করলে তোমার বেতন শুরু হবে ৫-৬ লাখ দিয়ে।চাইলে জীবনের প্রথমদিন থেকে তুমি দাদার নামে চ্যারিটি,মসজিদ মক্তব বা মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্ব নিতে পারবা।ফেরেস্তারা আসমানে তোমার জন্য দোয়া করবে।মাটিতে জনগণ তোমার নামে চায়ের কাপে ঝড় তুলবো।
আর দেশে থাকলে, গ্রামের ঈদের নামাজে শেষে গিয়া পিছনের কোনায় দাঁড়াবা,নামাজ শেষ করে দৌড় দিবা।কারণ মসজিদ কমিটি তোমাকে টাকার জন্য ধরবে তুমি এলাকার ডাক্তার,কিন্তু টাকা তো তোমার নাই।দিলেও বড়জোর ২০০০-৫০০০ দিতে পারবা।দেখবা এলাকার দূর্নীতিবাজ,ঘুষখোর রা তোমার ৪ ডাবল দিছে।তুমি হয়তো দানের সওয়াব পাবা,কিন্তু কমিটির কাছে বেইল পাবা না।
 
★ ফরেন,এডমিন,পুলিশে যেতে হলে কি করতে ভাইয়া?
-যারা ডিটারমাইন্ড তাদেরকে বলবো প্রথমে মেডিকেলের বইগুলো কোন লাইব্রেরিতে দান করে দাও।খবরদার কোন চেম্বার করবানা।
"ঘাটের ডিঙ্গি না পোঁড়ালে নদীতে ঝাঁপ দেয়ার সাহস কোনদিন হবে না।"
সুতরাং প্রথম কাজ ডিঙ্গি পোঁড়ানো,মেডিকেল বইপত্র দান করে দাও,বেঁচে দাও।
 
★ আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী জিজ্ঞেস করেছেন আমি এত হতাশ কেন?
-আমি তাদের বলেছি,চিকিৎসক হিসেবে আমি সবসময় গর্বিত।কিন্তু স্বাস্থ্য ক্যাডার নিয়ে শুধু আমি না এদেশের ৯৯.৯৯% ডাক্তার হতাশ।
 
★৫-৬ বছর ভুলে ডাক্তারী শিখছে বলে সারাজীবন ভুল করার কি মানে?
 
আমি স্ট্যাটাস লিখেছি তরুণ চিকিৎসকরা যেন চিন্তা ভাবনা করে নিজের ক্যারিয়ারটা সাজায়।বাংলাদেশের ইতিহাসে কেউ কি শুনেছে কোন যুগ্ম সচিব বা পুলিশ কমিশনার সাহেব তো অনেক দূরের কথা উনাদের বাড়ির দারোয়ারকে কেউ গালি কিংবা মারার সাহস দেখিয়েছে? কিন্তু প্রতিদিন ডাক্তার পেটাচ্ছে।কেউ কি তোমার জন্য কিছু করেছে?সারাজীবন মানুষের চিকিৎসা করলা আর মানুষ তোমার মাথা পাটাই মেরে ফেললো,এই মাথায় যদি মেডিকেল টা না ডুকাও মাথা টা অন্তত বাঁচবে।মাথা ভর্তি জ্ঞানের চেয়ে একটা চেয়ার/ইউনিফর্মের দাম এদেশে অনেক অনেক বেশি।
 
★ কয়েকজন বলেছে, যে ডাক্তার ফরেন,এডমিন,পুলিশে যাবে সেও একরকম হবে ডাক্তারদের জন্য কিছু করবে না।
 
-আমি মনে করি যে যেখানে যাবে তার কাজ করুক।তারা ডাক্তারদের জন্য কিছু করার দরকার নাই।তারা তো এই বঞ্চনা থেকে বাঁচলো।একজন সিনিয়র হিসেবে আমি চাই,আমার জুনিয়ররা নিজে অন্তত বেটার থাকুক।
 
★দেখো যারা বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা,ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছে তারা কিন্তু সেসব দেশে সুনামের সাথে ডাক্তারী করছে।
তার মানে আমাদের ছেলেরা পটেনশিয়াল।আচ্ছা ভাবোতে ডা.তাসবীর স্যার যদি আমেরিকায় না গিয়ে বাংলাদেশে থাকতেন,উনাকে কোন মিডিয়া ডাকতো?কেউ চিনতো?
উনাদের লাইফস্টাইল দেখো একেকজন গাড়ি,বাড়ি,নিরাপত্তা বাদ দিলাম..বিশাল বিশাল ম্যানশন,ফার্ম,লেইক পর্যন্ত কিনছেন।আবার তারা দু'হাতে দেশের জন্য দিচ্ছেন।১ লাখ ডলার এক্স-সিএমসিয়ানরা চট্টগ্রাম মেডিকেলকে দিয়েছে।
 
বাংলাদেশ থাকলে আমি সিওর উনারা হয় নবম গ্রেডের মেডিকেল অফিসার,ভাগ্য খুব বেশি ভালো হলে এসিসট্যান্ট বা এসোসিয়েট প্রফেসর হতেন।
সুতরাং এখনই ঠিক করো কি করবা?
 

Monday, January 4, 2021

কোভিড থেকে বেঁচে ডিসচার্জ নিলেই কি ভোগান্তি শেষ? লং কোভিড কী জিনিস?


১. বাংলাদেশে অনেকেই কোভিডকে পাত্তা দিচ্ছে না এই ভেবে যে মৃত্যুর হার তো দেশে কম। যার আপন পরিবারের উপর এসে লাগছে না তারা ছাড়া সবাই খুব নিশ্চিন্তে আছে। কিন্তু অনেকের সাথে কথা বলে, নিজের ও নিজের রোগীদের অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে আসলেই অনেক ভোগান্তি আছে লং টার্ম।
 
২. যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগ্যান স্টেইটে একটা স্টাডি করেছে দেখার জন্যে যে কোভিড হওয়ার ৬০ দিন পর রোগীরা কেমন আছে দেখার জন্যে। তাদের প্রশ্ন একটাই - দুই মাস পর রোগীর হইলটা কি? 
 
৩. প্রথমত তাদের মৃত্যুর হার অনেক বেশি - ১৬৪৮ রোগীর মধ্যে ৩৯৮ জন হাসপাতালেই মারা যায়। তাছাড়া ১২৫০ জন যাদের ডিসচার্জ করা হয় তাদের মধ্যেও ৮৪ জন ডিসচার্জের পর মারা যায়। তাদের মৃত্যুর হার ২৯.২% মোট!! যারা বেঁচে যায় তাদের মধ্যে আরো ১৮৯ জন কে (১৫.১%) পুনোরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে দুই মাসের মধ্যেই। 
 
৪. ডিসচার্জ করা রোগীদের মধ্যে ৪৮৮ জনকে ফোনে ইন্টার্ভিউ করা হয়। ৩৩% এর এখনো কাশি, শ্বাসকষ্ট রয়ে গিয়েছে। ২৩% রোগী এখনো সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গেলে প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে ভোগে। ১৯% রোগীর উপসর্গে কোন উন্নতি হয় নাই, বরং অনেকের অবনতিও হয়েছে। 
 
৫. আরো ভয়ংকর হলো যে ৪৯% বলেছে যে তাদের মানসিকভাবে দুর্বল লাগছে, কষ্ট হচ্ছে। প্রায় ১০% রোগীর জীবনের সব সেভিংস শেষ। ৭% বলছে যে তারা হিসেব করে খাবার কেনা, র্যাশান করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে কারণ টাকার টানাটানি।
 
৬. যারা আগে চাকরি করত তাদের ৪০% এখনো কাজে ফিরে যেতে পারেনাই। যারা পেরেছে তাদের ২৬% সময় কমিয়ে কাজ করছে কারণ ফুল ডিউটি করার মত অবস্থা নাই।
 
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হয়তোবা একটু কম হবে সংখ্যাগুলা যেহেতু আমাদের পপুলেশান অনেক ইয়াং। কিন্তু যাদের হয়েছে বা পরিবারের কারো সিভিয়ার কোভিড হয়েছে তাদের প্রশ্ন করে দেখুন। 
 
আর্থিকভাবে, মানসিকভাবে কী যন্ত্রণা গিয়েছে তাদের। পরিবারের একজনের আইসিইউতে ভর্তি হলেই ঋনে চলে যেতে হয়েছে অনেকের। যখন যা ইচ্ছা তাই করছেন, ভেবে দেখবেন যে একবার আসুস্থ হলে, বা পরিবারের কেউ হলে কী দুঃখ যে করা লাগবে।
 

 

Sunday, October 25, 2020

কেউ কি আমায় একটু কু-রুচিপূর্ন কথাবার্তার কোন সজ্ঞা দিবেন...???

আমরা আসলে কু-রুচিপূর্ন কথা বলতে কি বুঝি...???
 
একটা পোস্টে 100 এর বেশি কমেন্ট হলেই সেখানে কিছু কমেন্ট এমন থাকে যে "ডাক্তাররা এমন কু-রুচিপূর্ন কথা বলে যা কোয়াক দের থেকেও খারাপ" বা "এমন কু-রুচিপূর্ন কথাবার্তা ডাক্তার সমাজ থেকে আশা করা যায় না"
 
কেউ কি আমায় একটু কু-রুচিপূর্ন কথাবার্তার কোন সজ্ঞা দিবেন...??? 
 
Just for curiosity. 
 
এমন একটা গ্রুপে কেউ কি পোস্ট দাতাকে গালি-গালাজ করে...???
কেউ কি তাদের পার্সোনাল লাইফ নিয়ে উল্টাপাল্টা বলে...???
নাকি কেউ " দেখে নিবো পারলে সামনে আসিস "এমন কিছু বলে...???
 
যদি বলে থাকে প্রমান সহ এডমিনদের দিন তারা তাকে ব্যান করে দিক। সহজ সমাধান।
কিন্তু তা না করে কেউ কেউ পুরো ডাক্তারদের বিশেষ করে জুনিয়র ডাক্তারদের উদ্দেশ্য করে এমন কমেন্ট গুলি করে থাকেন...!!! ক্যানো স্যার আপনার কি ক্ষতি করেছে তারা...???
 
ডাক্তার অন্য পেশায় গেলে আপনার সমস্যা...!!!
ডাক্তার E-commerce এ মাছ, ভাত, বিরিয়ানি বেচলে আপনার সমস্যা....!!!
ডাক্তার CMU করলে আপনার সমস্যা...!!!
ডাক্তার PGT করলে আপনার সমস্যা...!!!
ডাক্তার GP করলে আপনার সমস্যা...!!!
ডাক্তার খ্যাপে গেলে আপনার সমস্যা...!!!
 
 
এতো এতো সমস্যা দিতে পারেন, একটা সমাধান সাথে লিখে দিতে পারেন না...???
 
 
জ্বর থেকে শুরু সব রোগী ই তো specialist রা দেখে, রেফারেল সিস্টেমের 'র' ও তো তৈরি হলো না আজ প্রযন্ত।পারলে সেটা করা হোক... জ্বর সর্দিকাশির চিকিৎসা দিতে দিতে অনেকেই সিম্পটোমেটিক চিকিৎসার বাইরে কিছু চিন্তা করতে পারে না,ডায়াগনোসিস প্রেস্ক্রিপশনে লিখতে অনেকেই হ্যাজিটেট থাকে...এই কাজ তো জুনিয়র রা করবে ভাই... তারা জ্বর সর্দিকাশির চিকিৎসা দিবে আর আপনার কাছে রেফার্ড করবে " যান স্যারকে দিয়ে চেক করিয়ে নেন"।এখন বলতে পারেন আমাদের জুনিয়ররা তো ওতো ভাল না যে রোগী ছাড়বে, তো ভাই আপনি কি করতেছেন, আপনিও তো ছাড়ছেন না।সেই দূর গ্রামে গিয়ে ও দেখা যায় আপনার একটা চেম্বার রয়েছে। জুনিয়ররা দিন কিভাবে চালাবে শুধু আপনার এসিস্ট্যান্ট হয়ে আর আপনার হাস্পাতালের MO হয়ে...??? এটাই কি চাচ্ছেন সবাই...!!!
 
 জুনিয়র দের কোন ব্যাবস্থা না করে শুধু ভুল ধরার পক্ষে আমি নেই...
 
 
বেশিরভাগ পোস্ট এর কমেন্ট গুলি এনালাইসিস করলে দেখাযায় পোস্টগ্রাজুয়েট করা ডাক্তারগন ও অনেক নারী চিকিৎসক গন এসবের বিরুদ্ধে বেশি বলে থাকে... এর কারন কি আমার জানা নেই, নৈতিকতা বিরোধী সকল কাজকে আমি নিজেও ঘৃণা করি,কিন্তু CMU করা PGT করা মানেই সে সেটা কিছুই পারে না বা সে মেডিকেল সাইন্স নিয়ে ছেলেখেলা করছে এমন তো না...!!!
কিছু খারাপ লোক আছে,সেটা কোথায় নেই...??? বড় বড় ডিগ্রী নেয়া ডাক্তারের মধ্যেও আছে কিন্তু তাই বলে সবাইকে এক পাল্লায় মাপা কি উচিৎ...??? 
 
মেডিকেল কলেজ আসলে মিডেলক্লাস বা লো ক্লাস থেকে আসা ছাত্রদের জন্য ই না, মেডিকেল হলো এলিট শ্রেণীর জন্য... তাদের জন্য যাদের বাবা অথবা হাজবেন্ড সাপোর্ট রয়েছে...6 বছর কোর্সের পরেও যার বাবা বলতে পারবে মা তুমি পড় আমি খরচ চালাচ্ছি অথবা হাজবেন্ড বলবে "ওগো আমি আছি, তুমি শুধু বড় ডাক্তার হও"
 
আর ড্রামাটিক পরিবর্তন করতে হলে চুরি ডাকাতি অনেক কিছু আছে তা করবে, ডাক্তারির মত মহান পেশায় এসে CMU PGT এসব করে এই পেশাকে কলংকিত করার অধিকার কারো নাই...
MBBS কোর্স টা 10 বছর করা যায় কিনা ভেবে দেখবেন,একসাথে post-graduation সহ তাতে অন্তত জুনিয়র ডাক্তারদের দুঃখ কিছুটা ঘুচবে আর বড় বড় ডাক্তারদের মাথাব্যাথা ও কমবে...
ভুলত্রুটি ক্ষমা করবেন, ভালো না লাগলে এড়িয়ে যাবেন।
 
 
 শেবাচিম
2011- 12

Sunday, August 9, 2020

এগুলো বহুদিন ধরে চলে আসা ট্রেন্ডের অংশ!

 

এমবিবিএস পাশ ডাক্তার সাধারণত ২০-২৪ হাজার টাকা প্রতি মাসে বেতন পান বাংলাদেশে।

এই বেতন আমাকে কখনোই আকৃষ্ট করে নি! কোন পথও আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না!

প্রথম জব ইন্টারভিউ দেই একটা মাল্টিন্যাশনাল বায়োমেডিকেল কোম্পানিতে। তৎকালীন হোটেল শেরাটনে ইন্টারভিউ হয়েছিল।

যে কোন ইন্টারভিউ তে আমার এ্যাপ্রোচ খুব সহজ- সর্বাবস্থায় সত্য কথা বলা। কনভিন্স করার জন্য মিথ্যা আমি বলি না।

বায়োমেডিকেল কোম্পানিতে বলেছিলাম টাকাটা এমআরসিপি দেয়ার জন্য দরকার। এই বয়সেও বাবার টাকা খেতে খেতে লজ্জা লাগে। সিলেক্টেড হয়েছিলাম, যাইনি আর। কারণ লেখাপড়া বিসর্জন দিয়ে কোন চাকরিতে যাওয়া টা বরাবরই আত্মঘাতী মনে হয়েছে আমার। ওদের শর্তটা ওরকম ছিলো কিছুটা।

এরপর গেলাম একটা ভিন্ন ধারার স্বাস্থ্য সংস্থায়। ইন্টারভিউ বোর্ডে জিজ্ঞেস করলো সামনে তো এফসিপিএস পার্ট- ওয়ান তোমার, মাত্র এক সপ্তাহ আগে ইন্টার্নশিপ শেষ করেছো! তো পরীক্ষায় ক্ষতি হবে না?

বলেছিলাম, পরীক্ষার জন্য ৬ বছর পড়েছি, পার্ট-১ শুধু এই ক‘দিনের চেষ্টায় কেউ পাশ করতে পারে না! আগের কষ্টগুলোই পাশ করার জন্য যথেষ্ট।

চাকরিটা পেয়েছিলাম। কিন্তু ক‘দিন পরেই যখন ছাড়তে গিয়েছিলাম তখন এমডি বলেছিলেন- "আমরা জানতাম তুমি থাকবে না। তবুও কেন যেন ইচ্ছে হলো আমার জামাইর। ও তোমাকে জোর করে নিয়েছিলো!"

আমি তখনো বুঝিনি উনাদের কেন মনে হয়েছিল আমি থাকবো না! কারণ চাকরির বাজারে আমার দাম সম্পর্কে ধারণা তখনো হয় নি!

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বেশিরভাগ ডাক্তারেরই এই ধারণা থাকে না! আর সেই সুযোগে ঢাকা শহরের একজন ভিক্ষুকের আয়ের সম পর্যায়ের স্যালারি হাসপাতালগুলো দিয়ে থাকে এবং তাতেই খুশিমনে সব ডাক্তার রাজি এবং গর্বিত হতে থাকে! অথচ রোগীকে কিন্তু আকাশচুম্বী পয়সা খরচ করতে হচ্ছে- যেটা তার ধারণা ডাক্তারের পকেটেই সিংহভাগ যায়!

সরকারী হাসাপাতালেও প্রচুর অনাচার দেখতে হত।

যেমন একটা খুব ফ্রিকোয়েন্ট ঘটনা ঢাকা মেডিকেলের ইমারজেন্সীতে ঘটতো। রোগীকে অপারেশন করে বা দরকারী চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়ার পরেই দাদুরা (ওয়ার্ড বয়+ আয়া) এককোণে নিয়ে যা বলতো তার ধরণটা মোটামুটি এমন-

"ডাক্তারের ফিস দেন।
- কত?
- দেন যা দিবেন ১০০০, ২০০০ যা দেন!


- ডাক্তাররে তো সরকার পয়সা দেয়! টিকেট কেটে আসছি! তাইলে আবার দিবো কেন?
- আরে বুঝেন না! এগুলা নতুন হইলে কি হইবো? কসাইর মতো লোভ! মইরা গেলাম যন্ত্রণায়!"
রোগী এবার মোটামুটি কনভিন্সড। একজন লোভের শিকার নির্যাতিত গরীব মানুষকে তো পয়সা দেয়াই যায়!

সরকারী হাসপাতালে যত জনের কাছে এমন টাকা দিয়ে থাকেন, সব ১০০% ফ্রি এবং ওই লোকগুলো নিজেরা এভাবেই জীবন ধারণ করে!

মাঝখান দিয়ে ডাক্তারের নামে কালিমা লেপন করে দিয়ে যায়! 

 

আমাদের দোষ এখানে দুটো-

১. এসব পাবলিককে ব্যাখ্যা করে বুঝাই না,

২. দায়িত্বশীলদের হাতে প্রমাণ সহ এদের কীর্তি দেখিয়ে সিস্টেমটা বদলাতে সচেষ্ট হই না।

পুরো মেডিকেল সেক্টরেই ডাক্তারের নাম ভাঙিয়ে কতজন যে পয়সা নেয় তার ইয়ত্তা নেই!

সহজ-সরল বাঙালি আমরা তাতেই বিশ্বাস করি! কারণ নাম ভাঙিয়ে খাওয়া লোকগুলো আপনার আন্চলিক ভাষায় কথা বলে, আপনার মত করেই চটুল কথা বলে, আপনার মতো সাধারণ বেশ-ভূষা নিয়েই চলে- কিন্তু তারাই ঠকিয়ে! নতুন হওয়া ওই ডাক্তারের মন এখনো সম্পূর্ণ পবিত্র, মাথায় রাজ্যের চিন্তা আর হৃদয়ে তারুণ্যের উত্তেজনা। আপনাকে ঠকিয়ে খাওয়ার মত ইচ্ছে বা সুযোগ কোনটাই তার নেই! যা দেখা যায় তার পিছনেও একটু তাকানো উচিৎ।

সেদিন দেখলাম মাসিক ১৬০০০ টাকা বেতনে একটা হাসপাতালে ডাক্তার নিয়েছে, যাকে আবার প্রথম ২ মাসের বেতন দেয়া হবে না! তাতেও সেই ডাক্তার খুব সন্তুষ্ট! এমবিবিএসের পিছনে তার অনেক খরচ হয়েছে তাই!

কাল থেকে দেখছি এক হাসপাতালের এমডি অত্যন্ত বাজে আচরণ করেছে এক ডাক্তারের সাথে! এগুলো বহুদিন ধরে চলে আসা ট্রেন্ডের অংশ! সাথে হুমকি, লান্চনা ও নিরাপত্তাহীনতা তো আছেই! গত কয়েক বছরে নারী চিকিৎসকরাও রেহাই পায়নি এদের হাত থেকে! দেশের মানুষ একটু নরম-সরম দেখলে বাজিয়ে দেখবেই! শক্ত মানুষের সাথে যে এরা পারে না!

সাথে আছে ‘পাশের বাসার আন্টি‘ এর মতো একই লেভেলের বুদ্ধি আর চিন্তাভাবনা সর্বস্ব সাংবাদিকগুলো! প্রশিক্ষণ বিহীন চাকরির ভয়ংকর কিছু উদাহরণ!

হাসপাতালে চাকরি শুরুর ৩ মাস পরেই নানা কারণে বুঝে গিয়েছিলাম দেশে থাকলে ক্লিনিক্যালে থাকা আমার চলবে না! অবনতি হতে হতে জুনিয়র ডাক্তারদের কসাইখানা হয়ে গেছে ওগুলো! সিদ্ধান্ত নিতে তাই দেরি করিনি।

তবে স্বজাতির ভোগান্তি দেখলে খারাপ লাগে, ভীষণ খারাপ লাগে!

Dr Zuhayer Ahmed
MBBS (DMC), 2007-08
MPH (Health Economics),
MSc (Public Health Intelligence),
Chevening Alumnus,
Foreign and Commonwealth Office,
UK.


Tuesday, July 14, 2020

ডাক্তারকে নিয়ে বলার আগে হাজারবার ভাবুন


শারমীন বানু আনাম, আটলান্টা (যুক্তরাষ্ট্র)
প্রথম আলো, ২৯ এপ্রিল ২০২০
 
 
জনগণের এক বুলি, ডাক্তাররা তাদের ট্যাক্সের টাকায় পড়ে ডাক্তার হয়েছে, তাই তাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করতেই হবে। এই ফালতু কনসেপ্ট কে এদের মাথায় ঢুকিয়েছে? বাকিরা কার বাপের টাকায় পড়ে? ওই যে ট্যাক্সের কোটি টাকার গাড়িতে যারা চড়ছে, তাদের একবেলা আপনাদেরই ট্যাক্সের টাকার গাড়িতে লিফট দিতে বইলেন একবার!
 
সরকারি সব স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিই ভর্তুকির টাকায় চলে। মাস্টার্স পাসের পর লোকজনের পড়াশোনার খরচ নাই। ডাক্তারদের আছে। দেশের বাইরে ডিগ্রি আনতে গেলে সে খরচ তো ধরলাম ই না। সেগুলোও পকেট থেকেই যায়। সরকারের ভর্তুকিতে প্রতিটা বাঙালিই পড়ে, প্রাইভেট বাদে। প্রতিটা ডাক্তারই ট্যাক্স দেয়, এভারেজের চেয়ে বেশিই দেয়। তাই ডাক্তারেরা শুধু জনগণের টাকায় পড়ে, সেটা বলার আগে নিজেদের মুখটা চেপে রাখাই উচিত।
 
ভর্তুকি কোথায় নেই? কৃষি খাতে আছে, গার্মেন্টসে আছে, পুলিশ, সামরিক বাহিনী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি—সব জায়গাতেই আছে। আমলাদের বেতন কোথা থেকে আসে?
 
সরকারি বিনিয়োগ না হলে, দান না হলে, ইউনিভার্সিটি হতো না? ব্যক্তিমালিকানায়ও হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দানের জমিতেই প্রতিষ্ঠিত। জনগণের জন্য হসপিটাল না হলে চিকিৎসা হতো না। মেডিকেল কলেজ না হলে, ডাক্তার হতো না জনগণের চিকিৎসা দিতে! মেধাবীরা ডাক্তারিতে না গেলেও হয়তো হতো! কারণ, সন্ত্রাসীরাও পেট ফাড়ে! কিন্তু আপনার অ্যাপেন্ডিক্স বার্স্ট হলে আপনি সন্ত্রাসীর ছুরির নিচে যান না। বিশ্বাস করে কার কাছে যান?
 
ডাক্তার। ডাক্তারের কাছে। কারণ বিশ্বাস। ডাক্তারই একমাত্র আপনার ভালো চায়, আপনার পরে সেভাবেই তাদের ট্রেনিং।
 
তাদের কোনো দিন ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে আপনার অপারেশন করতে?
বা কারও অপারেশন করতে বা দেখাতে? তারা তাদের কাজের দাম নিয়েছে মাত্র।
এখন আসি, যা সবাই বলে, সেবার মানসিকতা! সেটা না থাকলে কার দায় পড়ে ২০-৩০ বছর এক্সট্রা বা বুড়ো বয়স পর্যন্ত পড়তে?
 
সেবার মানসিকতা? আপনি এই কথাটা প্লিজ সবাইকে বলেন, পয়সা নয়, সেবার মানসিকতা নিয়ে পড়াশোনা করেন। প্লিজ এই কথা রাজউককে বলেন, ভূমি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ফার্ম, পুলিশ, পাসপোর্ট অফিস, বিমান, আইনজীবী, রাজনীতিক সবাইকে বলেন। ইভেন মহাখালীর ডিজি অফিসকে বলেন। ঘুষ ডাক্তারের অফিসে যায়, না কোথায় যায়, সেটা আপনারা সবাই জানেন। কেরানি হাজার কোটি টাকা কই পায়?
 
বলবেন তো ডাক্তার কমিশন খায়, ডাক্তার ফার্মাসির পয়সা খায়। ডাক্তার যদি শুধু জেনেরিক ওষুধ লেখে, প্রতিটা ফার্মা আর তার সঙ্গে জড়িত লোক না খেয়ে মরবে। আরও আছে, ওই ওষুধ না লিখলে আপনারা নতুন ওষুধ কোথায় পাবেন?
 
কিন্তু জানেন কি? সরকারি হাসপাতালে দেশে কোনো মেশিনই চলে না। তাদের ২৪/৭ চালানোর পর্যাপ্ত মেশিন নেই। টেকনিশিয়ান নেই। ডাক্তারদের কারণে বা তাদের জন্য?
 
না রে ভাই, ডাক্তাররা ৪২ লাখ টাকার পর্দা, কোটি টাকার মেশিন কেনে না! সেগুলো চালায় না। সেগুলো কে চালায়? প্রশাসন। ফার্মার ওষুধ রোগীদের বিনা মূল্যে কে দেয়? ডাক্তার। তাদের ওষুধ না লিখলে, লাখ লাখ, কোটি কোটি লোক ওই ফ্রি ওষুধ পাবে না।
 
হাসপাতালে টিকিট কে দেয়? হাসপাতালে নিয়ম কারা বানায়? ডাক্তার? না রে ভাই। কলুর বলদের মতো ডাক্তাররা কাজ করে, প্রশাসনের কারণে বদনামের ভাগী হয়। ডাক্তারের কাজ রোগী দেখা, প্রেসক্রিপশন লেখা পর্যন্তই। ওষুধ খাওয়ানো, নল লাগানো, বেড দেওয়া, ট্রলি, খাবার দেওয়া, ফ্লুইড দেওয়া, রক্ত দেওয়া নার্সের কাজ, সহকারীদের কাজ। অত নার্স আছে আপনার? ডাক্তাররা সেই কাজটিও করে, আপনাদের সুবিধার জন্য। একবারও বলে না সেটা তাদের দায়িত্ব নয়।
 
কোনো খারাপ ডাক্তার নাই? থাকতে পারে ০.০০১ শতাংশ, যেখানে অন্য জায়গায় ভালো লোকের সংখ্যা ০.০০১ শতাংশ, পার্থক্য সেখানে।
 
আরেকটা বিষয়, প্রতিটা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কারণই হলো আপনি শিক্ষিত হবেন, স্কিল শিখবেন, ওয়ার্কফোর্সে যোগদান করবেন। ডাক্তারিও তাই, যাস্ট প্রফেশন। যার কাজ সেবা দেওয়া। সেবার বিনিময়ে জীবনধারণের অর্থ উপার্জন করা। শুধু শুধু তাদের কাছে আকাশকুসুম আশা না করাই উচিত। এটা তাদের কাজ। তারা কর্মী মাত্র। তারা রাজা-রানি নয় যে শুধু গাঁটের পয়সায়, বিনা মূল্যের সেবা দিয়ে যাবে। রাজার করও আদায় হয় জনগণের কাছ থেকে। মুলো, আলুটা বিনা পয়সায় পান প্রতিদিন, না ইলিশটা ফ্রি পান?
 
শুধু ডাক্তারের দায় পড়ছে জীবন তেজপাতা করার?
আবার ভাবেন একবার, এরা যদি ডাক্তার না হয়ে, প্রশাসনের সব পদ দখল করত, বাকিরা ডাক্তার হতো- নিজেদের কী অবস্থায় পেতেন?
 
বাঙালি এক ঘরেই থাকতে পারল না দু-চার সপ্তাহ। ডাক্তারের সমালোচনা করার যোগ্যতাই এদের নাই! সমালোচনা করতে হয়; নিজেদের সমালোচনা করেন আগে। সেটা তো পারবেন না। দুনিয়ার সবচেয়ে ভালো মানুষ আপনি। দোষ সব ডাক্তারের।
 
সেবার কথাগুলো চালচোরদের বলেন, বলেন তাদের, যারা সবকিছুতে বাঁশ দেয়, সিমেন্টের বদলে অন্য কিছু দেয়, পয়সা বিদেশে পাচার করে, ব্যাংক চেটেপুটে খাইছে তাদের। এই কথাগুলো যারা রাস্তায় মানুষ মারে তাদের বলেন। এই কথাগুলো যারা রাস্তায় মানুষ নামাল তাদের বলেন। 
 
ভালোমানুষি সুন্দর কথাগুলো তাদের বলেন যারা দূরত্ব বজায় রেখে টেঁটা মারছে, মরদেহ রাস্তায় ফেলে যাচ্ছে, হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছে, মিথ্যে বলে অন্যদের সংক্রমিত করছে, মরলে খাটিয়া দিচ্ছে না, ঘরে জায়গা দিচ্ছে না, তাদের বলেন। সবাই ভালো হলেই বাঁচবেন। এত দিন তো অনেকের হক মারলেন।
 
যারা ঘরে না থেকে সংক্রমণ ছড়াল, তাদের বলেন। যারা চিকিৎসকের ন্যায্য প্রোটেকশন না দিয়ে, নিশ্চিত মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে বলেন, নিজেরা ঘরে লুকিয়ে, তাদের বলেন। যারা চিকিৎসকের পিপিই নিয়ে ফটোসেশন করে বেড়াল, তাদের বলেন কেন তারা এসব করল?
 
আর এখনো কষ্ট করে সবার ঘরে থাকা নিশ্চিত করেন। ১৫০-৫০০ ভেন্টিলেটরের একটাও আপনাদের কপালে জুটবে না। আরও সহজ করে বলি, ওই ভেন্টিলেটর চালানোর জন্য আমার মনে হয় না একজনেরও আইসিইউ লেভেলের ট্রেনিং আছে দেশে।
 
ডাক্তাররা চাইলেই ঘরে বসে আপনাদের তামাশা দেখতে পারত। কিন্তু সেটা তারা করছে না। সংসার- সন্তানদের ফেলে কাজে যাচ্ছে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শেখেন। কৃতজ্ঞতা প্রকাশে কেউ ছোট হয় না।
ভয় করেন। প্রার্থনা করেন সৃষ্টিকর্তার কাছে, যাতে আপনি বা আপনারা সুস্থ থাকেন। আর করোনার পরে যে অর্থনৈতিক ডিপ্রেশন হবে, তার থেকে বাঁচতেও প্রার্থনায় থাকেন।

করোনা আমাদের সামনে স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার কংকাল পর্যন্ত তুলে ধরেছে

তিন মাস আগেও দেশের সকল পেশেন্ট মারা যেতো শুধু চিকিৎসকের অবহেলায়!!!
 হঠাৎ কি হয়ে গেলো এখন মারা যাচ্ছে অক্সিজেন সংকট, যন্ত্রপাতি সংকট, আই,সি,ইউ সংকট, অক্সিজেন মাস্ক সংকট, বেড নেই এসব কারনে!!! 
 
শুনেন রে ভাই আগেও এসব কারনেই মারা যেতো ৯০ ভাগ। তখন সব দোষ ডাক্তারের উপর চাপিয়ে ফেইসবুকে ভাইরাল হবার ধান্দায় না থাকলে বা সব দোষ ডাক্তারের উপর চাপিয়ে নিউজ না করে যদি এসব নিয়ে নিউজ করতেন তবে এই সংকট এখন কিছু হলেও কমতো। ডাক্তার ই স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার একমাত্র সমাধান না। 
 
আগে ডাক্তারদের বাধ্য করেছেন বেড ফুল হয়ে গেলেও বাড়ান্দায়, সিড়িতে, যে চিপাই পাওয়া যায় পেশেন্ট ভর্তি দিতে হবে। ৫০০ বেডের হাসপাতাল সেট আপে ২০০০ পেশেন্টের সেবা দিতে হবে এবং তাও পার্ফেক্ট ভাবে। 
 
করোনা পেশেন্ট যখন বাড়ান্দায় রেখে চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছেনা এখন দেখছেন বেড সংকট। একচুয়ালি বাড়ান্দায় বা সিড়িতে কখনোই কাঙ্খিত সেবা পাওয়া যায়না। তখন বেড বাড়ানোর জন্য সোচ্চার হননি। সিগারেটের দাম বাড়লে আন্দোলন করতে পারেন ১৬ কোটি মানুষের দেশে এতো কম হাসপাতাল বেড কেনো সেটা নিয়ে কিছু বলেন নি। সব দোষ ডাক্তারের ঘাড়ে দিয়ে সমাধান খুজেছেন। 
 
নতুন নতুন হাসপাতাল হোক। আধুনিক হাসপাতাল হোক সেটা চাননি বরং চলে গিয়েছেন ভারত বা সিংগাপুর । এখন যাওয়া যাচ্ছেনা এখন চিল্লাচ্ছেন কোয়ালিটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নেই।
 
ডাক্তারদের উচ্চতর শিক্ষা বা প্রশিক্ষনের কথা কখনো চিন্তা করেন নি নানা ভাবে সেখানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন । তাদের ইউনিয়নেই রাখার জন্য চেস্টা করেছেন সব সময়। ইউনিয়ন সাবসেন্টারে কি সেবা দেয়া হয়??? দুইটা প্যারাসিটামল, বি কমপ্লেক্স দিয়ে রেফার্ড করার জন্য চিকিৎসক প্রয়োজন হয়না স্বাস্থ্য সহকারীরাই পারে।
 
এখন আর ওই দিন নাই যে যোগাযোগ ব্যাবস্থার অবস্থা খারাপ। গ্রাম থেকে মানুষ উপজেলায় আসতে পারেনা। এখন রোগ হলে উপজেলায় না মানুষ ডিরেক্ট জেলায় যায় তাও রেফার্ড হয়ে এবং টাইম লস হয়ে। 
 
কোয়ান্টিটির দিন শেষ, কোনোরকম বাড়ান্দায় রেখে চিকিৎসাদেয়ার দিনও শেষ।
 পর্যাপ্ত সয্যা বাড়ান লাগলে ৩ গুন করেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দিন। চিকিৎসকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করুন। অত্যাধুনিক হাসপাতাল করুন।
 
করোনা আমাদের সামনে স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার কংকাল পর্যন্ত তুলে ধরেছে এর থেকে শিক্ষা না পেলে ভবিষ্যতে কপালে খারাপ কিছুই আসছে। মনে রাখবেন চিকনগুনিয়া যায় ডেংগু আসে ডেংগু যায় করোনা আসে এভাবে চলতেই থাকবে৷
 
কার্টেসিঃ Atiquthzzaman Somap

Friday, February 7, 2020

না তোমার পরিবারে কেউ আছে যে- তোমাকে বুঝবে, আর না তুমি পারবে কাউকে তোমার সিচুয়েশন বোঝাতে.


·

এমন একটা প্রফেশনে ভুল ক্রমে চলে এসেছি, যেখান থেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সবার সাথেই সম্পর্কের চূড়ান্ততম তিক্ততায় জড়িয়ে যাচ্ছি দিনকে দিন!
.
যেখানে এখন আর মানুষ হিসেবে আমায় মূল্যায়নের সময় নেই কারো; বরং চলছে এই প্রফেশনকে ঘিরে ভবিষ্যতের বাকি রয়ে যাওয়া বিবিধ সব ডিগ্রীর বাটখারায় "প্রতিষ্ঠিত হবার" নিয়মিত মাপজোখের চলমান বুলডেজার প্রক্রিয়া।
.
যে বন্ধুকে হাসপাতালের আউটডোর থেকে গ্যাসের বড়ি, ব্যাথার বড়ি তুলে দেয়া লাগতো মেডিকেল স্টুডেন্ট পরিচয় দিয়ে; জোগাড় করে দেয়া লাগতো ডাক্তার হয়ে যাওয়া সিনিয়র রুমমেট ভাইয়াদের থেকে কলম আর প্যাড... সেই বন্ধুই এখন সুযোগ বুঝে ইনবক্সে স্মরণ করিয়ে দেয়, "কোম্পানির লোকজনের কাছ থেকে একটি কলম নেয়াও হারাম!"
.
যেই আমি- কখনো আমায় কেউ ভুল বুঝলে তার সেই ভুল ধারণা ভাঙ্গানোর আগে পর্যন্ত স্থির থাকতে পারতাম না... সেই আমিই জেনেশুনে সবাইকে সুযোগ করে দিচ্ছি আমাকে একটু একটু করে ভুল বুঝবার, দূরে ঠেলে দেবার।
.
মোটামুটি চেনাজানা- এমন মানুষ গুলো ভুল বুঝলেও নাহয় ইগ্নোর করা যায়। কিন্তু আপন মানুষ গুলোই যখন একে একে সব বেঁকে থাকবে, ভুল বুঝবে- সেখানে ভুল ভাঙ্গানোর মত অফুরন্ত সময়, স্ট্যামিনা আসল কথা "ইচ্ছাশক্তি" - কিছুই আর অবশিষ্ট থাকেনা।
.
নিজের পরিবারে বা নিজের পরিজনদের ভেতর সেইম প্রফেশনের কেউ না থাকলে, অন্তত এই যুগে এসে এই প্রফেশনে আমার মতো গোবেচারা কারোই আসা উচিৎ না। না তোমার পরিবারে কেউ আছে যে- তোমাকে বুঝবে, আর না তুমি পারবে কাউকে তোমার সিচুয়েশন বোঝাতে...🙂
.
আর দশজনের জীবনকে দীর্ঘায়িত করতে এসে, কখন যে নিজের জীবনকেই তুমি সংক্ষিপ্ত করে ফেলবা- নিজেও বুঝবা ন

Written by
Golam Mahade Hasan

Thursday, October 17, 2019

আপনি আপনার সম্ভাবনাময় সন্তানটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে কেনো এই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাচ্ছেন?

যারা যারা সরকারি মেডিকেলে টিকেছেন, তাদেরকে অভিনন্দন, যারা যারা ভর্তি পরীক্ষায় ৪০এর কম মার্ক পেয়েছেন, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে কিছু লেখার নাই। মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হকরা পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্টের পরের দিন যে কলামখানা লিখে থাকেন, সেটা পড়ে নিবেন।

এই লেখাটা মূলত প্রায় পঞ্চাশ হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা সরকারি মেডিকেলে টিকেন নাই কিন্তু "পাশ করেছেন" এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মালিক পক্ষের সম্ভাব্য মুরগী হওয়ার অপেক্ষায় আছেন, তাদের অভিভাবকদের জন্য।

আপনার সন্তানকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানোর আগে আরো একবার চিন্তা করুন।

গতবছর (২০১৮-১৯) বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য সরকার ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঠিক করে দিয়েছিলো। এই বছর এই অংকটা আরো বাড়বে। যারা বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়েন, তারা জানেন আইসবার্গের ভাসমান অংশের মতোই এই টাকা হচ্ছে দৃশ্যমান অংশ। এই টাকা দিয়ে কেউই বেসরকারি মেডিকেল থেকে পাশ করে বের হতে পারবেন না। এর বাইরেও নানা ধরণের ফী যুক্ত হয়ে এই খরচ ত্রিশ লাখ পেরোবে।
এখন প্রিয় অভিভাবক, এই ত্রিশ লাখ টাকা দিয়ে আপনার সন্তানের নামের পাশে ডাক্তার লেখার মোহ থেকে বের হয়ে একবার শান্তভাবে চিন্তা করুন।কেনো আপনি তাকে ডাক্তার বানাতে চান। যাবতীয় আদর্শিক বাকোয়াজ আর ছোটবেলার রচনার কথা ভুলে আপনি যদি সৎ হন, আপনি স্বীকার করবেন, স্রেফ স্বচ্ছলতার জন্য, সম্মানের জন্য। এদেশে কালকে যদি কেউ আবিষ্কার করে পালি কিংবা সংস্কৃত পড়ালে প্রচুর টাকা আর সম্মান মিলবে, দলে দলেতো বাচ্চাদের তাই পড়াবেন। সম্মানের কথাতো আপেক্ষিক বিষয়। তারপরও অনলাইনে ডাক্তারদের নিয়ে যে মুখরোচক আলোচনা হয় আর আপনার কাছের ডাক্তার আত্মীয়কে শুনিয়ে শুনিয়ে অধিকাংশ ডাক্তারের নামের আগে যেভাবে কসাই বসিয়ে দেন, তাতে সম্মান কতটুকু আছে, অনুমান করে নিন। বাকী বিষয়টাতে আসি।

আপনার আদরের সন্তানকে এতো টাকা খরচ করিয়ে পড়ানোর পরে তার বেতন কতো হবে জানেন?
ছয় বছর আগে যেসব অভিভাবক ঠিক ত্রিশ লাখ টাকা দিয়ে তাদের সন্তানকে ডাক্তারি পড়তে পাঠিয়েছিলেন, বেসরকারি হাসপাতালে তাদের এখন বেতন ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে। তিন বছর আগে আমি যখন বের হই, তখনো এই বেতন ছিলো, এখনো এই বেতন। পৃথিবীতে অনেক পরিবর্তন ঘটবে, রোনালদো তার আরো কয়েকটা গার্লফ্রেন্ড পরিবর্তন করবে, হয়তো কোনো এক বৃহস্পতিবার সাউথ আফ্রিকা সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে পৌছে যাবে, হয়তো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল থেকে খালেদ মাহমুদ সুজন বিদায় নিয়ে চলে যাবে। সম্ভব, সবই সম্ভব। শুধু একটা ব্যাপার আমি জানি অসম্ভব। সেটা হচ্ছে, বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ডিউটি ডাক্তার নামক যে অসম্মানের মধ্য দিয়ে তরুণ চিকিৎসকরা যাচ্ছে, তার কোনো পরিবর্তন হবেনা। আগামী তিন বছর পরেও এদের বেতনের তেমন কোনো হেরফের হবেনা।

সরকারি মেডিকেলে আমরা যারা পড়ে এসেছি, তাদের জন্য এটা মেনে নেওয়াটা সহজ। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলে যে টাকা দিয়ে পড়াশোনা করেছে, আমিও মোটামুটি একই খরচে পড়াশোনা করেছি। কষ্টটুকুর কথা আপাতত ভুলে গেলাম। কষ্ট ভুলে যাওয়া অনেক সহজ। কিন্তু মধ্যবিত্ত ( আসলে বেসরকারি মেডিকেলে পড়ুয়া অধিকাংশ ছাত্রই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই আসে) পরিবারের ত্রিশ লাখ টাকা খরচ করে পড়া চিকিৎসক তরুণের সামনে যে অনিশ্চয়তা পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে, সেটা উপেক্ষা করা সহজ নয়।
বেসরকারি মেডিকেলে পড়তে থাকা এবং পড়া শেষ করে ডাক্তার হয়ে বের হয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েশনের দীর্ঘ বন্ধুর পথে খাবি খেতে থাকা অনেক তরুণের সাথে আমার পরিচয়। এদের মধ্যে অনেকেই প্রচন্ড মেধাবী। অনেকেই কষ্ট করে তাদের এই প্যাশান এবং ভালবাসার পেশাটায় সফলতার জায়গা তৈরি করে নিচ্ছেন। কিন্তু অধিকাংশই পারছেন না। প্রচুর ধার দেনা করে ফ্রি ভিসায় মধ্যপ্রাচ্য গিয়ে গ্রামের তরুণটি দেখে তার চাকরি নেই। যে দালালের হাত ধরে সে বিদেশে এসেছে, সে পকেটে কয়েক দিনার ঢুকিয়ে দিয়ে সটকে পড়েছে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পরিবারের সঞ্চিত এবং কষ্টার্জিত ত্রিশ লাখ টাকা খরচ করে যে তরুণ চিকিৎসকটি বের হয়, তার চোখে আমি মধ্যপ্রাচ্যে দালালের হাতে প্রতারণার শিকার হওয়া তরুণটির চাইতেও আমি বেশি অনিশ্চয়তা এবং হতাশা খেলা করতে দেখেছি। দালালটি অন্তত পকেটে কিছু টাকা গুজে দিয়ে যায়। বেসরকারি মেডিকেলের মালিকপক্ষকে আমি এর চেয়েও অমানবিক হতে দেখেছি।

ডা. জাফরুল্লাহ সাহেবের গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ থেকে যে তরুণটি ২৫ লাখ টাকা খরচ করে ডাক্তার হয়েছে, তাকে ইন্টার্নির সময় দেয়া হয় সাত হাজার টাকা। ইন্টার্নি শেষে লেকচারারদের বেতন বিশ হাজারের উপরে উঠেনা।
এই রাষ্ট্রের আরো কতো চিকিৎসক দরকার, কেনো এই দুরবস্থা চিকিৎসকদের, কিভাবে ব্যাংএর ছাতার মতো এতো বেসরকারি ( এবং কিছু সরকারিও) মেডিকেল গড়ে উঠে- এই প্রশ্নগুলো অনেক বিতর্ক তৈরি করবে, মন্ত্রীমশায় অনেক অনেক চোখ রাংগাবেন, লিজেন্ডারি অধ্যাপকরা সরকারি মেডিকেলে থাকা অবস্থায় বেসরকারি মেডিকেল থেকে পড়ে সরকারি মেডিকেলে অবৈতনিক ট্রেনিং করতে তরুণটির দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকাবেন, চুড়ান্ত অপমান করবেন এবং অবসর গ্রহণ করার পর একটা বেসরকারি মেডিকেলে প্রিন্সিপ্যাল হয়ে বসবেন।
এসব বড় বড় বিষয় নিয়ে আসলে আমার আপনার কিছুই করার নাই। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে চুড়ান্তভাবে গণবিরোধীরুপে গড়ে তোলা এবং মেডিকেল সেক্টরকে চুড়ান্তভাবে ধ্বংসের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেয়ার জন্য নীতিনির্ধারকদের আপাতত অভিশাপ দিই।

কিন্তু আপনি আপনার সম্ভাবনাময় সন্তানটিকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে কেনো এই অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড় করাতে চাচ্ছেন?

নচিকেতা নীলাঞ্জনার দু:খে দাম দিয়ে যন্ত্রণা কিনে। আপনি ত্রিশ থেকে চল্লিশ লাখ টাকা খরচ করে সন্তানের জন্য এ কোন যন্ত্রনা কিনতে চান

> কালেক্টেড পোস্ট <

দৃষ্টিভঙ্গি হোক, সিম্পিল এমবিবিএস সিম্পিল জীবন ধারণের জন্য যথেষ্ট।

বাংলাদেশে একজন ডাক্তারের প্রতিষ্ঠিত হতে ৪০ বছর বয়স হয়ে যায় বা সিম্পল এমবিবিএস এর দাম নাই। এই কথা গুলো  কমিউনিটির মধ্যে একটি প্রচলিত ব্যাপার বা ধারণা। বাংলাদেশের অধিকাংশ বাবা মা চায় তাদের সন্তান ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হোক।

 কারণ হিসেবে ধরে নেয়া হয় যে, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হলে কর্ম করে বা রোজগার করে চলতে পারবে তার সন্তান। কেউই তার সন্তানকে মানবতার সেবার জন্য ডাক্তার করার মানসিকতা পোষণ করে না। মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের একজন সন্তান যখন ডাক্তারী পড়াশোনা করে তখন তার পরিবার এই আশা পোষণ করে যে, তার সন্তান ডাক্তার হয়ে গেলে পরিবারের দায়িত্ব নেবে বা সহযোগিতা করবে।

কিন্তু পাশ করার পর মাসিক পনের হাজার টাকা ইন্টার্ন ডিউটি করে পরবর্তীতে পোস্ট গ্রাজুয়েশন নামক মরিচিকা আর ক্যারিয়ার বিল্ড করার জন্যে শুরু হয়ে যায় ছোটাছুটি। মাঝে মাঝে বিসিএস নামক ভিন্ন মরিচিকার পিছনে ছোটা। এভাবে করেই একজন ডাক্তার তার জীবনের ১০ থেকে ১২ বছর (খুব ভাগ্যবান হলে) খরচ করে ফেলে। এই সময়টাতে একজন ডাক্তার এবং তার পরিবার কি পরিমাণ কষ্টের মাঝে থাকে তা ভুক্তভোগি এবং আল্লাহ ছাড়া কেউ বোঝে না। এখানে আমার প্রশ্ন আসছে, এত কিছু করে কি লাভ?

একজন ছাত্রের সবকিছু ঠিকভাবে চললে ইন্টার্ন শেষ করতে করতে বয়স ২৫ বা ২৬ হয়ে যায়। এরপর একজন ডাক্তারের জীবনে সবচেয়ে বিভীষিকাময় সময়ের শুরু হয়। এত এত মত আর এত পথ!

 অবধারিতভাবেই সব পথই অত্যন্ত সংকীর্ণ। গুটি কয়েকজনই সে রাস্তা দিয়ে যেতে পারে। তখন বিসিএস নাকি পোস্ট গ্রাজুয়েশন? পরিবারের সাপোর্ট নাকি বিয়ে? চেম্বার নাকি পিজিটি বা অনারারি? খ্যাপ নাকি চাকরি? কি করা উচিত বা তার জন্য কোনটা বেস্ট অপশন তা বুঝে ওঠা সম্ভব নয়।

এই ঘুর্ণিঝড়ে পরে একজন ডাক্তারের আর কিছু না হোক কনফিডেন্স শহীদ হয়ে যায়। লাইব্রেরীতে মাথা গুজে পড়তে পড়তে কুয়ার ব্যাঙ এর মত পৃথিবীর অপার সম্ভাবনাগুলোকে দেখাই হয়না। অথচ এমনটা কি হবার কথা ছিল? 

 এমবিবিএস তো একটা প্রফেশনাল ডিগ্রি। এখানে লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজের আয় রোজগার করাটাই তো প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল। একে যদি বিসিএস বা এফসিপিএস অথবা এমএস/এমডি পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা অর্জনের ডিগ্রী হিসেবে ধরা হয় তবে তা বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। ক্যারিয়ার বিল্ড বা নামের পাশে কয়েকটি অক্ষর বসানোর জন্য যে কষ্ট আর ত্যাগ একজন ডাক্তার বর্তমান সময়ে করে যাচ্ছে তার যৌক্তিকতা আমার কাছে ধোয়াশাপূর্ণ। 
যদি টাকা আয় করা এই ত্যাগের উদ্দেশ্য হয় তবে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যদি পাশ করার পরপরই জিপি প্র্যাকটিস (উপজেলা লেভেলে বা ইউনিয়ন) শুরু করা যেত তবে একজন ডাক্তারের প্রথম কিছুদিন (ধরে নিলাম ২ বছর) কষ্ট হলেও একসময় কিন্তু একটা সুনাম বা পরিচিতি তৈরি হয়ে যাবে। ২৮ বছর বয়সের মধ্যেই একজন ডাক্তার মাসিক ৫০ হাজার টাকা (সর্বনিম্ন ধরে নিয়ে) আয় করতে পারবে সহজেই। যা অন্য কনভেনশনাল বিষয়ে পড়ুয়া পেশার মানুষের কাছে সম্ভব নয়। এটাই কি আমাদের বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল না? যেখানে অন্য পেশাজীবিদের চাকরি ছাড়া আয়ের পথ নেই সেখানে আমার সন্তান বিনা চাকরিতে স্বাবলম্বি হবে। প্রত্যাশা বাস্তবতার মাঝে কত ফারাক!

অথবা সম্মান এবং পজিশন এই ত্যাগের কারণ হয় তবে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে ১৭ কোটি মানুষের মাঝে আপনি একজন ডাক্তার হয়েছেন এটাই কি বিশাল সম্মানের নয়? মেডিকেলে ভর্তি থেকে এখন পর্যন্ত যেকোন মানুষের কাছে যে সম্মান পেয়েছি এর থেকে আর কি চাই? যারা ডাক্তার হয়েও সম্মান বা পজিশন নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন তাদের ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স রয়েছে বলে আমার ধারণা। আর কোন ডিগ্রি বা পজিশন আপনার সম্মানের গ্যারান্টি হতে পারেনা বা অসম্মানের প্রতিরক্ষা হতে পারেনা।

এর বাইরে আসে, নিজের ক্যারিয়ার বিল্ড করা, দক্ষতা অর্জন করা, উন্নত চিকিৎসা দেয়ার যোগ্যতা অর্জন করা। যদি এ উদ্দেশ্য হয়েই থাকে, তবে এর জন্য যে পরিশ্রম বা ত্যাগ সেটা আপনাকে করতেই হবে। তাতে আপনার ৪০ বছর বয়স হোক বা ৫০ বছর সেই বোঝা আপনি নিজেই নিজের কাধে নিয়েছেন। এখানে সিস্টেমের দোষ ধরবেন কেন? ক্যাপাসিটি বিল্ড তো প্রফেসর হবার পরেও করতে হয়। এফসিপিএস ট্রেনিং ৫ বছর হয়েছে কিন্তু এমবিবিএস এর পর এফসিপিএস তো বাধ্যতামূলক কিছু নয়।

আমরা ডাক্তাররা পেশেন্টের রিস্ক বেনিফিট রেশিও ঠিক করে তার চিকিৎসা দেই বা সিদ্ধান্ত নেই। অথচ নিজেদের জীবনের রিস্ক বেনেফিট রেশিওর হিসেবটা মেলাতে আমরা খুবই আনাড়ি। একজন ডাক্তার তার জীবনের প্রথম ৪০-৪৫ বছর যে ত্যাগ করে চলে ক্যারিয়ার বিল্ড করার জন্য তার থেকে অল্পে তুষ্ট থেকে প্রথম থেকেই যদি পেশাগত জীবনে পদার্পন করত তবে লাভ ক্ষতির হিসেবটা আকাশ পাতাল পার্থক্য হত? যদি হয়েও থাকে তবুও মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়ে তরুণ বয়স থেকেই পরিবারকে সাপোর্ট দেয়া অথবা সঠিক সময়ে জীবনের বাকি ধাপগুলো (বিয়ে, সন্তান সন্ততি) সম্পন্ন করা বা পারিবারিক প্রশান্তির কথা হিসেব করলে শেষ বয়সে এসে ঢাকা শহরে দুইটা ফ্ল্যাট আর ব্যাংকে কোটি টাকা বা বিশাল প্রতিপত্তি আর সম্মানের মাঝে খুব বেশি পার্থক্য চোখে পড়ে না।

তাই ক্যারিয়ার বিল্ড/পোস্ট গ্রাজুয়েশন নামক “ম্যাস হিস্টেরিয়া”র মাঝে নিমজ্জিত আমাদের ডাক্তার সোসাইটির মাঝে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো খুবই প্রয়োজন। একদিন এক বাসের পিছনে সহজ ভাষায় লেখা কথাটি বারবার মনে পড়ে “দৃষ্টিভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে”। 

তাই দৃষ্টিভঙ্গি হোক, সিম্পিল এমবিবিএস সিম্পিল জীবন ধারণের জন্য যথেষ্ট।

(এফসিপিএস এর ট্রেনিং ৫ বছর করা হয়েছে এর নিন্দা জানাই। এর ফলে বাংলাদেশের সাস্থ্যসেবা বা এর মান এর কি ক্ষতি হবে সেটা অন্য বিতর্ক। সেটি এর সাথে সম্পর্কিত নয়)

 লেখক নাহিদ জামান
মুল লেখার লিঙ্ক এখানে

Tuesday, June 4, 2019

আসুন লজ্জা পাই .

এক প্রখ্যাত সাংবাদিক ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন “ এই দেশের নিরানব্বই শতাংশ মানুষ আপনাদের উপর আস্থা রাখেনা। গিয়ে দেখুন তারা আপনাদের সম্পর্কে কি বলে? প্রতিবছর এদেশের হাজার হাজার মানুষ পাশের দেশে চলে যাচ্ছে চিকিৎসার জন্য। আপনাদের তবুও লজ্জা হয়না।”

- প্রিয় সাংবাদিক মহাশয়, আমাদের লজ্জিত করে আপনাদের তথ্য-উপাত্তহীন নিরেট বচন ।
এদেশের নিরানব্বই শতাংশ রোগী আমাদের উপর আস্থা না রাখলে তো আমাদের ডাক্তারদের মাছি মারতে হতো। আমাদের সরকারি হাসপাতালের মেঝেগুলো খা খা করতো।
বিকেলে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে যে ডাক্তারেরা, তাদের না খেয়ে থাকতে হতো।

তবু স্বীকার করি এ দেশের অনেক মানুষ পাশের দেশে চিকিৎসা করতে যায়। এবং এও সত্য পাশের দেশ থেকে ফিরে এসে আবার আমাদের কাছেই চিকিৎসা নেয়। এবং স্বেচ্ছায় খুশী হয়েই নেয়। ফিরে এসে তারা এও বলে “গেছিলাম, মনে করছিলাম ..... “। অর্থাৎ তাদের মোহভংগও হয়।
এখন এর জন্য আমাদের লজ্জা পাওয়া উচিত কিনা সেই সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে আমাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে।

হে প্রিয় ইলেকট্রনিক সাংবাদিক, এই দেশের অধিকাংশ মানুষই দেশী চ্যানেল দেখেনা। ইন্ডিয়ান সিরিয়াল দেখে। আপনারা কি লজ্জা পেয়ে আপনাদের চ্যানেল গুলি বন্ধ করে দিয়েছেন? নাকি আমরা কখনো বলেছি আপনাদের লজ্জা পাওয়া উচিত? আমরা তো বরং আমাদের বৌ ঝি দেরই গাল মন্দ করেছি। আপনারাও সভা ডেকে বলেছেন ভারতীয় চ্যানেল দেখানো বন্ধ হোক।

আমরা তো কোনদিন বলিনি আইন করে এদেশের রোগীদের ভারত যাওয়া বন্ধ করা হোক।




 এই দেশের অধিকাংশ তরুনী ইন্ডিয়ান ড্রেস কেনে হাজার হাজার টাকা দিয়ে। দেশের সবচেয়ে বড় শপিং মলগুলি বোঝাই হয়ে থাকে ইন্ডিয়ান শাড়ি,পাঞ্জাবি, থ্রি পিসে। কই আপনারাতো এদেশের বস্ত্র ব্যবসায়ী, ফ্যাশন ডিজাইনারদের লজ্জা পেতে বলেন না? আপনারা বরং দোষ দেন এই দেশের মানুষের রুচি বোধের। দোষ দেন দেশাত্ববোধের।

এই দেশের মানুষ শুধু হেলথ টুরিজমই করেনা। তারা হানিমুনও করে বিদেশে। যে জীবনে কুয়াকাটাই দেখেনি, নীল গিরি দেখেনি সে বেড়াতে যায় পাতায়া বীচে। কি বলবেন একে? আমাদের প্রকৃতি ব্যর্থ? প্রকৃতিকে লজ্জা পেতে বলবেন? আমাদের দেশে নিরাপত্তা নেই এই কি অজুহাত?

ভাই সাহেব, এই দেশের এক শ্রেনীর মানুষ আছে যারা এই দেশে থেকেও এই দেশে নেই। তারা এই দেশের খাবার পছন্দ করেনা, এই দেশের এডুকেশন পছন্দ করেনা, কারিকুলাম পছন্দ করেনা (ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ে)। তারা এই দেশ নিয়ে কোন স্বপ্নও দেখেনা। আমি এদের অনেককেই দেখেছি তাদের নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য নেই। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো তারা বিদেশে ‘সেটেল্ড’ হতে চায়।
আমরা কোন যোগ্যতায় এদের চিকিৎসা দিয়ে আকৃষ্ট করবো?
আস্থা বা বিশ্বাসের কথা বলছেন?
এদেশের কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা।
এদেশের মানুষের নোবেল লরিয়েটে বিশ্বাস নেই, এভারেস্ট বিজয়ে আস্থা নেই।
আমরা ডাক্তাররা কিভাবে সবাইকে হঠাৎ করে আস্থাশীল করবো?

বুকে হাত দিয়ে বলেন, আপনাদের কেউ বিশ্বাস করে? সোশ্যাল মিডিয়াতে চোখ রাখলে দেখবেন। এক মতিঝিলে ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে কতজন মানুষ মারা গেল সেই তথ্যটাই কেউ ঠিক করে বিশ্বাস করাতে পারছেন না কাউকে। না সরকার না মিডিয়া। এদেশের মানুষ বরং বিশ্বাস করে চাদে ‘হঠাৎ দেখা সাঈদি’ কে।

হোমিওপ্যাথির মত অপবিজ্ঞান বছরের পর বছর চলে কোন কমপ্লেইন ছাড়া। আপনারাও মহা সমারোহে তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। সর্পরাজ, জ্যোতিষ রত্নের সবচেয়ে বড় প্রচারযন্ত্রও আপনারাই। আপনারাই বলুন কার লজ্জা পাওয়া উচিত?

আপনাদের বলবার কেউ নেই। সেটাই সমস্যা। কারণ এই সমাজের ক্ষমতার দন্ডটি আপনাদের হাতে। প্রচার যন্ত্রটি আপনাদের হাতে, স্বয়ং নেপোলিয়ন যেটাকে ভয় পেত। আপনাদের গায়ে পোশাক নেই। আর আমাদেরও দুর্ভাগ্য ‘রাজার পোশাক ‘ গল্পের সেই বালকটির দেখা আমরা পাইনি যে আপনাদের বলবে “রাজা মশাই আপনি তো ন্যাংটা”।
এই দেশটা সবার আগে। দয়া করে এই কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করুন।

আর কয়েকটি তথ্য কষ্ট করে জোগাড় করুন।
১. বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার কত আর জাপানের শিশু মৃত্যুর হার কত?
২. বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুর হার কত? আপনাদের প্রিয় পাশের দেশের মাতৃমৃত্যুর হার কত?
৩. বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু দুই দশক আগে কত ছিল আর এখন কত?
৪. বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রনের বর্তমান অবস্থা কি? পাশের দেশের কি অবস্থা?
৫. মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবদান কি আর অন্যান্য খাতের অবদান কি?
প্রশ্ন বেশী হয়ে যাচ্ছে?

আজ এ পর্যন্তই থাক।

তবে সব প্রশ্নের আগে আপনাদের জানতে হবে একটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা নিরুপন করার মাপকাঠি বা প্যারামিটার গুলি কি?
এটা না জানলে উপরের প্রশ্নগুলিতেই আর যাওয়া হবেনা। আপনাদের নির্ভর করতে হবে হসপিটাল ভাংচুর করা রোগীর স্বজনের বক্তব্যের উপর।
আফসোস শুধু এই একটি ক্ষেত্রেই আপনারা আক্রমনকারী সন্ত্রাসীদেরই বিশ্বাস করেন। তারাই আপনাদের রেফারেন্স। তারাই আপনাদের শিরোনাম।
২৭.০৪.২০১৪-collected post from gulzar hossain ujjal

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রধান সমস্যা - আস্থার অভাব?


------- ---+++------
আমাদের দেশের ডাক্তাদের উপর রোগিদের আস্থা নেই বা কম। সরকারি অথবা বেসরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রেও এটি আরো বেশিরকমভাবে খাটে। এর পেছনে নানান কারণ আছে, এবং একটি বড় সময় ধরে এই সব কারণ জমতে জমতে এখন পাহাড় হয়ে গেছে।
ডিগ্রি দেখেই এখন কোন ডাক্তারের প্রতি আস্থা রাখা যাচ্ছে না, উনি ভাল কিনা সেটা আলাদা করে জেনে নিতে হয়। আবার অনেক সময় রোগিরা কয়েকজন ডাক্তারকে একসাথে দেখান, পরে মতামত মিলিয়ে যাচাই করেন কোনটা ভাল চিকিতসা।
এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কি?

 গঠন মুলক আলোচনা কাম্য।

বিস্তারিত আলোচনা এখানে ++++

Tuesday, April 30, 2019

ছবি ২ টি দেখুন



যে দেশে মুততে আর ডাক্তার দেখাইতে সমান টাকা (৫ টাকা) লাগে, সে দেশে থাকতে নেই। পিছু টান না থাকলে দেশ ছেড়ে চলে যা।
বাণীতে ঃ কোন একজন শিক্ষক।
ছবি ও স্ট্যাটাস ঃ সংগৃহীত


Sunday, April 28, 2019

খুব ভালোই বলেছেন মাশরাফি সাহেব

ক্যাপ্টেন, বলেন এখন আপনারে আমরা কি করবো??

" চাকরী করলে নিয়ম মেনে করবেন , বলেন আপনাকে এখন কি করবো ?"

খুব ভালোই বলেছেন মাশরাফি সাহেব...১৫ বছর ধরে বল করেন , আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোন টুর্নামেন্টের কোন কাপ ঘরে আনতে পারেন নি , বিশ্বকাপ তো অনেক পরের ব্যাপার ...২-৩ বছর পর হঠাৎ করে কোন ম্যাচ জিতলে আমরা সবাই লাফিয়ে উঠি ...বেশ বেশ বেশ সাবাস বাংলাদেশ

বলেন তো ,
--কোন দিন মাঠে একজন কম নিয়ে খেলেছেন ?? প্রতিটা হাসপাতালে অর্ধেকের কম জনবল নিয়ে আমরা প্রতিদিন খেলছি ...কোন নিয়মে ??

--একজন ডাক্তার মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদান করে ,আবার মেডিকেল অফিসার হিসেবে অবসরে যান ...কোন নিয়মে??

-- উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে কোন ইমারজেনসি মেডিকেল অফিসার পোস্ট নাই , তবু কেন আমরা ২৪ ঘণ্টা ইমারজেনসি চালু রাখি ...কোন নিয়মে??

--একজন অফিসার যোগদান করলে ৭ দিন পর্যন্ত প্রিপারেটরি লিভ পান , সে লিভ নিতে এমপি সাহেব কে বলে যেতে হবে ...কোন নিয়মে??

--মাশরাফি সাহেব , জীবনে দেশে বিদেশে মাগনা কোন ম্যাচ খেলেছেন ?? গিয়ে দেখেন কত ডাক্তার বছরের পর বছর মাগনা খাটছে ... কোন নিয়মে??

-- এত বড় জেলা সদর হাসপাতাল একজন কনসালটেন্টের পোস্ট কেন ? এত কষ্ট আর সেক্রিফাইসের পর আমরা যখন ডিগ্রী করি , তখন বছরের পর বছর (আমার মাত্র ৩ বছর ) পার হয় প্রমোশন হয় না ...কোন নিয়মে??

--একটি রোগী কে বাঁচাতে ডাক্তার যখন নিজের শরীর থেকে রক্ত দেয় , নির্ঘুম রাত পার করে ...আপনার মতো হর্তাকর্তারা কোন দিন বলেছেন , ডাক্তার সাহেব , থ্যাংক উ ?? বলেন নি... আমরা তা আশাও করিনা ...তাই বলে , সাংবাদিক ডেকে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য ডাক্তার কে অপমান করবেন ...কোন নিয়মে??

-- এমপি সাহেব , জীবনে তো বহু ম্যাচ হেরেছেন... লাখ লাখ টাকা পাওয়ার পরও ম্যাচ হারেন... কোনদিন পাবলিক আপনাদের গাঁয়ে হাত তুলেছে?? আপনাদের ক্রীড়া ভবন ভাংচুর করেছে ?? তবে , রোগী মারা গেলে আমাদের গাঁয়ে হাত তোলা হয় ...হাসপাতাল ভাঙচুর করা হয় ...কোন নিয়মে??

বলেন মাশরাফি সাহেব , আপনাকে আমরা এখন কি করবো ??
DR.Riad Sharif 
ANAESTHESIOLOGIST
 SYLHET MAG OSMANI MEDICAL COLLEGE HOSPITAL


পুনশ্চ ;

নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের ২৭ টি পদের ২০ টি পদই শূন্য!মাত্র ৭টি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৭ জন চিকিৎসক কে! এই ৭ জনের মধ্যে ১ জন সেই অভিযুক্ত সার্জারি কনসালটেন্ট। তার দ্রুত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এরপর ওই ২০টি পদ শূন্য রাখার শাস্তির ব্যবস্থা হোক।
এটা তো স্রেফ প্রতারণা সেই এলাকার জনগনের সাথে!
একটা সদর হাসপাতাল অথচ সেখানে মেডিসিনের ডাক্তার নাই,হার্টের ডাক্তার নাই,চক্ষু ডাক্তার নাই,নাক কান গলার ডাক্তার নাই,রেডিওলোজীর ডাক্তার নাই! এত নাই নাই এর মাঝে আবার সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো অজ্ঞানের ডাক্তার নাই!!
তো মশাই অজ্ঞানের ডাক্তারই যদি না থাকে ওই সার্জন হাসপাতালে ৩০ বছর টানা ২৪ ঘন্টা করে থাকলেই বা লাভটা কি?
সে কি ঘুম পাড়ানী মাসি মিসি গান গেয়ে রোগী ঘুম পাড়িয়ে অপারেশন করবে??
মশাই খুব তো বললেন যদি কোন রোগীর সার্জারির প্রয়োজন হয় তো রোগী কি বসে থাকবে?
শুধু বসে না ওখানে সার্জারির জন্য বসে থাকতে থাকতে শুয়ে যাবে তারপর একেবারে উপরেই চলে যাবে!
আপনার হাসপাতালে তো সার্জারিই হয় না! আর হয় ও নি কোনদিন।আপনি কি জানেন?হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হয়ে তো বসে আছেন!
ওই সার্জন ও বুঝেছে ওখানে তার কোন অপারেশনই করতে হবে না তাই ফাঁকিবাজি করেই দিন কাটাচ্ছে।
এখন আপনি বলেন নড়াইলবাসী আপনারে কি করবে?আপনি তো তাদের জনপ্রতিনিধি! হাসপাতালের এই সমস্যা নিয়ে কোনদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করেছেন?তার কাছে ডাক্তার চেয়েছেন?নাকি সারা মাস দেশে বিদেশে ব্যাট-বল খেলে এসে নড়াইলে যে দুই একটা দিন থেকেছেন তাতে জনগনের সামনে স্ট্যান্টবাজি করে পার করেছেন?
না আপনিই বলেন এই ধোকা এই প্রতারণার জন্য নড়াইলবাসী আপনাকে কি করবে?বলেন আপনি কি করবে তারা আপনাকে?ফাইজলামি করেন?
ওই সার্জনের বিচার হোক,পরে আপনার টা হোক।
ব্যাট-বল অনেক খেলছেন এখন থোন।জনপ্রতিনিধি হইছেন।এই কাজে মনোনিবেশ করেন।
সেই ১৯৮৬ থেকে এইদেশে ক্রিকেট চলতেছে।আজ ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলো বহুদেশীয় তো বাকি থাক একটা ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট পর্যন্ত জিততে পারলেন না।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেচে থাকলে আপনাদের এই ৩৩ বছর নিয়ে 'কেউ কথা রাখেনি-২' লিখে ফেলতে পারতেন!
আর কত?কোন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশই তাদের ক্রিকেট কে এতটা পৃষ্ঠপোষকতা করেনি যতটা আপনারা পেয়েছেন এই দেশে!
কাড়ি কাড়ি টাকা উড়ানো হইছে! কথা রেখেছেন?ওহ কথা দেওয়ার সাহসটাই তো পাননি কখনো!
ব্যাট বল খেলে মাসে মাসে যে লাখ লাখ টাকা নেন ওই টাকা দিয়ে নড়াইল সদর হাসপাতালে বাকি পোষ্টগুলোতে ডাক্তার নিয়োগ করে তাদের বেতন দেওয়া যাবে।তাহলে আর স্ট্যান্টবাজি করতে ঝটিকা সফরে হাসপাতালে যেয়ে হই-হাঙ্গামা করে সাঙ্গপাঙ্গদের দিয়ে তা ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা লাগবে না।

শজিমেক

Wednesday, April 10, 2019

চিকিৎসার জন্য খরচ করতে বাংলাদেশের মানুষের এত অনিহা কেন?!

 🤔
কারণ:
মাস শেষে বেতন পাবার পর সেই টাকায় কি কি হবে তা মানুষ ঠিক করে রাখে। অনেক সময় বেতন পাবার আগেই ঠিক করে রাখে।😌
টাকা জমায় টিভি খাট ফ্রিজ ফ্ল্যাট কিনবে বলে।😊
কেউ এজন্য টাকা জমায় না বা কিছু টাকা আলাদা করেও রাখে না যে হুট করে তার/পরিবারের কারো অসুখ হতে পারে। 🙄
বড় অসুখের কথা বাদ দিলাম। ছোট বা মাঝারি অসুখের জন্য তো একটা প্রিপারেশান রাখা উচিৎ।😇
কিন্তু তা কেউ করে না। আমরা ডাক্তাররাই হয়ত এ নিয়ে ভাবি না। ফলে হুট করে চিকিৎসার কিছু টাকা লাগলে ফ্রিজ বা ফ্ল্যাট কেনার টাকায় টান পরে যায়। তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। মনে হয় এত কষ্ট করে টাকা জমালাম, সেটা এভাবে খরচ হয়ে যাচ্ছে!😭
ফলাফল স্বরূপ ডাক্তার দেখাতে গেলেই মানুষ টাকার দিকে তাকায়। টাকা দিতে কষ্ট হয়। 😨

এক কথায় যাপিত জীবনের সকল ইভেন্টের জন্য টাকা বাজেট থাকলেও চিকিৎসার জন্য কোন বাজেট থাকে না। তাই এ পারপাসে খরচ করতে গেলে মনে হয় এ খরচটা অতিরিক্ত হয়ে গেল।😢
এজন্যই বীমা ব্যবস্থা বা অন্য কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। এজন্য সবার আলাদা একাউন্টও থাকতে পারে।যেখানে ভবিষ্যৎ চিকিৎসার জন্য আলাদাভাবে কিছু টাকা জমা থাকবে। তাহলে এই খাতে ব্যায়কে আর অতিরিক্ত মনে হবে না। ভালভাবে ট্রিটমেন্ট করা সহজ হয়ে যাবে।😌
পেশেন্ট কমপ্লায়েন্স অটোমেটিকালি বেড়ে যাবে।
ডা. আবুল আলা
এসএসএমসি, ৪০ তম ব্যাচ

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Thursday, February 7, 2019

স্বজনদের এসব অপ-তৎপরতার কারনে ক্ষতি হয় রোগীর

বাংলাদেশে সরকারী -বেসরকারী কোন হাসপাতাল এমনকি প্রাইভেট চেম্বারেও ডাক্তারদের কোন স্বাধীনতা নাই
 কিন্ত
এ দেশের রোগী ও রোগীর স্বজনদের স্বাধীনতা অসীম সীমাহীন।
 যখন খুশী যেখানে খুশী সেখানে তারা যাচ্ছে অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে।
এক ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছে,
কিছুদিন পরে সে ডাক্তার ও ডাক্তারের চিকৎসা আর পছন্দ হচ্ছে না,
 রোগীকে নিয়ে যাচ্ছে আরেক ডাক্তারের কাছে।
 সেখানেও স্থির থাকছে না, কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার ডাক্তার বদল করছে।
 রোগীর হাসপাতালে ভর্তি থাকা দরকার, ভর্তি থাকছে, চিকৎসা চলছে কিন্ত রোগীর স্বজনদের তা পছন্দ হচ্ছে না। কখনও DORB দিয়ে কখনো না দিয়েই রোগীকে নিয়ে যাচ্ছে আরেক হাসপাতালে,
 দুই চার দিন পরে সে হাসপাতাল থেকেও রোগীকে নিয়ে আরেক হাসপাতালে।
 স্বজনদের এসব অপ-তৎপরতার কারনে ক্ষতি হয় রোগীর কিন্ত দোষ হয় ডাক্তারদের আর বদনাম হয় হাসপাতালের।

রোগীর স্বজনদের এতো স্বাধীনতা থাকা উচিৎ নয় কারন তা ক্ষতিকর এবং ক্ষতিকর বলেই তা খর্ব করা দরকার। অনেক দেশেই নাকি এই স্বাধীনতা নাই।

মুল পোস্ট এখানে 

Saturday, January 26, 2019

রাস্তায় লাগানো কলিকাতা হারবাল এর পোষ্টার গুলো পড়া বাদ দেন

-"সর্বনাশা ব্যাপার স্যার। আমার বউ টা নষ্টা।"
-জিজ্ঞেস করলাম, "কেন কি হয়েছে ভাই? এ কথা কেন?"

-সে জবাব দিলো, "বউ এর সাথে সেক্স করেছি জানুয়ারীর এক তারিখ। ফেব্রুয়ারীর ১ তারিখ শুনি সে প্রেগনেন্ট। আলট্রাসনো টেস্ট করালাম। রিপোর্ট কইলো বাচ্চার বয়স নাকি দেড়মাস!! এখন আপনি বলেন স্যার, বিদেশ থেকে এসে ওর সাথে থাকলামই ১ মাস ধরে, বাচ্চার বয়স দেড় মাস কেমনে হয়?? নিশ্চই ঘটনা আমি আসার আগে ঘটাইসে সে। আমি বিদেশে কষ্ট করে টেকা কামাইসি আর সে দেশে রং করে বেড়াইসে। রং করার রেজাল্ট এখন তার পেটে। দুই যায়গায় আল্ট্রাসনো করাইসি। রিপোর্ট একই। এদিকে বউ উল্টা আমার উপর রাগ দেখায়। কয় আমি নাকি তারে ভুল বুঝতেসি। কিন্তু আমি তো বেকুব না স্যার। রিপোর্ট তো আমি ই পড়তে পারতেসি। স্পষ্ট লেখা ৬ সপ্তাহের বাচ্চা পেটে। রিপোর্ট দেইখা ওরে পারলে তখনি তালাক দেই। পরে বন্ধুবান্ধব বুঝাইলো যে গোপনে মিটমাট করে ফেলা ভালো। বউ একটা ভুল হয়তো করে ফেলসে। এখন স্যার আমি এত উদার না। আগে ওর পেটের জারজ সন্তান টা নষ্ট করি, তারপর সিদ্ধান্ত নিবো। এখন আপনি বাচ্চা নষ্ট করার উপায় টা বলেন স্যার"

এক নিশ্বাসে লোকটা এতগুলো কথা বলে থামলো।
আমি বললাম, "মিয়া, আপনে একটা বেকুব"
লোকটা থতমত খেয়ে বললো, "কি কইলেন স্যার? আমি বেকুব? ক্যান?"
আমি তাকে ব্যাখ্যা দিলাম,
"পেটের বাচ্চার বয়স যেদিন থেকে আপনি সেক্স করেছেন, সেদিন থেকে হিসেব করা হয় না। যেদিন সেক্স করেছেন তার আগে প্রায় দু সপ্তাহ যোগ হবে। ডাক্তারী হিসেবে সেই মাসে আপনার বউ এর মাসিক যেদিন হয়েছিলো সেদিন থেকে বাচ্চার বয়স গুনা শুরু হয়। কবে সেক্স করেছেন সেটা ম্যাটার করে না।সুতরাং আপনার বাচ্চার বয়স ৬ সপ্তাহ হিসাব ঠিকই আছে। শুধু শুধু বউটারে সন্দেহ করেছেন"
সে লোক বলে, "কি বলেন স্যার? এটা কেমনে হয়? ওর পেটে বাচ্চা দিলামই তো এক মাস হয়। দেড় মাস হবে কেন?"
আমি হাসতে হাতসে বললাম,
"মিয়া আপনি তার ভিতর বাচ্চা দেওয়ার কে??? আপনি বাচ্চার অর্ধেক দিয়েছেন। বাকি অর্ধেক তার পেটে গত ১৪ দিন ধরে তৈরী হচ্ছিলো। এগুলো ডাক্তারী হিসাব। আপনার বুঝা লাগবে না আর। যথেষ্ট বুঝেছেন। এখন যান, বউ এর কাছে যান। ক্ষমা চান। তার সাথে ভালো করেননি"
আরো অনেক্ষন বুঝালাম।
সেই লোক কিছু অবিশ্বাস নিয়েই আমার কাছ থেকে বিদেয় নিলো। পরে সে আরো অনেক ডাক্তারকেই জিজ্ঞেস করেছে। সবাই আমার মতই জবাব দিয়েছে। কিন্তু মানুষের সন্দেহভরা মন বিচিত্র জিনিস। সে ঐ বাচ্চা শেষ পর্যন্ত এবরশন ই করেছে। তবে বউ কে তালাক দেয় নাই।
:::::
যে কোন বিষয়ে "#সাধারন_হিসাব" আর "#মেডিকেলীয়_হিসেব" কখনো এক হয় না। আপনি হয়তো কমন সেন্স দিয়ে মনে করবেন ঘটনা এমন। আসলে ঘটনা টা ছিলো অন্যরকম।
কিছু উদাহরন দিয়ে সাধারন হিসেব আর মেডিকেলীয় হিসেবের পার্থক্য দেখাই,
#উদাহরন-১
❏ ঘটনাঃ
রোগীর প্রেশার অনেক। ২২০/১৪০।
❏ সাধারন হিসাবঃ
"ডাক্তার সাব, এক ঘন্টা হয় রোগী আনলাম এখনো প্রেশার কমিয়ে স্বাভাবিক করতেসেন না ক্যান?? এখনো ১২০/৮০ তে না নামাতে পারলেন না। আপনার চিকিৎসা তো ভালো না।"
❏ মেডিকেলীয় হিসাবঃ
একজন তীব্র হাই প্রেশারের রোগীর প্রেশার কখনোই হঠাৎ করে নরমালে আনতে নেই। ঐ ব্যাক্তিকে ঔষধ দিয়ে যদি সাথে সাথে প্রেশার নরমালে আনার চেষ্টা করা হয়, তাইলে উনি স্ট্রোক করতে পারেন। ধাপে ধাপে এক দু দিন সময় নিয়ে প্রেশার নরমালে আনতে হবে।
#উদাহরন-২
❏ ঘটনাঃ
রোগীর ডাইরিয়া। ১৫-২০ বার হয়ছে।
❏ সাধারন হিসাবঃ
হাসপাতালে নিবো যেন ডাক্তার সায়েবেরা এক্ষন ডাইরিয়া বন্ধ করে দেন। ব্রেক কষাইতে হবে। নাইলে সর্বনাশ!!
"ও ডাক্তার সাব, রোগী হাসপাতালে আনলাম ৬ ঘন্টা, এখনো পাতলা পায়খানা বন্ধ করলেন না। খালি স্যালাইন পুশ দিতেসেন লিটারের পর লিটার। ঘটনা কি?"
❏ মেডিকেলীয় হিসাবঃ
ডাইরিয়া বন্ধ ধীরে সুস্থে হবে। আগে রোগীর শরীর থেকে যে ২-৩ লিটার পানি বেরীয়ে গেছে সেটা ভরতে হবে। প্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিকের সাহাজ্যে ডাইরিয়া ধীরে ধীরে সময় নিয়ে থামুক, নো প্রবলেম। কিন্তু শরীরে পানি যেন ঠিক থাকে। নইলে সর্বনাশ। কিডনী ফেল হবে।
#উদাহরন-৩
❏ ঘটনাঃ
মোটা হওয়া।
❏ সাধারন হিসাবঃ
মোটা হবার আসল কারন হচ্ছে তেল চর্বী জাতীয় খাবার। মুরগীর মাংস গরুর মাংস। যেমন এক ভদ্রমহিলার ভাষ্য,
"ও ডাক্তার সাব!!!, আমি তো কিছুই খাই না। মাছ মাংস সব বাদ দিসি। তাও দিনে দিনে মোটা হইতেসি ক্যামনে? রহস্য কি??"
❏ মেডিকেলীয় হিসাবঃ
মানুষের মোটা হবার পিছনে আসল কারন ভাত, চিনি, মিষ্টি, চকলেট.. ইত্যাদি অর্থাৎ শর্করা জাতীয় খাবার বেশী খাওয়া এবং বসে বসে শারিরীক পরিশ্রম ছাড়া দিন পার করা। চর্বি জাতীয় খাবারই আসল কারন না।
তো উপরের ভদ্রমহিলা সকালে চা তে তিন কাপ চিনি খান, দুপুরে ভরপেট ভাত খেয়ে একটা ভাতঘুম দেন। এগুলো যে মোটা হবার কারন, তা তিনি জানেন ই না। তাই রহস্য বুঝছেন না।
#উদাহরন-৪
❏ ঘটনাঃ
স্বপ্নদোষ..
❏ সাধারন হিসাবঃ
স্বপ্নদোষ হলে শরীরের বিরাট ক্ষতি হয়। শরীর থেকে সব শক্তি বেরীয়ে যায়। দূর্বল হয়ে যেতে হয়। শুকিয়ে যেতে হয়।
❏ মেডিকেলীয় হিসাবঃ
রাস্তায় লাগানো কলিকাতা হারবাল এর পোষ্টার গুলো পড়া বাদ দেন ভাই। পায়ে ধরি।
স্বপ্নদোষ ন্যাচারাল ঘটনা। এতে কোন শারিরীক ক্ষতি হবার কথা না। ওসব পোষ্টার পড়ে পড়ে মনের ভিতর ভয় ঢুকে থাকে সবার। স্বপ্নদোষ হলেই ভাবে কি না কি হয়ে গেল।
মানসিক দূর্বলতা থেকে শরীর ও দূর্বল হয়। মন দূর্বল হয়।
#উদাহরন-৫
❏ ঘটনাঃ
হাত বা পা ভাঙ্গা/মচকানো।
❏ সাধারন হিসাবঃ
হাতে পায়ে মচকেছে বা ভেঙেছে মানে হলো সেখানে মালিশ দিলে ভালো। গরম সেক দিলে আরো ভালো। আরাম হবে।
❏ মেডিকেলীয় হিসাবঃ
হঠাৎ হাতে পায়ে আঘাত পেয়ে ভাংলে বা মচকালে কখনোই মালিশ বা গরম সেক দিতে হয় না।
দরকারে নীচে বালিশ দিয়ে হাত বা পা উচু করে রাখতে হয় এবং ওখানে ঠান্ডা সেক দিতে হয়।
গরম সেক বা মালিশ দিলে নিমিষের মাঝে যায়গাটা ডাবল ফুলে উঠবে। ব্যথা বাড়বে। রক্ত জমাট বাড়বে। এমনকি ফুলে গিয়ে রক্তনালী ও ব্লক হতে পারে।
:::
মূল কথা হলো, কোন মেডিকেল ইস্যু তে কমন সেন্স খাটিয়ে কোন ছোট বড় সিদ্ধান্ত নেবার আগে একবার অন্তত পরিচিত ডাক্তার কে জিজ্ঞাসা করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
কারন এসব ক্ষেত্রে শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রেই কমন সেন্স ধোঁকা দেয়।😥
courtesy : Dr. baapon shahriar parvez