Wednesday, November 15, 2017

ডাক্তার যখন কোন রোগীকে কোন পরীক্ষা (টেস্ট) দেয়....


.
*যখন দেয়:
-নিশ্চই কমিশন খাওয়ার জন্য দিতাছে।
.
যখন রেজাল্ট আসে:
.
*নেগেটিভ আসলে :
-শুধু শুধু টেস্ট গুলা দিছিল।
.
*পজেটিভ আসলে :
-রোগ ধরতে পারে না; তাই টেস্ট দিসিল।
.
*রেজাল্ট এর পর ঔষধ চেঞ্জ করে দিলে :
-নিশ্চই আগে ভুল চিকিৎসা দিসিল।
.
*রেজাল্টের পর ঔষধ চেঞ্জ না করলে :
-আগেই রোগ ধরতে পারসিল।তাও কমিশন খাওয়ার ধান্দায় টেস্ট গুলা দিল!
.
যদি টেস্ট না দিয়েই চিকিৎসা শুরু করে :


- ১ মিনিট দেইখাই সব বুইজ্ঝা ফেল্ল!কি জানি আবার ভুল চিকিৎসা দিল কিনা!একটা টেস্ট দিলে কি হইত!আমারে কি ফকির ভাবে নাকি? ইন্ডিয়া যামুগা!!


Being patient is tough...Being doctor is the toughest

Collected post

Thursday, November 9, 2017

ডাক্তার মা-দের আরো বড় লাল সালাম যারা সন্তানের দিকে চেয়ে পুরো কেরিয়ারকে জলান্জলি দিয়েছেন বা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

একজন মেয়ের,বিশেষত একজন ডাক্তার মায়ের কেরিয়ার দাঁড় করানো যে কতটুকু “বেসম্ভব” কাজ,
নিজে বিয়ে না করলে আর নিজের বউ ডাক্তার না হলে আর নিজের একটা বাচ্চা জন্ম ও বড় হওয়া না হতে দেখলে হয়ত কখনই বুঝতামনা।

সেসব নারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেলুট,যারা মা হবার পরেও অনেক কিছু বিসর্জন দিয়ে এই অসাধ্য সাধন করেছেন(যদিও বাচ্চাদের অবশ্যই অনেকটাই অপূরনীয় বন্চিত হতে হয়)।
তাইত,
সেসব ডাক্তার মা-দের আরো বড় লাল সালাম যারা সন্তানের দিকে চেয়ে পুরো কেরিয়ারকে জলান্জলি দিয়েছেন বা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

খালিখালি মায়ের পায়ের নিচে আল্লাহ্ বেহেস্ত দেননাই!

বি:দ্র:
ইহা মেয়েদের তেলানোর মাধ্যমে হিরো হইবার জন্য কোন পোস্ট নহে,ইহা মায়েদের মূল্যায়নসূচক পোস্ট,নারীর অপরাপর ভূমিকা নিয়ে নয়।

আমি ঠিক করসি,আমার পোলা আমার সাথে যেমনতেমন,যদি তার মায়ের সাথে কোন বেয়াদবি করে,থাবড়ায়া সব দাঁত ফালায়া ডেন্টিস্টের কাসে নিয়া যামু

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

ডাক্তার এবং সন্তানেরা

স্বামী স্ত্রী ২জনই clinical সাইড এ career করছেন।
 সকাল বেলা অফিস আবার বিকাল বেলা টুকটাক চেম্বার। বাসায় আসতে আসতে রাত ৯-১০টা।
 মোটামুটি ভালো post graduation career.

 কিন্তু আপনার সন্তানের কি অবস্থা?

 বৃদ্ধ দাদা দাদী, নানা নানী অথবা কাজের মানুষের কাছে তার শৈশব কৈশোর কাটছে। এদের কি একটি সুস্থ মনমানষিকতা নিয়ে বেড়ে ওঠা সম্ভব?
 আমরা যারা পড়াশোনা করে একটি পর্যায়ে এসেছি, এর পেছনে বাবা মা বিশেষত মায়ের অবদান সবথেকে বেশি। আদর ভালবাসা তো বটেই, তা ছাড়া আমাদের শৈশব কৈশোরের প্রতিটি ধাপে মা ই নিজ হাতে আমাদের গড়ে তুলেছেন।
বর্তমান যুগে সব ডাক্তার clinical career নিয়ে  serious. একটু ভেবে দেখুন, আপনার সন্তান একটি দিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় অর্ধেক সময় আপনাকে ছাড়া পার করছে, তার মনের ভেতর কি হচ্ছে? এভাবে একজন সন্তানকে সঠিক ভাবে মানুষ করা কিন্তু খুব কঠিন।
আমার মনে হয় বাবা মা অন্তত একজনকে Basic subject এ career করা উচিত, যাতে বিকেলে বা সন্ধ্যায় বাচ্চাদের সাথে থাকা যায়। আমার কথাটা অনেকের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ মনে হবেনা এমনকি হয়তো প্ল্যাটফর্ম ও এই পোস্ট approve করবেনা।
কিন্তু মনে রাখবেন শুধু বাসায় ২ বেলা ফোন করে খোঁজ নেয়া মানেই দায়িত্ব পালন নয়। খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি এই সন্তানরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কিভাবে বাবা মার বাসায় ফেরার জন্য অপেক্ষা করে।

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থার উপর আস্থা রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও দৃঢ় ভিত্তির উপর দাড় করাতে সহায়তা করুন।

বিএসএমএমইউতে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) মাত্র ১,৬০,০০০ টাকা খরচে কিডনী প্রতিস্থাপন করা যায়,সর্বসাকুল্যে খরচ মাত্র ২,৫০,০০০ টাকা। সফলতার হার প্রায় ১০০%।

দাদাদের দেশে খরচ পরে প্রায় ১০ গুণ,১৫,০০,০০০-২০,০০,০০০ টাকা।অন্যান্য দেশে কিডনী প্রতিস্থাপন খরচ আরো বেশি।

দাদাদের এজেন্ট কিছু পত্রিকা কিছু দিন পর আবার পত্রিকায় হেডলাইন ছাপাবে বিএসএমএমইউতে ডাক্তার কিডনী অপারেশনের নামে মানুষের কিডনী বেচে দিচ্ছে। মানুষ ও বিশ্বাস করবে, তারপর আবার বন্ধ হয়ে যাবে কিডনী প্রতিস্থাপন। মানুষ আবার কিডনীর চিকিৎসার জন্য দাদাদের দেশে পাড়ি দিবে।

দাদাদের পেইড এজেন্টরা আমাদের দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে ধীরে ধীরে, আর আমাদের দেশের আমজনতা ও তা চোখ বুজে বিশ্বাস করে।

চিলে কান নিয়েছে শুনেই চিলের পিছে দৌড় শুরু করে, কানে হাত দিয়ে দেখেনা কান আছে কানের জায়গায়ই।
দেশের চিকিৎসক ও চিকিৎসাব্যবস্থার উপর আস্থা রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকেও দৃঢ় ভিত্তির উপর দাড় করাতে সহায়তা করুন।

Courtesy: Dr. Sohel

Wednesday, October 11, 2017

এই সাফল্যের খবর বাংলাদেশী মিডিয়ার আমলে আসে না।। তারা ব্যস্ত নেংটি ইঁদুরদের মিস ওয়ার্ল্ড নিয়া।। #যাই হোক- জয় হোক বাংলাদেশী মেধার।।

এই সাফল্যের খবর বাংলাদেশী মিডিয়ার আমলে আসে না।। তারা ব্যস্ত নেংটি ইঁদুরদের মিস ওয়ার্ল্ড নিয়া।।
#যাই হোক- জয় হোক বাংলাদেশী মেধার।।

আসলেই বড়ই বিচিত্র আমার এই দেশ... "চাটুকারিতার কাছে আজ পরাজিত মেধা".....

তোফা তহুরার জটিলতম অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর সেই সার্জন টীম মেম্বার দের জন্য কত টাকা পুরষ্কার ঘোষনা দেয়া হয়েছিল??

কিনবা বাজনাদারের আঙুল গুলো সারিয়ে তুললেন যারা, তারা কি একটা করে ফ্ল্যাটবাড়ি পেয়েছেন??

মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশুটিকে বাঁচিয়ে তোলা চিকিৎসক রা কি নুন্যতম একটি বোনাস পেয়েছিলেন???

খাদিজাকে সুস্থ করে তোলা চিকিৎসকেরা নিশ্চই পূর্বাচলে ৫ কাঠার প্লট পেয়েছেন, নাকি পান নি????

হেপাটাইটিস সি নতুন চিকিৎসা আবিস্কার কারী দুই বাংলাদেশী চিকিৎসক নিশ্চয় গাড়ি পেয়েছেন, নাকি পান নাই??????

আপনি হয়ত বলবেন ওনারা তো ওনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন তার জন্য আবার এসব কেন? এর জন্য তো তারা বেতন পেয়েই থাকেন।


তাহলে আমাদের সোনার ছেলেরাও তো বিসিবি থেকে মাসে মাসে বেশ মোটা অঙ্কের বেতন পান, ভালো খেলাটা তাদের দায়িত্বের মাঝে পরে, তখন একটা সিরিজ জিতলেই তাদের জন্য এত প্রণোদনা কেন????


যখন ৩ দিনে দুই বার ব্যাট করেও বিশাল ব্যাবধানে হারে তখন কি তাদের জন্য শাস্তিমুলক কিছু আছে???


আচ্ছা খেলোয়াড় দের কথা ছাড়ুন।

একজন উপ সচিব যখন গাড়ি কেনার সরকারী ঋণ পাচ্ছেন ৩০ লাখ, সাথে মাসে ৫০০০০/- টাকা রক্ষনা বেক্ষন বাবদ, তখন এই সব চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদ রা কি পাচ্ছেন????


আসলেই বড়ই বিচিত্র আমার এই দেশ...

"নেংটির কাছে আজ পরাজিত মেধা".....
Shared from
Dr Faizur Rahman Fahim

Tuesday, September 5, 2017

“মানবযন্ত্র”

“স্যার আমার ছেলেটা অনেক দুর্বল, একটা ভাল ভিটামিন লিখে দেন”- মায়ের আর্জি

ছেলেটার দিকে ভাল করে তাকালাম, “কোন ক্লাসে পড় বাবা”?
“ক্লাস ফাইভে” ছেলেটার উত্তর
মা - “অনেক দুর্বল, পড়ালেখা করতে পারে না। সেই সকাল ৫ টায় উঠে পড়া শুরু হয়, তারপরে স্কুল, স্কুলে কোচিং, বিকাল ৫ টায় বাসায় আসে। তারপরে বাসার টিচার আসে দুজন রাত ৯ টা পর্যন্ত পড়া, এত দুর্বল হইলে পড়বে কমনে?”

আমি কোন জবাব দেই না আজকাল; প্রশ্নও করি না। এই অচেতন জাতিকে সচেতন করার বৃথা চেষ্টা আগে করতাম, এখন করি না। সেই সকাল ৫টা থেকে রাত ৯টা! এত মানসিক চাপ আর যন্ত্রনার মধ্যে এই বাচ্চাটাকে রাখলে সে তো দুর্বল হবেই, এর সাথে তো ভিটামিনের কোন সম্পর্ক নেই!

অনেক বাবা-মা আসেন আর বলেন, আমার ছেলে/মেয়ে ক্লাসে প্রথম। ভাল করে আপাদমস্তক অবলোকন করি আমি, কেমন জানি সবাই প্রাণহীন। মনে হয় শান্তি নেই, সুখ নেই, স্বস্তি নেই, ছন্দ নেই। আসলে তো একটা অসম প্রতিযোগিতার ষ্টীম রোলারে সবাই পিষ্ট।

এখন আর জিজ্ঞেস করিনা খেলাধুলা করো কিনা? জানি কম্পিউটার কিনবা মোবাইল গেমেস এর নাম নিবে। আরে, আমি তো জানতে চেয়েছি, বর্ষার কর্দমাক্ত মাঠে ফুটবল খেলে পুকুরে ঝাপ দিয়েছ কিনা...... আমি তো জানতে গোল্লাছুট নাম শুনেছ কিনা, জীবনে একবার ও ঘুড়ি উড়িয়েছ কিনা? আমি তো জানতে চাই আম গাছ থেকে আম পেড়ে খেয়েছ কিনা??? আমি তো জানতে চাই.........থাক।

... ... ...

সকাল বেলা অফিস এ যাওয়ার সময় একটা পরিচিত দৃশ্য, ঘুমন্ত বাচ্চাকে মা কিনবা বাবা কোলে করে রিক্সায় তুলে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে। মায়া হয়, কষ্ট হয়...... দুঃখ ও হয় বাচ্চাগুলোর জন্য। একটা অদৃশ্য, অসম প্রতিযোগিতার বলি এই বাচ্চাগুলো। অকর্মণ্য ও অপদার্থ বানানোর এই শিক্ষা ব্যবস্থার কাছে জিম্মি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। যে নির্জীব আর হতাশাগ্রস্থ একটা ভয়াবহ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমরা তৈরি করা জাচ্ছি, এদেরকে দিয়ে জাতি কি করবে আমি জানি না।
কিছুদিন আগের ঘটনা। মুদি দোকানে ছেলেটা এসে বলল, “মামা এক কেজি ডিম দেন!”
মামা কি বুঝল আমি জানি না, “আর কি?”
ছেলেটা বলল “আটা”।
“ওকে এক হালি আটা দিয়ে দেন” বলে আমি দোকান থেকে বের হয়ে আসলাম।

আমার কাছে মনে হয়েছে আজকালকার ছেলেমেয়েরা বড় হয় ফার্মের মুরগীর মত করে, ফার্মের মুরগীর মতই তাদের কেবল দেহটাই বাড়ে, কিন্তু তাদের বোধবুদ্ধিতে প্রসার ঘটেনা। বড় হয়ে চাকরী-বাকরী করে খেয়েপরে চলতে পারবে ঠিকই কিন্তু এর বেশি আর কোন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য তাদের জীবনে প্রতিফলিত হয়না। এদের দিয়ে সমাজপরিবর্তন তো দূরে থাক, সমাজের উপকার হবারও কোন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়না। সেই ছোটবেলা থেকেই একটা মন্ত্র এদের মাথায় ডুকানো হয়- “বেশী করে পড়ালেখা কর, অনেক টাকা কামাতে পারবা, গাড়ি-বাড়ি হবে, সুখে থাকবা”।

এই ভাবে চলতে থাকলে সেই দিন আর খুব বেশী দূরে নয় যেই দিন উন্নত বিশ্ব তাদের রোবটের গবেষণা বাদ দিয়ে বাংলাদেশে আসবে। কারণ বাংলার প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে এক একটা যন্ত্র..
........................... “মানবযন্ত্র”
লেখক
ডা. মোঃ কামরুজ্জামান
উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ
সেশান - ২০০৭-২০০৮

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Friday, August 11, 2017

পজেটিভ হোক আর নেগেটিভ গ্রুপেই হোক! রক্ত খুঁজে পাওয়া অতটা সহজ না!

আমরা জানি এক ব্যাগ পজেটিভ গ্রুপের রক্ত যোগাড় করাও কতটা সহজ! যারা জানেন না তাঁদের জন্য মাত্র ২০ মিনিটের বাস্তব চিত্র তুলে ধরলাম-

রক্তদাতা-১: ভাই কাল আপনার রোগীর জন্য রক্ত যোগাড় করে দিয়েছিলাম। আজ আপনি অন্য এক অসহায় গরীব রোগীকে সাহায্য করতে পারবেন?
উত্তরঃ ভাই আমি বাসায় আসছি কাল রক্ত নেয়ার পর। আজ আর যেতে পারব না। (নিজের নেয়া হলে এরা 'রক্তের প্রয়োজন কেমন' তা ভুলে যায় :/ )

রক্তদাতা-২: হ্যালো। আমি...
উত্তরঃ শুনেই ফোন কেটে গেল। (বুঝতে পারছে আমার উদ্দেশ্য রক্ত নেয়া :3 )

রক্তদাতা-৩: হ্যালো, ভাই এর আগে বলেছিলেন আপনার পরীক্ষা। আজ আবার এখন...
উত্তরঃ দুঃখিত আমি আসলে নিজেই অসুস্থ এখন। (এনাদের একটার পর একটা অজুহাত থাকেই >:( )

রক্তদাতা-৪: ... আপনিকি সাহায্য করতে পারবেন?
উত্তরঃ আমি বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ তাই গ্রামের বাসায় আসছি। (অসুস্থতার উপর কিছু বলার নেই :( )

রক্তদাতা-৫: রিং রিং...
উত্তরঃ ফোনে পাওয়া গেল না। (যেহেতু ধরেন নি সেহেতু ওনাকে কিছু বলার নেই, ব্যস্ত :) )

রক্তদাতা-৬: ভাই, খুব জরুরী রক্ত দরকার...
উত্তরঃ আমি ১ মাস আগেই রক্ত দিয়েছি। (এর আগে ফোন দিয়েছিলাম। তখনও উনি কিছুদিন আগে রক্ত দিয়েছিলেন :/ )

রক্তদাতা-৭: বিস্তারিত বলার পর...
উত্তরঃ আমি রংপুরের বাহিরে আছি। আজ আসতে পারব না। (স্বাভাবিক, না থাকলে কি করবে?)

রক্তদাতা-৮: খুব পরিচিত এক ছোট ভাই।
উত্তরঃ ভাইয়া আমি বাসায় আসছি। (এটা ঠিক আছে সে সত্যি রংপুরে নেই :) )

রক্তদাতা-৯: রিং রিং...
উত্তরঃ ফোনে পাওয়া গেল না। (খুব স্বাভাবিক...)

রক্তদাতা-১০: ... আকজন ২ ব্যাগ পাওয়া যায়নি। আপনি দিতে পারবেন?
উত্তরঃ আমার দেয়ার সময় হয়নি এখনো। (আগের ডেট অনুযায়ী সবে ১ মাস হল, আর তখন দেয়নি নিজের রোগীকে দিবে বলে)

রক্তদাতা-১১: ইনি এর আগে এক রোগীকে কথা দিয়ে রক্ত দেননি।
উত্তরঃ আমি এখন আর রংপুরে থাকি না, ঢাকায় থাকি। (কিছু বলার নেই, না থাকলে আর কি? )

রক্তদাতা-১২: ফোন...
উত্তরঃ নাম্বার বন্ধ। (এখানেও ওনার বা আমার কি করার :/ )

রক্তদাতা-১৩: ভাইয়া, আমি ... আপনি কি একজন মাকে রক্ত দিয়ে সাহায্য করতে পারবেন?
উত্তরঃ আমার পরীক্ষা শেষ তাই সিলেটের হবিগঞ্জে। পারছি না যে ভাই। (সিলেটে রক্তের প্রয়োজনে খুব দ্রুত কথা হবে আবার >:( )

রক্তদাতা-১৪: রোগীর অবস্থা বলার পর...
উত্তরঃ আমি এখন খুলনায় থাকি। (আপনার
সাথেও খুলনায় রক্তের দরকারে কথা হবে, তখন বুঝা যাবে)

রক্তদাতা-১৫: ... খুব দরকার।
উত্তরঃ আমি নাগেশ্বরী, বাড়িতে আছি। (এর আগের দিন পড়ে ফোন দিতে বলেছিল, পড়ে আর ধরেন নি।)

রক্তদাতা-১৬: সে নিজে নাম্বার দিয়েও কিছুতেই মনে করতে পাচ্ছেন না। অতঃপর
উত্তরঃ আমার শরীর ভালো না। দিতে পারব না। (কবে নাম্বার দিয়েছে সেটা মনে করাতেই আমার টাকা শেষ ফোনের :/ )

রক্তদাতা-১৭: Faruk Hossain ভাই নিয়মিত ডোনার। আগেও কয়েকবার রক্ত দিয়েছে।
উত্তরঃ আমি একটু কাজে আছি। কাজ সেরে দেয়ার চেষ্টা করছি। ... কিছুক্ষণের মধ্যেই জানাল, রক্ত দিবেন। আলহামদুলিল্লাহ্‌, উনি অনেক দূর থেকে আসছেন রক্ত দিতে। :D

------------------
উপরে শুধু আমার সাথে লিস্টের রক্তদাতার সরাসরি ফোনালাপ তুলে ধরা হল সংক্ষেপে। এর বাহিরেও অনেক পেইজে/পোস্টে অনেককে ট্যাগ বা ম্যানশন করা হয়েছে এই রক্তের জন্যই যার ফলাফল "অপেক্ষারত বা নেগেটিভ"।
এছাড়াও আমার মত অন্য অনেক ভাই বোনরা এই একই রক্ত খুঁজছেন। ফারুক ভাই রক্ত দেবার পরও রংপুরের এই রোগীর জন্য আরও এক ব্যাগ AB+ রক্তের প্রয়োজন আছে। ... যা এখনো পাওয়া যায়নি। হয়তো যাবে, এভাবে খুব সহজেই পাওয়া যাবে। :/ :)
যারা শুধু নিজের ইচ্ছেয় রক্ত দেন না, রক্তের পোস্ট দেখেও দেখেন না তাঁদের মনের কথা আমরা জানি না। নিজেরাই ভালো জানেন, জানেন বিধাতাও। রক্তদানের যোগ্য হলে স্বেচ্ছায় রক্তদান করুন। ১ ব্যাগ রক্ত দিলে মরে বরে যাবেন না বরং একজন বাবা কিংবা মা উপকৃত হবে।
আর বুঝিয়ে লাভ নেই...
... ভালো থাকুন। :)
(এটি অনেক আগের পোস্ট। তবে এমনি হচ্ছে রেগুলার। পজেটিভ হোক আর নেগেটিভ গ্রুপেই হোক! রক্ত খুঁজে পাওয়া অতটা সহজ না!)

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Saturday, July 22, 2017

এদিনের পরিবর্তন চাই!




-কী সমস্যা?
-‘শইল’ চেতে না।
-শইল চেতে না মানে?শরীরে বল পান না?
‘মানে’ ‘মানে’ বলে ইতঃস্তত করছেন পড়ন্ত বয়েসী এই চাচা।লজ্জা-টজ্জা কিছু একটা পাচ্ছেন।
বয়সের সাথে লজ্জার ভাঁজ গুলো ও চোখে মুখে স্পষ্ট!
-‘এই জ্যান, কতা অইলো গিয়া…
বুঝলাম,আমার চেম্বারের অল্পবয়সী মেয়েটি চাচার জবান আলগা করার ক্ষেত্রে একটা ব্যারিকেড।যেটা চাচা ডিঙ্গাতে পারছেন না কিংবা চাইছেন না।
‘মিনারা, তুমি বাইরে দাঁড়াও, দরকার হলে ডাকবো’!
ওড়নার একটা কোনা মুখে গুঁজে মিচকা একটা হাসির ঢেউ মেখে ও চলে গেল!
রুমে আর কেউ নেই।আমি আর চাচা।ওয়ান টু ওয়ান!
-এবার বলেন, কী সমস্যা?
কথা বলার স্পেস পেয়ে নিজের আগল খুলে দিলেন চাচা।
-ভাইস্তা,শইল্যে কুনু ‘ছেস’(সেক্স) নাই।
-কী করেন আপ্নে চাচা?
-‘লঞ্চের সুকানি।জাহাজের ডেরা-ই-ভারও কইতে পারো!
ভাইস্তা,তুমি কী ‘ছেস’ বিশেষজ্ঞ?
আমার এক ভাইস্তা আছে ‘ডাহা মেডিকেলের’ ডাকতর।এক্কেরে তুমার লাহান’!
-‘চাচা আমি ‘ছেস’ কেনো কোনো কিছুরই বিশেষজ্ঞ না।‘নরমাল’ এম বি বি এস’।
-‘ভাইস্তা তুমার ভিজিট আমি তুমারে দ্যায়াম,কিন্তু তুমি আমারে একটা পভেছারের ঠিকানা দিবার পারো যে এই মামলার একটা মীমাংসা দিবার পারবো’।



আমাদের দেশের শিক্ষিত মূর্খ সবাই বিশেষজ্ঞ-বাতিক।এই বাতিকগ্রস্ততার জন্য দায়ী আমরাই।দুই দিনের মাথা ব্যথা নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে।পেশাবে জ্বালা-পোড়া হলে ইউরোলোজিস্ট দেখাতে হবে।পেটে ব্যথা হলে হেপাটোলোজিস্ট,গ্যাস্ট্রো-এন্টারোলোজিস্ট দিয়ে বোর্ড বসাতে হবে।
অথচ পৃথিবীর সব দেশেই আগে রোগী জেনারেল প্র্যাক্টিশনারের কাছে যায়।জেনারেল প্র্যাক্টিশনার চাইলে স্পেশালিস্টের কাছে রেফার করেন।ইমারজেন্সী সিচুয়েশন ব্যতিত রেফারাল ছাড়া স্পেশালিস্ট রোগী দেখেন না।এতে করে সবার উপর রোগীর চাপটা সমান থাকে।অথচ আমাদের দেশে এম বি বি এস ডাক্তার চেম্বারে মাছি মারেন আর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হাপুস-গাপুস করে মাথা-ব্যথা,সর্দি জ্বর,কাশি,পাতলা পায়খানার রোগী দেখে শেষরাতে বাড়ী ফেরেন।



দেশের সকল ‘খেপ-খাটা’ 'চিকিৎসা-শ্রমিকদের' মহান মে দিবসের শুভেচ্ছা।
যে এম বি বি এস ডিগ্রীটা আমাদের সৌভাগ্যের প্রসূ্তি হত সেটা হয়নি।
সেটা হয়নি দেশে শক্তিশালী রেফারাল সিস্টেম না থাকার জন্য।
বিশেষজ্ঞ থাকেন তিনহাজার স্কয়ার-ফিটের প্রাসাদপোম ফ্ল্যাটে।
আর গ্রাজুয়েট ডাক্তার থাকেন আজিজ মার্কেটে।
‘বারো বাই বারো ফুটের’ এক রুমে চারজন গাদা গাদি করে নিদ্রা যাপন করেন।
দীর্ঘশ্বাসের সে ঘুমে থাকে এক আকাশ কস্ট।
এদিনের পরিবর্তন চাই!

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Wednesday, July 12, 2017

ঐ উচ্চ শিক্ষার কি মূল্য আছে, যদি ঐ উচ্চ শিক্ষা আপনাকে নৈতিক শিক্ষাই দিতে না পারে?

“স্যার একটা কথা বলব যদি কিছু মনে না করেন”। 
“জি বলেন”। 
“একটু বেশি দামি ওষুধ লিখে দেন। আর বেশি করে টেস্ট লিখে দেন। সম্ভব হলে CT scan কিংবা MRI. 
টেস্টের প্রতি বীতশ্রদ্ধ এই জাতি স্বেচ্ছায় টেস্ট চেয়ে নিচ্ছে তার উপরে দামি ওষুধ। ঘাপলাটা ধরতে পারলাম 
“কোম্পানি বিল দিয়ে দিবে নাকি?” 
“জি স্যার। সাথে আপনার ভিজিটের টাকা বেশি করে লিখে একটা সিল দিয়ে দিয়েন”।
ওরে বাবা, এই দেখি টাটকা শয়তান। 
বললাম, “আসলে আমি দামি ওষুধ লিখি না। কিন্তু আপনি যেহেতু বললেন তাই লিখে দিব। Avasin ইঞ্জেকশান! দাম মোটামুটি এক ভায়ালের দাম পড়বে ৬০ হাজার টাকা! 
একটু চিন্তা করে বললেন, “ইঞ্জেকশান লিখে দিলে সমস্যা নাই কিন্তু এত দামি, এইটা কিসের? 
“ক্যান্সারের”
লাফ দিয়ে উঠিলেন, “ক্যান্সার কেন হবে? আমার তো চাকরিই থাকবে না” 
ঠাণ্ডা গলায় বললাম, “আপনার মত দুর্নীতিবাজ মানুষ জাতির জন্য ক্যান্সারই। তাই ভাবলাম যদি কাজে লাগে!” 
ব্যাপারটা বুঝতে পারলেন। আর কথা না বাড়ায়ে চলে গেলেন।
... ... ... 
ভদ্রমহিলা একজন স্কুল শিক্ষক। আসলেন একটা আবদার নিয়ে। 
“আমি এসেছি একটু সাহায্যের জন্য। আপনি আমাকে আমার বাবার নামে একটা প্রেস্ক্রিপশান করে দেন যেটাতে তিন থেকে চার টাকার ওষুধ থাকে যাতে আমি প্রতি মাসে টাকা তুলতে পারি স্বামীর কোম্পানি থেকে”।
বললাম, “আপনি একটা ফলস প্রেস্ক্রিপশান লিখাতে আসছেন, একজন শিক্ষক হয়ে! ছাত্রদের কি এই শিক্ষা দেন? আজকে আমি আপনাকে ৩-৪ হাজার টাকার ব্যবস্থা না হয় করে দিলাম কালকেই আপনার মনে হবে ৬-৭ হাজার টাকা হইলে ভাল হত। আর এখান থেকে বের হয়ে আপনি পাশের বাসার ভাবীকে গল্প দিবেন, ‘আরে ডাক্তারকে কিছু টাকা দিলেই একটা প্রেস্ক্রিপশান পাওয়া যায়। কোন ব্যাপার নাকি? আমার কারনে সব ডাক্তাররা গালি শুনবে এটা হতে পারে না। আমার ডিগ্রী, যোগ্যতা, সার্টিফিকেট, জ্ঞান বিক্রির জন্য না। ভুল জায়গায়, ভুল লোকের কাছে আসছেন। ধন্যবাদ”। 
... ... ...
মহিলার অনুরোধ “স্যার টেস্ট লিখে দেন বেশি করে আর ওষুধ সব চলবে লিখে দিয়েন। আর প্রেসক্রিপশান ইংলিশে লিখে দিয়েন পুরাটা। সাথে একটা বিল দিয়ে দিয়েন – ইংলিশে” 
“কেন?” 
“আমার হাসবেন্ড UNECSO তে চাকরি করে। বিল ডলারে হবে তাই”। 
এত দিন দেখলাম দেশি চোর। ওরে বাবা এই দেখি ইন্টারনেশানাল চোর-বাটপার! আমি ধরে নিলাম যেহেতু UNESCO তে চাকরি করেন মোটা বেতন পান। তাও চুরি করা লাগবে! আসলে দুর্নীতি আমাদের জেনেটিক সমস্যা হয়ে গেছে। 
... ... ...
খালি এই দেশের ডাক্তারই খারাপ। কমিশন খায়, দামি ওষুধ লিখে কোম্পানির মাল খায়, সিজার-অপারেশন করে। বাকি মানুষ সব তো দুধে ধোয়া! ৯৯ শতাংশ অসৎ মানুষের এই দেশে শুধু মাত্র একটা প্রফেশানের সব মানুষ থেকে পুরা সততা আশা করা বোকামি!
হাজার বার বলেছি, লিখেছি, শুনেছি “Honesty is the best policy”। পরীক্ষার খাতায় লিখেছি শুধু পাশ করার জন্য, ভাল নাম্বার পাওয়ার জন্য। আসলে আমাদের শিক্ষার মূল রসটা যায় আমার পেটে, মস্তিষ্কে না। যে জন্যই উচ্চ শিক্ষিত হয়েও আমারা নৌতিক শিক্ষা অর্জন করতে পারি না।
নিজেকে একটা প্রশ্ন করবেন। আপনার ঐ উচ্চ শিক্ষার কি মূল্য আছে, যদি ঐ উচ্চ শিক্ষা আপনাকে
..................... নৈতিক শিক্ষাই দিতে না পারে?

Sunday, June 11, 2017

"৩০ দিনে ডাক্তারি শিক্ষা"

এক আন্টি ফোন দিয়ে বলে .......

- বাবা, গতকাল থেকে জ্বর। কি ওষুধ খাবো?
- #প্যারাসিটামল খান আন্টি।
- প্যারাসিটামল খাচ্ছিতো। অন্য আর কি খাবো? জ্বর যাতে তাড়াতাড়ি চলে যায়?
- জ্বর বেশি হলে সাপোজ্যিটরী ব্যবহার করতে পারেন।
- #সাপোজ্যিটরিও ব্যবহার করছিতো। জ্বর পড়ে আবার আসে। আর অন্য কি মেডিসিন আছে তাই বলো?
- আপাতত আর অন্য কোনো মেডিসিন নাই।
- তাহলে তোমাকে ফোন দিয়ে কি লাভ হলো? এই ট্রিটমেন্টতো আমিও জানি।
..
..
- দুই দিন পর আন্টি আবার ফোন দিয়ে বলে ...... কি ডাক্তারী পড়ছো? কিছুইতো জানো না তুমি।
- কেনো আন্টি? কি হয়েছে?
- গতকাল ওষুধের দোকানদার আমাকে #Zimax খেতে বললো। একটা Zimax খাওয়ার পরই জ্বর ভালো হয়ে গেছে। তোমার থেকেতো ওষুধের দোকানদার ভালো ট্রিটমেন্ট জানে। কি ডাক্তারি শিখেছো?
..
..
- আসলেইতো আমরা কি ডাক্তারি শিখেছি?

- একদিনের জ্বরের রুগীকে এন্টিবায়োটিক দেই না ....... দুই দিনের জ্বরের রুগীকে ইঞ্জেকশন দেই না ...... রুগীর #দুর্বল দুর্বল লাগলে স্যালাইন দেই না।

- এগুলো না দিলে কিসের ডাক্তার।
..
..
- এদেশের রুগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ৫ বছর কষ্ট করে এমবিবিএস ডিগ্রী নেয়ার দরকার নেই। এরচেয়ে #নীলক্ষেত থেকে ....... "৩০ দিনে ডাক্তারি শিক্ষা" এমন একটা বই কিনে দু' তিন বার রিডিং পড়াই যথেষ্ঠ।।

>> কালেক্টেড পোস্ট << 

Sunday, April 30, 2017

এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি.......

#ম্যাটস ডাক্তার হতে চায়
#টেকনোলজিস্ট ডাক্তার হতে চায়
#টেকনিশিয়ান ডাক্তার হতে চায়
#নার্স ডাক্তার হতে চায়
#সাংবাদিক ডাক্তার হতে চায়
#হেকিম ডাক্তার হতে চায়
#ওঝা ডাক্তার হতে চায়
#মেডিকেল রিপ্রেজেন্টটিভ ডাক্তার হতে চায়
#ফার্মেসি ম্যান ডাক্তার হতে চায়
#ধাই ডাক্তার হতে চায়
#ক্লিনিক মালিক ডাক্তার হতে চায়
#টিকাদানকারি লোকরা ও ডাক্তার হতে চায়
#ওটি বয় ডাক্তার হতে চায়
#আয়ারা ডাক্তার হতে চায়
#ফিজিওথেরাপিস্ট রা ডাক্তার হতে চায়
কিতা আর কইতাম। আর অন্যদিকে, মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করা পুলাপান হাহাকার করে কেন ডাক্তার হইলাম?
(সংগ্রহীত)

Wednesday, April 19, 2017

ডিস্কাউন্ট!!!


রবি ব্যবহারকারী গ্রাহক পাচ্ছেন ৮.৫%
বাংলা লিঙ্ক ব্যবহারকারী প্রিয়জন গ্রাহক পাচ্ছেন ১০%
গ্রামীণের স্টার কাস্টমার পাচ্ছেন ১৫-২০% পর্যন্ত ডিসকাউন্ট।

ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাউন্টারে বসে ভাবছি চিকিৎসক পরিচয়টা দেব কি না। সংকোচ রেখে বলেই ফেললাম, উনি দু'জন চিকিৎসকের আম্মা। ১০-১২টা টেস্টে কয়টা টাকাই বা বাঁচবে।

"আমরা ইন্টার্নরা যে কোন ল্যাব ৩০-৪০%তো সব রোগীকেই লিখে দেই, আমার আম্মার ক্ষেত্রে কেন পাবো না"? একবার বেটার হাফের মুখের দিকে তাকাই আরেকবার কাউন্টারে বসা এপ্রন পরা রিসিপসনিস্টের দিকে। ডাক্তার পরিচয় দেয়ায় কিছুটা অবিশ্বাসের সাথেই দু তিনবার ফোনের রিসিভার কানে ঠেকিয়ে একবার ম্যানেজার আরেকবার কার সাথে যেন কথা বললো।

অস্বস্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। বাংলাদেশের সকল চিকিৎসক এক থাকলে হাজার কোটি টাকার ওষুধের বাজারে এক এসকেএফেরই ১৯-২০ কোটি টাকা এক মাসে ক্ষতি হয়, সেখানে আমি এক দেড় হাজার টাকার জন্য কোথাকার কোন ডায়াগ্নোস্টিক সেন্টারের অন্তত তিন জন কর্মচারীর সিদ্ধান্ত(দয়া!)র জন্য অপেক্ষা করছি। আচ্ছা এটা কি প্রাপ্য না প্রাপ্য নয়? শেষ পর্যন্ত ডিস্কাউন্ট ২০ % এর মত দেয়া হয়েছিল।

পুলিশের হাসপাতাল থাকে(পুলিশ হাসপাতালের দায়িত্বে থেকে ১২০০ পুলিশ সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের জন্য এক মাসে ১০ লাখ টাকার ওষুধের বিলে স্বাক্ষর করেছি), সরকারি কর্মচারীর হাসপাতাল থাকে, থাকে না কেবল ডাক্তারদের জন্য কিছু। আমার সকল কাজের অদৃশ্য সমর্থক এবং তীব্র সমালোচক বেটার হাফকে বোঝাই, একদিন কেবল বিএমএর মেম্বারশিপ নাম্বার, তোমার ইন্টার্নশিপ বা যে কোন মেডিকেল শিক্ষার্থীর আইডি কার্ড দিয়ে বাংলাদেশের সকল হাসপাতালে, ডায়াগ্নোস্টিক সেন্টারে ৫০% ডিস্কাউন্ট পাওয়া যাবে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে অফিসিয়ালি যেমন ৩ জন রোগীর পর একজন চিকিৎসক/কর্মচারী দেখাতে পারে তেমনি আমার অসুস্থ মাকে দ্বীন মোহাম্মদ স্যার কিংবা প্রাণ গোপাল দত্ত স্যারকে বিনা সিরিয়ালে দেখাতে পারব।

হিপোক্র্যাটিক শপথে My colleagues will be my brothers and sisters কথাটা মিথ্যা নয়, একদিন তা প্রমাণ করবোই।

সকল হাসপাতাল সেবা, ডায়াগনস্টিক টেস্টে চিকিৎসক ও চিকিৎসক পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট ডিস্কাউন্ট চাই।
চিকিৎসার অধিকার, চিকিৎসকের অধিকার-১,

১৪/৪/১৭।
চমেক ৪৮, ২০০৫-৬
স্বত্ব-প্ল্যাটফর্ম

Thursday, March 30, 2017

Let's give a sincere thought over it...


.
আমরা এমন এক দেশে বাস করছি, যেখানে প্রয়োজন পড়লে মধ্যরাতেও সহজেই একজন কোয়ালিফাইড ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া যাবে, কেবল মাত্র ২০০-৫০০ টাকা খরচ করলেই! অথচ অত রাতে দুর্ঘটনাবশত কোন কারণে যদি ইলেক্ট্রিশিয়ান কিংবা প্লাম্বার প্রয়োজন হয়, এই টাকায় ওই সময়ে তাদের টিকি'টিরও দেখা মিলবে না!!
.
এমন এক দেশে বাস করি , যেখানে কোন মুমূর্ষু রোগী হঠাৎ মারা গেলে লোকে হাসপাতাল তোলপাড় করে ফেলে অথচ ক্ষুধা, দারিদ্র্য কিংবা অপুষ্টি তে হাজার হাজার লোক মরলেও, কারো কোন ভাবান্তর নাই!
.
মামলার শুনানির তারিখ পেতে বছরের পর বছর আদালত পাড়ায় ঘুরাঘুরি করেও লোকের ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে দেখা যায় না, অথচ রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসলেই তাদের ভয়ানক ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায়!!
.
ডাক্তাররা যদি ন্যায্য ফি ও দাবী করে, তাতেই "কসাই " আর "চামার " বলে গালি শুনতে হয়, অথচ দুর্নীতিবাজ আমলা আর রাজনীতিবিদেরা পাবলিকের লাখ লাখ টাকা লোপাট করে দিলেও তারা ঠিকই সেলেব্রিটির মত আদর- আপ্যায়ন পায়!!
.
এমন এক আজব দেশে আছি, যেখানে "বাচ্চা" জন্মানোর খুশিতেই লোকে হাজার হাজার টাকা খরচ করে পার্টি দেয়, অথচ এই বাচ্চাকে নিরাপদে পৃথিবীতে আনতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করল, সেই ডাক্তার আর হাসপাতালকে চার- পাঁচ হাজার টাকা দিতেও কার্পণ্য বোধ করে!
.
এমন দেশে আছি, যেখানে কোন কোন হোটেলে ১৫০০ টাকায় পুরো দিনের জন্যে একটা কামরা মেলে না, অথচ হাসপাতালে ঠিকই এই খরচে ওয়ার্ডের বেড পাওয়া যাবে, সাথে ওষুধ- পত্র, পরীক্ষা - নীরিক্ষাসহ! আর নার্সিং কেয়ার প্লাস ডাক্তার তো আছেই ( তাও নাকি এমন ডাক্তার, কোন কিছু এদিক ওদিক হলেই যাকে ইচ্ছামত তুলোধুনো করা যাবে!! )
.
এমন এক অদ্ভুত দেশে আছি, যেখানে রোগি মরে গেলে ভাংচুর করা কিংবা ডাক্তার - স্টাফ পেটানোর জন্য লোকের অভাব হয়না, অথচ রক্তদানের প্রয়োজন হলে এদের মাঝে একটা মানুষকেও খুঁজে পাওয়া যায় না!!!
.

Prof. Zahurul Islam স্যারের টাইমলাইন থেকে, কিঞ্চিৎ পরিবর্তিত ও সংশোধিত করে... .

Monday, March 6, 2017

দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আরোগ্যলাভ করা একটা মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, সে কি ভাবে ডাক্তারদের নিয়ে? প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

ইদানিং কালের ডাক্তার বিরোধী ট্রেন্ড টা নিয়ে কয়েকদিন ধরে চিন্তা করেছি। ডাক্তার বিদ্বেষ এখন আর কোন মিথ না। সমাজের বিরাট বড় একটা অংশ ডাক্তারদের ঘৃণা করে। কেন করে? কারনগুলো কি? মানুষের ডাক্তারদের নিয়ে প্রধান অভিযোগ গুলো কি? কেন তাদের কসাই, ডাকাত, জানোয়ার বলে সম্বোধন করা হয়?

কারন গুলো দেখতে আমি কয়েকটা অনলাইন নিউজ পোর্টালের ফেইসবুক পেইজের কমেন্ট সেকশনে ঢু মারলাম। আসলে কোনটা তাদের মেইন অভিযোগ - বেশি টেস্ট দেয়া হয় এটা? নাকি স্পেসিফিক জায়গায় টেস্ট করতে বলা হয় এটা? নাকি তারা সব কমিশন খান ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এটা? নাকি তারা সরকারের টাকায় পড়ে প্রাইভেট প্র‍্যাকটিস করেন এটা? অথবা তারা সময় দেন কম এটা?
কমেন্টগুলো পড়ে আমি যেটা আবিষ্কার করলাম যে, তাদের মেইন অভিযোগ- "উনি ২ মিনিট দেখে ৮০০ টাকা নেন কেন?"
তার মানে তাদের ভিজিট নিয়ে কমপ্লেইন। আর এত কম সময়ে এত টাকা কেন ইনকাম করে,তা নিয়ে প্রবলেম। সময় কম দেয়া হয় এটাও কমপ্লেইন।
এইসব কমপ্লেইন নিয়ে আরেকদিন লিখবো। এবার আসি এসব কমপ্লেইন এর সাইকোলজিক্যাল এসপেক্ট নিয়ে। কেন ডাক্তারের কাছে গিয়ে খরচ করাটাই সকল সমস্যার উৎস?

ডাক্তারের কাছে গিয়ে টাকা খরচ করা এক রকম জরিমানা স্বরূপ সবার কাছেই। অসুস্থ কেউ প্ল্যান করে হয় না। অসুস্থ হয়ে কেউ খুশিও হয় না। সুস্থতার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়াটা একটা অতিরিক্ত খরচ,যেটা এই খাতে খরচ করার কথা ছিল না। হয়তো সে এই টাকা রেখেছিলো একটা মোবাইল ফোন কিনবে বলে। মায়ের জন্য একটা শাড়ি। কিংবা নতুন কোন জুতা। কিংবা সংসারের খরচ!

মানুষ ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ফ্রিজ কিনে অসুখী হয় না, কিংবা টেলিভিশন বা কাপড়চোপড়, মোবাইল ফোন। এমনকি লক্ষাধিক টাকা দিয়ে জমি বা গাড়ি কিনেও তারা অর্জন খুঁজে পায়, কারন খরচ হলেও একটা জিনিসের মালিক হচ্ছে সে। দামি রেস্তোরায় দিয়ে খেতে ভালো লাগে। পয়সা খরচ হলেও রসনা তো তৃপ্ত হয়। লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ ঘুরে আসতেও খারাপ লাগে না, কারন টাকা গেলেও মন তো প্রফুল্ল হয়।

কিন্তু হুট করে অসুস্থ হয়ে গেলেই সমস্যা। যে খরচটা হবে, সেটা তো হবার কথা ছিলো না। অল্পের উপর দিয়ে গেলে তাও ভালো, কিন্তু বড় রোগ হলে, অপারেশন লাগলে? অনেক খরচ। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করলেও সবার জন্যেই খরচটা তো প্ল্যানের বাইরে। পরিষ্কার জরিমানা। তাই হাসিমুখে ডাক্তার দেখানোর কারন আছে কি? কিংবা এই খরচটা ভালো লাগার? তাই ডাক্তারদেরকে ভালো লাগাটা এসে ঠেকে টাকার অংকে। যত বেশি খরচ, তত বেশি রাগ, ঘৃণা, বিদ্বেষ। তাই ভিজিট ৫০০ ই হোক আর ১৫০০ ই হোক, রাগ উঠবেই- কম আর বেশি।

কিন্তু বিষয়টা তো এমনও হতে পারত যে এই রোগে সে দুম করে মরেও যেতে পারত। কিংবা তার মা, তার বাবা, বোন বা স্ত্রী, সন্তান? কিংবা খুব কষ্ট পেতে পারত। এই কষ্ট থেকে মুক্ত করার জন্য, জীবনটা বাঁচানোর জন্য কি কৃতজ্ঞ হতে পারতো না? হয়তো পারতো, যদি খরচ না হতো। বিপদ থেকে বেঁচে যাওয়ার চেয়ে কত খরচ হলো সেটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়।

তাহলে উন্নত বিশ্বে এত সম্মান কেন ডাক্তারদের? কারন উন্নত বিশ্বে পাবলিকের কাছে টাকার অংকের চেয়ে সুস্থ থাকাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরী। জীবনের দাম,সুস্থতার দাম টাকার দামের চেয়ে অনেক বেশি তাদের কাছে, তাই তারা অসুস্থ না হলেও নিয়মিত চেক আপ করায়। আর হেলথ ইন্স্যুরেন্স আরেকটা বড় ফ্যাক্টর। এদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে লজ্জা করে না। আর যার তাড়াতাড়ি দরকার আর সামর্থ্যে কুলোয়, সে প্রাইভেট প্র‍্যাকটিশনারের কাছে যায়।

তারপরও, নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া, দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আরোগ্যলাভ করা একটা মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, সে কি ভাবে ডাক্তারদের নিয়ে? প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।


>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Saturday, February 4, 2017

ডাক্তাররা লোভী, কারন তারা ঈদ-পুজায় পরিবার ফেলে টাকার লোভে হাসপাতালে-চেম্বারে রোগি দেখে

ছোটবোন এস এস সি পরীক্ষা দিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করল- ভাইয়া, তুমি তো ডাক্তার, তুমি কি লোভী? আমার স্কুল শিক্ষক বললেন, যিনি যত বড় ডাক্তার, তিনি নাকি তত বেশি লোভী।
বললাম, হ্যা রে, আমি লোভী এবং যিনি যত বড় ডাক্তার, তিনি তত বেশি লোভী।
আমি_লোভী
কারন-
বড় ডিগ্রি করার লোভে, বিসিএসের লোভে ঢাকায় পড়ে আছি। বিনাবেতনে এফসিপিএস ডিগ্রির জন্য ট্রেনিং এর নামে সরকারি হাসপাতালে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস খাটছি। মাঝে মাঝে টাকার লোভে ক্লিনিকে কাজ করতে যাই। এভাবে ৫ বছর কাজ করব। ডিগ্রির মোহে মত্ত হয়ে পরিবারের কথা ভুলেছি। ছোটবোনের পড়ালেখার খোজ নিতে পারি না, মা-বাবা অসুস্থ হলে দেখতে পারি না, মা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার আগে টাকার অভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারি না, বউকে বছরে একটা শাড়িও কিনে দিতে পারি না।
ছোটবোনকে এস এস সি পরীক্ষার এক মাস আগে পড়া দেখিয়ে দেয়ার সময় দেখি বিজ্ঞান, অংকে একেবারেই কাচা। কিন্তু সে তো সারাদিনই পড়ে। গত দুই বছরই প্রাইভেট পড়েছে। তাহলে কি সে কম মেধাবী? তাহলে পিএসসি আর জেএসসিতে এ প্লাস পেল কিভাবে?
আমি তাকে দুই দিন সময় দিলাম। দুই দিনে চার বিষয়ের মোটামুটি সব কঠিন বিষয় বুঝিয়ে দিলাম। দেখি সে সহজেই সব বুঝল। দুইদিন পর ঢাকায় আসার পর মনটা খারাপ হয়ে গেল এই ভেবে যে- কত ছাত্রকে পড়ালাম, কত ছাত্র আমার কাছে পড়ে মেডিকেলে চান্স পেল। আর আজ ছোট বোনকে আমি সময় দিতে পারলাম না, তার পড়ার খোজ নিতে পারলাম না। আমি ডিগ্রি, বিসিএস এর লোভে মত্ত হয়েছি।
কি করার আছে আমার?
বিনাবেতনে এমবিবিএস ডাক্তার হিসাবে এফসিপিএসের ট্রেনিং করেও এদেশে মানব সেবা হয় না, চেম্বারে রোগি দেখলে মানবসেবা হয় না। মানবসেবা করতে গেলে সরকারি ডাক্তারই হতে হবে।
বোনকে বললাম- আমি লোভী হব না তো কে হবে? আমি লোভী। আমাকে লোভী বলে গালি দিস। তাতেও যদি আমার নিজের পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়।
তাকে আরো লোভী ডাক্তারের গল্প বললাম, যেগুলো সত্য ঘটনা।
বড়_ডাক্তাররাও_লোভী
যেমন-
নাক_কান_গলা_বিশেষজ্ঞ
নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চেম্বার শেষ করে ফিরছিলেন। এক দম্পতি আসলেন তাদের বাচ্চার গলায় কাটা বিঁধেছে। ডাক্তার বললেন, আজ আর রোগি দেখব না, রাত ১২ টা বাজে, বাড়ি যাব। আপনারা অন্য কোথাও যান। দম্পতি নাছোড়বান্দা। শেষে ডাক্তার তার চেম্বার খুলে বাচ্চাকে দেখলেন ও গলার কাটা বের করে কয়েকটা ওষুধ লিখে দিলেন।
দম্পতি ওষুধের দোকানে গিয়ে ওষুধ কিনছে আর বলছে- দেখেছ, ডাক্তাররা কত লোভী, একটা রোগি দেখে টাকা কামাই করার লোভও সামলাতে পারে না। ডাক্তার তখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এই নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞকে দেশের সবাই চেনে। কিন্তু তিনিও লোভী।
নিউরোসার্জন
একজন নিউরোসার্জন অপারেশন শেষ করে রাত ৩ টায় বাড়ি ফিরেছেন। কয়েকদিন হল, তার ছেলেটার সাথে দেখা হয় না। ভাবলেন, আগামীকাল ছেলেকে সময় দিবেন। কিন্তু রাত ৪ টায় ফোনকল আসল- স্যার, একজন রোগি গাড়ি এক্সিডেন্টে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। অবস্থা খুব খারাপ, তারাতারি অপারেশন লাগবে, স্যার প্লিজ আসেন। সার্জন বললেন- না না আজ অনেক অপারেশন করেছি, আর পারব না। কিন্তু অনেক চাপাচাপিতে শেষ অবধি গেলেন ও অপারেশন করলেন।
রোগি সুস্থ হবার পর হাসপাতালের বিল পরিশোধের সময় রোগির আত্মীয়রা বলতে লাগল- এত টাকা এই ডাক্তার কি করে? ডাক্তাররা এত লোভী।
গাইনি_সার্জন
রাত ৪ টায় হাসপাতাল থেকে ফোন- ম্যাডাম, একজন প্রেগন্যান্ট রোগি এসেছেন। দেড় দিন ধরে ব্যথা কিন্তু ডেলিভারির কোন লক্ষণ নাই, বাচ্চার নড়াচড়া বোঝা যাচ্ছে না। ম্যাডাম, একটু আসবেন। ম্যাডাম বললেন- না না এত রাতে যেতে পারব না। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঝামেলা করে। এমনিতেই আমার বাচ্চাকে সময় দিতে পারি না, এত রাতে যাব না। রোগিকে অন্য কোন হাসপাতালে পাঠাও। কিন্তু আশেপাশে কোন হাসপাতাল নাই। গাইনি ডাক্তার বাড়ির মানুষের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে হাসপাতালে গেলেন। বাচ্চার অবস্থা খারাপ দেখে সিজার করলেন। মা ও বাচ্চা দুজনেই এ যাত্রায় বাচল।
রোগি বাড়ি গিয়ে জানাল- গাইনি ডাক্তাররা কত খারাপ, রাত বিরাতে টাকার লোভে হাসপাতালে কাজ করে। টাকার লোভে সিজার করে বেড়ায়।
হৃদরোগ_বিশেষজ্ঞ
চেম্বার শেষ করে রাত ১২ টায় বাড়ি এসেছেন। সবে মাত্র ঘুমিয়েছেন। ফোনকল আসল, পাশের পাড়ার একজনের বুকে ব্যথা, তাড়াতাড়ি আসেন। ডাক্তার গেলেন, দেখে ওষুধ দিয়ে বললেন- দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে ( হার্ট এটাক হয়েছে)। ফেরার পথে রোগির আত্মীয় কৃতজ্ঞতায় ডাক্তারকে ভিজিট দিলেন।
ঘটনাস্থলের এক ব্যক্তি পরে বলে বেড়াতে লাগলেন- ডাক্তাররা কত লোভী দেখেছেন, কয়েক টাকা ভিজিটের লোভে এতদূর এসেছেন।
সার্জারি_বিশেষজ্ঞ
রোগির দুই পায়ে পচন ধরেছে। রোগির স্ত্রী তাকে ত্যাগ করেছে। কেউ একজন দয়া করে তাকে সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে গেছেন। চারদিকে মাছি ভনভন করছে। সার্জারি বিশেষজ্ঞ স্যার তাকে দেখা মাত্র নিজ উদ্যোগে হাসপাতালে ভর্তি করলেন। নিজে প্রতিদিন ড্রেসিং করলেন, নিজের টাকা দিয়ে ওষুধ কিনে দিলেন। কিন্তু ইনফেকশন কন্ট্রোল হয় না। শেষ অবধি পা আর রাখার মত অবস্থা না থাকায় সিদ্ধান্ত নিলেন, পা দুটি কেটে ফেলবেন, নইলে রোগিকে বাচানো যাবে না। অপারেশন করে পা কেটে ফেললেন। রোগির জীবন বাচল।
কিছুদিন পর রোগির আত্মীয় এসে হাজির। অভিযোগ – ডাক্তার সাহেব লোভি, ওষুধ কোম্পানির কমিশন খেয়ে অনেক দিন রোগিকে ওষুধ খাইয়ে পরে রোগির ভাল দুইটা পা কেটে ফেলেছেন।
মেডিসিন_বিশেষজ্ঞ
তিনি অনেক বড় মাপের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। যেহেতু সাধারণ রোগগুলোর চিকিৎসা সবাই করতে পারেন। তাই তিনি শুধু জটিল রোগগুলো দেখেন অন্য কারো রেফারেলে। দিনে ২০ জন রোগিকে দেখেন, এর বেশি দেখেন না।
একজন ব্যক্তি এই ডাক্তারকে দেখাতে চান কিন্তু সিরিয়াল পাচ্ছেন না। তিনি এবার বলতে লাগলেন- যে ডাক্তার ২০ জনের বেশি রোগি দেখেন না, এই রকম বিশেষজ্ঞ এই দেশে থাকার কোন দরকার নাই। চারদিকে প্রতিবাদ শুরু হল। সিরিয়াল না পেয়ে অনেকে চেম্বার ভাংচুর করল।
এবার তিনি দিনে ৫০ এর বেশি রোগি দেখা শুরু করলেন। এবার আবার লোকজন বলা শুরু করলেন- দেখেছেন এই ডাক্তার কত লোভী, তার টাকার নেশা দেখেন। গাড়ি বাড়ি থাকার পরেও দিনে কতগুলা করে রোগি দেখে, কতগুলা করে টাকা কামাই করে।
ডাক্তাররা লোভী, কারন তারা ঈদে, পুজায় পরিবার ফেলে টাকার লোভে হাসপাতালে, চেম্বারে রোগি দেখে। তারা ঈদে, পুজায় শাড়ি, লুঙ্গি বিতরণ করে না। তারা সভা সেমিনার করে এ প্লাস প্রার্থীকে পুরষ্কৃত করে না। তারা মানুষের সেবা করে ফটো তুলে প্রচার করে না। কারন ফটো তুললে অমানবিক কাজ হয়।
সবশুনে ছোটবোন বলল- ভাইয়া, আমি লোভী ডাক্তারই হতে চাই।
আমি বললাম- একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিলি, সারাজীবন পস্তাবি।
লেখক ঃDr. Tarafdar Jewel,স্নাতকোত্তর (এফসিপিএস) শিক্ষার্থী,সাবেক ছাত্র- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (২০০৭-০৮)।

> collected post

Thursday, February 2, 2017

ইন্ডিয়ান হেলথ ট্যুরিজমঃ একটি নীল নকশা


১.....
■■দয়ার্দ্র(!) ডাক্তারটিঃ
পেপারের পাতা উল্টাতে গিয়ে বিজ্ঞাপনটা নজরে পড়লো।এক প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে ইন্ডিয়া থেকে আগত এক প্রখ্যাত চিকিৎসক আমাদেরকে নাকি ফ্রি চিকিৎসা দিবেন।চিকিৎসক মহাশয় নাকি বেশী রোগী দেখবেন না। ফোন নাম্বার দেয়া আছে, দ্রুত কল করে সিরিয়াল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে....
বিষয়টা কি তা বোঝার জন্য একটু সময় নিলাম।ঘটনাটা কি! ইন্ডিয়া কি এখন স্বাস্থ্যখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ? যদি তা না হয় তবে নিজ দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়ান ডাক্তার এদেশে কষ্ট করে এসে এদেশের মানুষকে ফ্রি সেবা দিতে চাচ্ছেন কেনো? কোনো কু-মতলব নেই তো?.....
কনস্পিরেসী থিওরী কোনো কাজের কথা না। নিজের উপর নিজেরই রাগ হলো।চিকিৎসক সাহেব হয়তো গ্লোবালাইজেশনে বিশ্বাসী, তাই এদেশে ফ্রি চিকিৎসা দিতে এসেছেন।আর আমি কিনা তার কু-মতলব নিয়ে চিন্তা করছি! কাজটা ঠিক হলো না, মনকে আরো উদার করতে হবে।পৃষ্ঠা উল্টাতে উল্টাতে আমি চিন্তায় ইস্তফা টানলাম......
২.....
■■কোলকাতার ফোন নম্বরটিঃ
এক ভদ্রলোক প্রায়ই চিকিৎসার জন্য আমার চেম্বারে আসেন।শুধু যে তিনি আসেন তা না, উনার ফ্যামিলির সবাই মোটামুটি আমার কাছেই চিকিৎসা নেন।ভদ্রলোক বেশ অবস্থাসম্পন্ন। তাদের প্রেক্ষাপট থেকে আমি অনেকটা তাদের ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান....
মাসখানেক আগে ভদ্রলোক তার Skin এর একটা সমস্যার(Urticaria) জন্য আমার কাছে এলেন।আমি চিকিৎসা দিলাম, উনি বিদায় হলেন....
ঘন্টাখানেক পর আবারো চেম্বারে এলেন।বললেন Skin এর এই প্রবলেমটা আগেও একবার হয়েছিলো। সেই সময়টায় পেপারে বিজ্ঞাপন দেখে এক প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে সাময়িক সময়ের জন্য আগত এক ইন্ডিয়ান ডক্টরকে দেখিয়েছিলেন।
ভদ্রলোক ইন্ডিয়ান ডক্টরের প্রেসক্রিপশন বের করলেন, লেমিনেটিং করা।ইন্ডিয়ান ডক্টর তার প্রেসক্রিপশনের উল্টোপিঠে কোলকাতার একটি ফোন নাম্বার দিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই সমস্যা দেখা দিলে নম্বরটিতে ফোন করে কোলকাতায় গিয়ে তার সাথে দেখা করার পরামর্শ দিয়েছেন....
সমস্যাটা যেহেতু আবার দেখা দিয়েছে, কাজেই ভদ্রলোক আমার কাছে জানতে চাচ্ছেন উনি এখন ইন্ডিয়ায় ঐ ডাক্তারের কাছে যাবেন কিনা?
Urticaria এর মত সাধারণ Skin problem এর চিকিৎসা এদেশেই সম্ভব।সাধারণ এই প্রবলেমের জন্য দেশের কারেন্সি খরচ করে ইন্ডিয়া যাবার কোনো প্রয়োজন দেখি না......
আমি ভদ্রলোককে কনফিউজড্ হতে নিষেধ করলাম, বললাম-'প্রয়োজন হলে আপনি BSMMU (প্রাক্তন পিজি হাসপাতাল) এর Skin specialist কে দেখাবেন....'
কিছুদিন পর উনি জানালেন, ঢাকা টু কোলকাতার টিকিট কাটা হয়েছে, ডিসিশনটা কেমন হয়েছে সেটা জানার জন্য আবার আমার চেম্বারে এলেন....
আমি পজিটিভ বা নেগেটিভ আর কিছু বলিনি, চুপ করে ছিলাম।তাকে কিভাবে বলি, "My silence doesn't mean I agree with you. It means your level of stupidity renders me speechless..... "
৩......
■■ধূর্ত পেইড এজেন্টঃ
এবার একটা রিসেন্ট ঘটনায় আসি.....
UK based একটা বাংলা টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাতকার দিচ্ছিলাম।ইস্যু-Antibiotic Resistance, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা চলছে। মোবাইল ভাইব্রেশন মোডে প্যান্টের পকেটে।সাংবাদিক সাহেবের সাথে কথা বলছি, রেকর্ডিং হচ্ছে।এমন সময় পকেটে মোবাইলে একটার পর একটা ভাইব্রেশন স্টার্ট হলো.....
সাক্ষাতকার শেষ হবার পর দেখলাম মেসেঞ্জারে মেসেজ ভর্তি।সাধারণত চেক করি না। এবার চেক করলাম।একটা ছেলে মেসেজ পাঠিয়েছে, মেডিকেলে Fifth year এ পড়ে।আমাকে কিছু তথ্য জানাতে চাচ্ছে, তার মনে হচ্ছে এগুলো আমার জানা দরকার।রেসপন্স করলাম.....
যে তথ্য আমি পেলাম তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না।ছেলেটা একটা জবে'র অফার পেয়েছে।ধানমন্ডির এক অফিসে বসতে হবে।কাজ হলো- আগত পেশেন্ট ও পেশেন্টের লোকদের মোটিভেট করা যাতে তারা ইন্ডিয়ায় গিয়ে চিকিৎসা নেয়।স্যালারি মাসে ২৫০০০ টাকা, পেশেন্টকে ইন্ডিয়া পাঠাতে পারলে পার পেশেন্ট হিসেবেও একটা টাকা পাওয়া যাবে।Fifth year এ যে পড়ে এটা তার জন্য বেশ লোভনীয় একটি অফার বটে.....
৪.....
■■ফাইন্যালি পেইড মিডিয়াঃ
গত কয়েকদিনে Russia based একটি পেপার এবং UK based আরেকটি পেপারে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করা হয়েছে।সেগুলো বাদ দিলাম। ঐদিন দেখি CNN এও একই ব্যাপার। আবুল বাজনদারকে( Tree man syndrome এ আক্রান্ত ছিলো) নিয়ে তৈরি করা একটা রিপোর্ট তারা বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ.....
আচ্ছা, এদেশের অধিকাংশ মিডিয়া-যারা পান থেকে চুন খসলে ডাক্তারদের একরকম ধুয়ে দেয়, তাদেরকে কি সহসা কখনো এদেশের ডাক্তারদের প্রশংসা করতে দেখেছেন? নাকি এদেশের ডাক্তাররা কোনো ভালো কাজ করেনা? ঘটনাটা কি?
কবিতার দুইটা লাইন বলিঃ
"সুজনে সুযশ গায় কুযশ ঢাকিয়া
কুজনে কুরব করে সুরব নাশিয়া...."
৫.....
■■এবার অনুসিদ্ধান্তঃ
উপরে চারটা সেগমেন্টে চারটা ভিন্ন ধরনের তথ্য দিলাম। এবার এক কাজ করুন।ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন তো--ঘটনাগুলোর মাঝে কোনো যোগসুত্র আছে কিনা? কোনো অনুসিদ্ধান্ত কি টানা যায়?
যায়।আমি অনুসিদ্ধান্তটা টেনে দিচ্ছি....
" একটি সংঘবদ্ধ চক্র পেইড এজেন্ট ও পেইড মিডিয়ার মাধ্যমে এদেশের ডাক্তারদের দুর্নাম করে জনগণকে এদের প্রতি আস্থাহীন করে সুচিকিৎসার লোভ দেখিয়ে অহেতুক দেশীয় মুদ্রাকে বিদেশে পাচার করছে".....
৬.....
জাস্ট দুইটা তথ্য দেই.....
Spain এর সিমাগো রিসার্চ গ্রুপ ও USA এর স্কপাস এর পরিচালিত জরিপে সেরা হাসপাতালগুলোর মাঝে জায়গা করে নিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU)। All India Medical Institute বাদে ইন্ডিয়ার আর কোনো হাসপাতাল BSMMU এর উপরে নেই। পিপড়ার মত দলে দলে যারা ইন্ডিয়া যায়-তাদের জন্য তাই সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছু করার দেখছিনা।চ্যানেল আই কে ধন্যবাদ তথ্যটা আমাদেরকে জানানোর জন্য.....
দ্বিতীয় তথ্যটা WHO এর।তারা বলতে চায় বাংলাদেশ(৮৮ তম) নাকি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ভারতের(১১২ তম) চেয়ে এগিয়ে......
৭.....
আমাদের দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আহামরি টাইপের-সে কথা কিন্তু আমি বলিনা।অনেক উন্নতির প্রয়োজন আছে- সেটা আমরা স্বীকার করি।কিন্তু পঙ্গপালের মত চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়ায় যাওয়া কোনো কাজের কথা না।প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে যে দেশীয় মুদ্রা অযথা এভাবে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে তার রাশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে টেনে ধরা উচিত।আমি তিনটি প্রস্তাব দেইঃ
ক) নিজ দেশে ভাত না পাওয়া যে ইন্ডিয়ান চিকিৎসকরা এদেশে প্র্যাকটিস করতে আসবেন--তাদেরকে অবশ্যই এদেশে লাইসেন্সিং পরীক্ষায় উৎরাতে হবে। আপনি কি কল্পনা করতে পারেন যে-- ইন্ডিয়ায় তাদের লাইসেন্সিং পরীক্ষা না দিয়ে সেখানে আপনি প্র্যাকটিস করতে পারবেন? তারা যদি তাদের কোয়ালিটি এনসিউর করতে পারে, তবে আমরা কেনো নয়?
খ) ধুরন্ধর পেইড এজেন্ট ও পেইড মিডিয়াকে নিষিদ্ধ করা।এরা কন্টিনিউয়াসলি এদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত। প্রয়োজনে জনগণের সাথে প্রতারণার এই ব্যাপারটা ইনভেস্টিগেট করা....
গ) The less people know, the more they think they know-এটাই Dunning Kruger Effect. চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়া কোনো বেহেশত্ খানা না।কিন্তু সাধারণ জনগণ কিন্তু ইন্ডিয়াকে চিকিৎসার জন্য বেহেশত্-ই মনে করে এবং অন্যজনকে সেটাই বোঝায়। ড্যাটা বেইজড্ কমপেয়ারেটিভ অথেনটিক তথ্যগুলো জনগণকে ইনফর্ম করতে হবে, তাদেরকে সচেতন করতে না পারলে মুদ্রা পাচার রোধ করা সম্ভব নয়....
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তাবগুলো একটু ভেবে দেখবেন কি? দেশের মানুষগুলো প্রতারকের খপ্পরে পড়ে অসুস্থতা নিয়ে বর্ডার ক্রস করে।ইন্ডিয়ার হাসপাতালগুলো 'দাদা দাদা' ডেকে এদের পকেট কেটে রাখে।এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কান্ডারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া উচিত।" কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন....."
৮.....
দু'দিন আগে খবরে দেখলাম ভারতের একজন মন্ত্রী জনসভায় বলেছেন, গরু নাকি পরিবেশে অক্সিজেন সরবরাহ করে! এরকম আহাম্মকি কথা আমাদের দেশের কোনো মন্ত্রী বলবেননা সেই বিশ্বাস আমার আছে।যে দেশের নীতিনির্ধারকদের কনসেপ্ট এইরকম সে দেশ চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের থেকে উন্নত?
যে দেশে গো-মূত্র দিয়ে ৩০ ধরণের রোগের চিকিৎসা পপুলারিটি পায় - আমাদের মিডিয়া সেই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পূজা করে,সেই দেশের ডাক্তারদের হাইলাইট করে, নিজ দেশের চিকিৎসককে এরা ভিলেন বানায়।এই আফসোস কোথায় রাখি?
মধুসূদনের কবিতাটি মনে করিয়ে দেইঃ
স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে—
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
৯....
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রলয়ঙ্করী এক লোকের নাম জেনারেল ফিল্ড মার্শাল রোমেল।উপাধি-Desert Fox।হিটলারের এই তুরুপের তাস জেনারেল রোমেলের একটি কথা আমার খুব পছন্দ...
কথাটি বলিঃ "সবাই চোখ -কান খোলা রাখে।আমি নাকও খোলা রাখি।গন্ধ শুঁকি।বিপদের গন্ধ শোঁকা যায়....."
এদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংসের যে নীল-নকশা আঁকা হয়েছে-- সে বিপদের গন্ধ কিন্তু আমি পাচ্ছি। আপনি পাচ্ছেন তো?.....
- ডাঃ জামান অ্যালেক্স

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Sunday, January 29, 2017

সরকারি চাকরি···চা পান সমাচার।


৩৪ তম বিসিএস।
 প্রথমেই ধাক্কা খেলাম, পি এস সি সুপারিশ করার পর জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা আটকে দিলো। কারন জানতে পারলাম বাবা বি এন পি করেন আর আমার আচরন সন্তোষজনক নয়।আমার বাবা মুদি দোকানি নির্বাচন তার জন্ন্য উ ৎসব, বেচাকেনা বেশি ।কখনো ভোট দেন নি প্রথম জানলাম NSI এর থেকে উনি দল করেন।বলে রাখা ভালো আমার বাবা চা পান খাওয়ান না।
 যাই হোক দীর্ঘ ৭ মাস পর ছাড় পেলাম।জয়েনিং করলাম dg health এ। এতদিন বন্ধুদের থেকে শুনতাম dg khub খারাপ জায়গা। খারাপ লাগলো না।  ১০.৩০ থেকে ৭.৩০ পর্যন্ত রূলস রেগুলেসন সততা পেশাগত দায়ীত্ব শেখালেন। কিভাবে একজন সৎ অফিসার! হতে হবে শিখতে পারলাম না সারাদিন এ একটা রসগোল্লা brain a glucose দেয় নি। dg গরিব মানুস।
সন্ধ্যায় জানিয়ে দিলো দুর্ঘম কলমাকান্দা,নেত্রকোনা যেতে হবে এবং সবাইকে এও বলে দিলেন অসৎ অফিসার থেকে দুরে থাকবেন। পোস্টিং প্লেস এ আসতে টাংগাইল থেকে ৩ টা মুড়ির টিন লাগে। লাস্ট ওয়ান লাইক রোলার কোস্টার। অফিস এ ডুকে statistician and head assitant কে ভয় পাচ্ছিলাম। কারন বন্ধু দের পরামর্শ চা পান ছাড়া নাকি উনারা কথা বলেন না।
আমি বাবার কাছ থেকে চা না খাওয়ানোর শিক্ষা টা নিয়েছি আর কিছু নিইনি মনে হয়। কিন্তু উনারা আমাকে অবাক করলেন maximum help with out tea!!!. ৫ টায় রউনা দিয়ে ১১.৩০ এ পৌছেছিলাম।১২.৩০ এ সব কাজ শেস শুধু UHFPO এর sign. উনি ব্যস্ত মানুস আসলেন ২ pm. Office না এসে বাসায়। আমিও বাসায় ই গেলাম। ৭ দিন এর প্রস্তুতি ছুটি সহ আমাকে ৭ দিন পর সকাল ৮ টায় আসতে বল্লেন।

অফিস।

টিউব লাইট নস্ট লাল বাত্তি আছে।
table ভরা daignostic pad personal pad!! Slip pad.
৮ টায় গেলাম খব ভালো লাগছিলো ৯-১০ company visit.... অনেক মানুস।
১১ টার আগে টিকেট কাউন্টার খোলেন না।
 এ সময় অফিসার গন pvt pad a pt দেখেন।
 ১১ টা থেকে ১ টা মিক্স রুগি then again pvt practice.
 প্রথম দিন বুজলাম। রাতে হস্পিটাল কোয়ার্টার এ থাকলাম। পাতলা কম্বল কলিগ এর। অ্যান্ড meghaloy border a freezing temparature. Next day RMO er পরামর্শ মতে store theke double size kombol nilam..nice one.
11 am RMO এর call Uno er office a meeting. আমি চিনি না .Rmo muhurte byk er bebostha korlo jaoar somoy DIAGNOSTIC আশার সময় ACI. আমি ভূল করে বলে ফেলেছিলাম hospital car or 2byk or ambulance. জানলাম গাড়ী এর ড্রাইভার নেই। ambulance nosto, byk nightguard chalay. Owo.

Next day

সকাল ৮ টা আমি হাজির এ দেখে সবাই হাসাহাসি করছিলো। ami boka manush.
BSMMU te kokhono 8 am giyechi bole mone pore na. First job to tai vablam sincere hoi.
এক কলিগ বললো emergency ektu dekhte ami gelam.
 Sacmo ra treatment dicche and no surprise for the sack of humanity they are also doing pvt practice in emergency room.!!!

Outdoor a pt ashto na amar kache karon Pore jenechi personal lobist ache amar colleague der!!!

Each and every pt wants to give money!
its there habit we just help them to slang our society after leaving this hospital complex And we are taking it as same!" tea bill".😃.

 Pathology te investigation pathalam emergency theke অখানে ও pvt. Owo.
 Ami confused hoye gelam ami ki pvt job a jojn korlam?

 Aktu por e pelam মারামারি রুগি। হাত মুঠো ভরা ৫০০ টাকার নোট, really লোভনীয়। চা খেয়ে জ্বিব পুড়ে যাবে ভয়। ফিরিয়ে দিলাম, বল্লাম আমার rank a ami shob cheye beshi sallary pai.amar eta dorkar nai.... eita bolar por sacmo der bollam table clear korte from pvt pad, dignostic pad. Bring back 10 tk ticket plus 3 tk ticket. They are good man.আমাকে দেখালো চকচকে সরকারি টিকেট। then they started my finale “ sir rest nen room a problem hole dakbo.” 5 times.লজ্জা পেলাম তাই চলে এলাম। কাল আবার যাবো সকাল ৮ টায় হাসির পাত্র হতে।


নাম প্রকাশে ভয়। suman sikder nam tai thak batch tato same MMC 06/07

>> কালেক্টেড পোস্ট << 

Wednesday, January 18, 2017

বেকাররা চাকরি না খুঁজে চাকরিই বেকারদের খুঁজুক

#off_topic
একবার কষ্ট হলেও পড়ে দেখতে পারেন।
লিখেছেন মান্নান স্যার।


আমার কাছে কিছু মানুষ চাকরির খোঁজে আসেন। তাদের ধারণা, আমি বলে দিলেই কোনও একটি জায়গায় তাদের চাকরি হয়ে যাবে। যারা আসেন, তারা প্রায় সবাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় অথবা কলেজ থেকে এমএ বা সমপর্যায়ের পরীক্ষায় পাস করেছেন। তাদের আকুতি দেখলে বেশ মায়া হয়। সময়মতো বুঝতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ পর্যায়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে তাদের একটা চাকরির জন্য পথে-পথে ঘুরতে হবে। একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি ‘উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্ব বেশি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী এক কোটি দশ লাখ তরুণই নিষ্ক্রিয়, মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের নিষ্ক্রিয়তা বেশি।’ নিষ্ক্রিয় মানে, তারা অন্যের হোটেলে (বাপের) বিনা পয়সায় খান। পত্রিকাটি এই তথ্যবহুল প্রতিবেদনটি লেখার সময় নবগঠিত সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চের (সিডার) প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করেছে।

সিডারের এই তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করার কোনও কারণ নেই। যারা আমার কাছে চাকরির আকুতি নিয়ে আসেন, তাদের প্রায় সবাই সরকারি চাকরি প্রত্যাশা করেন। বলেন, বয়স চলে যাচ্ছে। এরই মধ্যে আবার একদল শিক্ষিত বেকার দাবি তুলেছেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স পঁয়ত্রিশ বছর করতে হবে। আমাদের দেশের তরুণদের মধ্যে দুই ধরনের প্রবণতা লক্ষণীয়। প্রথমে তারা উচ্চমাধ্যমিক পাস করলেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যতটা আগ্রহী, কারিগরি বা কর্মদক্ষতা বাড়ানোর শিক্ষা নিতে ততটা আগ্রহী নন। দ্বিতীয়ত খুব কম ক্ষেত্রেই কাউকে উদ্যোক্তা হতে দেখা যায়। সবাই চাকরি প্রত্যাশা করেন, কেউ চাকরি সৃষ্টির কথা ভাবেন না। পাশাপাশি অন্য একটি চিত্রও আছে।

বাংলাদেশে এই মুহূর্তে কমপক্ষে চার লাখ বিদেশি চাকরি করছেন। যাদের মধ্যে বৈধভাবে কাজ করছেন বিশ হাজারের মতো। এই বিদেশিরা, বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশে পাঠাচ্ছেন। চার লাখ মানুষ পাঁচ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছেন। পারার কারণ হলো, তাদের যে কর্মদক্ষতা আছে, তা আমাদের দেশের ‘উচ্চশিক্ষিতদের’ মধ্যে নেই। অথচ যে আশি লাখ বাংলাদেশি বিদেশে অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন, তার পরিমাণ বছরে গড়ে পনের বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ফিলিপাইনের ত্রিশ লাখ শ্রমিক বিদেশ থেকে বাংলাদেশের তিনগুণ অর্থ নিজ দেশে পাঠাচ্ছেন। এর প্রধান কারণ ফিলিপাইন থেকে যারা বাইরে কাজ নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের কর্মদক্ষতা আমাদের দেশের মানুষের চেয়ে অনেক বেশি আর তারা ইংরেজি ও আরবিতে কথা বলতে পারেন। সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক হাসপাতালগুলোতে বেশির ভাগ নার্স বা ডাক্তার হয় ভারতীয় নয় ফিলিপাইনের। কিছু আছেন ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার। সেই সব হাসপাতালে দেখা যাবে বাংলাদেশিরা হয় ক্লিনার, নয় ওয়ার্ড বয়। বিদেশে কাজের বুয়া পাঠাতে যত আগ্রহ বাংলাদেশে দেখা যায়, কর্মদক্ষ শ্রমিক পাঠাতে তেমনটা দেখা যায় না। ভারতে বিদেশ থেকে যে রেমিটেন্স আসে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

সিডার বাংলাদেশ সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছে, পরিস্থিতি হয়তো তার চেয়েও ভয়াবহ। ২০১৬ সালে ইউরোপীয় ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) এক পরিসংখ্যানে দেখিয়েছে, বাংলাদেশে শতকরা ৪৭ ভাগ গ্রাজুয়েট হয় বেকার, না হয় তিনি যে কর্মে নিযুক্ত এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট হওয়ার কোনও প্রয়োজন ছিল না তার। প্রতিবছর বাংলাদেশে ২২ লাখ কর্মক্ষম মানুষ চাকরি বা কাজের বাজারে প্রবেশ করছেন। এই বিশাল-সংখ্যক কর্মক্ষম মানুষের মাত্র সাত শতাংশ কাজ পাবেন। এর অর্থ হচ্ছে, দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বেকারের তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন। ভারত, পাকিস্তান বা নেপালের পরিস্থিতিও তেমন একটা ভালো নয়। ভারতে ৩৩ শতাংশ, পাকিস্তানে ২৮ শতাংশ আর নেপালে ২০ শতাংশ মানুষ চাকরির সন্ধান করছেন। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বা সমপর্যায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত। অন্যদিকে সার্বিক পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে দেখা যাবে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো। ইনডেক্স মুন্ডি বলছে, বাংলাদেশে সার্বিক বেকারত্বের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫.০ শতাংশ, ভারতে ৮.৮ শতাংশ, পাকিস্তানে ৬.৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় এই সংখ্যা ৫.১ শতাংশ।

বিশ্বের সর্বাধিক বেকারের বাস জিম্বাবুয়েতে। শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষেরই কোনও কাজ নেই। আফ্রিকা বাদ দিলে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের অবস্থাও শোচনীয়। কসোবোয় ৩১ শতাংশ, গ্রিসে ২৮ শতাংশ, স্পেনে ২৬.৩ শতাংশ, পর্তুগালে ১৬.৮ শতাংশ, ইটালিতে ১২.৪ শতাংশ, আয়ারল্যন্ডে ১৩.৫ শতাংশ মানুষ বেকার। আর সৌদি আরব, বিশ্বের অন্যতম তেল সমৃদ্ধ দেশে ১০.৫ শতাংশ মানুষের কোনও কাজ নেই। সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেলসমৃদ্ধ দেশের সমস্যা হচ্ছে, তেলের ভাণ্ডার তাদের সর্বনাশের প্রধান কারণ। তারা মনে করেছিল, তেলের প্রয়োজনীয়তা কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। ১৯৬২ সাল হতে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ড. আহমেদ জাকি ইয়ামানি সৌদি আরবের তেলমন্ত্রী ছিলেন। পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ইয়ামানি অত্যন্ত বাস্তববাদী ছিলেন। একপর্যায়ে বলেছিলেন প্রস্তর যুগ শেষ হওয়ার পেছনে প্রস্তরের অপ্রাপ্যতার কারণ ছিল না। কারণ ছিল মানুষ প্রস্তরের বিকল্প আবিষ্কার করে ফেলেছিল। এক সময় তেলেরও প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাবে যা বিকল্প জ্বালানি আবিষ্কারের ফলে এখন অনেক দেশেই দেখা যাচ্ছে।
সৌদি তেল এখন বিশ্ববাজারে সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে সৌদি রাজকোষে টান পড়েছে। সরকার সেই দেশের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ২০ ভাগ কমিয়ে দিয়েছে। সৌদি আরবের এখন আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে হজের মৌসুমের আয়, যে কারণে বর্তমানে একজন মানুষের হজ করতে যেতে হলে দু’তিন বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। বিশ্বে সম্ভাব্য দেউলিয়া হওয়ার দেশের তালিকায় সৌদি আরবের অবস্থান বেশ ওপরে বলে অনেকের ধারণা। এক পণ্যনির্ভর অর্থনীতির ঝুঁকি অনেক বেশি। জাকি ইয়ামানি তখন বলেছিলেন, পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই সৌদি আরবের উচিত হবে, তেলের অর্থ সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা আর সৌদি আরবের মানুষকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর করা। ইয়ামানি রাজ পরিবারের অংশ ছিলেন না। তাই তার কথাও তেমন একটা আমলে নেওয়ার প্রয়োজন সৌদি সরকার মনে করেনি।

১৯৮৬ সালে সৌদি বাদশাহ ফাহাদ ইয়ামানিকে বরখাস্ত করেছিলেন। বর্তমানে সৌদি তেলক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউরোপীয় দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলো। তেলসম্পদ লুণ্ঠন বন্ধ করার যোগ্যতা সৌদি আরবের নেই। অন্যদিকে ইরানের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অবশ্য তারা নিজেদের আরব মনে করে না। ইরান সব সময় দক্ষ জনসম্পদ উন্নয়নে তেলের অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এখন সে দেশ একটি পরমাণু শক্তি। যুক্তরাষ্ট্রও তাকে সমীহ করে আর সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের তাঁবেদার রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার রাতারাতি তৈরি হয়নি। এটি দীর্ঘ দিনের অপরিকল্পিত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠার ফল। বিশ্বের কম দেশই আছে, যেখানে চিন্তা-ভাবনা না করেই প্রতি বছর সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ বিষয় পড়তে যাওয়ার এমন হিড়িক লক্ষ করা যায়। একজন আজিম উদ্দিন সংস্কৃত বিষয়ে পড়ে এমএ পাস করে কী করবেন, তা তিনি জানেন না। পড়ছেন, কারণ তার একটা বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি চাই। দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ আর বিবিএ পড়ার একটা হিড়িক আছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকটা নিখরচায় পড়া যায় আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা লাগে পাস করে বের হতে। সময়ও লাগে চার থেকে পাঁচ বছর। অনেক এমবিএ পাস করা গ্রাজুয়েটের কাছে জানতে চেয়েছি কী চাকরি করছেন? বলেন, একটি বহুজাতিক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড বিক্রি করেন। মাস শেষে বেতন দশ হাজার টাকা। ঢাকা শহরে পনেরো থেকে বিশ হাজার টাকার নিচে কোনও ড্রাইভার পাওয়া যায় না। অন্য দিকে দেখা যায়, সরকার হয়তো একটি বিশেষ দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলো।
সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাব্যক্তিরা পরদিন থেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করবেন—কিভাবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ আর এমবিএ খোলা যায়। আর এখন বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে হঠাৎ করে ইসলামিক স্টাডিজ খোলার তোড়জোর পড়েছে। হঠাৎ কেন এমন তোড়জোর? কারণ এই বিভাগে ভর্তি হলে ক্লাস করতে হয় না। নির্দিষ্ট পরিমাণের অর্থ দিলে সময়মতো এসে সার্টিফিকেট নেওয়া যাবে। এই সব ডিগ্রি ক্রেতার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। কারণ এই ডিগ্রি দেখিয়ে তারা সহজে পদোন্নতি পেতে পারেন। এ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তেমন একটা ব্যবস্থা নিতে পারে না। কারণ তাদের হাত বেশ লম্বা ।


যদি বলি, উচ্চশিক্ষা হওয়া উচিত শুধু মেধাবীদের জন্য এবং তা পরিকল্পিতভাবে, তখন একদল বিশেষ ঘরানার রাজনৈতিক ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী ব্যক্তি হৈ চৈ ফেলে দেবেন। বলবেন, শিক্ষা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। কারণ এই অধিকার শুধু প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। রাশিয়া বা চীনে ইচ্ছা করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারে না। ফিনল্যান্ডে শুধু যারা প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করবেন, তারাই বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। দেশে কতজন শিক্ষক, কতজন গবেষক প্রয়োজন, তার একটি ধারণা থাকতে হবে। সেভাবেই উচ্চশিক্ষার বিন্যাস ও পরিকল্পনা জরুরি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ অল্প বয়সী জনসংখ্যা। জাতিসংঘের হিসাব আনুযায়ী, আমাদের জনসংখ্যার ৪০ ভাগ মানুষের বয়স ২৬ বছরের নিচে। তাদের জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে তাদের বিদ্যায় দক্ষতার পরিমাণটা অনেক বেশি থাকতে হবে। একজন গাড়ির মেকানিক বিশ্বের কোনও দেশেই বেকার থাকবে না। কিন্তু একজন এমএ পাসকে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় খালি বোতল বা ডাস্টবিনে কাগজ কুড়াতে নিয়মিত দেখা যায়। অনেকের কাছে জানতে চেয়েছি, কেন তিনি নিজ দেশ ছেড়ে এদেশে এসেছিলেন। উত্তরে জানালেন, ভালো জীবনযাত্রার খোঁজে। দেশে অন্তত তিনি রাস্তায় বোতল কুড়াতেন না। ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিলে অভিবাসীদের কপাল পোড়ার ইঙ্গিত তিনি অনেক আগেই দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ গাড়ি মেরামতের গ্যারেজের মালিক পাঞ্জাবি শিখরা।


শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকলে চাকরি মিলবে—এমন ধারণা একেবারেই ভুল। প্যারিসের এক ট্যাক্সি ড্রাইভার আমাকে বেশ কয়েক বছর আগে বলেছিলেন, তিনি মিশর ও ফ্রান্সের দু’টি নাম করা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দু’টি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। কিছুদিন শিক্ষকতাও করেছিলেন। তা ছেড়ে দিয়ে এখন ট্যাক্সি চালান। আয়-রোজগার আগের তুলনায় দ্বিগুণ। আমি আর ড. মুনতাসীর মামুন একবার ব্রিটেনের উত্তরে ইনভারনেস গিয়েছিলাম। আমাদের ট্যুর গাইড কেম্ব্রিজ থেকে পিএইচডি করে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। তা ছেড়ে এসে দেশে নিজের ট্যুর কোম্পানি খুলে বেশ ভালো আছেন। জনাদশেক মানুষকে চাকরিও দিয়েছেন। আমাদের দেশের অনেক ব্যবসায়ী ও শিল্প-উদ্যোক্তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, দেশে এত শিক্ষিত বেকার থাকতে, তারা কেন অন্য দেশ থেকে দ্বিগুণ বেতন দিয়ে লোক আনেন? সবারই একটি কমন উত্তর: আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের দক্ষতার অভাব আছে। কী দক্ষতা? কথা বলতে তাদের জড়তা আছে। ভাষার ওপর দখল খুবই কম। ইংরাজিতে দুই লাইন কথাও বলতে পারেন না, লেখা দূরে থাক। উপস্থাপনায় একেবারেই কাঁচা। আর সবসময় কেতাদুরস্ত হয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে কাজ করতে চান। মাঠে বা কারখানায় যেতে তাদের অনীহা প্রচণ্ড। আর বিশ্বে বা নিজ দেশে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে অধিকাংশেরই অজ্ঞতা পর্বতসমান। কোনও-কোনও ক্ষেত্রে অভিভাবকদের ভূমিকাও তাদের ছেলে-মেয়েদের কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তারা তাদের ছেলে মেয়েদের সবসময় কাছে রাখতে চান। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী গ্র্যাজুয়েটের চাকরি হলো। ক’দিন না যেতেই তারা বাবা এসে আমাকে বললেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা চাকরি হলে ভালো হয়। কারণ তিনি ছেলেটাকে তার কাছেই রাখতে চান। ছেলের সম্ভাব্য সর্বনাশের প্রথম ধাপ!
বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমানোর উপায় হচ্ছে—এমন শিক্ষার ব্যবস্থা করা যেন চাকরিই যোগ্যপ্রার্থী খুঁজবে। কারিগরি, প্রযুক্তিগত, আইটি, নার্সিং, সুপারভাইজার ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা যায়, এমন শিক্ষারই প্রয়োজন এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অভ্যাস কমাতে হবে। এজন্য চাই—সবার মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির পরির্বতন। মেয়ে বিয়ে দেওয়ার সময় ছেলে এমএ পাস কিনা, তা খোঁজা বন্ধ করতে হবে অভিভাবকদের। একইভাবে ছেলেপক্ষ ছেলের হবু স্ত্রীর পেশাটা কতটুকু সমাজে কাজে লাগছে, তাতে গুরুত্ব দিতে হবে। মনে রাখতে হবে উন্নতবিশ্বে যেভাবে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে, তাতে সে সব দেশে দ্রুত কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের স্থলে প্রযুক্তি ব্যবহার হওয়া শুরু হয়েছে। ইউরোপে এখন গাড়ি বা ট্রেন চালাতে আর চালক লাগছে না। সে কাজটি প্রযুক্তি করছে। কিন্তু সেই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পেছনে একজন মানুষের প্রয়োজন, যার সে বিষয়ে জ্ঞান আর দক্ষতা আছে।

আমাদের সেই মানুষই তৈরি করতে হবে। তেমনটি হলে দেশে আর উচ্চশিক্ষিত বেকার তেমন একটা থাকবে না। আর বাংলাদেশে যে বিদেশি পুঁজি আসবে, তা মূলত হবে সেবাখাতে। শিল্পখাতে তেমন একটা নয়। বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ টেলিকম কোম্পানিতে সব মিলিয়ে জনবল হচ্ছে চার হাজারের নিচে। সবাই কর্মদক্ষ জনশক্তি। তাদের চাকরির কখনও অসুবিধা হবে না। এসব বিষয় গুরুত্বসহ বিবেচনা করে সামনে এগুতে হবে। শুধু একটা ডিগ্রি কাজ দেবে না। দক্ষতা থাকলে কাজের অভাব হবে না।
###ধন্যবাদ

Saturday, January 7, 2017


খবরের বাকি অংশের লিঙ্ক >> Click Here <<
এই খবর আমাদের সময় ০৫.০১.২০১৭ তারিখে প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছিল।
খবরটি কিছু ব্যাখ্যা করে বিবেচনা করা যাক।

** উচ্চ  ফি --> বি এম ডি সি সাইট অনুযায়ী দেশের ডাক্তার সংখ্যা 75700জন ( সুত্র http://bmdc.org.bd/doctors-info/ ) এর মধ্যে কত জন ডাক্তারের ফি ৩০০ টাকার উপরে  বিবেচনা করবেন।

** এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে  প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার বিপরীতে কমিশন, ওষুধ কোম্পানি থেকে কমিশন, উপহার ও নানা ধরনের সুবিধা নেওয়া, প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ লেখা ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করানোর অভিযোগ রয়েছে। --> এই সুবিধা কত % ডাক্তার নেন / পান? যারা সুবিধা নেন/ পান তারা তো চিহ্নিত ডাক্তার, তার পরেও তাদের কাছে রোগী রা যান কেনো?

** একদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা কম, অন্যদিকে রোগীর সংখ্যা বেশি। পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তাদের সিরিয়াল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। --> পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার কারন এবং তা দূর করতে ব্যাবস্থা নেয়া হয় না কেনো?

** সরকারি হাসপাতালে রেফারেল সিস্টেম চালু না থাকায় রোগীরা চাইলেও একজন সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপকদের নাগাল পান না। --> রেফারেল সিস্টেম চালু হয় না কাদের ইশারায়? তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হয় না কেনো?

** এক বছরের বেশি সময় অপেক্ষার পর ২০১৬ সালের অক্টোবরে ওই চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পান আনোয়ারা বেগম। আনোয়ারা বেগমের স্বজন বলেন, আত্মীয়স্বজনের পীড়াপীড়িতে কিডনি ফাউন্ডেশনের অধ্যাপককে দেখানোর জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এক বছরের বেশি সময়। রোগী দেখার পর চিকিৎসক যেসব টেস্ট দিয়েছেন সেই রিপোর্ট দেখাতে আবার তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়। রোগীর ক্রিটিক্যাল মুহূর্তেও সিরিয়াল পেতে কোনো ছাড় পাওয়া যায় না। --> দেশে কি  আর কোন ডাক্তার নাই, যে ১ বছর অপেক্ষা করতে হবে?

** চিকিৎসক রাত ২টা পর্যন্ত রোগী দেখেন। এর মধ্যে ছোটাছুটি করেন বিভিন্ন হাসপাতালে। ফলে রোগীরা সেবা না পেয়ে বিরক্ত। --> এমন ডাক্তার এর কাছেই কেন যেতে হবে ? দেশে অনেক ভাল চিকিৎসক আছেন, কিন্তু তারা প্রচারে নেই। তাদের খুজে বের করা কঠিন কিছু নয়।

** রোগী দেখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সময় দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। --> সময় দিতে পারেন না যে সব ডাক্তার তাদের সংখ্যা নগন্য। তাদের এভয়েড করা কঠিন কিছু নয়।

শুধু সমালোচনা না করে কি করে হেলথ সেক্টরের সমস্যা সমাধান করা যায় তার দিকে মনযোগী হওয়া দরকার। সরকারি পলিসি যতদিন স্তান্টবাজি মুক্ত না হবে তত দিন অবস্থার উন্নতি হওয়ার সম্ভবনা নাই বললেই চলে। আল্লাহ পাক সংশ্লিষ্ট সবাই কে সুমতি দান করেন। আমীন

Wednesday, January 4, 2017

আপনার গায়ে কি মানুষের রক্ত?!!

সাংবাদিক ভাই, আপনাদের শরীরে কি মানুষের রক্ত?

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন সহযোগী অধ্যাপকের স্ত্রী, কন্যা স্পিডবোট দূর্ঘটনায় মারা গেছেন, সেই চিকিৎসক এবং তাঁর সহকর্মী আরেকজন চিকিৎসক এখনো হাসপাতালে আহত অবস্থায় ভর্তি আছেন। কিন্তু আমাদের সাংবাদিক ভাইয়েরা নিউজ করলেন-“ভোলায় ডাক্তারদের সাপ্তাহিক হাট বাজার শেষ করে বরিশালে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ভোলা থেকে অবৈধ ভাবে কামানো দুই ডাক্তারের কাছে থাকা ২০ লক্ষ টাকাও নদীতে ভেসে যায় বলেও নিশ্চত করেছেন আমাদের ওই প্রতিনিধি(ভোলা নিউজ ডটকমের ভেদুরিয়া প্রতিনিধি মঞ্জুরুল আলম)”। শুধু নিউজই না, নিউজের মন্তব্যে সংবাদভাষ্যে বলা হলো, এই দূর্ঘটনা আল্লাহর গজব, ভোলার গরীব মানুষের কষ্টের টাকা এই চিকিৎসকেরা লুট করে নিয়ে যায়।

কতটুকু স্পর্ধা থেকে “ডাক্তারদের হাট বাজার” কথাটা একজন চিকিৎসকের স্ত্রী কন্যার মৃত্যু সংবাদের
সাথে লেখা যায়! কতটুকু আক্রোশ থেকে একই মৃত্যু সংবাদে চিকিৎসকের উপার্জনকে “ভোলা থেকে অবৈধ ভাবে কামানো...২০ লক্ষ টাকাও নদীতে ভেসে যায়” লেখা হয়! সাংবাদিক ভাই, আপনাদের গায়ে কি মানুষের রক্ত?

কথাগুলোর জবাব দিতে বা বিদ্বেষ ছড়াতে এই লেখা নয়, আসুন কিছু তথ্য জেনে নেই।
 ভোলা জেলার প্রতি ২০ লক্ষ ৩৭ হাজার লোকের জন্য মাত্র একজন সরকারী অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ আছেন(জেলা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কন্সাল্টেন্টের একমাত্র পদটিও প্রায় সব সময় ফাঁকা থাকে)। সেই অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞও আবার এনেস্থেশিস্টের অভাবে কাগজে কলমে অকার্যকর(এনেস্থেশিয়া ছাড়া ছোটখাট কাজ ছাড়া অর্থোপেডিক চিকিৎসা অসম্ভব)। জেলার গত ১ বছরে সর্বোচ্চ প্রথম ৫ টি স্বাস্থ্য সমস্যার এবং মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ দূর্ঘটনা/আঘাত জনিত বা অর্থপেডিক সমস্যা। জেলায় অর্থপেডিক রোগীর চাহিদা এতই বেশি যে গত বাৎসরিক হেলথ বুলেটিনে সিভিল সার্জন ভোলা জেলায় একটি ট্রমা সেন্টারের সুপারিশ করেন। ২০(+২) জন চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে ১০(+২) জন চিকিৎসক আছেন, সিভিল সার্জনের ভাষ্য ভোলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকতে চান না।
 বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর মাঝে ৫-৭ জন অর্থোপেডিক প্র্যাকটিস করেন যার মাঝে কেউই ভোলার স্থানীয় নন, সবাই বরিশাল নয়ত ঢাকা থেকে আসেন।

এই যখন পরিস্থিতি তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মানের একজন অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ যখন তাঁর ঢাকার প্র্যাক্টিস ছেড়ে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে স্ত্রী কন্যাসহ নিজ গ্রামের মানুষের(এখানে স্ত্রীর হবে) চিকিৎসা করতে আসেন তখন তাঁর এই প্র্যাক্টিস(আমি বলবো সেবা)কে “হাট বাজার, অবৈধ উপায়ে কামানো” বলা হয় তখন মনে প্রশ্ন জাগে, সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনার গায়ে কিসের রক্ত”?

কয়েকমাস আগে ঠিক একইভাবে ভোলা অঞ্চলের একমাত্র শিশু বিশেষজ্ঞ (আড়াই লাখ জনগোষ্ঠীর এক চতুর্থাংশ ৬০ হাজার অনুর্ধ ৫ বছর বয়সী শিশুর চিকিৎসক) কে ভুল চিকিৎসার অভিযোগে(ইঞ্জেকশন দিয়ে) একটি শিশুর মৃত্যুর পর পেটানো হয়, পুলিশ তাঁকে নিরাপত্তা দিতে গ্রেফতার করে। অথচ শিশুদের শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় এটি অপরীহার্য।

আরো দশ বিশ বছর আগে, একই অঞ্চলে একজন নবীন চিকিৎসক প্র্যাক্টিস শুরু করেছিলেন। প্রেস্ক্রিপশনে টাইপ করা যার হাতের লেখা, তাঁকে একবার বাসায় কলে যেতে খুব চাপাচাপি করা হয়, হাতে থাকা রোগী শেষ করতে কিছুক্ষণ দেরি হওয়ায় তাঁকে অন কলে বাসায় নিয়ে গিয়ে রোগীর সামনে দরজা বন্ধ করে পেটানো হয়। তিনি সেই যে এলাকা ছাড়লেন আর কখনো ঐ এলাকায় জাননি, তিনি এই মূহুর্তে দেশ সেরা একজন ___স্পেশালিস্ট, তাঁর কাছে সিরিয়াল দিতে ৩ মাস অপেক্ষা করতে হয়। তাঁর নিজ এলাকার মানুষ কিভাবে বঞ্চিত হলো? কেন?

সাংবাদিক ভাই, আপনার গায়ে কি মানুষের রক্ত?
বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বছরে বাজেট কত সরকারের জানেন? ১৭ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ভারতে কত রোগী যায় জানেন? ৫ লাখ রোগী(২০১৫ সালের হিসেব), বছরে ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়শিয়া, চীন মিলে কত হাজার বাংলাদেশী টাকা বিদেশে পাচার হয় জানেন? ২০ হাজার কোটি টাকার বেশী(একটি রিপোর্টে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার কোটি বলা হয়েছে)। পাচার কারণ একজন রোগী বৈধ ভাবে ৫০০ ডলারের বেশী নিয়ে যেতে পারে না, এর বাইরে বাকি সব টাকা অবৈধ উপায়ে(হুণ্ডি ও অন্যান্য) পাচার হয়। তাঁর মানে বাংলাদেশের মানুষ তাদের পকেটের পয়সায় ২১ হাজার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, ৭০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী(সকল পর্যায়ের), ১৬ কোটি মানুষের জন্য নির্দিষ্ট বিনামূল্যের ওষুধ, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সরঞ্জাম, ওয়ার্ডবয় থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা কিছুই পুষেন তাঁর চেয়ে বেশী টাকা শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য হাতে গোণা ৪-৫টি দেশ, সে দেশে যেতে তাঁদের ৩০০-৫০০ দালাল প্রতিষ্ঠান ও আরেকটি নির্দিষ্ট প্রজাতির পেটে যায়।
হ্যাঁ এই নির্দিষ্ট প্রজাতি সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলে, বাংলাদেশের চিকিৎসক, হাসপাতালের উপর আস্থাহীন করে তোলে, চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীন করে তাঁদের সম্মানহানী করে
 হ্যাঁ চিকিৎসকেরাও দোষী, কারণ তাঁদের নিজস্ব কোন আকার নেই, যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্র ধারণ করে। ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানী তাঁদের প্যাড-কলম-বিদেশভ্রমণ দিয়ে কেনে, ক্লিনিক ব্যাবসায়ীরা রোগী ধরার দালাল-কমিশন-চালু চেম্বারে এসিরুম দিয়ে কেনে, সুবিধাবাদী নেতা ভালো পোস্টিং, প্রমোশন আর স্ট্যান্টবাজ মন্ত্রী ধমক আর শাসন দিয়ে কেনে। ওষুধ কোম্পানীর মালিকেরা ১টাকার ওষুধ ১০টাকায় বিক্রি করে তাতে দোষ হয় না, ক্লিনিকের মালিক ১টাকার পরীক্ষা ১০টাকায় করায় তাঁর দোষ হয় না, স্ট্যান্টবাজ মন্ত্রী জনগণ শুধু প্রেস্ক্রিপশন মানে রোগের ব্যবস্থাপত্র ফ্রির জায়গায় সব কিছু ফ্রি হবে বলে পাবলিককে উস্কায় দিয়ে নিজেরা সিঙ্গাপুর ব্যাংককে হোল বডি চেক আপ করায় তাতে দোষ হয় না, একজন চিকিৎসক নিজ গ্রামে, নিজের সাপ্তাহিক ছুটির দিনটা বিসর্জন দিয়ে স্ত্রী কন্যা সহ সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে গেলে সাংবাদিক ভাইদের রক্তে ২০ হাজার কোটি টাকার দালালীর পারসেন্টেজ টগবগ করে ফুটতে থাকে। যেহেতু ওস্তাদে বলছে চিকিৎসা ফ্রি, যেহেতু বাংলাদেশের মানুষ সরকারি হাসপাতালে যায় ফ্রিতে ওষুধ নিতে আর আসল অসুখে যায় প্রাইভেট ক্লিনিক আর এপলো ইউনাইটেড স্কয়ারে তখন আর তাঁদের সামর্থ্যে আর ক্ষমতায় কুলায় নায়।
নেতা-ক্লিনিক মালিক-ফার্মার মালিক-জনগণের ফ্রি চিকিৎসার আকাঙ্ক্ষার পাপে চিকিৎসক কসাই হয়ে যায়।
 আসুন এক সত্যিকার কসাইয়ের ভিডিও দেখি, এই কসাই গতকাল রাতে একজন রোগীকে মাত্র ৫০ সেকেন্ড দেরি করে দেখায় একজন দেবতারূপী রোগীর ছোঁয়া পেলেন, হ্যাঁ চিকিৎসক তখনো আরেকজন অতিজরুরি রোগী দেখছিলেন(রোগীর নাক দিয়ে রক্ত ঝড়ছিল যাকে আগে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে), এবং ঘটনা ঘটে রাত দশটা ২২ মিনিটে, তিনি সকাল ৯টা পর্যন্ত ঐ একই ইমার্জেন্সিতে ডিউটি করেছেন বিনা দ্বিধায়।

সাংবাদিক ভাই আপনার গায়ে কি মানুষের রক্ত?

দালাল, রাজাকার, বেজন্মা শব্দগুলো অভিধান থেকে মুছে দেয়া হোক।

( হ্যাঁ লোকাল পত্রিকার নিউজ বলে বিগশট সাংবাদিক ভাইয়েরা এড়িয়ে যাবেন, কিন্তু বিগ শটরাও এই সমাজের বাইরে না, যেমন কমিশন খাওয়া চিকিৎসকরাও আমাদের পেশার বাইরে না, ঐ পত্রিকার সম্পাদকের নাম, প্রতিবেদকের নাম, ওয়েব সাইট সব কিছুই আছে, শুধু চিকিৎসকদের নামগুলো এখানে নাই লিখলাম)।

link >  https://www.facebook.com/mohib.nirob/videos/10210399736965999/

link > https://www.facebook.com/mohib.nirob/videos/10210399737926023/

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Tuesday, December 27, 2016

সামনে খারাপ দিন আসতেছে জুনিয়র ডাক্তারদের.;

সামনে যে খারাপ দিন আসতেছে জুনিয়র ডাক্তারদের, তা বলে শেষ করা যাবে না।
আগে ডাক্তাররা প্রাইভেট হাসপাতালে চাকুরি করতো বেতনের জন্য। আর সরকারী হাসপাতালে অনারারি ট্রেইনিং (HMO) করতো কাজ শিখার আশায়।।

চারিদিকে হাসপাতাল গুলোতে ধন্না দিচ্ছে চিকিৎসকরা CV নিয়ে মেডিকেল অফিসার পোস্টের জন্য। ।
কিন্তু সিট খালি নাই।।
 তাই প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো, মেডিকেল অফিসারদের ট্রেইনিং নামে বেতন বন্ধ করে অবৈতনিক প্রথা চালু করতে যাচ্ছে ।।
 প্রাইভেট হাসপাতালে HMO নিয়োগ নবীন ডাক্তারদের ভবিষ্যৎ শেষ করে দিবে।।

এক সময় দেখা যাবে - যারা বেতনে চাকুরি করছেন, তাদের সবাইকে চাকুরিচ্যুত করা হচ্ছে।। কারন HMO দিয়েই প্রাইভেট হাসপাতালে কাজ চললে, বেতন দিয়া ডাক্তার রাখার কি দরকার। ।

প্রশাসন লাইনের চিকিৎসক ও BMA এর অনুরোধ - কোনো ভাবেই যেন প্রাইভেট হাসপাতাল এই প্রথা শুরু করতে না পারে।।
 চিকিৎসকদের পড়াশুনা ও পরিবারের স্বার্থ, পাশাপাশি ডিগ্রী করার অবলম্বন এইসব মেডিকেল অফিসার পোস্ট গুলো। তা যদি অনারারির ভীড়ে হারিয়ে যায়, ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের না খেয়ে মরতে হবে।।

আমাদের কিছু লোভী প্রফেসর এর কারসাজীতেই এমন দুই নাম্বারী করার সুযোগ পাচ্ছে প্রাইভেট হাসপাতাল গুলো।।
কারন - তারা ওটি করবে ওয়ার্ড বয়, সিস্টার দিয়া। জুনিয়র ডাক্তার ডাকবে না, যদি 500 টাকা বেশী দেয়া লাগে।। তারা চায় - জুনিয়র ডাক্তার রা পথে বসুক।। তারা এটা ভাবে না - তারা যদি এই জুনিয়রদের না ডাকে, একদিন জুনিয়রের হাতেই বলি হবে বুড়া গুলা। ।
:( :(
(প্রমাণ -
)

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Sunday, December 25, 2016

ডিশোল্ডারিং ইফেক্ট ও রিক্তের বেদন


১......

■■প্রায় ৬ বছর আগের কথা। অভিজাত পাড়ার এক ঝলমলে প্রাইভেট হাসপাতালে মর্নিং ডিউটি করছি....
আমি ছিলাম CCU এর দায়িত্বে। হঠাৎ খবর এলো হাসপাতালের VIP কেবিনে দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান ভর্তি হয়েছেন।আমি রিলাক্সড্ ফিল করলাম, কেবিনের দায়িত্ব আমার না....
রিলাক্সড্ অবস্থা বেশীক্ষণ স্থায়ী হলো না, মিনিটখানেকের ভেতরে কেবিনের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদ্বয় এসে জানালেন তারা আজকে CCU দেখবেন।দু'জনই আমার সিনিয়র। কাজেই ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা হিসেবে আমাকেই আগুনের মাঝে ঝাঁপ দিতে হলো.....

■■পান্থপথের এক বিশেষায়িত হাসপাতালের কোন এক ছুটির দিন।কোনো এক ব্যক্তির মেজর অপারেশন হবে।মেইন সার্জন ওয়াশ নিয়ে বসে আছেন।যার অপারেশন হবে-তিনি এই দেশের আইন কাঠামোর সাথে সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি। অন্য সময় অ্যাসিট্যান্ট সার্জনের অভাব হয় না, এবার অভাব দেখা গেলো। ......
হাইপ্রোফাইল ব্যক্তি ও প্রাইভেট হাসপাতাল বাদ দেই।সরকারী হাসপাতালে আসি....

■■সকাল সকাল হাসপাতালে ঢুকে গত রাতে ইমার্জেন্সী ডিউটি করা ডাক্তারের সাথে কথা বলে মনটা খারাপ হলো।কথায় কথায় জানতে পারলাম,গতরাতে হার্ট ফেইলিউরের এক রোগীকে প্রয়োজনীয় একটি ইনজেকশন্( Frusemide) না দিয়েই উচ্চতর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।ডাক্তারের সাথে কথোপকথনের কিছু নমুনাঃ
আমিঃ আর কিছু না হোক, ইনজেকশন ফ্রুসেমাইড'টা দিতে পারতা, রোগীটা শ্বাসকষ্টে রাস্তায়ই মারা যেতে পারে.....
নাইট ডাক্তারঃ আরে রাখেন, রোগীর অবস্থা যায় যায়, ইনজেকশন দিমু ভালোর জন্য, পরে রোগী মারা গেলে মাইর তো খামুই, পরদিন পেপারেও 'ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু'তে আমার নাম থাকবো....
আমিঃ নিজের বাপ হইলে কি করতা?
নাইট ডাক্তারঃ ধূর মিয়া, আপনে ইনজেকশন দিয়েন।আমি দিমু না, নিজে বাঁচলে বাপের নাম.....


২.....

উপরের ঘটনাগুলোয় একটা জিনিস স্পষ্ট।অধিকাংশ চিকিৎসক পেশেন্ট ম্যানেজ করার আগে এখন নিজের Safety ও Security-এর কথা আগে চিন্তা করছেন, পরে পেশেন্ট ম্যানেজম্যান্ট। ঘটনা কিন্তু এরকম হবার কথা ছিলো না, আজ থেকে ১৫ বছর আগেও অবস্থা কিন্তু এমন ছিলো না.....

■■Bronchial Asthma( এক ধরণের শ্বাসকষ্ট) তে চিকিৎসক Hydrocortisone ইনজেকশন দেবার পর রোগী মারা গেলো।চিকিৎসাটি সঠিক ছিলো।পরদিন পেপারে খবর বের হলো, ' ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু'। চিকিৎসককে থানায় নিয়ে যাওয়া হলো....

■■এক নায়ক মারা গেলো।চিকিৎসকরা জরুরীভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন, নায়কসাহেব তা অগ্রাহ্য করে বিদেশে যাবার মনস্থির করেছিলো, বিধাতা অবশ্য তাকে সে সময় আর দেন নি...
ফলাফলঃ বছরের পর বছর অতিক্রান্ত হবার পরও কিছু চিকিৎসককে এখনো ঘন্টার পর ঘন্টা আদালত প্রাঙ্গনে হাজিরার জন্য বসে থাকতে হয়...

■■এক শিশু মারা গেলো।শিশু বিশেষজ্ঞ সঠিক চিকিৎসাই দিয়েছিলেন। জনতার প্রহারের সাথে তাঁকে হজম করতে হয়েছিলো অপসাংবাদিকতার রিপোর্টিংকেও......

এহেন অবস্থায় চিকিৎসকরা আগে নিজের পিঠ বাঁচাবেন, সেটি কি অস্বাভাবিক?.....


৩....
আপনারা বুঝবেন কিনা জানিনা-তবে একটা কথা বলি।কোন চিকিৎসকই চান না যে তার রোগী মারা যাক, এটা তার জন্য ডিসক্রেডিট....
এই অনন্ত নক্ষত্রবীথি যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর তুলনায় মানুষের ক্ষমতা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র। সেই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে চিকিৎসকেরা মানুষের জন্ম ও মৃত্যুর সময় পাশে থাকেন, যেটা সরাসরি ডিল করেন মহাক্ষমতাবান সৃষ্টিকর্তা।
সেই ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়েই এই চিকিৎসকেরা সময় সময় আপনাদের জন্য এক বুক সাহস নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন।এটা কি তুচ্ছ করার মত কোনো বিষয়?
এখন যদি প্রশ্ন করিঃ এদেশে চিকিৎসকরা কি Freely রোগীদের উপর রোগীর স্বার্থে তাদের অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারছেন? যদি না পারেন, তবে কি বুঝতে পারছেন--তাদের কুণ্ঠাবোধের উৎস কোথায়?


৪....
কিছুদিন আগে পেপার পড়ছিলাম। 'চিকিৎসকের নৈতিক স্খলন'--শিরোনাম দেখে ভিতরে পড়া শুরু করলাম। পরকিয়া সংক্রান্ত রসালো ব্যাপার-স্যাপার।সাংবাদিক সাহেব যাকে চিকিৎসক বলে অভিহিত করেছেন, তিনি আদতে কোন চিকিৎসকই নন, একজন কোয়াক!
মৃত্যুশয্যা থেকে চিকিৎসকদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা আর মহান আল্লাহ'র ইচ্ছায় খাদিজা ফিরে এলো, পেপারে একটার পর একটা হেডলাইন।সাংবাদিক সাহেবেরা একেকদিন একেকজনের প্রশংসা করেন।চিকিৎসকদের প্রসংশা করতে কোনো সাংবাদিক সাহেবকে এগিয়ে আসতে দেখিনি, এটলিস্ট আমার চোখে পড়েনি......
যে চিকিৎসক নয় তাকে চিকিৎসক বানিয়ে পরকীয়ার রসালাপ তৈরি করে চিকিৎসক সমাজের সুনাম নষ্ট করতে সাংবাদিক সাহেবদের দ্বিধা নেই( ব্যতিক্রম আছে), তাদের দ্বিধা হয় ভালো কাজের প্রশংসা করতে। হলুদ সাংবাদিকতা আর কাকে বলে!
সাংবাদিক সাহেবদের বলি--"ভুল চিকিৎসা"র কচকচানি বাদ দিন, চিকিৎসা ভুল না সঠিক ছিলো--সেটা এ বিষয়ের এক্সপার্টদের উপরে ছেড়ে দিন।তার চেয়ে বরং এক কাজ করুণ, লিখুন, "চিকিৎসকের অক্লান্ত চেষ্টার পরও রোগী মারা গেলো"....বিলিভ মি অর নট, আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এদেশের চিকিৎসকরা তাদের ক্ষুদ্র লজিস্টিক সাপোর্ট নিয়েই রোগী বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বেন.....


৫....
সাংবাদিকদের কথা বললাম, এবার এদেশের জনগণের কথা বলি....
প্রখ্যাত এক ব্যক্তিত্ব দেশের বাইরে মারা গেলেন।দেশে এসে তার নিকটাত্মীয়রা ভুল চিকিৎসার অভিযোগে কানাঘুষা শুরু করলেন, আমেরিকার ঐ হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও শুনলাম। বলে রাখি, ঐ হাসপাতাল ও তার চিকিৎসকদের টিকিটিও তারা স্পর্শ করতে পারেন নি।সেটা বাংলাদেশ না....
বিদেশে কোটি টাকা খরচ করে মারা গেলেও সমস্যা হয় না, এদেশে পান থেকে চুন খসলে ডাক্তারদের লাঞ্ছনা করা হয়। এদেশের জনগণ ভুলে যায়-এদেশের প্রত্যেক চিকিৎসক কত সীমাবদ্ধতার মাঝে থেকে শত-শত রোগী দেখতে বাধ্য থাকেন।চিকিৎসকদের রূঢ আচরণ তারা করতে দেখেন, তার পেছনের কারণ তারা খুঁজতে যান না। এদেশের জনগণ ভুলে যায়, তারা ও তাদের দেশের চিকিৎসকেরা এই দেশেরই আলো-হাওয়া-মাটিতে বড় হওয়া। এদেশের জনগণ কেন এমন মনে করে যে, এদেশের চিকিৎসক থেকে বিদেশী চিকিৎসকদের দরদ বেশী হবে? মায়ের চেয়ে মাসীর মমতা কি কখনো বেশী হয়?

বিদেশে রোগী মারা গেলে মাথা নিচু করে এদেশে ঢোকেন, দেশে মারা গেলেই ডাক্তারের দোষ! হিপোক্রেসীর একটা লিমিট রাখুন। যে আচরণ বিদেশে গিয়ে করেন, তা এদেশে চিকিৎসকদের সাথে করে দেখুন, সে ভালোবাসার শতগুণ আমরা ফেরত দিব, We promise......


৬....
'জন্মিলে মরিতে হইবে'...কাজেই চিকিৎসক হিসেবে Sometimes we have to stop. কিন্তু সার্বিকভাবে চিকিৎসকরা এখন এতোটাই Insecured ফিল করেন যে, তারা এখন মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকেও ডি-শোল্ডারিং করে চলছেন।এ অবস্থা সামগ্রিকভাবে শুভ নয়, কাম্য নয়....

শরৎচন্দ্রের দেবদাসে'র শেষ কয়েকটি লাইন আমার খুব পছন্দের।লাইনগুলো বলিঃ " মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময় যেন একটি স্নেহকরস্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে-যেন একটি করুণার্দ্র স্নেহময়মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়।মরিবার সময় যেন কাহারও এক ফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে"......
চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় আমরা নিরন্তর ছুটে চলি।একটা সময় মৃত্যুর কাছে আমাদের থামতে হয়।এই সময়টা রোগীর সাথে সাথে চিকিৎসকেও এই দেশের প্রেক্ষাপটে এক কঠিন সময় পার করতে হয়।আমরা চাই, ' একটি করুণার্দ্র স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে রোগীর জীবনের অন্ত হোক'।আমরা চাই একটি Dignified end of life এর। এদেশ কি আমাদের সে অবস্থা নিশ্চিত করার সুযোগ দিবে?

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Monday, December 19, 2016

সবার বোধদয় হোক।

১.
মাদ্রাসার ছাত্র, পড়া না পারায় হুজুরের মার খেয়ে ১ দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এসে আর মাদ্রাসায় যায় না। তার মা জিজ্ঞেস করে কি হল তুই মাদ্রাসায় যাস না কেন, ছেলে বলে পেট ব্যাথা, এই বলে ২ দিন হয়ে গেল, তাকে এলাকার বাজারের খুচরা ডাক্তার থেকে হরেক রকমের ড্রাগস এনে খাওয়ানো হল, কিন্তু পেট ব্যথা আর ভাল হচ্ছে না। তখন সেই খুচরা ডাক্তার বলে এপেন্ডিসাইটিস হতে পারে, জেলা সদরের বড় সার্জনকে দেখাতে হবে। এবার খুচরা ডাক্তার, ছেলে, ছেলের মা মিলে রওয়ানা দিল জেলা সদেরের উদ্দেশে। যাওয়ার আগেই খুচরা ডাক্তার ফোন করে সার্জনকে বড় একটা সালাম দিয়ে বলল, চেম্বারে আছেন তু, একটা এপেন্ডিক্স নিয়ে আসতাছি। (হাহা, একটা Appendix :D :D )
চেম্বারে নেয়ার পর সার্জন দেখে আল্ট্রাসহ কিছু ব্লাড টেস্ট করাল,
আল্ট্রা নরমাল উল্লেখ করেও কুশলী রেডিওলজিস্ট কমেন্টস এর নিচে লিখে দিল 'USG abdomen normal findings, please correlate clinical sign symptoms with Acute Appendicitis' (সার্জন কে একটু তেল মারা আর খুশি রাখা আর কি, পেট ব্যাথা যাহার আল্ট্রা নরমাল সে কি শুধু এপেন্ডিসাইটিস-ই হতে হবে?)

এনিওয়ে, এবার সব রিপোর্টস এক করে বিজ্ঞ সার্জন চতুর্দিক থেকে এপেন্ডিক্সের ঘ্রাণ পেয়ে পেয়ে নিজেও বললেন ছেলের-মা ছেলের এপেন্ডিক্সের ব্যাথা, অপারেশান করে এপেন্ডিক্স ফেলে দিতে হবে। কথামত ভর্তি হয়ে গেল তারা, অপারেশনের ঘন্টা খানেক আগে ছেলে কে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। একি কান্ড, ছেলে কই গেল,কেউ খুজে পাচ্ছে না। হঠাত মাদ্রাসার হুজুরের ফোন, পালিয়ে মাদ্রাসায় ফিরে গেছে ছেলে, তার কোন ব্যথাই ছিল না, হুজুরের মারের ভয়ে পেট ব্যথার বাহানায় মাদ্রাসায় না যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল মাত্র।

যে ছেলে বেতের ভয়ে মাদ্রাসা ছেড়ে ছিল, সে অহেতুক অপারেশনের ভয়ে হাসপাতাল ছেড়ে আবার মাদ্রাসায় পালিয়ে গেছে।


২.

রুগী শুক্রবারে Acute Tonsillitis নিয়ে প্রথমবার ডাক্তার দেখাতে আসল, তাকে জিজ্ঞেস করা হল টাকা পয়সা কেমন আছে সাথে। সে বলল টাকা আছে, সার্জন বলল চলো ওটি তে চলো.....
Tonsillectomy এর ইন্ডিকেশনটা সবাই জানল, শুধু জানল না অসাধু ই.এন.টি সার্জনরা।
Believe me, ill comes ill goes.
And someday you as a doctor will have to pay for your malpractice, not to people BUT to the Almighty.
এসব ম্যলপ্রাক্টিস করব না, করব না, এই হোক আমাদের শপথ, আমরা নতুন প্রজন্ম, এদেশের ডাক্তাদের গতানুগতিক ভুল-প্রাক্টিসকে ধিক্কার দিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের নির্ভুল প্রাক্টিস করব, এই হউক আমাদের বিজয় দিবসের অংগিকার।

সবাই কে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা...

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

Tuesday, December 13, 2016

'অনারারী ট্রেনিং' নামক অমানবিক 'দাস-প্রথা'

এই সভ্য সমাজে এখনো ডাক্তার নামক সমাজের প্রথম শ্রেনীর নাগরিকদের জন্য 'অনারারী ট্রেনিং' নামক অমানবিক 'দাস-প্রথা' চালু আছে এটা ভাবলেই বিস্ময়ে আমার হাত-পা গুলিয়ে আসে|

একজন মানুষ তার সারাটা দিন হাসপাতালে ব্যয় করবেন,সারা মাস অমানবিক পরিশ্রম করবেন,রোগীর লোকজন এবং সিনিয়রদের সকল অপমান-মানসিক অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করবেন কিন্তু মাস শেষে এক টাকাও পারিশ্রমিক পাবেন না,এটাই এই দাস-প্রথাটির মূল নীতি|

অনেকে বলতে চাইবেন, তাঁকে তো 'সাকসেস্ফুল ট্রেনিং ' শেষ করার পর সার্টিফিকেট দেয়া হবে যেটি দিয়ে তিনি পোস্ট-গ্রাজুয়েশনের শর্ত পূরন করবেন অথবা প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে মাসে 'কোটি -কোটি' টাকা কামাই করবেন|
এই সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি কি করবেন সেটা উনার কষ্টের বাই-প্রোডাক্ট,আপনি তো তাঁকে তাঁর ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত করলেন,কাজটা কি অমানবিক নয়?

ধরুন,আপনি রিক্সায় করে সারা ঢাকা শহর ঘুরে দিন শেষে নেমে গিয়ে ভাড়া না দিয়ে সোজা হাঁটা ধরলেন! পেছন থেকে ডাক দিয়ে বেচারা ভাড়া চাইতেই আপনি বললেন,
...চাচা আপনার তো ডায়াবেটিস আছে,তাই না?
....আছে|
....প্রেশারও আছে,তাই না?
....হুম
...আপনার চিকিৎসা কি জানেন?
...না বাবা|
....প্রচুর কায়িক প্ররিশ্রম করা| আমি আপনাকে এতক্ষন তা-ই করালাম|আপনার রোগের চিকিৎসা করে দিলাম| তা ভাড়া চান কেন?

এটা করা কি ঠিক হবে?এরকম করতে গেলে নিশ্চয়ই বেচারা ডায়াবেটিস,হাইপারটেনশনে মরার আগে না খেয়ে অপুষ্টিজনিত কারনেই পরিবার-পরিজন সহ মারা যাবে|

অনারারী ডাক্তারদের অবস্থা কিন্তু অনেকটা সেরকমই| কবে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করবেন আর কবে প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে তথাকথিত 'কোটি -কোটি' টাকা কামাবেন,তার আগে তো এটলিস্ট উনাকে সপরিবারে বেঁচে-বর্তে থাকতে হবে,নাকি?

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

হাল ছেড় না বন্ধু যেতে হবে অনেক দূর

এইলেখাটি একান্তই নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা,লেখাটি টাইপ করতে সাহায্য করেছে এক ছোটবোন কাম ফ্রেন্ড।
বিশেষ করে যে সকল জুনিয়র সিনিয়র বা ব্যাচমেটরা ডাক্তারী জীবনে কঠিন সংগ্রামের পথে হাটছে তাদের প্রতি উৎসর্গ লেখাটি।সময় থাকলে যে কেউ পড়ে দেখতে পারেন,অনুপ্রেরণা পেলেও পেতে পারেন।

একজন নবীন ডাক্তারের সংগ্রামের গল্প

এম,বি,বি,এস এর শেষবর্ষে থাকাকালীন সময়ে দেখতাম অনেকে সিনিয়রা পাশ করার পর বড় ডিগ্রী নিয়ে (এফ,সি,পি,এস / এমডি/এম,এস) মেডিকেলে রেজিস্ট্রার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার হিসাবে জয়েন করছেন । তখন তাদের দেখে আলাদা ইন্সপিরেশন পেতাম এবং স্বপ্ন দেখাতাম বড় বড় ডিগ্রী নেয়ার। যথারীতি সবার মত আমারও স্বপ্ন ছিল যে পাশ করে বের হয়ে ঢাকায় যাব, পিজির লাইব্রেরিতে পড়ব এবং এফ,সি,পি,এস বা এমডি করব। পাশ করে বাসায় চলে আসার পর যখন আব্বুকে বললাম যে আমি আগামী ৬ মাস ঢাকায় দিলিপ স্যার এর কোচিং করতে চাই এবং এই কয়টা মাস আমার খরচ চালিয়ে দাও তাহলে আমি ভাল ভাবে পড়ে তারাতারি চান্স পেতে পারব। স্বপ্ন পূরণের পথে প্রথম বাঁধা পরল এখানে। আব্বু বললেন এম,বি,বি,এস পর্যন্ত তোমাকে চালিয়েছি, এখন আর চালানর সামর্থ নেই। তুমি পাশ করেছ এবং নিজে উপার্জন করার ক্ষমতা হয়েছে তাই নিজে এখন নিজেরে চালাও। এই অবস্থায় ইন্টারনী থেকে জমানো বিশ হাজার টাকা নিয়ে ঢাকায় চলে আসলাম। ঢাকায় এসে ডাক্তারদের বস্তি আজিজ সুপার মার্কেটে একটা রুমে একটা সিট নিলাম এবং কোচিং এ ভর্তি হলাম। এখন নিজের খরচ চালানর জন্য খ্যাপ যোগার করার জন্য ৩০ থেকে ৪০ টা সিভি দিলাম ঢাকায় এবং ঢাকার আসেপাশে বিভিন্ন হাসপাতালে, ক্লিনিকে এবং মেডিকেল কলেজে। অনেক দিন হয়ে যায় সিভি থেকে কোন ডাক আসেনা, আবার বড় কোন ভাইয়ের কাছ থেকেও ঢাকার আশেপাশে কোন খ্যাপ যোগার করতে পারছিনা যেখানে ৩/৪ দিন ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করব। এদিকে আবার জমানো টাকাও শেষের পথে। তার ওপর কোচিং, পড়ালেখা, পেট চালানোর চিন্তা সব মিলিয়ে দুর্বিশহ অবস্থা এবং চারিদিকে তখন অন্ধকার দেখতাম শুধুই। তখন শুধু কোচিংইয়ে যেতাম এবং কোচিং থেকে বের হয়েই বড় ভাইদের কাছে ছুটতাম খ্যাপের আশায় যেন সাপ্তাহিক খরচটা যোগাড় হয়। এভাবে ছুটতে ছুটতে মাঝে মাঝে পেয়ে যেতাম বড় ভাই, সিনিয়রদের কাছ থেকে খ্যাপ। খ্যাপে যেতাম নোয়াখালী, নরসিংদী, মাওনা, গাজীপুর সহ আরো অনেক জায়গায়। এতে করে পড়ালেখা থেকে অফ- ট্র্যাক হয়ে গেলাম। কোচিং করতাম ঠিকই কিন্তু রুমে এসে আর পড়ালেখা করার এনার্জি থাকতো না। খ্যাপে যাওয়া বাদও দিতে পারতাম না কারন এখন বাদ দিলে পরে আর ডাকবেনা। এভাবে চলতে চলতে আমার প্রথমবার এফ,সি,পি,এস পরীক্ষার সময় চলে আসলো। সাতহাজার টাকা দিয়ে ফর্ম পূরণ করলাম। পরীক্ষার হলে বসে বুঝতে পারলাম আমার পরীক্ষার প্রস্তুতি কোনভাবেই যথাযথ না,এমন কি কোথা থেকে প্রশ্ন হল তা ই বুঝলাম না। কোচিংয়ে শুধু ক্লাসই করে গেছি কিন্তু বাসায় পড়তে পারিনি এবং কোচিং এর পরীক্ষাতেও ভাল করতে পারিনি। তখন প্রথম বুঝতে পারলাম এই বড় বড় ডিগ্রী পাওয়া আসলে এত সোজা না, অনেক পড়তে হবে এবং এম,বি,বি,এস পাশ করার পরের লাইফটা খুবই সংগ্রামময় ।

বিভিন্ন জায়গায় সিভি দেয়ার ৬ মাস পর আমি প্রথম ডাক পাই বনানীর প্রেসক্রিপশন পয়েন্টে এবং চাকরিটা হয়ে যায়। এর মাঝে আরও ডাক পাই মনসুর আলী মেডিকেল কলেজে এনাটমি এর লেকচারার হিসাবে। কিন্তু সপ্তাহে ৬ দিন শাহবাগ থেকে উত্তরা যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না, তারপর বেতন ছিল মাত্র ১৭৭০০ টাকা। এর মধ্যে আরও কিছু প্রাইভেট মেডিকেলে সিভি দিলাম কিন্তু কোথাও থেকে ডাকেনা। উপায় না পেয়ে খ্যাপ মারতে থাকলাম এবং এভাবে মোটামুটি অর্ধেক বাংলাদেশ ঘোরা হয়ে গেছে। এর ফাকে ফাকে পিজির লাইব্রেরীতে পড়া শুরু করলাম। এই অবস্থায় আমি আমার বড় ভাবির কাছে গেলাম যিনি নিজেও ডাক্তার। উনাকে বললাম ভাবি আমাকে কিছু দিন চালিয়ে দেন যেন আমি একটানা পড়ালেখা করতে পারি এবং উনি রাজি হয়ে গেলেন। এতদিন যেহেতু খ্যাপের গণ্ডি বড় হয়ে গেছে এবং দেখা যায় একটানা ১০ দিন ডিউটি করলে প্রায় ২০০০০ হাজার টাকার মত পাওয়া যায় তাই এটার একটা নেশা চলে এসেছিল। যারফলে দেখা যেত পড়ালেখা করতাম অল্প অল্প এবং খ্যাপমারা ও চাকরিও করতে থাকলাম। এভাবে আমি দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসলাম। পরীক্ষা মোটামুটি ভালই হল কিন্তু রেজাল্ট যখন দিল তখন দেখালাম যে আমার ফিজিওলজি পার্টটা একটু খারাপ হয়েছিল এবং ফেল আসল। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা হিসাবে দেখলাম যে আমার অনেক বন্ধুরই চান্স হয়ে গেছে এবং পুরো দুনিয়া তখন বিতৃষ্ণা লাগত। জীবনটা আরও দুর্বিষহ করে দিত আমার গার্লফ্রেন্ড। সে সরাসরি তার হতাশা প্রকাশ করত। বলত যে সবার ডিগ্রী হয়ে যাচ্ছে, তার ফ্রেন্ডদের বয়ফ্রেন্ডদের হয়ে যাচ্ছে ডিগ্রী শুধু আমার কেন হচ্ছে না। জীবনটা তখন অন্ধকার লাগত, কোনদিকেই কোন আশা দেখতাম না। একদিকে চাকরি সংর্ঘষ, বাসা থেকে কথা শোনায় চান্স না পাওয়াতে আবার অন্য দিকে গার্লফ্রেন্ড দাম দেয়না ডিগ্রী না হওয়াতে।

এরপরের বার ঠিক করলাম যে এবার শুধু পড়ালেখাই করব এবং আর কিছুই করবনা। শাহবাগে যেহেতু থাকতাম সেহেতু পিজির লাইব্রেরীতে যাওয়া শুরু করলাম। পিজির লাইব্রেরী সকাল খুলত ৮ টায়, সকাল ৭:৩০ টায় ঝাড়ু দেয়ার জন্য খুলত। আমি দেখা যেত ঐ ধুলার মধ্যেই চোখ মুছতে মুছতে ঢুকে যেতাম যেন ভাল একটা জায়গায় সিট পাই। কথায় আছে অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়, সেরকমই লাইব্রেরী কার্ডের দাম ৮০০ টাকা থেকে এক লাফে ২৫০০ টাকা করে দিল। ৬ মাসের জন্য শুধু পড়ব লাইব্রেরীতে তার জন্য এত টাকা দেয়াও কষ্টকর লাগল। সারাদিন লাইব্রেরীতে পড়তাম শুধু দুপুরে খাওয়ার সময় বিরতি নিতাম। খ্যাপ যেহেতু কমিয়ে দিয়েছিলাম তাই টাকাও ছিল কম তাই খেতাম পিজির লাইব্রেরীর ওপরে ক্যান্টিনে যেখানে খুব কম টাকায় খাওয়া যেত। ৩০ টাকার মত মিল চার্জ ছিল তখন। পিজির লাইব্রেরীতে পড়া শতকরা ৭০ ভাগ ডাক্তারই ওখানে খেত ওখানকার বিস্বাদ খাবার শুধু মাত্র টাকা বাঁচানোর জন্য। এইরকম একদিন সন্ধ্যায় নাস্তা করে আসার পর দেখলাম কিছু দূরে বসে পড়ছে আমার এক জুনিয়র। তাকে দেখে বললাম কিরে তোর ক্ষুধা লাগে না ? নাস্তা টাস্তা করবি না ? এই প্রশ্নের এমন এক উত্তর পেলাম যা শুনে আমার অনেক খারাপ লাগল। সে বলল, “ভাই,নাস্তার টাকা পাব কই ? আমি তো খ্যাপ দেইনা এবং বাসা থেকেও টাকা দেয়না তাই আমার অনেক হিসাব করে চলতে হয়”। তখন বুঝলাম যে একজন সদ্য পাশ করা নবীন ডাক্তারকে কতটা সংগ্রাম করতে হয় পাশ করার পর। এভাবে ২ মাস পড়ালেখা চলল। সকাল ৭ টায় ঢুকতাম, দুপুরে রেস্ট নেয়ার জন্য একটু বের হতাম আবার রাত ১০ টায় বের হতাম লাইব্রেরী থেকে। এরপর আবার পরীক্ষায় বসলাম। পরীক্ষা শুরু হল এনাটমি দিয়ে, এনাটমি প্রিপারেশন যেহেতু ভাল ছিল তাই পরীক্ষাও অনেক ভাল হল, ভাবলাম এবার ৮০ এর ওপর নাম্বার থাকবে। কিন্তু ফিজিওলজি পরীক্ষা এর দিন প্রশ্ন এত কঠিন হল যে মনে হচ্ছিল হল থেকে সসম্মানে বের হতে পারলে বাঁচি। আর প্যাথলজি ভালই হল। সব মিলিয়ে মনে হল পাশ এবার হবে। এরপর বিকালে যখন আমার নামের পাশে ফেল লিখা দেখলাম তখন এতটাই খারাপ লাগল যে, মনে হল আল্লাহ বলে কেউ নাই, থাকলে আমার কষ্টের প্রতিদান দিল না কেন। তখন আল্লাহর ওপর থেকে বিশ্বাসই উঠে গিয়েছিল, মনে হত এই যে এত অমানবিক কস্ট করলাম আল্লাহ কেন ফল দিলনা। তখন মনে হত বেঁচে থেকে লাভ নেই। না হচ্ছে একটা ডিগ্রী , না হচ্ছে ভাল চাকরি, বন্ধুরা মোটামোটি সবাই চান্স পাচ্ছে, পরিবারে অনেক কথা শুনতে হয় বাবার কাছ থেকে তার ওপর গার্লফ্রেন্ডের সাথে সম্পর্ক তখন চরম খারাপ। সব মিলিয়ে একেবারে করুণ অবস্থা । এর ভেতর একটাই মাত্র আশার বানী ছিল এই যে বি,সি,এস এর লিখিত পরীক্ষা দিয়ে বসে ছিলাম তখন। এই অবস্থায় মনে তখন একটাই প্রবল ইচ্ছা ছিল যে যেভাবেই হোক ডিগ্রী আমাকে একটা নিতেই হবে এবং এরই মাঝে আমার বিসিএস হয়ে গেল এবং আমি গ্রামে চলে আসলাম। এরপরের বারের পরীক্ষাটা আর দিলাম না। ভাবলাম যে আপাতত আগে পড়ালেখাটা করে নেই এবং একটু সামর্থবান হয়ে নেই তারপর আবার দিব।

জানুয়ারি ২০১৬ এর এফসিপিএস পরীক্ষাটা দেয়ার কোন ইচ্ছাই ছিলনা তাও কি ভেবে যেন ফর্ম পূরণ করেছিলাম খুবই গোপনে। পড়ালেখা তেমন করিনি, টুকটাক দিলিপ স্যার এর বই ঘেটেছি শুধু। পরীক্ষার আগের দিন রাতেও বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারলাম। বাসায় বললাম যে আমার ট্রেইনিং আছে ৩ দিনের ঢাকায় এবং চলে আসলাম ঢাকায়। কোন আত্মীয়ের বাসায় না উঠে উঠলাম আমার সিনিয়র এক বড় ভাই এর সাথে মহাখালীর এক হোটেলে। ওখানে টানা ৩ দিন পড়ালেখা করে পরীক্ষা দিলাম। পরীক্ষাটা এভারেজ হল এবং একটু আফসোস লাগল যে এবার যে প্রশ্ন হয়েছে তাতে আরও একটু ভাল করে পড়লে হয়ত চান্স হয়ে যেত। পরীক্ষা দিয়ে চলে গিয়েছিলাম আমার বড় আপার বাসায়। বড় আপার বাসা থেকে মহাখালী হোটেলে আসার পথে , ঐদিন বিকালে আমার এক বান্ধবী ফোন করে বলল যে, “দেখতো তোমার পাশ হয়েছে কিনা ? আমার হয়নি” আমি বললাম যে আমার কোনদিনও হয়না এবারও হবে না। এরপর আমার এক রুমমেট ফোন করে বলল যে তার চান্স হয়ে গেসে, তারও অনেক দিন চান্স হচ্ছিলনা। তখন খানিকটা ঈর্ষাবোধ হল যে ঐ বেচারারও হয়ে গেল শুধু আমারই হল না, আমার কি কোনদিনও হবে না ? জানতাম যে পাশ হবে না তাই কোনমতেই রেজাল্ট দেখতে রাজি ছিলাম না, কিন্তু তারপরেও মনকে অনেক বুঝালাম যে বেশি কি আর হবে ফেলই তো হবে, জীবনতো আর থেমে থাকবেনা বা শেষ হয়ে যাবেনা। এভাবে অনেকক্ষণ মনকে বোঝানোর পর মোবাইল এর নেট টা অন করলাম এবং আমার রোলটা ইনপুট করলাম। এরপর রোলের পাশে যখন লিখা দেখলাম পাশ তখন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না এবং নিজের অজান্তেই মনে হল যে চোখে ২ ফোটা পানি চলে আসল। বিশ্বাস হলনা তারপরও। সাথে সাথে স্ক্রীনশট নিলাম এবং কমপক্ষে ১৫ বারের মত সাইটে গিয়ে চেক করলাম আসলেও আমি ঠিক দেখছি কিনা। তারপর আমার এক বান্ধবিকে রোলটা দিয়ে বললাম, ‘দেখতো আমি কিছু বুঝতে পারছি না’। সাথে সাথেই সে দেখে বলল যে আমার চান্স হয়েছে এবং খোঁচা দিয়ে বলল যে, “ তোমার তো চান্স হয়ে গেছে ,আমার তো এরপরের বার একাই পরীক্ষা দেয়া লাগবে’। এরপর আমার খানিকটা বিশ্বাস হল যে আমি চান্স পেয়েছি। তখন আমি ভাবলাম এই যে আমি, কিছুদিন আগেও চান্স পাইনি আর এখন চান্স পেলাম। কি পরিবর্তন হল আমার ? হাত একটা বেশি হয়নি , চোখ একটা বেশি হয়নি কিন্তু মানুষ হিসাবে দাম বেড়ে গেছে। এতদিন ডিগ্রী হয়নি দেখে কেউ আমাকে দাম দেয়নি না পরিবারের কেউ, না বন্ধুবান্ধব, এমনকি নিজের গার্লফ্রেন্ডও অনেক দূরে সরে গেছে কারণ তার মনে হয় আমার ক্যারিয়ার ভাল না বিসিএস হওয়া সত্ত্বেও। এরকম অনেকরকমের স্মৃতি মাথায় ভেসে আসল এবং এই ঘোরের মাঝেই মহাখালীর হোটেলে চলে আসলাম। ঐ সিনিয়র ভাই যার সাথে হোটেলে উঠেছিলাম তারও হয়নি তাই অনেকক্ষণ দুঃখ টুঃখ করার পর আস্তে করে তাকে বললাম যে আমার চান্স হয়ে গেছে। যেহেতু আমরা একই হেলথ কমপ্লেক্সের তাই উনি জানত যে আমি বেশি পড়ালেখা করিনি তাই উনি মহাআশ্চর্য যে কিভাবে চান্স পেলাম এবং অনেক কংগ্র্যাচুলেট করলো। এরপর আমি আমার বাকি ২ জন রুমমেট মেডিকেলের যাদের চান্স হয়নি তাদের জানালাম তারাও প্রথমে আশ্চর্য হল এবং পরে অনেক খুশি হল। তখন তাকে বললাম যে এবারের রেজাল্ট আমার বিশ্বাস হচ্ছে না, কারণ যেবার আমি সব থেকে বেশি কষ্ট করে পড়েছিলাম সেবার হয়নি কিন্তু এবার প্রিপারেশন ভাল ছিলনা কিন্তু হয়ে গেল। এরপর আমার ঐ বন্ধু বিসিপিএস ভবনে টাঙ্গানো রেজাল্ট শীট এর ছবি তুলে যখন পাঠাল তখন আমার বিশ্বাস হল যে আমি আসলেও চান্স পেয়েছি। এরপর গার্লফ্রেন্ডকে জানালাম, সে হল দায়সারা খুশি, এরপর জানালাম বাবা মাকে। বাবা তো আলহামদুলিল্লাহ বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলার মত অবস্থা। এরপর আস্তে আস্তে অন্যান্যদেরও জানালাম। তখন নিজেকে অন্য রকম একটা মানুষ মনে হল। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম কারণ উনি আমার কষ্টটা দেখছেন।

পোস্ট গ্রাজুয়েশনে একটা কথা ঠিক যে প্রিপারেশন আপ-টু-দা মার্ক না হলে চান্স হবে না। আর প্রিপারেশন ভাল হলে চান্স যে কোনবার হবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ ভালতে পারেনা। লাক কখন কাকে ফেভার করবে বলা যায়না কিন্তু প্রেপারেশন থাকতে হবে ভালমতো। এই জন্য ২/৩ বার পরীক্ষায় ফেল করলেও হতাশ হওয়ার কিছু নাই। অনেক কঠিন সময় পার করে এসেছি এবং আমার থেকেও আরও কঠিন সময় মানুষ পার করে। এই ডিগ্রীর জন্য আমার পার্সোনাল লাইফ অনেক চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আমার যে জুনিয়র যার পিজির লাইব্রেরীতে খাওয়ার টাকা ছিলনা তার কার্ডিওলজিতে এফসিপিস , এমডি হয়ে গেছে ঢাকাতে।

আমার মতো প্রতিটা সদ্য পাস করা ডাক্তারকে অনেক কস্ট করতে হয় একটা চাকরি জোটাতে, খাবারের টাকা জোটাতে। এইরকম অনেক বাঁধা পার হয়ে আমি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেলের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসাবে নিয়োগ পেলাম, আস্তে আস্তে হয়তো আমি মেডিকেল এর টিচার হতে পারব অথবা বড় পোস্টে যেতে পারব। তাই এখন মনে হয় যে আল্লাহর কাছে যাই চাই তার প্রতিদান আল্লাহ কোন না কোন বার দিবে।

আমার মত প্রতিটা ডাক্তারেরই এইরকম স্ট্রাগল করতে হয়, কিন্তু কথা হল একটাই যে হাল ছাড়া যাবেনা, হতাশ হওয়া যাবেনা ঠিক মত প্রিপারেশন নিতে হবে এবং লাইনে থাকতে হবে। অনেক ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক, মানসিক এবং পারিপার্শিক সমস্যা থাকার পরও হতাশ হওয়া যাবেনা । ঠিকমত চেস্টা করে গেলে সফল হওয়া সম্ভব। তাই তো বলি হাল ছেড় না বন্ধু যেতে হবে অনেক দূর।

>> কালেক্টেড পোস্ট <<