Saturday, June 11, 2016

সবকিছুতেই ব্যতিক্রম আছে । সেটা কখনোই উদাহরন নয়।

সিলেট থেকে ঢাকা আসার পর প্রায় এক বছর প্রতি শুক্রবার একটি উপজেলাতে চেম্বার করার জন্য যেতাম। ফজরের নামাজ পরে রওনা হতাম। রাত এগারো / বারোটায় ফিরে আসতাম । সেখানে দুইটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসার ব্যবস্থা ছিল ।

শেষ পর্যন্ত যাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হলাম। কারন আমার ব্যাপারে তারা মাইকিং করতো না । এই এক বছর সময়ে কোন রকম প্রচারণাই করে নি। কারন তারা জানতো এই ডাক্তার দরকার না হলে রোগীকে টেস্ট করতে দেয় না। ওই উপজেলার ফার্মেসিওয়ালারা আমার ব্যাপারটা আগে থেকেই জানতো । তাই তারা ভুলেও আমার কাছে রোগী পাঠাতো না। দালালেরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতো । ক্লিনিক ২ টির মধ্যে একটির মান মোটামুটি ভালো ছিল। অপরটিতে প্রায়ই এক কক্ষে আমাকে বসিয়ে রেখে অন্য কক্ষে এক লোককে ডাক্তার সাজিয়ে রোগী দেখানো হত। ওই লোক নাকি আগে কোন হাসপাতালের অপারেশন থিয়াটারে কাজ করতো! এখন এই ক্লিনিকে ডাক্তার হিসেবে রোগী দেখে! টেস্ট করায়! যেই টেস্ট এর সে কিছুই জানে না । আমার করার কিছুই ছিল না। কারন আমার হাতে আইনি কোন ক্ষমতা ছিল না।

এক সময় নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে প্রচারণার চেস্টা করেছিলাম। অনেক চেস্টা করেছিলাম স্বাধীনতা আর সততার সাথে ডাক্তারি করে দুই-চার আনা আয় করে মা , ভাই-বোনদের দীর্ঘদিনের আর্থিক দৈন্য কিছুটা হলেও দূর করার । কিন্তু সেটা স্বপ্নই থেকে গেল। এখন সরকারি বেতনে টেনে-টুনে রিযিক চলে।
উপজেলাতে ডাক্তার এবং রোগী উভয়েই ক্লিনিক মালিক আর ফার্মেসিওয়ালার কাছে জিম্মি। এ ধরনের পরিস্থিতির কারনে অনেক তরুণ ডাক্তার সরবোচ্চ চেস্টা করেও যখন আর পারে না , তখন তারা এই 'জিম্মি ব্যবস্থা,র কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

আর অনেকেই সততা রক্ষার্থে হতাশ হয়ে ফিরে আসে। সততা রক্ষা করতে গিয়ে অধিকাংশ খেত্রেই এ ধরনের ডাক্তারদের আর্থসামাজিক অবস্থা হয় খুবই করুণ । মা , ভাই - বোনের মন রাখা সম্ভব হয় না। শতকরা কত জন এভাবে ফিরে আসে আর কত জন নিরুপায় হয়ে ওই 'জিম্মি ব্যবস্থা'র কাছে নিজেকে সমর্পণ করে তার পরিসংখ্যান নেই আমার কাছে।

আর ডাক্তারদের কেউ কেউ এক উপজেলাতে অন্ততপক্ষে একটানা ৪, ৫ বা ৬ বছর থাকতে পারলে পরবর্তীতে তাদের পক্ষে সততা ও স্বাধীনতা রক্ষা করে ডাক্তারি করা তুলনামূলকভাবে কিছুটা সহজ হয়, কিন্তু তবু সবার পক্ষে ১০০% সম্ভব হয় না । এই হচ্ছে নির্মম বাস্তবতা

কেউ যদি এই 'জিম্মি ব্যবস্থা'কে ভেঙে দিতো তাহলে ডাক্তারদের অধিকাংশরাই শুরু থেকেই সততা এবং স্বাধীনতার সাথে মনের সুখে নিজেদের পেশাদারী করতে পারতেন।

এই 'জিম্মি ব্যবস্থা'কে ভাঙার জন্য কেউ এগিয়ে আসবেন কি? না কি অন্ধভাবে শুধু ডাক্তারদেরকে দোষারোপ করেই নিজের কর্তব্য শেষ করবেন?

সবকিছুতেই ব্যতিক্রম আছে । সেটা কখনোই উদাহরন নয়।

ডাঃ মোঃ মাকসুদ উল্যাহ

Tuesday, June 7, 2016

এই দেশ কি সম্পূর্নরূপে প্রস্তুত?

#‎সচেতন_হতে_আর_কত_দেরী_পাঞ্জেরী‬?

--শুনলাম, তোমার আম্মার দুইটা কিডনীই নষ্ট, ডায়ালাইসিস করায়।
--জ্বি, ঠিকই শুনেছেন
--ইন্ডিয়া নিয়া যাচ্ছ না কেন? এদেশের ডাক্তাররা কি কিডনীর চিকিৎসা পারে?কত লোক ইন্ডিয়া থেকে ভালো হইয়া আসলো।
--এটার একমাত্র Definitive চিকিৎসা ডায়ালাইসিস, কিডনী ট্রান্সপ্লান্ট করা যায়, ডোনার পাচ্ছি না।
--(একটু কাছে এসে, ফিসফিস করে) আমার একজন পরিচিত আছে, কিডনীর ব্যবস্থা কইরা দিব।
--নাহ, ডোনার নিজেদের মাঝে হলে ভাল, ম্যাচিং ভালো হয়, কিডনী ট্রান্সপ্ল্যান্ট এর পর ঝামেলা হয় না।নাহলে রোগী রিস্ক এ পড়ে যায়, তাছাড়া এটা বেআইনিও।
--(আরও কাছে এসে), নাও এই নাম্বারটা রাখো, ইনিও কিডনীর ডাক্তার। ডায়ালাইসিস লাগে না, উনার নিজের আবিস্কৃত ওষুধ আছে।
--দুঃখিত, নাম্বার লাগবে না, মেডিকেল সায়েন্স এধরনের কোন ওষুধ স্বীকার করে না।
--তুমি তো খুব যন্ত্রণা করো বাবা!! শুনো তুমি কাছের লোক, আসল কথা বলতে বাধা নাই, উনার জ্বীন সাধনা আছে।
--শুনে খুশি হলাম।আমাকে একটু উঠতে হবে।

ইন্টারকমে ফোন দিয়ে বললাম, যে লোক এখন আমাদের বাসা থেকে নীচে নেমে যাচ্ছে, এই লোক যাতে আমাদের বাসায় আর না ঢুকতে পারে।আসলে বলবেন, বাসায় নাই।

এই হলো এই দেশের সাধারণ জনগণের অবস্থা।এদের আমি খুব একটা দোষ দেই না।সমস্যাটা অন্য জায়গায়। কয়দিন আগে দেখলাম ওই ডাক্তার রীতিমত একটি ফেসবুক পেইজ ওপেন করে তার উদ্ভাবিত ওষুধের প্রচারণা চালাচ্ছেন, যেখানে তিনি প্রচার করছেন যে কিডনী রোগীদের ডায়ালাইসিসের প্রয়োজন নেই।মেডিকেল সায়েন্সটা কি এতটাই খেলো? এদেশের অধিকাংশ ডাক্তারের কি এই ধারণা আছে যে, কিভাবে কত Randomized Controlled Trial, কত Meta-analysis এর মধ্য দিয়ে মার্কেটে এই ঔষধগুলো আসে, তার পর আবার চলে পোষ্ট মার্কেটিং সার্ভিলেন্স।নিজের মনে হলো, আর একটি ঔষধ মার্কেটে ছেড়ে দিলাম!!!এত সহজ!!!--সত্যি সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ।আমি নিশ্চিত, কয়দিন পর এই খবরটাও ফেসবুকে ভাইরাল হবে।

কয়েকদিন ধরে আরেকটা খবর ফেসবুকে হটকেক, স্ট্রোকের রোগীকে হাতে পিন দিয়ে ফুটা করে রক্ত বের করলে রোগী বেঁচে যায়।অনলাইন শিরোনামটাও সেইরকম -" আগে জানা থাকলে আমার বাবা মারা যেত না।" অনলাইন পেপার যারা চালায়, আমার ধারণা তারা অধিকাংশই সারাক্ষণ পর্ণো দেখা অপদার্থ, মাঝে মাঝে অনলাইন সাংবাদিকতা করে, সেটাও যৌন সুড়সুড়ি দেয়া ভিডিও লিঙ্ক সহ।পাবলিক উৎসাহ নিয়ে শেয়ার করছে, "স্ট্রোক থেকে বাঁচার কৌশল"।
এদেশের লোক চিকিৎসা থেকে অপচিকিৎসায় বেশী আগ্রহী।আমি এ ব্যাপারটায় বেশী কেয়ার করি না, গা সওয়া হয়ে গেছে, প্রকৃত শিক্ষা থেকে এরা অনেক দূরে আছে। সমস্যা হলো, কিছু ডাক্তারও খবরটা প্রচার করছে, গাঁজাখুরি ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। মূল ক্ষতিটা শুরু হলো তখন--ডাক্তার ব্যাখ্যা দিয়েছে!! ওরে বাপ, তাহলে তে ঠিকই আছে। তার ফলশ্রুতি হলো নীচের ছবিটা। আমার চেম্বারে রোগী এসেছে, হাতের মাঝে পিন দিয়ে মাল্টিপল ফুটা করা, রোগীর ছেলে ফেসবুক থেকে জানতে পেরেছে- স্ট্রোক হলে হাতে ফুটা করতে হয়।রোগী দেখে এক্সক্লুড করলাম এটা স্ট্রোকই নয়, গাঁজাখুরি পিন থেরাপীতো আরও পরের ব্যাপার। এর দায়ভার কে নিবে? সাধারণ লোকদের কথা বাদ দিলাম, আমাদের দেশের ডাক্তাররা কি জানে, পৃথিবী এখন চলে Evidence based medicine এর উপর? শুধুমাত্র Theoretical explanation নয়, যেকোন মেডিসিন বা Procedure কে এক্সপেরিমেন্টাল জাজমেন্টেও পাশ করতে হয়।যদি জানে, তবে একজন ডাক্তার কিভাবে এইসব ভুয়া নিউজ শেয়ার করবেন?

ক্যান্সারের চিকিৎসায় মহৌষধ, ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় বিভিন্ন ছাতামাথার গুড়া আর হার্টের ব্লকের চিকিৎসায় বিভিন্ন তুকতাক পদ্ধতিতো এখন অনেক পুরানো খবর।বিফলে নাকি আবার মূল্যফেরতের বিষয়ও আছে। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, প্রতারকরা যেসব ইস্যুগুলো নিয়ে প্রচার করে, সবগুলোই খুব সেনসিটিভ -End Stage Renal Disease, Stroke, Cancer, Heart Block. এধরনের রোগীরা বা রোগীর লোকেরা বাঁচার আশায় খরকুটো পেলেও সেটা ধরতে চায়, প্রতারকরা সুযোগের ভাল সদ্ব্যবহার করে। আশংকার কথা, এই প্রতারকের লিস্টে এখন ডাক্তারও যোগ হয়েছে। দেশ কি চিকিৎসা শাস্ত্রে আদৌ আগাচ্ছে?

সত্যি কথাটা বলি, দেশ চিকিৎসা শাস্ত্রে আগাচ্ছে, বেশ কিছু ব্যতিক্রমী যথেষ্ঠ ট্যালেন্টেড চিকিৎসক আছেন , কিন্তু যথেষ্ঠ আগাছাও তৈরি হচ্ছে।এই আগাছাগুলোই ঝামেলার সৃষ্টি করছে।আগাছাগুলো একদিনে সৃষ্টি হয়নি।যেদিন থেকে, মেডিকেল সায়েন্সে রাজনীতি প্রবেশ করেছে, যেদিন থেকে রাজনৈতিক পরিচয় অযোগ্য লোকদের ভালো জায়গায় পোস্টিং এর নিয়ামকরূপে কাজ করেছে, যেদিন থেকে প্রান্তীয় এলাকার সরকারী হাসপাতালগুলোতে নজরদারী কমিয়ে কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ করা হয়েছে, যেদিন থেকে ব্যাঙের ছাতার মত প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে অথচ নজরদারী করা হয়নি, সেদিন থেকে আগাছা জন্মানো শুরু হয়েছে, এখন ডালপালা বিস্তার লাভ করছে।এসব আগাছাদের সুযোগটা তৈরী করে দিচ্ছে কিছু দৈনিক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল তাদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে।কিছু নামীদামী পত্রিকা আবার এককাঠি সরেস।একই পেইজে উপরে কোলকাতার জুতার শোরুমের বিজ্ঞাপন আর নীচে সেখানেই ফুলবডি চেকআপের আহ্বান। জুতা কিনুন এবং ফুলবডি চেকআপ করুন।দেশের মেডিকেল সায়েন্সের কফিনে পেরেক ঠুকতে এরা ওস্তাদ।দেশীয় পত্রিকার দায়িত্বশীলতার কি বলিহারি!!

আমার এক মামা শ্বশুরের( উনিও ডক্টর) কথা বলি।খাবার টেবিলে উনি উনার এক এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করলেন। উনার দুই বন্ধু- এক বন্ধু মেডিকেলে সারাজীবন রেকর্ড মার্ক নিয়ে জ্যাক থাকার না কারণে পুরোজীবনটাই ময়মনসিংহ মেডিকেলে ইউনিট হেড হিসেবে কাটিয়ে দিলেন। আরেক বন্ধু মেডিকেলের ফার্স্ট প্রফে( নাকি টার্ম?- পুরোপুরি মনে নেই) ফেল করেও ঢাকার এক সরকারী মেডিকেলের ইউনিট হেড।আমি বলি না, প্রফে ফেল করলে সে ভবিষ্যতে যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে না, তবে যে সবসময় ভালো রেজাল্ট করেছে তার যোগ্যতা নিঃসন্দেহে বেশী। নিজেকে তখন খুব বঞ্চিত মনে হচ্ছিলো। মনে হয়েছিলো, যদি ময়মনসিংহ মেডিকেলের সেই স্যার যদি আমাদের ঢাকা মেডিকেলে থাকতেন, তবে আমরা নিজেকে আরও এগিয়ে নিতে পারতাম।অত দূরে না গিয়ে, নিজের চোখে যা দেখছি সেটাও কম না। আমাদের যে ব্যাচমেট লাস্ট প্রফে প্রথম হলো, সে কোন এক অজঁপাড়াগায়ে পড়ে আছে। অথচ, আমাদের সিনিয়র ও জুনিয়র, যাদেরকে দেখলাম, আইটেম বাদ দিয়ে ক্যান্টিনে বসে সিগারেট ফুঁকে বড় বড় কথা বলত, রাজনীতির দীক্ষা দিত, জুনিয়র ব্যাচের মেয়েদের সাথে ছ্যাবলামি করত, সেইসব আগাছা আজ বহাল তবিয়তে ভালো জায়গায় আছে, এরা একসময় অধ্যাপক হবে( ব্যতিক্রম আছে ও হবে)।এরা তো স্ট্রোকের চিকিৎসায় পিন থেরাপীর এক্সপ্লেনেশন দাড়া করাবেই, ক্যান্সারের চিকিৎসায় লতাপাতা আর ঝাঁড়ফুকও চলবে, কিডনী রোগের চিকিৎসায় মহৌষধি আরকও চলবে।সময় তো চলে গেছে ঐসব টাল্টিগিরি করতে করতেই, এত ডীপ নলেজ অর্জনের সময় কই? আমি এখনও ভেবে পাই না, কিভাবে একজন ডাক্তার পিন থেরাপী প্রমোট করেন? কিভাবে So called একজন নেফ্রোলজিস্ট ইফেক্টিভ ট্রায়াল ছাড়া তার ঔষধ প্রমোট করেন? কিভাবে একজন So called কার্ডিওলজিস্ট স্টেন্টিং বা বাইপাসের পরিবর্তে তুকতাক পদ্ধতির প্রচার চালান?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বলেছেন, আপনি অসুস্থ হলে এদেশেই আপনি চিকিৎসা নিবেন।এই দেশ কি সম্পূর্নরূপে প্রস্তুত? আপনি হয়ত তো এদের খপ্পরে পরবেন না।সাধারণ মানুষ কিন্তু প্রতিনিয়ত এদের শিকার..


সোর্স 

Friday, June 3, 2016

প্রশ্ন করাটাও তো অপরাধ !!

ডাক্তারদের কর্তব্যে অবহেলা করলে পাঁচ বছরের জেল। নতুন নাকি আইন হয়েছে। খুব ভাল আইন। একটা মানুষ কর্তব্যে অবহেলা করবে আর পার পেয়ে যাবে তা কেন? তবে আমার জানামতে বাংলাদেশে একমাত্র হাসপাতালগুলোতেই ঠিকমতো কাজ হয়না বাকি সবখানে হয়।

যেমন ব্যাংকে গেলে গা এলিয়ে পান চিবাতে চিবাতে কেউ বলেনা আজকে হবেনা কালকে আসেন।
কাল ত শুক্রবার!
ও তাইলে পরের শুক্কুরবার আসেন।

বাংলাদেশে কর্তব্যে কোন অবহেলা হয়না থানাগুলোতে। জিডি করতে গেলে পুলিশ বলেনা পাঁচশ টাকা লাগবো। আপনি মামলা করবেন... পুলিশ কোনরকম অবহেলা না করে আসামি ধরার এন্তেজাম করতে নেমে যাবে তৎক্ষণাৎ।

বাংলাদেশে কর্তব্যে অবহেলা হয়না আদালতে। বিচারগুলো কি সুন্দর যথাসময়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এইতো আমার দরিদ্র কৃষক চাচার বড়ছেলেটাকে খুন করে ফেলেছিল বছর চারেক আগে, মামলা অনেক এগিয়েছে মাইরি! পুলিশ আসামি ধরে টাকা খেয়ে আবার ছেড়ে দেয়নি, মূল আসামি বিদেশ পালিয়ে যেতে পারেনি। আর বাকি আসামিরা আমার অসহায় চাচাকে একটুও হুমকি ধামকি দিচ্ছেনা।

আপনি যেকোনো সরকারি অফিসে যাবেন, দেখবেন সবাই কি সুন্দর মন দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বাড়ির প্ল্যান পাস করাবেন, এক মিনিটের ব্যাপার।

জমির খাজনা ক্লিয়ার করবেন, কোন ব্যাপারই না। আপনাকে অফিসে ঢোকা মাত্র চেয়ারে বসিয়ে চা-সন্দেশ দিয়ে আপ্যায়ন করবে। আপনি দ্বিতীয় সন্দেশে কামড় দেয়ার আগেই দেখবেন আপনার কাজ শেষ।

মন্ত্রণালয়, সচিবালয় গুলোতে তো কাজ হয় সবচেয়ে নিষ্ঠার সাথে। আমার একটা বৈধ জি.ও বের করাতে মোটেও দুই বছর সচিবালয়ের গেটে গেটে ঘুরতে হয়নি, শেষ পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঘুষও দেয়া লাগেনি।

তো যা বলছিলাম...

বাংলাদেশে কর্তব্যে অবহেলা হয় হাসপাতাল গুলোতে। আইন তো করতেই হবে। বিদেশে আইন আছে যে এমন!
তবে মহামান্যগণ ভুলে গেছেন যে বিদেশে একজন ডাক্তারকে কর্তব্যে অবহেলা করলে আইনের কাঠগড়ায় যেমন দাড় করান হয়, তেমনি তার কাজের পরিবেশ নির্বিঘ্ন করার ব্যবস্থাও করা হয়, নির্ভুল রোগ নির্ণয়ের সকল আয়োজন থাকে তার হাতের কাছেই।

আমি এখন যেখানে কাজ করি সেখানে পালমোনারি এমবোলিজম ডায়াগনোসিস করতে আমার CTPA করার জন্যে আধঘণ্টার বেশি লাগেনা, আর বাংলাদেশের এক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুকের ব্যাথা নিয়ে এক রোগীকে যখন তার পরিবারের প্রায় দশ-বারো জন সদস্য নিয়ে হাজির হয় তখন ন্যূনতম ইসিজি করার উপায় আমার ছিলোনা, কারন সেই হাসপাতালে ইসিজি মেশিন নেই!!

নিতান্ত কপালের জোরে সেদিন আমি মার খাওয়ার হাত থেকে বেঁচে গেছি।
যারা আইন বানাচ্ছেন তাদের এসব দিকে খেয়াল করার সময় নেই,
সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারের বেতন দিবেন বিশ হাজার টাকা, পাঁচশ বেডের হাসপাতালে রোগী দেখতে বাধ্য করবেন দুই হাজার... এসব দেখবেন না, অবস্থার উন্নতির কোন চেষ্টা করবেন না কিন্তু আইন বানাতে হবে বিদেশিদের মত করে! আহেম! বিদেশের এক ডাক্তারের বেতন দিয়ে যে আপনারা এখানে পঞ্চাশজনের বেতন দেন সেটা কে দেখবে?
সেই মহার্ঘ্য প্রশ্নটি আবার করতে চাই... কর্তব্যে অবহেলা আর ভুল চিকিৎসা হয়েছে এটা নির্ধারণ করবে কে? মূর্খ সনদহীন সাংবাদিক, ঔষধের দোকানদার, সর্বরোগের চিকিৎসক কোয়াকেরা নাকি মহামান্য আইনজ্ঞ আপনারা?

হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে বুকের ব্যাথা কমানোর ঔষধ দেয়ার কিছুক্ষণ বাদে যদি রোগী মারা যায় তবে সেটা কি ভুল চিকিৎসা হবে?

যারা বিদেশের অনুকরণে আইন বানাচ্ছেন তাদের কি জানা আছে যে বিদেশে একজন চিকিৎসকের প্রফেশনাল নেগ্লিজ্যান্সি অথবা ম্যালট্রিটমেন্টের অভিযোগগুলো তদন্ত করেন একমাত্র চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তিরা?

বাংলাদেশের শতকরা ৯৫ ভাগ হাসপাতালে আনুষঙ্গিক সকল সুযোগ সুবিধা নেই যা দিয়ে একজন রোগীর যথার্থ চিকিৎসা দেয়া যাবে, আর উপজেলা লেভেলের ১০০% হাসপাতালে যথাযথ সুযোগ সুবিধা নেই। তো এখন যদি ঐসব হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রোগী আসা মাত্রই অন্য হাসপাতালে রেফার করে তবে বলুন চিকিৎসা ব্যবস্থা হুড়মুড় করে ভেঙ্গে পড়বে কিনা? আপনাদের কি ধারনা ডাক্তার-নার্স রোগীর বিছানার পাশে দাড়িয়ে কেবল দোয়া দরূদ পড়বে?
কেউ যদি কর্তব্যে অবহেলা করে তবে তার প্রতিকার করবেন এই ব্যাপারে আমি অবশ্যি সহমত, আর মূল হাজারো সমস্যার সমাধান না করে লোক দেখানো আইন করে কর্তব্যের নামে আপনারা যে বড় বড় অপকর্মগুলো করেন এসবের কে শাস্তি দিবে হে মহামান্য আইন প্রণেতাগণ?

ওহ! স্যরি! ভুলেই গিয়েছিলাম। যেখানে সেলিম ওসমানের মত অশ্লীল ভণ্ড চামারেরা বানায় আইন সেই দেশে এসব প্রশ্ন করাটাও তো অপরাধ।

সুত্র

Thursday, May 26, 2016

পরিবেশ এতটা প্রতিকূল করতে নেই যাতে , যে আপনাকে বাচানোর চেষ্টা করবে সেই নিজের পশ্চাৎ দেশ বাচাতে ব্যস্ত থাকে।

বাংলাদেশে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও ট্রেনিং করার একটাই অনুপ্রেরণা ছিলো যে , বাংলাদেশে প্রচুর কেইস এবং নিজ হাতে কাজ করার সুযোগ বেশি।
কিন্তু যেই চিকিৎসা সেবা আইন খসড়া করা হয়েছে, তাতে স্পষ্ট বলা আছে যে চিকিৎসায় যদি ন্যুনতম অবহেলার প্রমান পাওয়া যায় , তবে পাচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ।

এখানে আমার কিছু প্রস্ন আছে,
এক, অবহেলা হয়েছে কি হয়নি সেই সিদ্ধান্তটি কে দিবে? সাংবাদিক নাকি স্থানীয় রাজনীতিক নেতা?
দুই, ধরে নিলাম কারও বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ উঠলো এবং সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। পরবর্তীকালে আদালতে প্রমানিত হলো যে তিনি নির্দোষ ছিলেন। তাহলে এই অবমাননা থেকে উনি কিভাবে মুক্তি পাবেন?
একজন চিকিৎসক জীবনে মূলত সুনাম উপার্জন করেন। এমনকি তার আর্থিক উপার্জনও নির্ভর করে তার সুনামের উপর।
সেখানে তিনি কি কোনভাবেই তার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন?
এই পরিস্থিতিতে বুদ্ধিমান চিকিৎসকগন কখনোই কোন ঝুকিপূর্ণ রোগীর চিকিৎসা করবেন না। গা বাচিয়ে রেফার করে যাবেন।

রোগী চিকিৎসকের ভুলে মারা যাবে না , এটা সত্যি। কারন তখন মারা যাবেন সবাই এম্বুলেন্স বা গাড়িতে।
তাহলে মোটের উপর লাভটা কোথায়?
ঝুকি নিলে হয় রোগী বাচবেন অথবা মারা যাবেন।
কিন্তু ঝুকি না নিলে সম্ভবত সেই রোগী মারাই যাবেন।
পরিবেশ এতটা প্রতিকূল করতে নেই যাতে , যে আপনাকে বাচানোর চেষ্টা করবে সেই নিজের পশ্চাৎ দেশ বাচাতে ব্যস্ত থাকে।

আর ফিস???
আমি নিশ্চিত এটার উপর যদি সরকার লাগাম লাগায় , তবে যারা সত্যিই কাজে ভালো , তারা সুযোগ পেলেই কাজ শিখে দেশ থেকে কেটে পরবেন।
দিনশেষে একটা প্রস্নই থাকবে,
লাভটা কার হলো???!!

সুত্র

Tuesday, May 10, 2016

যারা ডাক্তার না অথবা সন্তানকে ডাক্তার বানানোর অসীম ইচ্ছা বুকের ভেতর পোষণ করেন এই লেখাটি তাদের জন্য।

আমার বন্ধুটা বলল, এইবার একেবারে জানুয়ারি পর্যন্ত টার্গেট । এটা এপ্রিলের শুরুর দিকের কথা ।

বাক্স পেটরা গুছিয়ে সে এখন শাহবাগের আজিজে সুপার মার্কেটে শেকড় গেড়েছে , উইক এন্ডে ঢাকায় আসলে আড্ডায় ওকে পাই না ।
কারণ ওর এখনও পায়ের তলায় মাটি আসেনি ।

যারা ডাক্তার তারা এতক্ষণে বুঝে গেছেন আমি কি বলছি , যারা ডাক্তার না অথবা সন্তানকে ডাক্তার বানানোর অসীম ইচ্ছা বুকের ভেতর লুকিয়ে মাসে শ খানেকবার ডাক্তারদের কশাই বলে গালি দেন, এই লেখা তাদের প্রতি উৎসর্গ করে দিলাম ।

হ্যাঁ যা বলছিলাম , কেউ যদি আজিজ সুপার মার্কেটের ওপরে ডাক্তারদের ভাগাড়ে উঁকি না দেন......... হ্যাঁ ভাই ভাগাড়ে , আপনি ভুল পড়েননি......... তাহলে আপনি কখনো জানবেন না একজন নব্য ডাক্তার ডাক্তার হওয়ার কারণে কতটা আফসোস করে ।
আর আমার আফসোস ওই ডাক্তারের বাবা মায়ের প্রতি যারা ধারণা করে রেখেছিল ইন্টার্নি শেষ করেই তো আমার ছেলে চেম্বার দেবে এরপর কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা হাতে তুলে দেবে । রোগী দেখবে , পাঁচশ করে ভিজিট নেবে , গভীর রাত পর্যন্ত রোগী দেখবে ............

Ahhh ! what a bed of roses ......

ল্যাব এইড বা বড় বড় হাসপাতালে যেসব ডাক্তার দেখি হাজার টাকা ভিজিট , তাঁরা পুরো ডাক্তার সোসাইটির বিশ পার্সেন্টও রিপ্রেজেন্ট করে না ।

কাজের কথায় আসি ।

বন্ধুর কথা বলছিলাম , পায়ের তলায় মাটি আসেনি , অর্থাৎ এফসিপিএস পার্ট ওয়ানে চান্স হয়নি এখনও । লাইব্রেরিতে ছয় ঘন্টা পড়ে , এরপর রুমে গিয়ে ছয় ঘন্টা । কিন্তু জানা নাই , ভাগ্যে পার্ট ওয়ান তাও জুটবে কিনা , কারণ হাজারের ওপর পরীক্ষা দেয় আর চান্স পায় চল্লিশ, পঞ্চাশ , হয়ত বড়জোর শখানেক ।

এইত সেদিনও শুনেছিলাম পার্ট ওয়ান পরীক্ষা দিতে পাঁচ হাজার টাকা লাগে , কয়দিন পর সেটা সাত হাজারে উঠল , এখন সেটা এগার হাজার ।

অবশ্য ডাক্তারদের জন্য এই এগার হাজার তো কোন ব্যাপারই না , চেম্বারে বসবে পাঁচশ করে ভিজিট নেবে , গভীর রাত পর্যন্ত রোগী দেখে লাখ টাকা পকেটে পুরে নান্নার বিরিয়ানি কিনে ঘরে ফিরবে .......... সুখ ,

সেদিন এক জুনিয়র বলছিল ভাই ক্লিনিকে তো ডিউটি পাওয়া মুশকিল , এত ডাক্তার এখন , সপ্তাহে দুই দিন ডিউটি পাওয়া মানে আকাশের চাঁদ পাওয়া , দুই দিনে ইনকাম চার হাজার , মাসে সব মিলিয়ে আট থেকে নয় হাজার ।
কি ভাই , হেঁচকি দিলেন ?

আর রোস্টার ডিউটি করা ডাক্তারদের মাসিক ইনকাম গড়ে ছয় হাজার ।

আবার আজিজে পার হেড সিট ভাড়া চার হাজার শুনেছিলাম বহু আগে , এখন কত কে জানে ।

মাসে আট হাজার ইনকাম করা আজিজে পড়ে থাকা ডাক্তারদের বাবা মায়েদের জন্য দুঃখ লাগে , ছেলের বয়স পার হয় , ছেলের হাতের ইনকাম খাওয়ার স্বপ্নটা ঘোলা হয়ে যায় বারবার ।

এফসিপিএস দিতে এখন লাগে এগার হাজার , এই টাকা কোথা থেকে ম্যানেজ হবে বিসিপিএস চিন্তা করে না , সেদিন দেখলাম বিসিপিএস এর মূল গেটটা টাইলস করা ঝাঁ চকচকে । কোন ডাক্তার যদি বলে ওই পুরো গেট আমার বারবার ফেল করা পরীক্ষার ফি এর পয়সায় বানানো , খুব ভুল হবে না ।

এমডি এমএস পরীক্ষায়ও ভর্তি ফি পঞ্চাশ হাজারের মত , এই টাকা কোথা থেকে আসে ?
আর প্রতিবার পরীক্ষায় সর্বনিম্ন এগার থেকে পনের হাজার টাকা লাগে ফর্ম ফিলআপে ।
আর এই খরচ একজন পোস্টগ্র‍্যাজুয়েট ডাক্তারের প্রতি ছয় মাসের খরচ ।
আর ইনকাম ?
ওই যে........... চেম্বার ...... পাঁচশ টাকা ভিজিট ...... লাখ টাকা রাত শেষে ...... নান্নার বিরিয়ানি........
একজন বলছিল , মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের ডাক্তারি পড়াটা ঠিক না , অথবা বাবা মায়ের খুব শখ হলে অন্তত ছেলের বয়স চল্লিশ বছর পর্যন্ত এই আশা বাদ দেওয়া উচিৎ ছেলের ইনকাম এনজয় করবে ।

Collected

Monday, May 9, 2016

দিনশেষে ভুক্তভোগী

আপনি আপনার বাবাকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। দেখেশুনে বুঝলাম উনার হার্ট অ্যাটাক। দ্রুত টারশিয়ারি হাসপাতালে না পাঠালে তাঁর বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কিন্তু রেফার করার আগে যদি অ্যাসপিরিন, ক্লপিডগ্রিল আর স্ট্যাটিন এর লোডিং ডোজ খাইয়ে দিই তবে বাঁচার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। তবু আমি সেটা করবোনা কারন পথিমধ্যে রোগী মারা গেলে আপনি এসে আমার কলার চেপে বলবেন ঐ ঔষধগুলা দিয়ে আমি আপনার বাবাকে মেরে ফেলেছি। ক্ষতিটা কার হল শুনি?

আপনার স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণা উঠেছে মধ্যরাতে। আমাকে এসে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন সাহায্য করার জন্যে। আমি গিয়ে দেখলাম চাইলেই নরম্যালি বাচ্চা ডেলিভারি করাতে পারব কিন্তু আমি করবোনা। মাঝরাতে বারো মাইল দূরের হাসপাতালে পাঠাবো কারন যদি সামান্য কিছু এদিক ওদিক হয়ে যায় আপনি আপনার গোষ্ঠীসহ আমার টুটি চেপে ধরবেন। ক্ষতিটা কার হল শুনি?

আপনার জ্বর হয়েছে এক সপ্তাহ ধরে। ফার্মেসি থেকে মাতবরি করে এন্টিবায়োটিক কিনে খেয়েছেন কাজ হয়নি। আমার কাছে এসে বললেন 'ডাক্তার... সাতদিনের জ্বর, এন্টিবায়োটিক খেলাম কিছুই তো হল না।' আমি জিজ্ঞাসিলাম ‘এন্টিবায়োটিক’ মানে কি? আপনি আমতা আমতা করে বললেন 'ঐ যে জ্বর হলে খায় আরকি' আমি আপনাকে মনে মনে আবাল টাইটেল দিয়ে চিকিৎসা শুরু করলাম। আবালদের চিকিৎসার নিয়ম ভিন্ন। ঠিকমত পরীক্ষা করে হয়তো বিশটাকার ডক্সিসাইক্লিন ক্যাপসুল দিলেই আপনার রোগ ভাল হয়ে যেত কিন্তু আমি তা করব না। কারন টেস্ট করতে দিলে তো বলবেন ‘সামান্য(!) জ্বরের জন্যে রক্ত পরীক্ষা করতে দিল। জ্বর কি রক্তে হয় নাকি? জ্বর তো হয় চামড়ায়। খালি কমিশন খাওয়ার ধান্দা’ তাই আমি আপনাকে চিকিৎসা শুরু করব ‘টেজোসিন’ দিয়ে। মশা মারতে হাইড্রোজেন বোমা দাগার মত। দ্রষ্টব্যঃ একেকটা টেজোসিন ইনজেকশনের দাম কয়েক হাজার টাকা, হয়তো ঠিক পথে চিকিৎসা দিলে বিশ টাকায় কর্ম সাধন হত। ক্ষতিটা কার হল শুনি?

আপনি সরকারী হাসপাতালে যাবেন না, কারন কি? ওখানে ডাক্তাররা ভাল করে দেখে না। লম্বা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আপনি আসবেন প্রইভেট চেম্বারে। আর চায়ের দোকানে বসে বড় বড় বুলি ঝাড়বেন 'আহারে দ্যাশে চিকিৎসা বলতে কিচ্ছু নাই, আম্রিকায় কত ভাল চিকিৎসা দেয় ডাক্তাররা।' এখন কথা হল আম্রিকায় একজন জিপি আট ঘণ্টার অফিস আওয়ারে যেখানে রোগী দখে পনেরো থেকে বিশজন সেখানে বাংলাদেশের একটা সরকারী হাসপাতালের আউটডোরে রোগী দেখতে হয় একশ থেকে দেড়শজন। এরপরেও আপনি আশা করেন আপনাকে কোলে বসিয়ে আপনার ঘর-গৃহস্থালির খোঁজ খবর নিবে ডাক্তার। না নিলেই ডাক্তার লোক খারাপ। আবার প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখলে বলবেন 'হায় হায় দ্যাখ শালা কত ট্যাকা কামায়া ফেলল! কসাই একটা।' যান প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ; হাসপাতালে প্রতিটা রোগীকে পনেরো মিনিট করে দেখব। সে হিসাবে এক ঘণ্টায় চারজন। আট ঘণ্টায় বত্রিশজন। স্যরি ভুল বললাম... মাঝে এক ঘণ্টার লাঞ্চ ব্রেক আছে। তাহলে থাকল সাত ঘণ্টায় আটাশজন। আপনি আবার কালকে কাউয়া ডাকা ভোরে এসে লাইনে দাঁড়াইয়েন। নান অফ মাই বিজনেস; আই অ্যাম জাস্ট ডুয়িং একজ্যাক্টলি হোয়াট ইউ ওয়ান্টেড। এখন ক্ষতিটা কার হল শুনি?

আপনার হয়েছে টাইফয়েড, হাসপাতালের সরকারী সাপ্লাই আছে প্যারাসিটামল আর কৃমির বড়ি। আমি সেইটা দিয়েই আপনারে বিদায় করব। কারন বাইরে থেকে সঠিক ঔষধটা কিনতে বললে তো বলবেন কোম্পানির কমিশন খেয়ে লিখেছি। যান এখন জ্বরে কো কো করে কাটান আরও কয়েকটা দিন। আমার কি?

আরও বলব? সারাদিন বলতে পারব এরকম। দিনশেষে ভুক্তভোগী আপনি হবেন, আমি না। ডাক্তার ফেরেশতা না, মানুষ। ফেরেশতার চেয়ে আল্লাহ্‌র কাছে মানুষের মূল্য বেশি। নিজে মানুষ হন, ডাক্তারদেরকে মানুষ ভাবতে শিখুন। মানুষের সীমাবদ্ধতা আছে সেটা মনে রাখুন। আপনার বাবাকে মেরে ফেলে আমার লাভ নেই, আপনার অনাগত সন্তানের ক্ষতি করে আমার লাভ নেই। তাঁদের সাথে আমার কোন শত্রুতা নেই। বরং তাদের বাঁচাতে পারলেই আমার ভাল লাগে, আমি শান্তি পাই, আমার হাড়ভাঙা খাটুনি সার্থক হয়, জীবনটা অর্থবহ মনে হয়। আপনার আপনজনের মৃত্যুতে আমিও কাঁদি, সে কান্না আমার চোখে জলের স্রোত হয়ে নামে না, ঝর্না হয়ে রয়ে যায় অন্তরালে। সাদা অ্যাপ্রনের ভিতরটাতে এমন হাজারো কান্নার আনাগোনা নিয়ে তবু আমি আজরাইলের সাথে যুদ্ধে নামি আবার নতুন করে...
যদি একটিও প্রাণ বাঁচাতে পারি - এই আশায়।

লিখেছেন - ডাঃ সাইফুল ইসলাম (সুত্র)

Friday, April 29, 2016

ডাক্তার আর ক্লিনিক অথবা আইসিউ সমার্থক নয়।

ডাক্তারদের সমালোচনায় একটা মুখরোচক ইস্যু হচ্ছে আইসিউ তে মৃত রোগীকে জীবিত দেখানো। এবং এভাবে বিল বাড়ানো। অভিযোগ খুবই গুরুতর। বড়ই অমানবিক। এ ধরনের ঘটনার কঠোর শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

কিন্তু সাধারন মানুষের চোখে এ ঘটনার মূল দোষটা গিয়ে ডাক্তারের উপর পড়ছে। এবং তাদের এ ভাবনাটা কিন্তু খুবই স্বাভাবিক। আমি নিজে হলেও তাই ভাবতাম। অতএব সেটা নিয়ে খুব একটা কিছু বলার নাই। সমস্যাটা হল জাতির শ্রেষ্ট সন্তান, মেধাবী ও ক্রিয়েটিভ সাংবাদিক ভাইয়েরাও যখন এমন ভাবছেন তখন কষ্ট লাগছে। কারন যতদূর জানি সাংবাদিকতায় নূন্যতম কোন যোগ্যতা আইনত নির্ধারন করা না থাকলেও, অন্তত প্রতিষ্ঠিত পত্রিকা, টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা যথেষ্ঠ শিক্ষিত,অন্তত গ্র্যাজুয়েট। তারা আসল বিষয়টা জানেন এবং ভাল ভাবেই জানেন। এই ধরনের অনেক হাসপাতালই সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে চলে বলে শোনা যায়।

যাই হোক আসুন একটু মুল বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করি।

ডাক্তাররা হাসপাতালে চাকরি করেন। তার কিন্তু হাসপাতালের মালিক নন। ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রেই মালিক পক্ষ নন মেডিক্যাল। এখন এই হাসপাতাল বা আইসিউ এর অনুমতি দেবার জন্য, তাদের কার্যক্রম দেখার জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান আছে। ডাক্তাররা শুধুমাত্র একজন চাকুরে এখানে। এখন হাসপাতালের মালিকরা যখন অসৎ পথে যেতে চান তখন ডাক্তার সেখানে অসহায়। এর প্রতিবাদ করলে চাকরি চলে যাবে। এখন বলুন তখন এই ডাক্তারের পিছনে কিন্তু কেউ এসে দাঁড়াবে না। কিন্তু চমৎকার হত যদি একজন ডাক্তার এর প্রতিবাদ করতেন। কিন্তুব বাস্তবতা তা হতে দেয় না।

আচ্ছা এবার একটু অন্য প্রফেশন থেকে ঘুরে আসি।

অর্থাৎ অন্যান্য প্রফেশনে যদি প্রতিষ্ঠান অন্যায় করে সেক্ষেত্রে পেশাজীবিদের ভূমিকাটা কেমন?

সাংবাদিকদের দিয়েই শুরু করি।

দৈনিক প্রথম আলো আর কালের কন্ঠের মাঝে বিরোধটা আমাদের অনেকেরই জানা। দুই পক্ষই একে অপরের বিপক্ষে রিপোর্ট করছিল পরস্পরকে হেয় করার জন্য। এবং এক্ষেত্রে কালের কণ্ঠই বেশি উদ্দেশ্যমূলক এবং মিথ্যা তথ্য দিচ্ছিল। যার প্রমান পরবর্তিতে প্রেস কাউন্সিল তাদেরকে সতর্ক করে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কালের কন্ঠে তো আওনেক সাংবাদিক কাজ করেন। তারা তো সবাই বিষয় টা দেখেছেন এবং জানেন। ওপেন সিক্রেট। কিন্তু কে প্রতিবাদ করেছেন? কালের কন্ঠের স্বম্পাদক ইমাদাদুল হক মিলন, যাকে সবাই এক নামে চেনে, মিডিয়ার এমন কেউ আছেন যিনি তাকে চেনেন না? সম্ভবত নেই। তিনি অসুস্থ হলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রি ও সম্ভবত দেখতে যাবেন। আর মন্ত্রিরা তো অবশ্যই। তো এমন একজন প্রভাবশালী লোক ও চুপ মেরে থাকলেন। কিছু বললেন না। জ্বি, এর নাম চাকরি। এর নাম পেটের দায়।

আর আমরা সেখানে দু পয়সার এম বি বি এস ডাক্তার আর চার পইসার কনসালট্যান্ট এর কাছে প্রতিবাদ আশা করি। যারা মারা গেলে, যাদের কিছু হলে কারও চুলটাও (হিন্দিতে অনুবাদ) ছেড়া যাবে না। এই আমাদের বাঙ্গালির যুক্তি।

ঠিক একই রকম কথা বলা যাবে অডিট কোম্পানির বিরুদ্ধে। টাকা খেয়ে কি অডিট রিপোর্ট বদলে দেয়া হয় না?

অডিট কোম্পানি গুলোতে কাজ করা কে তার প্রতিবাদ করেন?


ভাইরে ডাক্তার ভিন্ন গ্রহ থেকে উড়ে আসা মানুষ না। তার ভাত খায়। তাদের ও পেট চালাতে হয়। আপনারা নিজ নিজ প্রফেশনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে, কোম্পানির বিরুদ্ধে কিছু বলবেন না। কিন্তু ডাক্তাররা কেন বলছেন না,কেন করছেন না তার জন্য ডাক্তারদের সমালোচনা করবেন। তাদের গায়ে মনমত কলংকের কালিমা লেপন করবেন। কেন ভাই, কোন যুক্তিতে?

আইসিউ আর হাস্পাতেলের মান নিয়ন্ত্রনের প্রতিষ্ঠান আছে। তাদের সাথে কথা বলেন। তাদের মনিটরিং বাড়াতে হবে। হাসপাতালের লাইসেন্স দেয়া প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা বাড়ান। আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স যারা দিয়েছে সেখানে অভিযোগ করেন। কেন লাইসেন্স দেয়া হল,কেন বাতিল করা হচ্ছে না, তা জানতে চান।

অনর্থক ডাক্তারদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা জাতির জন্য শুভকর হবে না।

Source https://www.facebook.com/notes/624984094250908/

Wednesday, April 27, 2016

আসেন, ডাক্তারদের নিয়ে কথা বলি !

তারা ব্যস্ত বলেই আমরা সুস্থ থাকি...

আসেন, ডাক্তারদের নিয়ে কথা বলি ! আপনাকে আজ জানতেই হবে, ভুল চিকিৎসায় দেশে কতজন মারা যায়। আপনাকে জানতেই হবে, কতজন ডাক্তার দায়িত্বে অবহেলা করে। ডাক্তারদের বিরুদ্ধে একজোট আজ আমরা হবই ! ১৬ কোটি মানুষ, একলাখও ডাক্তার না, ওরা পারবেই না আমাদের সাথে !!

শুরুতেই তথ্যটা আরেকটু গুছিয়ে বলি, ২০১৩ সালের হিসেবে ডাক্তারের সংখ্যা ৬৭০০০ মাত্র ! ১৬ কোটি দিয়ে ভাগ করুন, ২৩৮৮ জনের জন্য একজন ডাক্তার। মুখে মুখে জানি ৬৮০০০ গ্রাম আমাদের, তাহলে প্রতি গ্রামের ভাগেও একজন ডাক্তার পড়ল না। কিন্তু আমাকে বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন কি পরিমান মানুষ চিকিৎসা নেয়? মাত্র ৫ টাকা টিকেট কেটে একজন প্রফেসরের সাক্ষাৎ পান তারা। আর তাতে ৫ মিনিটের জায়গাতে ১৫ মিনিট সময় লাগলেই বিপত্তি, লাঠি এনে হাসপাতালে শো-ডাউন শুরু হয়ে যায়...

আমরা কী জানি? বা দেখার চেষ্টা করি? একজন ডাক্তার যে কিনা ঐ হাসপাতালে বসে সারাদিন রোগী দেখল, তার জীবনটা কেমন ছিল? তাকে এইচএসসির পরেই লাখ লাখ পরীক্ষার্থীকে মোকাবেলা করে সুযোগ করে নিতে হয়েছিল মেডিকেল কলেজে! এবার বলবেন, টাকা থাকলেই হয়! ভাই থামেন, বেসরকারিতে ভর্তি হতেও সিরিয়ালে নাম থাকতে হয়। আর যারা টাকা দিয়ে ভর্তিও হচ্ছেন যারা, সবার বাপের গার্মেন্টস নেই, জমি বিক্রি করেও অনেকে ভর্তি হচ্ছে। অতঃপর ভর্তি হয়েও কি শেষ? তাকে পাশ করেই সার্টিফিকেটটা পেতে হচ্ছে, আর সেই পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবেই হয় । যাই হোক, মেডিকেলে সব উৎরে যখন ভর্তি হয়, কেমন থাকে তাদের সেই জীবনটা? চলুন একটু জানার চেষ্টা করি...
আমি যখন মেডিকেলের কাউকে ভার্সিটির ক্যাম্পাসের গল্প বলি, তারা আফসোস করে বলেন, আর ক্যাম্পাস, আমাদের তো হাসপাতাল। আসলেই, যেই হাসপাতালে অসুস্থ্য থেকে অথবা রোগীকে দেখতে যেয়েই কিনা নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে আমাদের, সেখানেই তাদের পাঁচ বছরের পড়াশোনা। প্রথম বছর থেকেই শুরু সে এক অমানবিক জগৎ,আমি এমন অনেকের গল্প জানি, যারা কি না ডেডবডি দেখেই অজ্ঞান হয়ে গেছে, মাঝরাতে সেই মেডিকেলের হলগুলোতে ডেডবোডির চেহারা সামনে ভেসে ওঠায় চিৎকার করে কান্নার আওয়াজও পাওয়া যায়! আর নিত্যদিন শারিরীক অংগ নিয়ে কাজ করে, হাত দিয়ে ইচ্ছেয় অনিচ্ছেয় সেই জীবনগুলোকে নাড়াচাড়া করতে হয়। সব ছেড়ে বাড়ি ফিরে খেতে বসেও আর সে হাতে ভাত মেখে খাবার পেটে নামেনা। বাসায় থাকলে মা, হলে থাকলে চামচ নাড়তে নাড়তে অল্পতেই পেট ভরার চেষ্টা। মেডিকেল টুডেন্ট না আমি, তবুও গল্প শুনেই জানি, প্রাইমারি স্কুলের মতন সকাল থেকে দুপুর অব্দি ক্লাস, তাতে আবার আইটেম নামের এক জিনিস, একদম ছোটবেলার মাদ্রাসায় পড়া দেয়ার মতন তাদেরকে ভাইভা দিতে হয়। টিচারের মনে না ধরলে তাতে পাশ নেই, এভাবে কিছুদিন চললে সামনের প্রফ এক্সামটাও আর তাকে দিতে দেয়া হয় না। প্রফ হচ্ছে তাদের সেন্ট্রাল এক্সাম। আর পরীক্ষা বা ক্লাসের সময়টাতে কত রাত নির্ঘুম রেখে যে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর জীবন পার হয় তার হিসেব থাকেনা। ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত ঘুম, আবার ২ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত পড়া, এ খুব নতুন কিছু নয় তাদের জীবনে। প্রফের আগের রাতে আত্মহত্যা করেছে, এরকম তথ্যও আমার কাছে আছে। এ তো গেল শিক্ষাজীবনের কথা।


এবার আসুন, একজন ডাক্তার এমবিবিএস পাস করেছে। ইন্টার্ন ডাক্তার দিনে কতঘন্টা ডিউটি করেন? সরকারি মেডিকেলে তাকে কত সময় থাকতে হয়? হিসেব আছে? ঈদের দিন কি সদলবলে হাসপাতাল ছুটি থাকে? রোগিরাও ছুটিতে যান? ঈদের নামাযের সময়টাতে কি ইমারজেন্সী বিভাগ বন্ধ থাকে? রমজানে ইফতারের সময়টাতে কি দূর্ঘটনায় আহত কেউ কাতরাতে কাতরাতে মেডিকেলে আসেন না? তাদেরকে ডাক্তাররা কি বলেন? সরি, এখন ইফতার করছি ! তাদেরকে কি এটা বলেন? বসুন, ঈদের নামাজটা পড়ে আসি ? আর এই যে ডাক্তাররা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে ফাটায় ফেলল বলে গালি দেই? আচ্ছা আমাকে বলেন, অমানুষিক পড়াশোনা শেষ করে বার ঘন্টা ডিউটিরত একজন ডাক্তার যখন সরকারি চাকরি করে ৩০০০০ টাকা বেতন পান আর ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকতে অন্তত ১৫০০০ টাকা বাসা ভাড়াই লাগে, তাহলে সে খাবেন কই ? হাসপাতালে ? আর যদি না তারাই প্রাইভেটে না বসেন, তাহলে কোথায় এত ডাক্তার যে সেই অভাব মিটবে? তবে এক কাজে অবহেলা করে অন্যটা নেহায়েত যে কম হয় তা না, হলে সেটা দোষের। গ্রামে যে ডাক্তারকে পাঠানো হয়, সেখানে থাকার জন্য টিনশেড ঘরও থাকেনা, শহরে থাকলে আবার শো-কজ করা হয়, কেন থাকেন না সেখানে? একজন ডাক্তারকে কতদিক সামলাতে হয়? এরকম শুনেছি, এক ডাক্তার ছেলের দাফন ফেলে রেখে ওটিতে এসে ইমারজেন্সী অপারেশন করেছেন, তাও দেরি করাতে তাকে শুনতে হয়েছে কটু কথা। কাজেই একজন ডাক্তারের জীবনে এই সামাজিকতা গুলো কখনোই আর বাস্তব হয়ে ওঠেনা। আর সারাজীবন চিকিতসাবিজ্ঞানের সেরাটা জানতে পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতেই হয়। চিন্তা করুন একজন ডাক্তার যখন একজন মা, যখন তিনি তার আদরের সন্তানকে অন্যের হাতে রেখে আরেকজনের সন্তানকে সুস্থ্য করতে ব্যস্ত, সেটা কি কেবলই টাকার জন্য ? তারা এদিক ওদিক সামলিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলেই তো আমরা সুস্থ্য থাকি! তারা পারেনও। দুমিনিট বসেই ৫০০ টাকা যারা বলেন, তারা কি জানেন? দু মিনিটের এই ভাবনাটার পেছনে কতদিনের কত কষ্টের গল্প থাকে? কতগুলা আইটেম পেন্ডিং এর গল্প থাকে? কত নির্ঘুম রাতের গল্প থাকে? কত রাত আটটা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত ক্লাস করার গল্প থাকে? আমরা এই গল্প জানি ও না, জানতে চাইও না আসলে, শুধু জানতে চাই, কিভাবে তাদের দোষটা ধরা যায়? তার আগে নিজেকে বিচার করে আসি না, কত দোষ পার করে আমি ডাক্তারের কাছে? ঢাকা মেডিকেলে আসার সময় যে আপনি রঙ রোডে বাইক চালিয়ে ঢুকেছিলেন বলে ট্রাফিককে দশ টাকা দিয়েছিলেন, সেটা ভুলে যান দিব্যি, কিন্তু হাসপাতালে ঢুকেই দিব্যি আমেরিকার নাগরিক মনে করবেন নিজেকে, আর হাসপাতালটাও নিউইয়র্কের মানের প্রত্যাশা করবেন, সেটা তো হবেনা। কেন ডাক্তার নেই, সেই কৈফিয়ত তলব করেন, আর নিজে যে অফিস ফাকি দিয়ে চলে এসেছেন, সেটা ভেবেছেন কখনও?

মনে রাখবেন, তারা এ হাসপাতাল, সে ক্লিনিক, ওমুক ওষুধের দোকান, এমনকি বাসাতেও ফোনে সেবা দিতে ব্যস্ত থাকেন বলেই সব জায়গার সবাই কমবেশি সেবা নিয়ে সুস্থ্য থাকেন। দিনরাত মৃত্যুর গল্প টিভিতে আসে, কত ক্রিটিকাল সিচ্যুয়েশনে রোগিকে বাচাতে ডাক্তাররা নার্সরা দলবেধে ওটিতে নেমে যান, সেই গল্প আমাদের কাছে আসেনা। কত ডাক্তার রোগিকে বাচাত না পেরে চোখের জল ফেলেন, সেই গল্প আমাদের শোনার সময়ই হয়না। কত জীবনের গল্পই না অজানা থেকে যায়... গল্পকারদের কথাও থেকে যায় নিভৃতে !

সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
২৮/৮/২০১৪

Friday, April 15, 2016

আমাদের জীবন।চিকিৎসক জীবন।

বিসিপিএস আরেক দফা বাড়ালো এর পরীক্ষার ফি।অনেকটা ডেসা,ওয়াসা,তিতাসের মতো বছর বছর বিদ্যুত,পানি,গ্যাসের দাম বাড়ানোর মতোই পরীক্ষার ফি বাড়ানোটা রেওয়াজে পরিনত করেছে বিসিপিএস।ছয় মাস আগেও যে পরীক্ষার ফি ছিল দশ হাজার টাকা সেটা জুলাই থেকে পনের হাজার টাকা করা হয়েছে।পরীক্ষার ফির মূল্য বৃ্দ্ধির হার প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ।এই অস্বাভাবিক মূ্ল্য বৃদ্ধির কারন আমরা জানি না।

মানুষ মানবিক ডাক্তার খোঁজে।কিন্তু ডাক্তাররা যখন তাদের পেশার উৎকর্ষতা বৃদ্ধির জন্য পোস্ট গ্রাজুয়েশন ডিগ্রী অর্জন করতে চায় তখন তারা যে অমানবিক আচরনের শিকার হয় তা বর্ণনাতীত।ঢাকায় না আসলেও এম বি বি এস ডিগ্রী অর্জন করা যায়।কিন্তু ঢাকায় না এসে এফসিপিএস ডিগ্রী অর্জন করা যায় না।সেই ঢাকায় দশ-পনেরজন মিলে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে সপ্তাহে দুই/তিন দিন খেপ মেরে এম বি বি এস ডিগ্রীধারী ডাক্তাররা এফ সি পি এস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন।পঁচিশ/ছাব্বিশ বছরের জীবনে এ এক নতুন জীবন শুরু হয়।যেখানে সবাই শেষ করে আমরা সেখান থেকে শুরু করি।

২০২২ সালে কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপ হওয়ার কথা।সে বিশ্বকাপ আয়োজনের মহাযজ্ঞ সম্পাদনের জন্য কাতার বাংলাদেশসহ গরীব দেশ থেকে শ্রমিক নিচ্ছে।সেই মজুরদের সাথে অমানবিক আচরনের জন্য কিংবা হিউম্যান রাইটস এব-ইউজের জন্য কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ ফিফা।সেখানে এক রুমে ছয়-সাতজন শ্রমিক গাদাগাদি করে থাকে,দিনান্ত পরিশ্রম করে,এবং মজুরি কম পায় এই অভিযোগ মানবতাবাদী সংগঠনগুলোর।
আচ্ছা,আমাদের ডাক্তাররা এম বি বি এস ডিগ্রী শেষ করে যখন শাহাবাগের আজিজে আস্তানাগাড়ে তখন তাদের অবস্থা কি কোনো অংশে কম অমানবিক ঐ সকল মধ্যপ্রাচ্য শ্রমিকদের তুলনায়।আজিজ সুপার মার্কেটে্র একটি ফ্ল্যাটের সামনে দাঁড়ালে দেখা যায় শুধু স্যান্ডেল আর স্যান্ডেল।এই স্যান্ডেলের কয়েদীরা আর কেউ ই নন,তারা এই সমাজের অন্যতম মেধাবী ছেলেরা কিংবা মেয়েরা যারা এক সময় স্বপ্ন দেখতেন পড়াশুনা শেষ করে নিজেকে দ্বারিদ্র্যতার বেড়াজাল থেকে ছিন্ন করবেন।

সেই এম বি বি এস পাশ করা ডাক্তার নামের ছেলেটি পাশ করেই যেন দ্বারিদ্রতার পাশবিক ধর্ষনের শিকার হন।এক দিকে গ্রামে ফেলে আসা সংসারের ঘানি,অন্যদিকে ফ্ল্যাট মালিকের ভাড়া,নিজের ভরন-পোষন তার উপর ছয় মাস পর পর বিসিপিএসের পরীক্ষার ফি এর খড়গ!

এক সময়ে হোস্টেলে থাকা,বাড়ী থেকে আসা টাকায় খরচ চালানোতে অভ্যস্ত হওয়া ছেলেটি মধ্যপ্রাচ্যের সেই নির্মান শ্রমিকের চেয়ে কত টুকু ভালো থাকেন শাহাবাগের রাস্তায় রাস্তায়?মেডিক্যাল শিক্ষার সর্বোচ্চ ডিগ্রী ধারী ছেলেটি বন্ধুর বিয়েতে যেতে পারে না গিফট কিনতে পারবে না বলে,ঈদে বাড়ি যেতে পারেনা পরীক্ষার ফি যোগাড়ের জন্য অতিরিক্ত খেপ মারবে বলে।এ কোন সমাজে বাস করছি আমরা?জীবনের বাঁকে বাঁকে শুধু বৈপিরীত্য!

বি সি পি এস এর যারা হর্তা-কর্তা তারা সবাই আমাদের পিতার মতো।পিতা,একটু নিজের জীবনের পেছনে ফিরে তাকান?এটা ইয়াসিকা ক্যামেরায় তোলা কোনো ছবি নয় যে কস্ট করে মনে করতে হবে।আগুনে পোড়া দগদগে ঘা।চোখ পড়লে সে বাস্তবতা পিক্সেল বাই পিক্সেল ভেসে উঠে।পিতা,নিজের সন্তানকে কী দিতে পারবেন সে কস্টের স্বাদ যে কস্ট পেয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন নিজেকে।ডুবে যাওয়ার আগে হাত পা ছুঁড়েছেন বাঁচার আশায়।আপনাদের বেঁচে উঠার মতো করেই কি আমরা বেড়ে উঠবো?নাকি এর চেয়ে একটু বেশী সম্মানজনক এবং মানবিক হয়ে যাপিত হবে আমাদের জীবন।চিকিৎসক জীবন।

Collected

Friday, April 8, 2016

Report অনুযায়ী যা মনে হচ্ছে আর বাস্তবতা অনেক ভিন্ন। বিশেষ করে জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থা।
মোরাল অফ স্টোরিঃ যত দিন গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালা বন্ধ না হবে তত দিন অবস্থার কোন পরিবর্তন আসবে না।













Thursday, March 31, 2016

আমার হেলথ কমপ্লেক্স এ ব্লাড গ্রুপিং, সিবিসি, ইউরিন আরএমই এর মত তুচ্ছ পরীক্ষা করার ব্যাবস্থা নেই। আজ ১০০০০০ (দশ লক্ষ) টাকা মুল্যের এই টেলিমেডিসিন যন্ত্র স্থাপিত হল!কিছু বলার নেই।

Posted by আসাদ অপটিমাম on Wednesday, March 30, 2016

Thursday, March 10, 2016

জীবন থেকে নেয়া

জীবন থেকে নেয়া---
(এই পোস্ট পড়ে কেউ আমাকে কোন জ্ঞান / গালি দিতে আসবেন না দয়া করে।আমার ওয়াল, আমার মন যা বলবে তাই লিখব, কারো সমস্যা হলে প্লিজ ইগনোর করুন।)
_____________________
একান্ত ব্যক্তিগত কারণে কখনো বিসিএস এর জন্য প্রস্তুতি নেয়া , এমনকি ফর্ম পর্যন্ত হাতে ধরে দেখার সৌভাগ্য হয়নি আমার।
.
.
তবে আজকাল মনে হয়, এতে বরং আমার জন্য ভালোই হয়েছে।কারণ আমার সহ্যশক্তি এত বেশি না যে, অযোগ্য (একাডেমিক কোয়ালিফিকেশন এবং পদমর্যাদা) লোকেদের অযৌক্তিক আবদার / পেশীশক্তি /রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শন মেনে নিতে পারতাম।নির্ঘাত নিজে মার খেতাম নাহয় মার দিতাম এবং পরিনতি স্বরূপ চাকরীটা ছেড়ে দিতে হত - willingly or by forced !!
.
.
আমি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সরকারের বেতন ভুক্ত কর্মচারী না।এমনকি সরকারি মেডিক্যাল থেকে জনগণের পয়সায় (!!!) পাশ করা ডাক্তারও না।তাই হয়তো আমার কোন তথাকথিত পেশাদার দায়বদ্ধতা নেই সমাজের কাছে !
আমি কর্পোরেট অফিসে তিন স্তরের নিরাপত্তা ঘেরা এসি রুমে বসে রুগী দেখি।সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস sucker মেশিন দিয়ে রক্ত শুষে, ঘন্টার হিসেবে, জবাবদিহিতার তীক্ষ্ণ নজরে, যোগ্যতার মাপকাঠি তে ঘাম ঝরানোর বিনিময়ে---- নিরাপদ, নিশ্চিত, আরামদায়ক, স্বস্তির জীবনের স্বাদ প্রদান করে !!
ঝকঝকে তকতকে একবিন্দু বালু খুঁজে না পাওয়া হেল্থ সেন্টারে বসে মাঝে মাঝে ভীষন রকম মিস করি পানের পিক ফেলা হাসপাতালের সিঁড়ি, ফ্লোর, গুমোট গন্ধে ভরা ওয়ার্ড।আফা/সিস্টার বলে ডেকে ওঠা সহজ সরল সাধারণ রোগী।
.
.
কিন্তু পরক্ষণেই যখন পেপারে ,নেটে দেখি ডাক্তার পেটানোর খবর, গ্রেফতারি পরোয়ানা, গুগল সার্চ দিয়ে স্কুল কলেজের বাচ্চা থেকে হাউস ওয়াইফ বন্ধুটির ডাক্তার বনে যাওয়া; তখন ভাবি এই তো বেশ আছি। মাস যাচ্ছে, কর্পোরেট অফিসের কর্পোরেট কালচারে polished Occupational health specialist হয়ে ডা. ম্যাডামের সম্মান এবং handsome সম্মানী নিয়ে ! মন্দ কি !!
.
আচ্ছা, বাংলাদেশে কি এমন একটা পরিবারও আছে যেখানে সন্তান কে মনে মনে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখা হয় না ? খুব জানতে ইচ্ছে করে.........
.
হুম আমাদেরও যথেষ্ট ত্রুটি আছে।আমরা অনেক ডাক্তাররা মোটেও প্রফেশনাল না কাজের প্রতি
, পেসেন্ট কাউন্সিলিং এর ব্যাপারে খুব বেশি উদাসীন, communication gap ইত্যাদি ইত্যাদি সমস্যা আমাদের। কিন্তু পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জানা প্রয়োজন ----ডাক্তার হাসপাতালের/সরকারের একজন এমপ্লয়ই মাত্র, মালিক না।হাসপাতালের কেবিন, খাওয়া, ঔষধের বিল ইত্যাদি কোন ডাক্তারের পকেটে যায় না।কেবিনের চাবি ডাক্তার তার এপ্রোনের পকেটে নিয়ে ঘুরে না।
.
.
আমরা কি জানি, সরকারি চাকরি করা ডাক্তারটিকে কিভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাতায়াত করে চাকরি রক্ষা করতে হয় ? আমরা কি জানি, সেখানে একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি অফিসার, দেশের শ্রেষ্ঠ মেধার অন্ন, বাসস্থান , শৌচাগারের বর্ণনা ?? না আমরা জানি না, জানতে চাইও না।আর ডাক্তারদের সম্মানী নিয়ে আমি কিছু নাই বা বলি !
.
আমরা শুধু জানি, ডাক্তাররা কসাই, টাকা তৈরির মেশিন, কলমের খোঁচায় পাঁচশ/হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় !
কিন্তু আমরা দেখি না, দিনের পর দিন লাইব্রেরি তে পড়ে থাকা একটা উচ্চ ডিগ্রী প্রত্যাশী হতাশাগ্রস্ত যুবকটির ধীরে ধীরে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মাথা ,
আমরা দেখি না, সন্তানসম্ভবা স্ত্রী কে অপারেশন থিয়েটারে ফেলে কর্মস্থলে ডিউটিরত সদ্য বাবা হওয়া মন খারাপ করা ডাক্তারটিকে,
আমরা দেখি না হাতের মেহেদীর রং শুকিয়ে যাওয়ার আগে সিজার হাতে নিয়ে ওটিতে দাঁড়ান নবপরিনীতা বধূটি কে।
আমরা দেখি না ,সন্তান ফেলে নাইট ডিউটিতে ছুটে আসা মায়ের চোখের পানি।
.
"আমরা কখনো জানব না, একজন উজ্জ্বল মেধাবী মানুষ কিভাবে তিলে তিলে ডাক্তার নামক অসামাজিক প্রানীতে পরিনত হয়ে যায়"
.
কারণ --- তোমরা ডাক্তার, তোমাদের আবার কিসের বিয়ে সন্তান ঘোরাঘুরি শখ আহ্লাদ !!! ছিঃ এগুলো ভাবাও পাপ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় (আর কেউ কি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ে না ডাক্তার ছাড়া?!!) লেখাপড়া করেছ এখন কবরে যাবার আগ পর্যন্ত ঘানি টানবা, ওক্কে........?!

সংকলিত লেখা

মুল লেখার লিঙ্ক এখানে 

Friday, January 29, 2016

আলহামদুলিল্লাহ ফর এভ্রিথিং


(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)
আমাদের আশেপাশের ডাক্তার সোসাইটি বিশেষ করে ইয়াংরা খুব হতাশ।কঠিন পড়াশোনা,আর্থিক অনটন,কতিপয় রোগী-রোগীর আত্মীয় স্বজনদের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ব্যবহার সব মিলে খুব বাজে অবস্থা।

কিন্তু ভালর দিক টা কম না।আমি আমার কথা শোনাই।কয়েক বছর আগে আমার মায়ের একটা এক্সিডেন্ট হয়।ছোটো খাট মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট।একটা ছেলে মা-ভাইয়াকে কে পাশের বাড়িটাতে নিয়ে গেছিল।তেমন কিছু করে নাই।জাষ্ট নিয়ে গিয়ে একটু মাথায় পানি দিছে।

আমার মা খুব কনজারভেটিভ মানুষ।একটা লম্বা চুলের ছেলে মাথায় পানি দিচ্ছে দেখে মা ভড়কে গেছিল।ছেলেটা বলছে মা শুয়ে থাকেন।আমিও আপনার ছেলেই।

সেই থেকে আমরা ছেলেটার কেনা হয়ে গেছি।আমার কনজারভেটিভ মা ছেলেটার কথা অনেক বলেন।ছেলেটাকে যদি খুঁজে পাওয়া যেত সেই কথা বলেন।এমনকি ছেলেটাকে একটা আত্মীয়তায় বেঁধে ফেলার কথাও দুয়েকবার বলতে শুনেছি।

সত্য কথা হচ্ছে বিপদের সময় একটু সাহায্যের কথাও মানুষ ভোলে না।এটা হিউম্যান নেচার।

আমরা যারা ডাক্তারি পেশায় আছি তাদের টা বলি।ফলো আপ দিতে গিয়ে আমরা দুইটা ভাল কথা বললে,ওটির নার্ভাস টাইমটাতে সান্তনা দিলে,থার্ড ইয়ারে,ফোরথ ইয়ারে হিষ্ট্রি টা নিতে গিয়ে একটু সহানুভূতির সাথে কথা বললে রোগীরা ভুলে যাওয়ার কথা না।প্রচুর রোগী আছে যারা নিজে অনেক এষ্টাবলিশড লেভেলের হয়েও খুব শ্রদ্ধার সাথে স্যার বলে সম্বোধন করে।প্রচুর রোগী আছে যারা বাবা,মামনি ছাড়া কথা বলে না।এটা কম কিছু না।

হঠাত হঠাত একটু মন খারাপ হতেই পারে।কিন্তু আমাদের মত এত বেশি ভালবাসা পাওয়ার সুযোগ আল্লাহ কম মানুষকেই দিয়েছেন।রোগীদের ব্যবহারে নিজের সিনসিয়ারিটি কমিয়ে দেয়ার মানে নাই।অসুস্থ মানুষগুলোর ভালবাসার মূল্য ফেরত দেয়ার এই একটাই রাস্তা।এটাই ব্যবহার করা উচিৎ।

এখানে অনেক সিনিয়র,ডাক্তারি পেশায় অভিজ্ঞ লোকজন আছেন।আর আমি জুনিয়র মোষ্ট ডাক্তারদের সারির।ভুল কিছু যদি বলে থাকি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।তবে আমার কথা যদি শুনতে চান আমি বলবো,আমি হতাশ হই নি।
আলহামদুলিল্লাহ।ফর এভ্রিথিং।

collected

বিকল্প ভাবনা‬

তরুন ডাক্তারেরা গ্রামে থাকতে চান না কারন তাদের পোস্ট গ্রাজুয়েশন করতে হবে। গ্রামের মানুষ যাদের সামর্থ নেই অথচ প্রয়োজন আছে তারা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পান না কারন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপজেলা পর্যায়ে নেই বললেই চলে। একইভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং ফ্যাসিলিটির অভাবে উপজেলার ইমার্জেন্সি কার্যত অকেজো হয়ে যায় অনেক ক্ষেত্রেই, নিকটস্থ রেফারেল সেন্টারে নেবার সামর্থ, সময় অনেকেরই হয় না। নতুন পাশ করা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হতাশায় ভোগেন কারন শহরে পশার জমাতে ৫-৬ বছর লাগেই, সব রোগীই যায় পুরোনো স্যারদের কাছে। বাড়ছে নিত্য নতুন মেডিকেল কলেজ, অথচ বাড়ছে না শিক্ষার মান, মেডিকেল কলেজে নেই সকল বিষয়ের পর্যাপ্ত শিক্ষক। শিক্ষক নেই কারন ডাক্তারেরা কেউ বেসিক সাবজেক্টে আসতে চান না, গবেষনা ও অর্থ উপার্জনের সুযোগ কম বলে। সরকার চায় এই সব সমস্যা দূর হয়ে দেশের আনাচে কানাচে চিকিৎসাসেবা পৌছে যাক।
তো এই হল মোটামুটি চিকিতসাখাতের সমস্যার লুপ। একটু বিকল্পভাবে চিন্তা করে দেখলাম ব্যাপারগুলো এভাবে সমাধান করা যায় কিনাঃ

১) ডাক্তারদের বাধ্যতামূলক ২ বছর গ্রামে থাকতে হবে এই নিয়মটা করা হোক বিশেষজ্ঞ চিকিতসকদের ক্ষেত্রে (MD/MS, FCPS, Diploma): অনেকে ক্ষেপে উঠতে পারেন, এতে লাভ কোথায় আমি দেখাচ্ছি। প্রথমত সদ্য পাশ করা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপজেলায় ২ বছর থেকে যথেষ্টই উপার্জন করতে পারবেন যা সে শহরে থেকে পারতেন না এবং ২ বছর শেষে শহরমুখী হলেও সাপ্তাহিক ছুটিতে শহরের বাইরে এই প্র্যাকটিসের যায়গাটা তার থেকেই যাবে। দ্বিতীয়ত, রোগীরা সর্বোচ্চ সেবা পাবে, যাদের সামর্থ নেই দূরের রেফারেল সেন্টারে যাওয়ার (যেটা আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে করা হত)।

২) তরুন চিকিৎসক সরকারি চাকরিতে ঢোকার সাথে সাথেই ট্রেনিং পোস্ট বা রেসিডেন্সিতে ঢোকার সুযোগ পাবেন এই শর্তে যে তারা পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করা মাত্রই ২ বছর পেরিফেরিতে পোস্টেড হবেন। এতে লাভ হলো শহরের সব হাসপাতালে প্রচুর ট্রেইনী ডাক্তার পাওয়া যাবে, পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং দ্রুত শেষ হবে, ফলে পোস্ট গ্রাজুয়েশন ও দ্রুত শেষ হবে, ফলে তরুন ডাক্তারদের শহরমুখী হবার সবচেয়ে বড় কারন এর নিরশন হবে।

৩) ইন্টার্নশীপ ২ বছর হবার কথা শুনেছিলাম। এটা ভালো না মন্দ সে তর্কে যাবো না তবে এটাকে অন্যাভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে। ইন্টার্নশীপ এক বছর মেডিকেল কলেজে এবং এক বছর উপজেলা পর্যায়ে করা হোক। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে যেহেতু উপজেলায় কনসালটেন্ট থাকবে তাই কনসালটেন্ট এর অধীনে ইন্টার্নশীপ গ্রহনযোগ্য করতে অসুবিধা হবার কথা নয়। সেই সাথে তরুন ডাক্তারেরা গ্রামে থাকার ব্যাপারে আগে থেকেই সেনসিটাইজ হবে এবং ক্লিনিক্যাল বিষয় ছাড়াও সিচুয়েশোন হ্যান্ডলিং শিখবে। যেহেতু উপজেলায় ইন্টার্ন থাকবে তাই উপজেলায় ডাক্তারের অভাব হবে না, রোস্টার ডিউটি কনসালটেন্টদের করতে হবে না (অন কল থাকতে পারে)। যেহেতু এই ১ বছর সে কনসালটেন্ট এর অধীনে থাকবে তাই এটাকে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং এর অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে তাহলে অন্তত ১ বছর বিনা বেতনের অনারারি বর্বরতার সময় কমবে। অথবা পোস্ট-গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং এর অংশ হিসেবে বাধ্যতামূলক ৬ মাস বা ১ বছর উপজেলায় কনসালটেন্ট এর অধীনে ট্রেনিং করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। মূল উদ্দেশ্য একটাই, উপজেলায় ডাক্তার এর সংখ্যা ও মান বৃদ্ধি।

৪) উপরের কাজগুলোর মাধ্যমে যেহেতু উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বেশ কিছু সংখ্যক ট্রেইনী ডাক্তার নিশ্চিত করা গেল সেহেতু পেরিফেরি থেকে টারশিয়ারী হাসপাতালে রেফারাল এর সংখ্যা কমবে। ফলে টারশিয়ারী হাসপাতালে রোগীর চাপ ও কমবে। চাপ কমলে ডাক্তারের কাজের প্রেসার কমবে, রোগীকে সময় দেবার সুযোগ বাড়বে, সেবার মান বাড়বে। জটিল রোগের চিকিৎসা নিয়ে গবেষনার সুযোগ পাওয়া যাবে। হয়ত রোগীকে বারান্দায় মাটিতে শুয়ে থাকতে হবে না বা ডাক্তারকেও একটানা ২-৩দিনের নির্ঘুম রাত কাটাতে হবে না।

৫) বেসিক ও প্যারাক্লিনিক্যাল সাবজেক্টে শিক্ষক বাড়াতে বিশেষায়িত গবেষনা প্রতিষ্ঠান, মেডিকেল কলেজে গবেষনার সুযোগ, গবেষনা ভাতা, নন-প্র্যাকটিসিং এলাউয়েন্স, বাধ্যতামূলক পেরিফেরি বাতিল, উচ্চতর শিক্ষা ও ট্রেনিং এর জন্য স্কলারশিপসহ উন্নত রাষ্ট্রের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে প্রেরন ইত্যাদি প্রচলন করা যেতে পারে। এতে আরো বেশি ডাক্তার বেসিক সাবজেক্টে আসতে উৎসাহী হবে। ফলে শিক্ষক সংকট কমবে, মেডিকেল কলেজে শিক্ষার মান বাড়বে, ভালো ডাক্তার তৈরি হবে, তারা শহরে-গ্রামে সর্বত্র উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে পারবে, হয়ত নিজেদের স্বাস্থ্য সেবার চাহিদা মিটিয়ে আমরা প্রচুর ডাক্তার দেশের বাইরেও পাঠাতে পারবো।
এ সবই হয়ত ছোট মুখের বড় কথা। তবুও মনে হয়, মানুষ কখনো বোঝা নয়। অন্তত ৬৭% তরুনের এই দেশে কাজে লাগানোর মত মেধা ও মননের অভাব নেই। একটু সুষ্ঠ পরিকল্পনাই হয়ত আপাত সমস্যাকে সুযোগে পরিনত করে দিতে পারে।
collected

Monday, December 14, 2015

সম্প্রতি চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের আত্মহত্যা...

Posted by মোহিব নীরব on Tuesday, 8 January 2013

বরের অবশ্যই ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে... আর কনের হতে হবে ফর্সা, লম্বা আর শিক্ষিত...

"বরের অবশ্যই ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে... আর কনের হতে হবে ফর্সা, লম্বা আর শিক্ষিত... "
বাবা মা তাঁদের ছেলে/মেয়েদের বিয়ের জন্য এমন পাত্র-পাত্রী খোঁজেন... কিন্তু সেই পাত্র বা পাত্রীটি মানুষ হিসাবে কেমন সেটা গৌণ বিষয়... এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কেমন খুব সহজে যাচাই করারও উপায় নাই...
বর/কনে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন মাপকাঠি যুক্ত করা উচিত... "ছেলে/মেয়ে কি নিয়মিত রক্তদান করে?" grin emoticon
যদি বর/কনে নিয়মিত রক্তদান করে, তাহলে একাধারে অনেক কিছুই জানা হয়ে যাচ্ছে হবু বর বা কনের বিষয়ে...
এতে জানা যাচ্ছে, মানুষটিঃ
১) পরোপকারী (অপরিচিত মানুষদের যিনি রক্তদান করে উপকার করছেন, তিনি অবশ্যই উনার স্বামী/স্ত্রী এর প্রতিও পরোপকারী হবেন)
২) দায়িত্ব এড়িয়ে যায় না অর্থাৎ দায়িত্ববান (নিয়মিত রক্তদান আমাদের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত... এই দায়িত্ব যিনি নিয়মিত পালন করতে পারছেন, সুতরাং নিজের স্বামী/স্ত্রী প্রতিও দায়িত্বশীল হবেন আশা করা যায়)
৩) নির্ভরযোগ্য (কথা দিয়ে কথা রাখার মানুষ তিনি... রোগীকে রক্তদান করার কথা দিয়ে কথা পালন করছেন... এই মানুষটি অবশ্যই নির্ভরযোগ্য)
৪) আত্মত্যাগী এবং উদার (নিজের মূল্যবান সময়, যাতায়াতের কষ্ট, যাতায়াত খরচ, মোবাইলের খরচ, সূচ ফোটানোর ব্যাথা, নিজের শরীরের মহামূল্যবান রক্ত দান করা সহজ ব্যাপার না... একজন সত্যিকারের আত্মত্যাগী এবং উদার মানুষের পক্ষেই সম্ভব)
৫) সময়নিষ্ট (রোগীর প্রয়োজনীয় মুহূর্তে যথাসময়ে রক্তদানে উপস্থিত থাকা)
৬) ধৈর্যশীল ও সহিঞ্চুতার অধিকারী (হাজারো ঝামেলা উপেক্ষা করে ধৈর্যের সাথে নিয়মিত রক্তদান করা...)
৭) সহানুভূতিশীল (রোগী তথা মানুষের কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা এদের রয়েছে)
৮) সুনাগরিক (রক্তদানের মাধ্যমে সমাজ এবং দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করছে, সুতরাং তিনি একজন সুনাগরিক)
বাহ, মানুষটি নিয়মিত রক্তদান করছেন কিনা এটা জানার মাধ্যমেই তো মানুষটির সকল মানবিক গুন জানা হয়ে যাচ্ছে grin emoticon
-----
পাশাপাশি নিশ্চয়তা রয়েছেঃ
৯) মাদকাসক্ত নয় (মাদকাসক্ত ব্যাক্তি হতে রক্ত গ্রহন করা হয় না...সুতরাং নিয়মিত রক্তদাতা মাদকাসক্ত নন... মাদক বিহীন নির্ভেজাল স্বামী/স্ত্রী পাবেন grin emoticon )
১০) শারীরিক সুস্থতা (রক্তদানের পূর্বে রক্তদাতার রক্তের ৫ ধরনের পরীক্ষা করা হয়ঃ এইডস, হেপাটাইটিস-বি ও সি, সিফিলিস, ম্যালেরিয়া... নিয়মিত রক্তদাতা এসব রোগ হতে মুক্ত...)
------
ভবিষ্যতের শশুর/শাশুরী/বর/কনে,
এখন থেকে ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার না খুঁজে "একজন নিয়মিত রক্তদাতা" খুজুন... বিয়ের বর/কনে খোঁজার নতুন ক্রাইটেরিয়া হিসাবে যুক্ত করুন 'রক্তদান' smile emoticon
---------------
আইডিয়াটা কিছুটা হাস্যকর হয়তো tongue emoticon কিন্তু এই ক্রাইটেরিয়া যুক্ত করতে পারলে রক্তদানের জন্য মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়বে

Saturday, December 12, 2015

এগুলো কখনো খবর হয় না।


খবরঃ বিনা পয়সায় মাসে অন্তত একটি মামলা লড়ুন- প্রধান বিচারপতি।

বেখবরঃ আমি আমার চিকিৎসক জীবনের মাত্র ২ বছরে কমপক্ষে ২০০ রোগীকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়েছি। প্রত্যেক চিকিৎসকের জীবনে এগুলো নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু এগুলো কখনো খবর হয় না। খবর হয় কোন চিকিৎসক তার প্রাপ্য ফি ছাড়া চিকিৎসা না দিলে।
Monir Zaman

Monday, November 16, 2015

'ওরে গাধা, তোরে গাধা বানাইতে কত খরচ হইছে জানিস?'

শোনা ঘটনা এবং ঘটনাটি সত্য।

বাংলাদেশের একজন তরুণ চিকিৎসক স্বাধীনতার পর উচ্চ শিক্ষার্থে ইংল্যান্ড গেলেন, অক্সফোর্ড থেকে ডি.ফিল (পিএইচডি সমতুল্য) করে দেশে ফিরলেন। যেকোনো মেডিকেল ডিগ্রি রাষ্ট্রীয় মেডিকেল কাউন্সিলের অনুমোদন ছাড়া লেখা নিষেধ, কাজেই সেই চিকিৎসক ভদ্রলোক বিএমডিসি'র শরণাপন্ন হলেন।

বিএমডিসি'র রেজিস্ট্রার সাহেব আবেদনপত্রের দিকে তাকিয়ে নাকের লোম ছিঁড়তে ছিঁড়তে বললেন, 'হুম.. এমবিবিএস.. ঠিক আছে.. তারপর এফসিপিএস.. ঠিক আছে.. কিন্তু এইটা আবার কি? ডি.ফিল? এ কোন প্রজাতির বস্তু?'

আবেদনকারী চিকিৎসক রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বললেন, 'এটা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি'

রেজিস্ট্রার সাহেব ভাবলেশহীন গলায় বললেন,'দ্যাখো, এই ডিগ্রী তো আমাদের লিস্টে নাই। তুমি অক্সফোর্ড রে বলো আমাদের কাছে চিঠি পাঠাইতে, তোমার কপাল ভালো হইলে অনুমোদন পাইলেও পাইতে পারো।'

এই হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের আলিশান ভাবমূর্তি।
অক্সফোর্ডও এখানে পাত্তা পায় না।

পাঠক ভাবতেই পারেন, এতো বহুকাল আগের কথা, এখন 'দিন বদলাইছে' না?

মাত্র কয়েক বছর আগের কথা।
জাপান থেকে পাবলিক হেলথে পিএইচডি করা এই ভদ্রলোক সেখানেই পোস্ট-ডক্টোরাল করলেন এবং জাপানেই শিক্ষকতা শুরু করলেন। বেশ কিছুদিন কাজ করে উনার মনে হল দেশের জন্য কিছু করা দরকার, বেতন শতভাগ কমে গেলেও পরোয়া নেই, মরলে দেশের মাটিতে মরাই ভালো। সীমাহীন আবেগের সাথে দেশে ফিরে বিজয়নগরে বিএমডিসি ভবনে গেলেন ডিগ্রি অনুমোদন নিতে। সেখানে তাকে জানানো হল, জাপানি ঐ বিশ্ববিদ্যালয় লিস্টে নাই, কাজেই ডিগ্রির কোন দাম নাই। তিনি আক্ষেপ করে বললেন, আপনারা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অনুমোদন দেন, আমার বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার চেয়েও ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিং এ অনেক উপরে। বিএমডিসি জানালো, তাদের কিচ্ছু করার নাই। তবু তারা 'বিশিষ্টজনদের' কাছে এই ডিগ্রির মূল্যায়ন সম্বন্ধে জানতে চাইবে।

ঐ বিষয়ে মাস্টার্সধারী দুই বিশেষজ্ঞ বিএমডিসি'কে জানালেন, তারা এই ডিগ্রির কোন মানে খুঁজে পাচ্ছেন না। এই বিষয় বাংলাদেশে কেন দরকার, সেটাও তাদের বোধগম্য না। নিজেদের অজ্ঞতাকে বিজ্ঞের রায় ভেবে বিএমডিসি তাকে প্রত্যাখ্যান করল।

যে প্রোগ্রামে উনি জাপানে ক্লাস নিতেন, ঢাকায় সেই প্রোগ্রামে তিনি ছাত্র হিসেবে ঢুকলেন। সকল পরীক্ষায় ফার্স্ট হয়ে এমপিএইচ শেষ করলেন। এর মধ্যে আরেক ঘটনা ঘটল, নিজের দু:খের কথা তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মানুষটিকে জানাতে গেলেন। অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যেও সেই রাষ্ট্রনায়ক তাকে এক-দেড় মিনিট সময় দিলেন, সব শুনে সেই চিকিৎসককে একটা কথাই জিজ্ঞেস করলেন,'আপনারে দেশে আসতে কে বলছে?'

রাগে দু:খে ক্ষোভে সেই চিকিৎসক বেরিয়ে এলেন।
এর বেশ কিছুদিন পর এক রাতে তার মুখেই এই কাহিনী শুনলাম।

আজ পেলাম আরেক আনন্দের সংবাদ।
ইংল্যান্ডের এমআরসিপি নামক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিগ্রিটাকে হাসতে হাসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই ডিগ্রি নিয়ে এদেশে কেউ বিশেষজ্ঞ হতে পারবে না। কি হবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে? 'সিম্পল এমবিবিএস' কিংবা বিশেষজ্ঞ হলেও তাবেদারি করতে পারবে- এমন চিকিৎসক দরকার। যে চিকিৎসক নিজের নিরাপত্তা তো দূরের কথা, অপ্রতুল ঔষধ -সরঞ্জামাদি নিয়ে রোগীর অধিকার বিষয়েও কথা বলবে না। এমন চিকিৎসক দরকার, সে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যাবার যোগ্যতা তো রাখবেই না, বরং বারবার এসে পা চাটবে আর বলবে, 'আমায় দয়া করে জুনিয়র কনসালটেন্ট বানিয়ে দিন, আমি লাগলে ছমাসে একবার এসে পা চেটে দেব, দয়া করুন প্রভু'। এমন চিকিৎসক দরকার, যে ইউএনও কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারকে স্যার স্যার বলে লালা ঝরাবে। এমন চিকিৎসক রাষ্ট্র চায়, যে চিকিৎসক অনাহারে অর্ধাহারে পুঁথিগত বিদ্যা আওড়াবে এবং রাষ্ট্র-সমাজ বিনির্মাণে অংশ না নিয়ে ক্ষমতাবানের দাসত্ব করবে। আদর্শিক মহামানবের পৌরাণিক স্থাপত্যের মত ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নয়, চিকিৎসকের থাকতে হবে বারবার লজ্জা পেয়েও খাবার দিলে চেটেপুটে খাওয়ার সক্ষমতা। আইসিইউ'তে রোগীর লাইফ সাপোর্ট খুলে নেবার শেষ সিদ্ধান্ত যিনি নেন, সেই চিকিৎসক দুই দিন ভেবেও নিজের প্রতিনিধি ঠিক করতে পারেন না- এমন অথর্ব জড়বুদ্ধির প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড নির্বোধ নির্মাণ রাষ্ট্রের লক্ষ্য। সকালে বিকালে এই গাধার পাছায় লাথি দিয়ে রাষ্ট্র স্মরণ করিয়ে দিতে কসুর করবে না, 'ওরে গাধা, তোরে গাধা বানাইতে কত খরচ হইছে জানিস?' লাথি খেয়েও এ গাধাকে হাসতে হবে, এবং সবিনয়ে বলতে হবে, 'সবই প্রভুর দয়া'।

বিশ্বমানের চিকিৎসক ও শ্রেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে জন্মানোর, বেড়ে উঠার এবং টিকে থাকার পথ আজ রুদ্ধ।
অবশ্য এই লাইনটাকে কেউ গাধার প্রলাপ হিসেবেও ধরতে পারেন।

দোষের কিছু নাই। 


collected

Monday, November 9, 2015

আপনি জাতি বদলে দিতে চান? নিজেকে দিয়েই শুরু করুন

সেদিন এক আপু ইনবক্স করলেন, "আমার ছেলেটা এখনই আমার কথা শুনেনা। ভবিষ্যতে যে এ কী হবে....."

সমস্যাটা সেই আপুর একার না। এই একই সমস্যা অনেকের। উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েরা বাবা মায়ের তোয়াক্কা করেনা। তাঁদের চোখে বাবা মা হচ্ছেন good for nothing, bad for everything. তাঁরা যে দামী ফ্ল্যাটে রাখছেন, দামী পোশাক দিচ্ছেন, দামী গাড়িতে চড়াচ্ছেন, ভাল স্কুলে পড়াচ্ছেন, এবং বছর বছর বিদেশ ট্রিপ - এসবই তাঁদের দায়িত্ব বলেই করছেন। সব বাবা মাই করেন, তাঁরা আবার বাড়তি কী করলেন?

বাবা মা এদের কোন নির্দেশ দিলে পালন করাতো বহুদূর, উল্টা ভেবে বসে বাবা মা তাঁদের শত্রু। তাঁর জীবন, সে যেভাবে ইচ্ছা যাপন করবে - সব ব্যপারে নাক গলাতে আসে কেন?

সন্তানের স্নেহের কাছে পরাজিত এই সমস্ত পিতামাতা কোনরকমে জ্বী হুজুরি করে চলতে চলতে একটা জীবন পার করে দেন। স্কুল পড়ুয়া ছেলের পকেট থেকে নগ্ন নারীর ছবি আবিষ্কার করেছেন, চেপে যান।
টিনেজ মেয়ের বালিশের নিচে গাঁজার পুরিয়া পাওয়া গেছে - চেপে যান। লোকে জানলে লজ্জায় মাথা নত হয়ে যাবে যে!
আবার উল্টোটাও ঘটে। এক বাবা সেদিন খুবই গর্বের সাথে বলছিলেন, "আমার বাচ্চারা আমাকে বাঘের মতন ভয় পায়। আমার সামনে দাড়িয়ে একটা কথা পর্যন্ত বলতে পারেনা। আমি যা বলি, সাথে সাথে পালন করে। সবই ট্রেনিং, বুঝলেন? মাইরের উপর কোন ওষুধ নাই। মুহুহাহাহা।"

বিরাট ইয়ে ছিড়ে ফেলেছেন আঙ্কেল। নিজের সন্তানই আপনার কাছে সহজ হতে পারেনা, এরচেয়ে বড় পরাজয় একজন পিতার জন্য আর কী হতে পারে? আপনি কী জানেন আপনার এই ছেলেই আপনার চোখের আড়ালে কী করে বেড়ায়? শুনলে এই মুহূর্তে হয় আপনি হার্ট অ্যাটাক করবেন, নাহলে ছেলেকে খুন।

স্কুলে থাকতে পিতামাতার প্রতি সন্তানের কর্তব্য পড়তে পড়তে আমরা মুখে ফ্যানা তুলে ফেলতাম। একবারও কোন বইয়ে আমি দেখিনি কোন রচনা লেখা, "সন্তানের প্রতি পিতামাতার কর্তব্য" সিলেবাসে থাকাতো বহুদূর। অথচ দুইটি রচনারই গুরুত্ব সমানে সমান। 'এই হাতে দে, ঐ হাতে নে'র মতন।

আপনার শিশু যখন আধো আধো বুলি শিখতে শুরু করেছে, আপনি তাঁর সামনেই নিজের গালাগালির ভোকাবুলারি ঝালাই করে নিচ্ছেন। সে যখন চোখ মেলে নিজের পৃথিবীর সাথে পরিচিত হচ্ছে, আপনি হাত খুলে নিজের বউকে পেটাচ্ছেন। কিংবা কোমরে শাড়ি গুঁজে স্বামীর সাথে ঝগড়া করছেন। এই ছেলে বাবা মাকে সম্মান করবে কিভাবে? আমার কথা বিশ্বাস না হলে সাইকিয়াট্রিস্টদের সাথে কথাবার্তা বলে কনফামর্ড হয়ে নিতে পারেন, যে শিশু দেখে তাঁর বাবা/মাকে তাঁর বাবা/মা সম্মান করছে না, সেই শিশুও সেই বাবা/মাকে সম্মান করে না। করবে কিভাবে? সেতো এটাই শিখেছে।

কারনে অকারনে মা এমন সব গা জ্বলুনি মার্কা কথাবার্তা বলে বাবাকে অপমান করে যে ব্যপারটা শিশুর মস্তিষ্কে একদম স্থায়ী হয়ে যায়। সে ধরেই নেয় এটাই স্বাভাবিক। সেও সুযোগ পেলে বাবাকে ধমক ধামক দিয়ে কথাবার্তা বলে। এর অর্থ এই না যে এ শিশু তাঁর বাবাকে ভালবাসে না। তবে বাবাকে অপমান করে কেন? সেটা সে মা থেকে শিখেছে।
আপনার স্বামীর/স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করতে হবে? আড়ালে গিয়ে করেন। দরজা বন্ধ করে করেন। বাচ্চাদের বাইরে খেলতে পাঠিয়ে দিয়ে করেন। তবু বাচ্চাদের সামনে উঁচু গলায় কথা বলবেন না। বাচ্চার সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্যই এর প্রয়োজন আছে। এইটুকু স্যাক্রিফাইস আপনাকে করতেই হবে।

বাচ্চা জন্ম দিয়েই আপনার কর্ম সারা হয়নি - তাঁকে ঠিকমত বড় করাটাই আপনার দায়িত্ব। এটি অত্যন্ত জটিল পরীক্ষা।
আপনি কাজের ছেলে/মেয়েকে অকারনে মারধর করেন। দেখবেন আপনার ছেলেও একই কাজ করছে। বাপের বয়সী ড্রাইভার বা মায়ের বয়সী বুয়ার সাথে এমন আচরন করে যা "ভদ্রলোকের" সাথে করলে চড়িয়ে দাঁত ফেলে দিত। কোত্থেকে শিখেছে? আপনার কাছ থেকে।

যখনই দেখবেন আপনার শিশু বড়দের সম্মান করছেনা, সেটা ভদ্রলোক হোক কিংবা বাড়ির কাজের লোক, সাথে সাথে তাকে শুধরে দিন। আজকে যদি সে অন্যদের অসম্মান করতে শিখে, আগামীতে সে আপনাকেও অসম্মান করবে। বিশ্বাস না হলে পরিনতি নিজের চোখেই দেখবেন। টাইম টাইমকি বাত হ্যায়।

তাছাড়া প্রতিটা শিশুর শেখা উচিৎ যে যে যত বেশি উচ্চতায় পৌছে, তাঁকে তত বেশি বিনয়ী হতে হয়। সামাজিক উচ্চতা কিচ্ছু না, টাকা পয়সা হলে যে কেউ সেটা কিনতে পারে - মানুষের হৃদয়ে সম্মানটাই আসল কথা।

এইবারে আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে।

আপনি বাড়তি কিছু টাকা উপার্জনের জন্য দিনরাত খেটে মরেন। সুখের জন্য টাকার বিকল্প নেই, কথাটা অস্বীকার করা মূর্খামি হবে। তবে এও ঠিক, কিছু সুখ আপনি মাল্টি বিলিয়ন ডলার খরচ করেও কিনতে পারবেন না। পরিবারের সাথে কাটানো সুন্দর কিছু মুহূর্ত তাদের একটি। বাড়িয়ে বলছি না। ভেবে দেখুন, আপনি কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছেন, নিজের সন্তানের সুখের জন্য। সেই সন্তানের সাথে কিছুক্ষণ কথা বললেই যে কেউ বুঝতে পারবে, আপনি তার কাছে মানি ম্যাশিন ছাড়া আর বেশি কিছু নন। আপনি মারা যাওয়ার পরে আপনিতো কবরে পরে থাকবেন, এইদিকে আপনার ছেলে মেয়েরা আপনার ফেলে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে কামড়াকামড়ি করে মরবে। তাহলে কী লাভটা হলো এত টাকা কামিয়ে? কোথায় ছিলেন আপনি যখন সে স্কুলে বুলিড হয়ে বাড়িতে এসে ফুপিয়ে কাঁদতো? ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটিকে যখন সে অন্য চোখে দেখতে শুরু করেছে - সেই জাদুকরী মুহূর্তটিতে আপনি কোথায় ছিলেন? রেজাল্টের দিন যখন সে ভাল ফল করতে পারেনি, তখনই বা কোথায় ছিলেন আপনি? জন্মের পর থেকে বয়স দশ বার হওয়া পর্যন্ত সময়টাতে নিজের বাচ্চাকে কচলিয়ে, দুমড়িয়ে, মুচড়িয়ে যা আদর করার করে নিন। এই সময়ে আদর না করলে আর কখনই আদর করার সুযোগ পাবেন না। এই সময়টাতেই ওরা আপনার কাছে আসতে চাইবে। পরে আপনি যতই হাতছানি দিয়ে ডাকুন না কেন, ওদের কাছে পাবেন না। বাজে শোনালেও এটাই রিয়ালিটি। বাচ্চার বাবা মা হওয়ারও আগে তাঁদের শ্রেষ্ঠতম বন্ধু হবার চেষ্টা করুন।

তার কাছ থেকে "পিতামাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য" আশা করছেন, নিজে কতখানি দায়িত্ব পালন করেছেন?
সারাদিন বাচ্চা স্কুলে পড়াশোনা শেষে কেবল সন্ধ্যায় আপনাকে পাচ্ছে। কতকিছু শেয়ার করার ছিল আপনার সাথে। মনে মনে পছন্দ করা তানিয়া নামের মেয়েটা তারই বেস্ট ফ্রেন্ড ফাহাদের সাথে হেসে হেসে গল্প করেছে। ক্লাসের দুষ্ট ছেলে মান্না আজকে তাকে বিচিত্র কিছু ওষুধের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। বলেছে এসব খেলে মনের সব দুঃখ দূর হয়ে যায়। সে প্রাণখুলে আপনার সাথে কথা বলে হালকা হতে চায়। আপনি ব্যস্ত হিন্দি সিরিয়াল নিয়ে। সিরিয়ালের কাল্পনিক চরিত্রের কষ্টে আপনার বুক ফেটে যায়, নিজের সন্তান যে আপনার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে সেটা বুঝতে পারছেন?
আপনি অফিসের কাজে এতই ব্যস্ত যে ছেলে যখন আপনার কাছে কিছু জানতে চায়, আপনি ধমক দিয়ে বলেন নিজে জেনে নাও। আপত্তিকর কোন বিষয় (যেমন যৌনতা) হলেতো কথাই নেই। ধামাধাম মার। এই ছেলে ঠিকই তার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে নিবে। উপরের মান্না টাইপের বন্ধু বান্ধবের অভাব নেই স্কুলে। এবং সেটা তাঁর জন্য আরও খারাপ হবে। উল্টা আপনি নিজে সময় নিয়ে ব্যাখ্যা করলে তার জন্যই ভাল হতো।

বিকালে অফিস থেকে ফেরার সময়ে ছেলেকে দেখলেন লুকিয়ে সিগারেট খাচ্ছে। আপনি তার কান টেনে থাবড়াথাবড়ি শুরু করে দিলেন। আপনার ধারনা আপনার মারের চোটে এই ছেলে বিড়ি ফুকা বন্ধ করে দিবে? বাজে ছেলেদের সাথে মেশা বন্ধ করে দিবে? জ্বী না। Next time he'll make sure, you don't catch him smoking.
আমার বাবা মা একদম ছোটবেলায় আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন সিগারেট খেলে ক্যান্সার হয়, মানুষ মারা যায়। জীবনেও সিগারেটের ধারে কাছে ভিড়িনি। ট্রাস্ট মি, ব্যপারটা কাজ করে।

নিজের সন্তানদের মানুষ করতে হলে তাদের সাথে সময় কাটান। আর কিছু করা লাগবেনা।
বাবা মা সাথে থাকলে চানখাঁর পুলকেও লিভারপুল মনে হয়, শিশু পার্ককেও মনে হয় ডিজনিল্যান্ড আর কক্সবাজারকে মনে হয় বাহামা আইল্যান্ডস। সুখী হওয়া এতই সস্তা এবং সহজ।

আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে ছিলাম। প্রথম জীবনে গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাওয়া হতো না। ইন্ডিয়া ছাড়া বিদেশ সফরও হয়নি কখনও। প্রতি উইকেন্ডে চাইনিজ খাওয়া হতো না। তবু আফসোস নেই একদম। কারন আমাদের বাবা মা আমাদের স্কুলে নামিয়ে দিয়ে আসতেন। স্কুল থেকে ফেরার সময়ে বাবা জিন্দাবাজারের ফ্রেশ ফুড দোকানে কলিজি সিংগারা খাওয়াতে নিয়ে যেতেন। রাতে বাবা মায়ের সাথে বসে আমরা লুডু খেলতাম। বাবাকে যে কতবার দাবা খেলায় হারিয়েছি! অথচ প্রতিবার খেলার সময়ে বাবা বলতেন, "এইবার তোমাকে চিবিয়ে চিবিয়ে খাব!"
জীবনের প্রতিযোগিতাগুলোয় অসংখ্যবার হেরেছি, একবারও তাঁদের বকাঝকা বা মারধর করতে দেখিনি।
"আজকে হয়নি, অন্য একদিন হবে।"
কোনদিনই হতো না। তবু তাঁদের সান্তনার বাণী বদল হতো না।

আজকে মাশাল্লাহ কোন কিছুর অভাব নেই। দুইটা গাড়ি আছে, মোটামুটি ভাল একটা চাকরি আছে, যখন খুশি ইচ্ছা হলেই বাড়ি কিনে ফেলার ক্ষমতা আছে। একটা সুখী পরিবার আছে। আর কী লাগে?
বাবা মায়ের কথা ঠিকই ফলেছে - ঠিকই “একদিন হয়েছে।” আমাকে কোন বিষয়েই ফার্স্ট হতে হয়নি।
আপনার ছেলে/মেয়ে অন্য ছেলেমেয়েদের মতন ভাল রেজাল্ট করছে না? দেখেন অন্য কোন দিকে প্রতিভা আছে কিনা। সাকিব আল হাসান যে খুব ব্রিলিয়ান্ট ছাত্র ছিলেন সেটা কোথাও শুনিনি। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার হতে হলে পৃথিবীর কোন দেশের মুদ্রার নাম কি, কিংবা একত্রিশের ঘরের নামতা ঠোটস্থ মুখস্ত থাকাটা জরুরী নয়।

ক্লাস এইটে উঠে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল বলে বাবা তাঁকে বাসা থেকে বের করে দিলেন। ছেলে জেদী ছিল, সে নগরবাউল হয়ে দেখিয়েছে। বাংলাদেশে জেমসের মতন আরেকখান পিস খুঁজে বের করেন দেখি। সবার প্রতিভা সবদিকে সমান থাকেনা।
আর যদি আপনার সন্তান একেবারেই প্রতিভাশুন্য হয় তাহলেও সমস্যা কী? সে নাহয় নয়টা পাঁচটার সাধারণ চাকরিই করবে, লোকাল বাসে বাদুর ঝোলা হয়ে যাতায়াত করবে, তবু এই ভেবে সুখী থাকবে, সে অসাধারন দুইটা বাবা মা পেয়েছিল।

ইদানিং আমার ফেসবুকে লেখালেখি কমিয়ে দেবার এটাই সবচেয়ে বড় কারন। যখন বাড়িতে থাকি এবং আমার ছেলে জেগে থাকে, আমি তার সাথে খেলি। উ আ শব্দ করতে করতে ও যখন আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে, সেই অনুভূতি কোটি কোটি ডলার দিলেও আমি বেঁচতে রাজি নই।

আপনি জাতি বদলে দিতে চান? নিজেকে দিয়েই শুরু করুন। নিজের ছেলেমেয়েদের আদর্শ বাবা মা উপহার দিন, ভবিষ্যতে তাঁরাই দেশ পাল্টে দিবে।

Monday, October 5, 2015

ডাঃ মাখনলাল এমবিবিএস !

সন্তান কে সমাজের উচুস্তরে দেখতে কে না চায় ? তাই মধ্যবিত্ত ঘরের মা-বাবা ছোটকাল থেকেই তার সন্তান কে বড় ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখেন ! এমন ভাবে সন্তানের সামনে "ডাক্তার" ব্যাপার টি কে উপস্থাপন করেন যেন ডাক্তার না হলে জীবন বৃথা ! আর, একবার কোনরকমে ডাক্তার হতে পারলেই মিলবে জাদুর কাঠি,সুখের চাবি !"
বাবা, আমি ডিজনিল্যান্ড যাব ", "বাবা আমি বড় হয়ে লাল গাড়ি কিনব" - সন্তানের এই সব আবদার তাই শেষ হয় বাবার  উত্তরে- "ডাক্তার হলে তুমি সব কিনতে পারবে বাবা" !

ব্যপারটা এমন নয় যে সব মা-বাবাই এমন বলেন । এমনও অনেকেই আছেন যারা এই পেশার প্রতি নিজের ভাললাগার কারনেই ডাক্তার হতে চান ।তারা সাধারনত ছোটবেলায় জীবনের লক্ষ্য লিখতে গিয়ে এমনটা লিখে থাকেন- "বড় হয়ে আমি মানুষের সেবা করতে চাই" ! শিক্ষক তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন- " দোয়া করি, বড় ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা কর" !

পাঠক, তাহলে ব্যাপারটা দাঁড়ালো কি ? বড় হয়ে ডাক্তার হতে পারি আর না পারি, ছোটকালেই দুটি জিনিস কিন্তু আমাদের মাথায় ঢুকে গেল-
১) ডাক্তার হলে অনেক টাকা হবে, জীবনের সকল চাওয়া পুরন হবে ! আর-
২) মানুষের সেবা শুধু ডাক্তাররাই করে থাকেন !

যাই হোক, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর এমনি একজন হলেন মাখনলাল ! ছোটকাল থেকেই শুরু হয় তার স্বপ্ন পূরণের লড়াই ! বন্ধুরা যখন মাঠে ক্রিকেট খেলত অথবা সন্ধ্যার পর সিনেমা হলে গিয়ে দেখত রঙ্গিন সুজন-সখি, মাখনলালের তখন একটাই কাজ- পড়া পড়া আর পড়া ! পড়তে পড়তে কেটে যায় শৈশবকাল ! বাল্যকাল ! তারুন্যে এসে মাখনলাল সুযোগ পায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার ! সেখানে দেখা হয় আরও অনেক মাখনলালের সাথে ! সবার চোখ ভরা একটাই স্বপ্ন- বড় ডাক্তার হব !!

এর পর শুরু হয় আসল খেলা ! কি সেই খেলা ?? আইটেম , কার্ড , টার্ম , ওয়ার্ড ফাইনাল, ব্লক ফাইনাল, ইয়ার ফাইনাল নামক নানারকম পরীক্ষা নানাকারনে একাধিকবার দিয়ে, সকাল ৭ টা থেকে দুপুর আড়াইটা , সন্ধায় আরও দুই ঘণ্টা - মোট ৯ ঘণ্টা করে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস করে মাখনলালদের যোগাড় করতে হয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় বসার যোগ্যতা, যার নাম ক্লিয়ারেন্স  ! এ প্রসঙ্গে বলে রাখি- যে দেশে জব্বার , মিজান নামের বস্তুরা থাকেন , সেই দেশে ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার দিনটি ঈদ হিসেবে পালিত হয়ে থাকে !

যাই হোক, এরপর মাখনলালরা প্রফ পরীক্ষা দিতে বসেন । এমসিকিউ, রিটেন , ভাইভা, শর্ট কেস, লং কেস, অসপি - এই ধরনের নানা অঙ্গ বিশিষ্ট ৩টি প্রফ পরীক্ষা দিয়ে তারা ডাক্তার হওয়ার চেষ্টা করেন । দিনরাত কাচ্চি না খাওয়ার অপরাধে এইসব পরীক্ষায় ভেজিটারিয়ান মাখনলালরা হরহামেশাই শহীদ হয়ে যান , যদিও তাদের ভাগ্যে জোটে না কোন শহীদমিনার ।

যে পরিবেশে কেউ ৫ মিনিট দাড়িয়ে থাকলে অস্থির হয়ে পড়েন , সেই পরিবেশ অর্থাৎ হাসপাতালের ওয়ার্ড এ টানা তিন বছর প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে দাড়িয়ে থেকে , ৫-৬ ঘণ্টা ধরে চলা ভীতিকর প্রফ পরীক্ষাগুলি কখনো কখনো একাধিকবার দিয়ে পাশ করেন মাখনলাল ! ৫ বছরের সাধনা রূপ লাভ করে বাস্তবে ! ৫ বছর পড়াশুনা শেষে এইবার শুরু হয় তার  ইন্টার্ন জীবন ! এই জীবন একবছর চলবে । এই সময়ে মাখনলাল প্রতিদিন ৮-১০ ঘণ্টা, কোন কোন দিন ১৬ ঘণ্টা, একেকদিন ২৪ ঘণ্টা হাসাপাতালে কাটাবেন , হাতে কলমে ডাক্তারি  শিখবেন ও করবেন। বেতন পাবেন ১০০০০ টাকা !

প্রশ্ন ১ - পাঠক , আপনার বাসার ড্রাইভার এর বেতন কত ?

যাইহোক, ইন্টার্ন শেষে মাখনলাল লাভ করেন ডাক্তারি রেজিস্ট্রেশন । কিন্তু এইবার মাখনলাল প্রবেশ করেন এক ভিন্ন বাস্তবতায় , যেখানে তাকে একই সাথে বড় ডাক্তার হতে হবে , সরকারি চাকরি নিতে হবে , পরিবার এর কিছু দায়িত্ব নিতে হবে এবং নিজের পেট বাঁচাতে হবে ! তাই তার বাংলা এবং সাধারন জ্ঞান পড়া শুরু করতে হয় বিসিএস এর জন্যে , মোটা মোটা বইগুলি আবার পড়তে হয় এফসিপিএস, এম ডি তে সুযোগ করে নেবার জন্যে এবং ছোট চাকরি করা শুরু করতে হয় পেট বাঁচানোর জন্যে । এই ছোট চাকরি কে বলে "খ্যাপ", যেখানে মাখনলাল বেতন পাবেন ৮ ঘণ্টায় ৬০০ টাকা, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৭৫ টাকা ! সুতরাং, মাখনলালের মাখন এবার গলতে শুরু করে। তবু মাখনলাল সেবা কিন্তু দিয়ে যাচ্ছেন, কারন এই সেবায় তার পেট চলে ! সেই সেবার দাম ঘণ্টায় ৭৫ টাকা !

উইনস্টন চার্চিল বলেছিলেন- " তরুন ডাক্তার ও বৃদ্ধ নাপিত থেকে দূরে থাকুন" !

সুতরাং মাখনলালকে অবশ্যই বড় ডাক্তার হতে হবে। ডিগ্রী নিতে হবে এফসিপিএস, এম ডি এইসব । কিন্তু ডিগ্রি তো আর শুধু পড়া দিয়ে হয় না, সাথে লাগবে ৪ বছরের ট্রেনিং! এই ট্রেনিং এর সময় তাকে একজন ফুল টাইম চিকিৎসক হিসেবে ডিউটি করতে হবে কোন একটি মেডিকেল কলেজে, বিনা বেতনে ! সেই সাথে পেট বাঁচানোর জন্যে খ্যাপ তো চলবেই ! তাই টানা ৪ বছর ধরে বিনা বেতনে কাজ করবেন মাখনলাল , আর ডিউটির ফাঁকে পেট বাঁচানোর জন্যে মারবেন খ্যাপ -আয় ঘণ্টায় ৭৫ টাকা। এবার অনারারি (অনাহারি) মেডিকেল অফিসার মাখনলাল ! দিন রাত কেটে যায় তার হাসপাতালেই !

প্রশ্ন ২ - পাঠক, মাখনলাল ৪ টি বছর বিনা টাকায় হাসপাতালে আপনাকে চিকিৎসা দিয়েছেন, নিজেও শিখেছেন চিকিৎসাবিদ্যা!! আপনি হলে কয় বছর পারতেন??
 আপনাদের অবগতির জন্যে বলে দেই- বড় সরকারি হাসাপাতালে এই ধরনের বিনাবেতনে কাজ করা ডাক্তারের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি থাকে। এদের বলে- HMO !

মা বলেন- মাখন রে, একটা বিয়ে কর । কিন্তু মাখনলাল ভয় পায়। নিজে খেতে পায় না, বউ কি খাবে ? এইভাবে কেটে যায় মাখনলালদের যৌবন ! বয়স ৩০ ছুই ছুই ! কোনোরকমে ট্রেনিং শেষ ! এই বেলা মাখনলাল ভাবেন, বিসিএস টা দিয়ে নেই, তারপরই সুখের সংসার পেতে বসব ! শুরু হয় আরেক খেলা । পড়ো বাংলা, পড়ো সাধারন জ্ঞান, সেই voice change, narration আর সুদকষার অংক !! এইসব পড়তে আর ভালো লাগে না মাখনলালের, স্কুলের অন্য বন্ধুরা ততদিনে বিয়ে শাদি করে পুরদস্তুর জাকিয়ে বসেছে, আর মাখন?? মাখন পড়ছে ! পড়ছে ইথিওপিয়ার রাজধানীর কথা, জানছে এভারেস্ট এর উচ্চতা ! সরকারি ডাক্তার হতে হবে যে !!

এইভাবে ২/৩বারের চেষ্টায় মাখনলাল হয়ে গেলেন সরকারি ডাক্তার ! পোস্টিং হল থানা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে, বেতন ১৭০০০ টাকা , থাকার জন্যে পেলেন কোয়ার্টার। পলেস্তারা খসা, ডাম্প পড়া, জানালার কাঁচ ভাঙ্গা সরকারি কোয়ার্টারে থাকে মাখনলাল, এক সময়ের দেশ কাঁপানো মেধা মাখনলাল। নিজেই রাধে, নিজেই খায় !কিন্তু এভাবে কতদিন? তাই মাখন বিয়ে করল।

এবার শুরু হল ভানুমতির খেল ! ১৭০০০ টাকায় মা-বউ-সংসার কীভাবে চালান সম্ভব ?? দেশের সবচেয়ে মেধাবি, বোর্ড প্লেস করা মাখন এই টাকায় কি দিয়ে কি করবেন ?? মাখনের অন্য বন্ধুরা এতদিনে ২ সন্তানের বাপ ! কেউ কিনেছেন গাড়ি ! কারো সন্তান পড়ে ঢাকার বড় স্কুল এ ! থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাখনের শখ হয় তার ছেলেটিকে ও ভালো ইস্কুলে পড়ানোর , ভালো পরিবেশে রাখার ! কিন্তু পারে না মাখন, সে ডাক্তার, তাই তার শখ বলে, স্বপ্ন বলে কিছু থাকতে নেই। তার আছে শুধু মানবসেবার দায়িত্ব! কারন শুধুমাত্র ডাক্তাররাই সরকারি টাকায় পড়েছেন , আর বাকি যত শিক্ষালয়,সেগুলো হয় বেসরকারি অথবা সেখানে পড়াশুনা বলে কিছু নাই ! হতাশ ডাঃ মাখনলাল পরে থাকেন থানা সাস্থ্য কেন্দ্রেই । পাঠক বলতে পারেন,মাখনদের ডিজনিল্যান্ড আর কত দূর ?

এইভাবে হতাশার, পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলাতে মিলাতে কয়েক বারের চেষ্টায় fcps, md ও পাশ করে মাখন! বয়স তখন ৩৮ !  জীবনের ৩৮ টি বসন্ত পার করে মাখনলাল হয় Dr. Makhonlal, MBBS, FCPS, MD !  অনেক চেষ্টা-তদবির করে অবশেষে মাখনলাল ট্রান্সফার হয়ে আসেন একটি মেডিকেল কলেজে !

তারপর পাড় হয় আরও কত দিন ! মধ্যবয়স পেরিয়ে গেছে কিছুদিন আগেই। এমন সময় মাখন হয় প্রফেসর !! বয়স কমপক্ষে ৪৫ ! এই ৪৫ টি বছর সাধনা করে মাখন শিখেছে অনেক কঠিন চিকিৎসাব্যবস্থা, অভিজ্ঞতাবলে অর্জন করেছে অনেক মরনাপন্ন রোগীকেও বাঁচিয়ে তোলার জ্ঞান !! আজ তার ভিসিট এখন ৫০০ টাকা ! মাখনলালের সন্তানদের কাছে ডিজনিল্যান্ড এখন শাহবাগের শিশুপার্কের চেয়েও কাছে ! লাল গাড়ি চড়ে তারা ডেটিং এ যায় !

আর পাঠক,শীগগির আপনারা কোমর বাঁধুন ! এইবার এসেছে সেই দিন ! এতদিনে এসেছে আপনাদের দিন! এখন আপনারা তাকে কসাই বলে গালি দিতে পারবেন, তার বিরুদ্ধে রোগী হত্যার অভিযোগ আনতে পারবেন, আর সেই অভিযোগ তদন্তের আগেই মাখনলাল কে হাতকরা পড়াতে আছেন আপনাদের সেপাইরা। আর আপনাদের টিভি? মিডিয়া ?? মাখনলালের হাতকরা পরা ছবি বাড়িয়ে দেবে তাদের পত্রিকার, চ্যানেলের কাটতি !! পারসোনার গোপন কামেরার খবর কিন্তু ঠাইও পাবেনা তাদের পাতায় !!

প্রশ্ন ৩ - kfc তে ১০০ গ্রাম আলুর দাম ৭০ টাকা হলে, ৪৫ বছর ধরে চলা এই সাধনার সম্মানী হিসেবে ৫০০টাকা কি খুব বেশি ?

তারপরও ডাক্তাররা হতাশ হননা,আটক সহকর্মী কে মুক্তির দাবীতে রোগী দেখা বন্ধ করেন না। বেতন বাড়ানোর  দাবিতে আন্দোলন করেছেন ডাক্তাররা, এমনটা শুনেছেন কোনোদিন ?? যতবার ডাক্তাররা আন্দোলন করেন, খেয়াল করে দেখবেন, সেই আন্দোলন ওইসব কারনে নয়, সেই আন্দোলন হয় শুধুমাত্র আপনারা ডাক্তারদের গায়ে হাত তোলেন বলে ! আপনারাই বলুন- কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা পাবার অধিকার কি ডাক্তারদের নেই??

একজন সাধারন ছাত্র কীভাবে একজন বড় ডাক্তার হয়ে ওঠেন, ডাঃ মাখনলাল এর মাধ্যমে সেটাই আমি আপনাদের জানাতে চেয়েছি । আমি খুব ভালো করেই জানি- এতশত ডাক্তারদের ভিড়ে কেউ কেউ আছেন যারা অসৎ ! তারা কমিশন খান, প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী ভাগান, রোগীর সাথে খারাপ ব্যবহার করেন, অবহেলার অভিযোগ ও কিছু ক্ষেত্রে সত্য ! তাদের কঠোর শাস্তি দেয়া উচিৎ। কিন্তু সবাই কি এমন? বাস্তবতা ভেবে দেখুন- আজ আমাদের সমাজের প্রতিটা অঙ্গেই পচন ধরেছে । বাকি সকল পেশার আপনারা দুর্নীতি করে বাড়ি গাড়ি করবেন আর চাইবেন, ডাক্তাররা ১০০ভাগ সৎ থাকবে, আর সেই চাওয়ায় একটু কমতি হলেই যখন তখন গায়ে হাত তুলে বসবেন, গালি দেবেন এটা কি ঠিক?

দয়া করে অভিযোগ তদন্ত না করেই বিচার আর শাস্তিপ্রদান শুরু করে দেবেন না।  বড় ডাক্তার হওয়া অনেক কষ্টের কাজ, অনেক অনেক অনেক কষ্টের ফল এটা! এত কষ্ট, এত শ্রম কে আবেগের বশে অপমান করবেন না ! আমরা খুব কষ্ট পাই, ভালো কিছু করার উৎসাহ হারাই ! একটা কথা ভুলে যাবেন না - বাঁচতে হবে সবাই মিলে, সামাজিক নিয়ম মেনে  !! সবাই কে ধন্যবাদ

collected

Thursday, September 17, 2015

আসলে পাপ , আসলেই পাপ এই মেডিক্যাল প্রফেশনে আসা।

শুধু বাংলাদেশে কেন , পৃথিবীর কোথাওই উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের উচ্চাকাঙ্খী ছেলে মেয়েদের মেডিকেল প্রফেশনে আসা উচিৎ না।

কারন এখানে ক্যারিয়ার স্ট্যাবলিশমেন্টের জন্য যে পরিমাণ ডেডিকেশন আর যতটা সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় , তার জন্য যথেষ্ট সময় বা সুযোগ কেউই আপনাকে দিবে না , না আপনার পরিবার , না আপনার উপার্জন।

তবে হ্যা। ধনী পরিবারের পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের জন্য মেডিক্যাল প্রফেশনে আসা ভালো। কারন আপনি সাফল্য না পাওয়া পর্যন্ত আপনার পরিবার আপনাকে সাপোর্ট দিবে এবং আপনার উপার্জনের কথা চিন্তা করতে হবে না। প্রচুর খরচ করবেন এবং প্রচুর পড়ালেখা করবেন।

Life can be awesome. আমার কাছে এর প্রপার উদাহরনসহ প্রমাণ আছে যে অনেক কম মেধা নিয়েও ডেডিকেশন এবং ফ্যামিলি সাপোর্ট পেলে মেডিক্যাল প্রফেশনে অসাধারন ক্যারিয়ার তৈরি করা সম্ভব।

অথবা নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্যও মেডিক্যাল প্রফেশন ভালো। কারন শুধুমাত্র এমবিবিএস করেই ক্লিনিক বা জিপি করে মাসে লাখ টাকা উপার্জন করা সম্ভব। একটা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মাত্র একজন চিকিৎসক সন্তান পুরো ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট...
এই প্রফেশনে সবচেয়ে বড় পাপিষ্ঠ হলো উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের উচ্চাকাঙ্খী ছেলেমেয়েরা।

কারন এরা স্বপ্নের পিছে ছুটে না পারে টাকা কামাতে , আবার স্বপ্ন পুরন করতে এসে না পারে অভাব সামলাতে।
এরা না পায় ফ্যামিলি ব্যাক আপ , না থাকে এদের কোন স্ট্যাটাস...

আশেপাশের মানুষ সবাই ভাবে এদের কত টাকা , আর আজীবন গসিপ চলে যে এরা এত কৃপণ কেন!
এদের উপর কেউই সন্তুষ্ট না। ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলির আজীবনের অভিযোগ যে সময় দেয় না , টেক কেয়ার করে না, কন্ট্রিবিউট করে না । কেউই এদের স্ট্রাগল আসলে বুঝে না। সবাই শুধু বুঝে নিজেরটা এবং কিভাবে এদের ইউটিলাইজ করা যায়।

এদের জীবনে বড় হতে হলে পার্সোনাল লাইফ সেক্রিফাইস করতে হয় , আনন্দ ফুর্তি বিনোদন সব সেক্রিফাইস করতে হয় , এদের প্রত্যেকটি সাফল্য অসংখ্য ইচ্ছামৃত্যুর স্মৃতি স্তম্ভের উপর নির্মিত হয়।

এরপরও যদি ১৫-২০ বছর স্ট্রাগল করে এদের মাঝে কেউ একটা লেভেলে যেতে পারে , তখন আবার পাবলিক এদের উপর খুশি না।

" একটু দেখলো আর ১০০০ টাকা নিয়ে নিলো!!!"

হায়রে স্যালুকাস। আসলে পাপ , আসলেই পাপ এই মেডিক্যাল প্রফেশনে আসা।
Zaman Sunny

Sunday, August 2, 2015

বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা

আমি একজন ভাল রাঁধুনি।কিন্তু পরিমিত উপকরন না পেলে আমি রান্না করি না।ভাল বাবুর্চিরাও কিন্তু তাই করে থাকে। পর্যাপ্ত জিনিস না দিলে সে রাঁধতে চাইবে না। বাজারের তাজা মাছটি, ফ্রেস মাংসটি, ফ্রেস সবজী এবং প্রয়োজনীয় তেল মসলা না হলে খাবার মজা হবে কি করে? তাই আমি মনের মত করে সব উপকরন সংগ্রহ করে সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করাই। আমি একজন ভাল চিকিৎসকও। কিন্তু সর্বোত্তম সেবাটি দেবার জন্য আমি কি সব উপকরন মনের মত পাই? উত্তরঃ সরকারী পর্যায়ে - না কখনও পাই না আর বেসরকারী পর্যায়ে কখনও পাই না কখনও বা গ্রাহকের অপারগতার জন্য দিতে পারিনা। কারন এক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসক আমি। যেখানে না সরকার পুরো দায়িত্ব নেয় না জনগণের সামর্থ আছে। বেনারসীর বদলে আটপৌরে শাড়ী পরে আবরু রক্ষা করা যায়, কাচ্চি বিরিয়ানীর বদলে পান্তা মরিচ দিয়েও ক্ষুধা নিবারন করা যায়, অট্টালিকার পালঙ্কে না শুয়েও কুঁড়েঘরের মাটির বিছানায় নিদ্রাযাপন করা যায় কিন্তু রক্তের বদলে পানি দিয়ে চিকিৎসা করা যায় না। চিকিৎসার জন্য ধনী লোকটির শরীর যা চায়, হত দরিদ্র লোকটির শরীরও তাই চায়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল কিংবা বড় বড় শহরের হাসপাতালগুলোতেও কি সকল সার্ভিস দেয়া যাচ্ছে ? পর্যাপ্ত দেয়া যাচ্ছে না । ফলাফল জনরোষ এবং চিকিৎসক নির্যাতন। আর অকারনে মার খেয়ে যাচ্ছে সারা জীবন পড়ালেখা করে ভাল ছাত্র ছাত্রীর তকমা লাগানো নিরীহ ছেলেমেয়েগুলো। ক্রমশই দুর্বৃত্তদের নষ্ট হাতের ছোবল বর্ধিত হচ্ছে। একি বিপর্যয় চিকিৎসা সেবায়! আর কত আমাদের নিরীহ ছেলেমেয়েগুলো মার খাবে? মার খাবার জন্যই কি ওরা ছোটবেলা থেকে ভাল্ভাবে পড়াশুনা করে এসেছে? না খেতে পেরে ক্ষুধার যন্ত্রনায় ধুকে ধুকে যে মারা গেল তার জন্য আপনারা কাকে নির্যাতন করছেন? কনকনে শীতে বিবস্র হয়ে খোলা আকাশের নীচে পরে থেকে যে মারা গেল তার জন্য কাকে জেলে পাঠালেন? ঔষধের অভাবে কেউ মারা গেলে তার জন্য দায়ী কে? আপনারা সে চিন্তা না করে জীবন বাঁচাতে হাত পা আর মাথা নিয়ে যে এগিয়ে এল তাকেই ধরে মারছেন। আর এই মার, অসন্মান করা, হাজতে ঢুকানো যেন মহামারী হয়ে গেছে। একেরটা থেকে অন্যের মধ্যে ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে সবসময়ই মেডিকেল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এ সেরা ছাত্র ছাত্রীরা প্রবেশ করে।বিজ্ঞানের ছাত্র ছাত্রীরা এ দুটি প্রতিষ্ঠানের দরজার কড়া না নেড়ে কিংবা এ দুটিতে চান্স পেয়েও ভার্সিটিতে গেছে এমন সংখ্যা নিতান্তই নগন্য। প্রতি স্কুলের প্রথম সারির (১-১০ কিংবা ১৫) ছেলেমেয়েরাই এখানে আসে। বিশাল এক পড়াশোনার পাহাড় অতিক্রম করে যখন এম, বি, বি, এস পাস করল তখন তাদের পদার্পণ হোল চিকিৎসাশ্বাস্রে।যে পড়াশোনার সাথে অন্য কোন পড়াশোনার তুলনা চলে না। এক অমানুষিক খাটুনির মধ্য দিয়ে যে ট্রেনিংটি তারা পার করে তার জন্য যে মাসোহারা পায় তা আমাদের অশিক্ষিত ড্রাইভার এর বেতনের চেয়েও কম। তার পিছনের সারির বন্ধুটি যখন মোটা বেতনে কোন প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরী করে তখন তারা কিছু মনে করে না এই ভেবে যে চিকিৎসকের জীবন একটু আলাদা, যার নির্ধারক বেতন নয়।তারা জানে এ পথ অনেক বন্ধুর ।
ইন্টার্নীর শেষে সরকারী চাকুরী হলে বেতনভুক্ত মেডিকেল অফিসার না হলে অবৈতনিক মেডিকেল অফিসার। সংখ্যায় অবৈতনিক মেডিকেল অফিসার অনেক বেশী।তাই এই অবৈতনিক মেডিকেল অফিসার এবং ইন্টার্নদিয়েই সরকারী হাসপাতালগুলো চলে। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের কোথাও সন্মানী ছাড়া ট্রেনিং হয় না। কারন ওরাও মানুষ, ওদেরও ভাতের প্রয়োজন, কাপড়ের প্রয়োজন, ওদেরও মা বাবা আছে, দায়িত্ব আছে, কারো সংসার বউ বাচ্চা আছে, ওরা সালোকসংশ্লেসন প্রক্রিয়ায় নিজের খাবার নিজে তৈরী করেনা। তাই নিদারুন অর্থকষ্ট ও টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে সকল সামাজিক আনন্দ উৎসব বর্জন করে, জীবনের অনেক সোনালী সময় ফেলে দিয়ে, আত্মীয় স্বজনদের প্রতি দায়িত্ব পালন না করে তাদের প্রত্যাশিত জায়গায় কেউ পৌঁছায় কেউ পৌঁছায়না।চাকুরীর দশ বার বছর পরেও এদের এক এক জনের বেতন মাত্র ২৫ হাজার টাকা। পোস্টগ্রাজুয়েশন ছাড়া এদের কোন প্রোমোশন নেই। এইসব ছেলেমেয়েরা যদি একদিন সরকারী হাসপাতালে কাজ না করে তাহলে হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।আর তারাই যদি নিরাপদে তার কমর্স্থলে কাজ করতে না পারে, কর্তব্যরত অবস্থায় দুর্বৃত্তদের হাতে মার খায়, সাংবাদিকদের মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হয় তাহলে কেউ কি চিকিৎসক হতে আর আগ্রহী হবে? সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এর প্রতিবাদ করার জন্য সমাজের কোন লোকতো নেই-ই বরং উল্লসিত হতে দেখেছি অনেককে। ডা. সাজিয়া কর্তব্যরত অবস্থায় তার সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে ওয়ার্ড বয়ের মত একটি নিম্নশ্রেনীর মানুষের হাতে নিহত হোল কোনদিন তা গুরুত্বের সাথে খবর হতে দেখলাম না। অথচ সেই একই সময়ে ইন্ডিয়াতে একটি মেডিকেল স্টুডেন্ট রেপড হওয়াতে সারা ভারতবাসী ফুঁসে উঠল।বারডেমে ঘটনা, ডা. পিনু, গোপালগঞ্জ ঘটনা,ডা শাহিন সব কিছুতেই ডাক্তার অকারনে মার খেল সে সত্যি লিখার সাংবাদিক কেউ নেই। অথচ প্রায়মৃত রোগীটি চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যুবরন করলে বিরাট খবর হয়ে আসে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা আর অবহেলায় মৃত্যু বলে। সাংবাদিকদের এই অপপ্রচার এবং মারমুখী এ্যাটেন্ডেন্টদের ঔদ্দ্ব্যত্বের জন্য কোন মানুষকে একটুও প্রতিবাদতো দুরের কথা শুধু কথা বলতেও শোনা যায় না। শোনা যায়না বলেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি জীবন্ত ডা মীমের পোস্টমর্টেম।

কেন ডাক্তারদের প্রতি এই আক্রোস? ডাক্তাররা চাদাবাজী করে? ফাইল আটকে রেখে ঘুষ খায়? সিন্ডিকেট করে দ্রব্যমূল্য বাড়ায়? শেয়ার বাজার লুট করে? ব্যাঙ্ক ক্রাফটার হয়? দেশবাসীকে ভেজালযুক্ত খাবার খাওয়ায়? কি তাদের অপরাধ? আসুন দেখি তারা কি করে।
এম,বি,বি,এস মানে ছোট ডাক্তার। আপনি কখনও সাধ্য না থাকলেও ওর কাছে যাবেন না। আপনাকে নিখুঁত সেবা দানের জন্য এবং আপনাকে প্রলুব্ধ করার জন্য বড় বড় ডিগ্রী দরকার।আপনাকে উপযুক্ত সেবাটি দেবার জন্য এই বড় ডিগ্রীগুলো নিতে জীবন হয়তো শেষ হয় না কিন্তু অনেকেরই যৌবন শেষ হয়ে যায়। প্রশিক্ষনসহ ৫ থেকে ১০ বছর এমনকি তার বেশিও লেগে যেতে পারে। এই দীর্ঘ সময়ে পরীক্ষা এবং বিভিন্ন কোর্সের ফিস দেওয়ার সামর্থ্যও অনেকের ফুরিয়ে আসে। এই পড়ালেখা এবং পরীক্ষাগুলো যে কি বিভীষিকাময় তা বর্ণনা করার ভাষা আমার কিংবা কারো নেই।শুধু কষ্টের ছাপ রন্ধ্রে রন্ধ্রে লেগে থাকে। পরীক্ষার পদ্ধতি এতই জটীল যে একবার যদি কেউ এ গোলকধাঁধার দুষ্টচক্রে পরে যায় তার জন্য উঠে আসা খুবই মুশকিল। এত মেধাবী ছাত্র ছাত্রী তারপরেও যদি এমন হয় তাহলে সহজেই অনুমেয় যে কি কঠিন পদ্ধতির মধ্য দিয়ে এদের বেরিয়ে আসতে হয়। এত কঠিন বলেই পাশ করতে না পারার হতাশায় আত্মহত্যা করল আদ দ্বীন মেডিকেলের ছাত্রী।
অন্যান্য সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার ছাত্র ছাত্রীদের যেমন পড়িয়ে থাকে মেডিকেল কলেজেও অনুরূপ পড়িয়ে থাকে। মেডিকেল কলেজে সরকারী বাজেটের বড় একটি অংশ যে বরাদ্দ সেতো হাসপাতালের রোগীদের বিনে পয়সায় চিকিৎসার জন্য। শুধু চিকিৎসা নয় এখানে থাকা খাওয়া দাওয়াও ফ্রী। এই খরচের দায়ভার ছাত্রের ঘাড়ে ফেলে শুধু জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এরা ডাক্তার হয়েছে বলে মানুষের অনুভূতিকে নাড়া দেয়া অন্যায় এবং ডাক্তারদের প্রতি অবিচার। বরঞ্চ একজন ডাক্তার তার প্রশিক্ষণের সময় (সি, এ) রাত দিন যে শ্রম দিয়ে সরকারের জনগণকে সেবা দিয়ে থাকে তার বিনিময়ে তাকে সারা জীবন ভাতা দিলেও শোধ হবার নয়। শেখার জন্য যা দরকার তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশী কাজ করে দিতে হয় ব্যস্ত হাসপাতালগুলোতে।

বাংলাদেশে চিকিৎসার সীমাবদ্বতাঃ
সীমাহীন সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এদেশের ডাক্তারদের ডাক্তারী করতে হয়। পৃথিবীর কোথাও মাটিতে রেখে চিকিৎসা দেবার নিয়ম আছে কিনা জানিনা তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এটি প্রতিদিনের চিত্র। যত রোগী বিছানায় তত রোগী ওয়ার্ডের ও বারান্দার মাটিতে। এই যে রোগীর ঢল তাদের চিকিৎসার জন্য না আছে পর্যাপ্ত ডাক্তার না আছে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। সারা দেশ থেকে এমনকি ঢাকার অন্যান্য হাসপাতালগুলো থেকে মরনাপন্ন রোগীগুলোকে এখানে রেফার করা হয়। তাদের ম্যানেজ করার জন্য চিকিৎসককে সাহায্য করার মত দক্ষ এবং দায়িত্বশীল লোকবল এবং চিকিৎসা সামগ্রী যথেষ্ঠ নেই। চিকিৎসকের কাজ ব্যবস্থা পত্র দেয়া। সেগুলো ফলো করা রোগীর সুবিধা অসুবিধা পর্যবেক্ষণ করা নার্সদের কাজ। ঔষধপত্র, স্যালাইন, অপারেশন সামগ্রী এগুলো সাপ্লাই দেয়া প্রশাসনের কাজ। কিন্তু সরকারী হাসপাতালে বহু চিকিৎসক ব্যক্তিগত ভাবে ঔষধ, রক্ত যোগানতো দিয়েই থাকে ইমারজেন্সির সময় ট্রলিটি ঠেলে নিতেও কেউ কুন্ঠাবোধ করেনা। চিকিৎসা একটি টীম ওয়ার্ক। এই টীমের বড় রিংটি চিকিৎসক। কিন্তু বাকীরা (নার্স ও অন্যান্যরা, প্যাথলজিকাল কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা) যদি সেই চেইনের কার্যকারিতার ব্যাঘাত ঘটায় তার সর্বশেষ প্রভাব পরে রোগীর উপর। যার দায়বদ্ধতা এসে পরে চিকিৎসকের উপর।কারন সবাই ফলাফল চায় তার পিছনের কাহিনী কেউ শুনতে চায় না।

চিকিৎসায় দুর্নীতি
চিকিৎসায় দুর্নীতি অমার্জনীয় অপরাধ। ডাক্তার যদি দুর্নীতিগ্রস্থ হয়, কারো অবহেলায় কোন রোগী মারা যায় বা মারাত্তক ক্ষতিগ্রস্থ হয় এসবের জন্য সুনির্দিষ্ট কোন প্রমান পাওয়া গেলে যথাযোগ্য শাস্তি এবং ক্ষতিপূরন অনেক কিছুই অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু সেটি বিচারের ভারতো সাংবাদিকের নয়। মৃত্যু পথযাত্রী কোন রোগীকে বাঁচাবার ক্ষমতা কি আল্লাহ কাউকে দিয়েছেন? চিকিৎসক চেষ্টার সবটুকু ঢেলে দিয়েও সবসময় মানুষকে বাঁচাতে পারে না। তাহলেতো মানুষ অমর থেকে যেত। মানুষতো মরবেই।একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচিয়ে তোলার যে কি আনন্দ তা ঐ ডাক্তার ছাড়া কেউ বুঝবেনা। সেটা যে রোগীর স্বজনদের আনন্দের চেয়ে কোন অংশে কম নয় এটি সবাইকে বুঝতে হবে। রোগীর মৃত্যুতে ডাক্তারের চোখেও পানি আসে। রোগীর জন্য যদি কারো দরদ থাকে তা স্বজনদের পরে চিকিৎসকদের, কোন তৃতীয় পক্ষের নয় এটা বুঝতে হবে। দিনের পর দিন কত মুমূর্ষু রোগীকে জীবনে ফিরিয়ে আনছে কত চিকিৎসক। নিজের পকেটের পয়সা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলছে কত রোগীর জীবন।কারন চিকিৎসকের নিজের জীবনের সফলতা তার রোগীর সুস্থতা।প্রত্যেকের মৃত্যু পূর্বনির্ধারিত আর এই মৃত্যুর জন্য স্বজনরা চিকিৎসকদের মারবে জেল হাজতে পাঠাবে এ কেমন পাশবিকতা ! সারা জীবন ভাল ছাত্রের তকমা গায়ে লাগিয়ে যে ছেলেটি বা মেয়েটি এতদূর এল, কর্মজীবনের শুরুতেই সে কিনা মার খেল রাস্তার সন্ত্রাসীদের হাতে। এটাই কি সেই সন্মানজনক পেশা? সব লুন্ঠিত হতে হতে মানুষের সন্মানও আজ লুন্ঠন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদের বা প্রতিকারের কেউ নেই। আত্মসন্মান বাঁচাতে মানুষ পরিবেশ এড়িয়ে চলে । তা’হলে কি চিকিৎসকরা সরে দাঁড়াবে এ পেশা থেকে? এই অসুস্থ পরিবেশ থেকে? নবীন চিকিৎসকরা এরই মধ্যে চিন্তা করছে সরে দাড়াবার, হয় পেশা বদলাবে নয় বিদেশে পাড়ি দেবে। কি হবে তাহলে এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার!!!!!


>collected<